12/06/2023
আসুন পোস্টটি শেয়ার করে সর্বত্র ছড়িয়ে দেই।
আমাদের সেই কারাবন্দী, মজলুম, অমানবিক এবং পাশবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া সেই 'দ্বীনি বোনটি'।
ইতিহাস হয়তো তাকে ভুলে গিয়েছে। তিনি ইতিহাসের একজন মহীয়সী নারী।
হ্যাঁ তিনিই সেই নারী!
যিনি পবিত্র কুরআনের একজন হাফেজা, যার ইসলামের প্রতি ছিল সীমাহীন ভালোবাসা। যিনি একজন নিউরো সাইন্টিস্ট বা স্নায়ুবিজ্ঞানী।যিনি একজন পিএইচডি হোল্ডার এবং যার সিনায় ধারণ করেছিলেন পবিত্র কুরআনুল কারীমের ৩০ টি পারা।
এই সেই নারী! যিনি হয়েছিলেন ২০০৩ সালে কিডন্যাপ এবং যার স্থায়ীত্ব হয়েছিল ২০০৮ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকার টর্চার সেলে এবং সেখান থেকে তার উপরে চলে পাশবিক নির্যাতন ও মানসিক নির্যাতন।
কুরআন শরিফের পাতা মেঝেতে বিছিয়ে রেখে তাকে উলঙ্গ করে বলা হত - যাও, যাও. কুরআনের উপর দিয়ে গিয়ে কাপড় নিয়ে আসো। ওই নরপশুরা তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতে শুরু করে। খেলায় মেতে ওঠে এই হায়নার দলেরা। পালাক্রমে গণধর্ষণের শিকার হন।
সেই হাফেজা নারী কে আমেরিকান আদালত থেকে ৮৬ বছরের সাজা ঘোষণা করে, এক আমেরিকান সেনা হত্যা চেষ্টার অপরাধে।
যেই নারী কে আদালতে বিচারক কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন—
আপনি তো তাদের ক্ষমতা দিয়েছেন আমাকে রেপ করার, উলঙ্গ করে সার্চ করার। আপনার কাছে কিছুই বলার নেই আমার। আমি আমার আল্লাহ অর্থাৎ রবের কাছে যেয়েই বলবো যা বলার। আমি তো সেদিনই মরে গেছি যেদিন আমাকে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়েছিল। আমাকে ছেড়ে দিন আমাকে আমার দেশে যেতে দিন।
আমেরিকার চোখে মূলত অপরাধটি ছিল আফিয়া সিদ্দিকী কেন তার বক্তব্যে কুরআনের রেফারেন্স জানতেন?? কেন তিনি দ্বীনের পথে শামিল হওয়ার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়েছিলেন?? তিনি মনে করতেন আমেরিকার সাধারণ মানুষ শান্তির প্রত্যাশায় জাহান্নামের দিকে যাচ্ছে। সুতরাং মুসলমানদের দায়িত্ব হলো তাদের কুরআনের পথ দেখানো। তিনি বলতেন, আমেরিকা আমাকে জাগতিক শিক্ষা দিয়েছে আর আমি আমেরিকার জনগণকে ইসলামের শিক্ষা দেবো। এই উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ সালে ড. আফিয়া তার বোন ড. ফাওজিয়াকে সাথে নিয়ে ইনিস্টিউট অফ ইসলামিক রিসার্চ এন্ড টিচিং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই ইনিস্টিউটে কুরআনের দাওয়াতকে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বক্তৃতার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। ড. আফিয়া হাজার হাজার কপি কুরআন বিতরণ করেছেন। বিশেষভাবে কারাগারে অবস্থানরত বন্দিদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন এবং কুরআন বিতরণ করেছেন। মার্কিন গবেষক ও স্কলার স্টিফেন ল্যান্ডমিন বলেন, “ড. আফিয়া সিদ্দিকীর অপরাধ শুধু একটিই সেটা হলো, সে ভুল সময়ে ভুল জায়গায় ইসলামের প্রচার-প্রসার করেছিলেন।”
এরই শাস্তি দিতে এক বছর নয়, দুই বছর নয়, নয়টি বছর। নয় নয়টি বছর তাকে একটানা ধর্ষণ করা হয়েছিল। ওই অন্ধকার কারা ঘরে আটকে রেখে শুধু ধর্ষণ নয়, পাশাপাশি মরণব্যাধি ক্যান্সারের জীব ও তার শরীরে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।
আফিয়া সিদ্দিকী বর্তমানে টেক্সাসের কার্সওয়েল, ফোর্ট ওর্থের ফেডারেল মেডিকেল সেন্টারে (FMC) আটক আছেন। সেখানে তাকে স্পেশাল হাউজিং ইউনিটে (SHU) রাখা হয়েছে, যা কিনা সেখানকার সবচেয়ে ভয়াবহ নির্জনবাস বিভাগ।
Rare Speech by Aafia Siddiqui in Houston 1991. Topic : "Women in Islam" Hakim Olajuan (famous basketball player) and Jamal Badawi in audience