06/03/2023
রেলমন্ত্রীকে পেয়ে আহমদিয়াদের ‘ক্ষোভ’, শাস্তির আশ্বাস
“তদেন্ত যাদের নাম আসবে কেউ ছাড় পাবে না“, ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
সোমবার পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
Deshi Collection 24
Published : 6 March 2023, 10:13 PM
Updated : 6 March 2023, 10:13 PM
পঞ্চগড়ে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। এ সময় তিনি তাদের সমবেদনা জানান এবং সান্ত্বনা দেন। পরে তিনি ভুক্তভোগীদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুজন ঘটনার পর থেকেই পঞ্চগড়ে অবস্থান করছেন। রোববার তিনি জেলা শহরের শান্তি সমাবেশ থেকে শহরবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
সোমবার সকাল থেকে তিনি আহমদিয়া নগর, শালশিড়ি এলাকা এবং বোদা উপজেলার বেংহারী ইউনিয়নের ফুলতলা বাজার এলাকায় হামলা-অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর পরিদর্শন করেন।
এ সময় শালশিড়ি এবং ফুলতলা বাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তরা মন্ত্রীকে পেয়ে ‘ক্ষোভ’ প্রকাশ করেন। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। মন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন।
ফুলতলা বাজার এলাকায় মন্ত্রীর গাড়ির সামনে এসে ক্ষতিগ্রস্তরা একযোগে অভিযোগ করেন, ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যরা তার আগে এ এলাকায় এসেছেন। তারা তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তখন মন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তদেন্ত যাদের নাম আসবে কেউ ছাড় পাবে না।“
রেলমন্ত্রীকে পেয়ে আহমদিয়াদের ‘ক্ষোভ’, শাস্তির আশ্বাস
শালশিড়ি এলাকাতেও ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জানালে, মন্ত্রী তাদের কাছেও সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেন। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ারও আশ্বাস দেন নুরুল ইসলাম সুজন।
এদিন মন্ত্রী হামলা-অগ্নিসংযোগ-লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭৯টি পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান করেন। প্রত্যেকটি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল, একটি করে শাড়ি, লুঙ্গি ও কম্বল দেওয়া হয়।
এ সময় নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, “একটি গোষ্ঠী সব সময় ধর্মকে ব্যবহার করে আসছে। তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে নানা ফৌজদারি অপরাধ ঘটাচ্ছে। পঞ্চগড়ে তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিএনপি-জামায়াত যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তা একাত্তরের নৃশংসতাকেও হার মানায়।
“বিএনপি-জামায়াত নানা নামে-বেনামে গুপ্ত হামলা করে মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছে। তাদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।”
মন্ত্রী বলেন, “তবে এত বড় ঘটনা ঘটনার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন কোনো তথ্য পেল না। এখানে তাদের কোনো গাফিলতি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, “ধর্মীয় সম্প্রীতির এই দেশে ধর্মকে ব্যবহার করে একটি মহল রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। তাদের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, “বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার উন্নয়ন করে যাচ্ছে। সব ধর্মের মানুষ সমভাবে উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে। প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় হচ্ছে।”
নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, “জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কোনো অশুভ শক্তি যেন ধর্মের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে- সে বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।“
এ সময় রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল আলিম মাহমুদ, পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এম এম সিরাজুল হুদা, আহমদিয়া মুসলিম জামাতের বহিঃসম্পর্ক, গণসংযোগ ও প্রেস বিভাগের প্রধান আহমদ তবশির চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
শুক্র থেকে রোববার তিন দিনব্যাপী আহমদিয়া সম্প্রদায় সালানা জলসার আয়োজন করে। এই জলসা বন্ধ ও আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে পঞ্চগড় শহরে মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধরা।
রেলমন্ত্রীকে পেয়ে আহমদিয়াদের ‘ক্ষোভ’, শাস্তির আশ্বাস
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরে বড় মিছিল হয়। এ সময় মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক পুলিশের স্টেশন, পঞ্চগড় বাজার মার্কেটে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের দোকানপাট ভাঙচুর এবং বিকালে আহমদিয়াদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ সময় শহরের মসজিদ পাড়া মহল্লার ফরমান আলীর ছেলে আরিফুর রহমান এবং আহমদিয়া সম্প্রদায়ের জাহিদ হাসান নিহত হন বলে পুলিশ জানায়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে দুজনকে আহমদিয়ারা গলা কেটে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা এমন গুজব ছড়ায়। দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নিজেরা লাশ দেখে এসেছেন জানিয়ে লোকজনকে উত্তেজিত করে তোলে। এ নিয়ে ফের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা। এ সময় দুটি দোকান ভাঙচুর করে মালামাল লুটপাট এবং একটি মাইক্রোবাসে আগুন দেওয়া হয়।
এসব ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত সাতটি মামলায় মোট ৮১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সুন্দর বনের মধু সংগ্রহ করে প্রান্তিক �