02/04/2022
খোশ আমদেদ মাহে রামাদান
‘সুস্বাগতম রমাদান মাস’। ‘হে আল্লাহ রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং রমাদান আমাদের নসিব করুন!’ এই আকুল প্রার্থনা কবুল হলো। তাই আনন্দচিত্তে সুস্বাগতম জানাচ্ছি মহিমান্বিত মাহে রমাদানকে। হজরত আবু হুরায়রা (রাহ.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: যখন রমাদান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়; শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারি, খণ্ড: ৩, হাদিস: ১,৭৭৮)। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে এল মাহে রমাদান। প্রিয় নবী (সা.) বলেন: রমাদানের প্রথম অংশ রহমত বা দয়া করুণা, মধ্যের অংশ মাগফিরাত বা ক্ষমা, শেষাংশ নাজাত বা মুক্তি। (বায়হাকি)।
রহমতের বারিতে স্নাত হয়ে, ক্ষমার মহিমায় উজ্জীবিত নব জীবন লাভ করে, নাজাত বা অনন্ত মুক্তির নতুন দিগন্তের জান্নাতি আহ্বানে অফুরান কল্যাণের পথে অভিযাত্রার সুবর্ণ সুযোগ মাহে রমাদান।
প্রিয় নবী রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন: যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের উদ্দেশে রমাদান মাসে রাতে ইবাদত করবে, তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, প্রথম খণ্ড, হাদিস: ৩৬)। রমাদান মাসে রয়েছে প্রভুর করুণার পরম পূর্ণতার রাত্রি লাইলাতুল কদর বা শবে কদর তথা মহিমাময় মহা মর্যাদাপূর্ণ সম্মানিত রজনী। বিশ্বনবী হজরত রাসুলে আকরাম (সা.) বলেন: যে ব্যক্তি ইমানের সহিত সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে ইবাদতে রাত্রি অতিবাহিত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারি, প্রথম খণ্ড, হাদিস: ৩৪)।
প্রিয় নবীজি (সা.) বলেন: জান্নাতে রায়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন রোজাদারেরাই শুধু প্রবেশ করবে। তাদের প্রবেশের পরেই এই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারি, খণ্ড: ৩, হাদিস: ১৭৭৫)। রমাদান মাসে প্রতিটি নেক আমলের ফজিলত সত্তর গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। একেকটি নফল ইবাদতের সওয়াব বা বিনিময় ফরজ ইবাদতের সমান দান করা হয়। তাই রমাদানে কোরআন পড়ুন, কোরআন বুঝুন, কোরআনের মতো জীবন গড়ুন।
প্রাপ্তবয়স্ক, স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন ও সুস্থ সব নারী-পুরুষের জন্য রমাদান মাসে রোজা পালন বাধ্যতামূলক ফরজ ইবাদত। ঋতুমতী নারী, সন্তান প্রসবকারী মা, অসুস্থ ব্যক্তিরা রোজা-পরবর্তী সময়ে কাজা আদায় করবেন। এমন অক্ষম ব্যক্তি, যিনি পুনরায় সুস্থ হয়ে রোজা পালনের সামর্থ্য লাভের সম্ভাবনা বিদ্যমান নেই, তাঁরা রোজার জন্য ফিদইয়া প্রদান করবেন। অর্থাৎ প্রতিটি রোজার জন্য একটি সদকাতুল ফিতরের সমান দান করবেন। জাকাত গ্রহণের উপযুক্তদেরই এই ফিদইয়া প্রদান করা যাবে।
রমাদানের পবিত্রতা রক্ষা করুন। রমাদানে ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখুন। রমাদানের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতসমূহ পালন করুন। দুনিয়ার শান্তি ও পরকালের মুক্তি নিশ্চিত করুন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন: রোজা আমারই জন্য, আমিই এর বিনিময় প্রতিদান দেব। (বুখারি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২২৬)।