30/09/2026
গঞ্জের হাট থেকে জামালপুর—এক জনপদের নামের স্তরবিন্যাস
জামালপুরের নামের ইতিহাস কি একবারে জামালপুরেই শুরু?
নাকি এই জনপদ সময়ের প্রবাহে কয়েকটি নামের স্তর পেরিয়ে আজকের জামালপুরে এসে দাঁড়িয়েছে?
প্রাপ্ত ঐতিহাসিক সূত্র, গেজেটিয়ার, গবেষণাগ্রন্থ এবং স্থানীয় ঐতিহ্য পাশাপাশি রাখলে একটি অনুসন্ধানী ধারাবাহিকতা সামনে আসে—
গঞ্জের হাট → সন্ন্যাসীগঞ্জ → সিংহজানী → জামালপুর।
তবে এই চারটি নামকে একই ধরনের প্রামাণ্য “সরকারি নাম পরিবর্তন” হিসেবে নয়; বরং একটি জনপদের ক্রমবিকাশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক নাম/পরিচয়ের স্তর হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিসঙ্গত।
প্রথম স্তর : গঞ্জের হাট
জামালপুরের স্থানীয় ইতিহাসে প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, প্রাচীন বংশী নদীর তীরে ব্যবসায়ী সওদাগরদের নৌযাত্রা ও বিশ্রামকেন্দ্রকে ঘিরে একটি ছোট বাণিজ্যকেন্দ্র বা গঞ্জ গড়ে ওঠে। ক্রমে জায়গাটি পরিচিত হয় “গঞ্জের হাট” নামে। বর্তমান রানীগঞ্জ বাজারকে সেই পুরোনো বাণিজ্যকেন্দ্রের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
তবে এখানে সতর্কতা জরুরি—“গঞ্জের হাট” নামটির সমসাময়িক প্রাথমিক দলিল এখনো আমাদের হাতে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় ইতিহাসের সূত্রগুলোও স্বীকার করে যে এ নাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অপ্রতুল।
বাংলাপিডিয়ার ভাষায়, প্রাক-আধুনিক বাংলায় “গঞ্জ” ছিল ক্রেতা-বিক্রেতা ও ফড়িয়াদের বাণিজ্যকেন্দ্র—চক, হাট ও বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্থান।
অতএব “গঞ্জের হাট” নামটি এই জনপদের প্রাচীন বাণিজ্যিক চরিত্রের একটি স্মৃতি বহন করে থাকতে পারে।
দ্বিতীয় স্তর : সন্ন্যাসীগঞ্জ
এরপর আসে সবচেয়ে শক্তিশালী লিখিত ঐতিহাসিক স্তর—সন্ন্যাসীগঞ্জ।
১৯১৭ সালের Mymensingh District Gazetteer-এ সরাসরি লেখা হয়েছে:
As the centre of the Sanyāsi rebellion Jamālpur was known as Sanyāsiganj, when in 1845 it became the first subdivision of Mymensingh.
অর্থাৎ—
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের কেন্দ্র হিসেবে জামালপুর সন্ন্যাসীগঞ্জ নামে পরিচিত ছিল; ১৮৪৫ সালে এটি ময়মনসিংহের প্রথম মহকুমা হয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, একই গেজেটিয়ারের ইতিহাস অংশে ১৭৮১ সালের সন্ন্যাসী আন্দোলনের সঙ্গে জামালপুরের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়। ফলে সন্ন্যাসীগঞ্জ নামটি শুধু আধুনিক লোকমুখের সৃষ্টি নয়; ঔপনিবেশিক যুগের লিখিত ঐতিহাসিক সূত্রেও এর অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
তৃতীয় স্তর : সিংহজানী
পরবর্তী স্তরে আসে সিংহজানী।
জামালপুরে