09/04/2016
গভীর রাতে জামান সাহেবের হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল, সাধারণত উনার এরকম হয়না তাই উনি অবাকই হলেন। কিন্তু আরও অবাক হয়ে তিনি খেয়াল করলেন তিনি নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না! একগ্লাস পানি খেয়ে আবার শুয়ে পড়লেন তিনি, কিন্তু না, কিছুতেই তাঁর শ্বাসকষ্ট যাচ্ছেনা! এবার বাধ্য হয়ে তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডাকলেন। জামান সাহেবের অবস্থা দেখে তাঁর স্ত্রী তৎক্ষণাৎ বাড়ীর সবাইকে ডেকে তুললেন। বাড়ীর সবাই যখন জামান সাহেবের শ্বাসকষ্ট নিয়ে ডাক্তারী ফলাচ্ছিল, তখন উনাদের বড় ছেলে ইমন ইন্টারনেটে কাছাকাছি হসপিটালের খোঁজে ব্যাস্ত এবং তৎক্ষণাৎ পেয়েও গেল। এবার সে খুঁজল এম্বুল্যান্স সার্ভিস আর সেটাও খুঁজে পেতে তার খুব একটা সময় লাগলো না। এরপর আর দেরী না করে সে প্রথমে এম্বুল্যান্স সার্ভিসে ফোন করে এম্বুল্যান্স আনিয়ে বাবাকে নিয়ে হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা হল। সময়মত হসপিটাল যেতে পারায় জামান সাহেব সুস্থ্য হয়ে পরিবারের মাঝে ফিরে এলেন।
পরের মাসে জামান সাহেব পরিবার সমেত কোন এমিউজমেন্ট পার্কে যাবেন বলে মনস্থির করলেন। এদিকে জামান সাহেবের স্ত্রী আবার বাসে উঠতে পারেন না, মানুষের ভিড়ে উনার বমি বমি ভাব হয়। তাই উনি যাবেন না বলে ঘোষণা দিলেন। কিন্তু তাই কি হয়? একথা শুনে ইমন ইন্টারনেটে বাংলাদেশের এমিউজমেন্ট পার্কের খোঁজ নিয়ে জনপ্রিয় একটি পার্কের সব তথ্য যোগার করল, তারপর একটি রেন্ট এ কার এর তথ্য যোগার করে সেখানে ফোন দিয়ে একটি মাইক্রো ভাঁড়া করে ফেলল। সবাই মিলে সেদিন স্বরনীয় একটি দিন কাটালো।
জামান সাহেবের বড় মেয়ে নাইমার আগামীকাল জন্মদিন। মেয়েকে কিভাবে সারপ্রাইজ দেয়া যায় তা নিয়ে ইমনের সাথে কথা বলছিলেন তিনি। এবারও ছেলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জেনে নিল বাড়ীর কাছাকাছি একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের তথ্য এবং তখনই জন্মদিনের পার্টির জন্য একটি টেবিল বুকিং দিয়ে ফেললো। সেইসাথে নামকরা একটি বেকারী দোকানে একটি কেক এরও অর্ডার দিয়ে দিল। পরদিন জামান সাহেবের মেয়ে তার জীবনের স্বরনীয় জন্মদিন পালন করল পরিবার সমেত।
জামান সাহেবের বন্ধু শফিকুর রহমানের সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবসা। এইতো কিছুদিন আগে বেড়াতে এসে উনি যারপরনাই আপসোসের সাথে ব্যবসায় মন্দার কথা বলছিলেন বিষণ্ণ বদনে। কোনভাবেই ক্লায়েন্ট পাচ্ছেন না তিনি। ইমন তখন কাছেই ছিল, শফিক আঙ্কেলের এই দুর্দশার কথা শুনে সে এবারও তার হাতিয়ার ইন্টারনেটের প্রসঙ্গ টেনে শফিক সাহেবকে উনার প্রতিষ্ঠানটি একটি বৃহত্তম তথ্য সমৃদ্ধ ডিরেক্টরি পেইজের অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিল। তিনি ইমনের মাধ্যমে তাই করলেন এবং অবাক বিস্ময়ে দেখলেন কিছুদিনের মাঝেই তাঁর ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠলো! বর্তমান যুগের তরুণদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিই পাল্টে গেল।
সবার উপকারকারী ইমন এবার নিজেই বিপদে পড়লো। তাঁর কম্পিউটারটি হঠাৎ করেই আর চালু হচ্ছেনা! ভাগ্যিস ইমন ইন্টারনেট থেকে কাছাকাছি কিছু কম্পিউটার মেরামতকারী দোকানের যোগাযোগের নম্বর মোবাইলে সেইভ করে রেখেছিল। তাই সেদিনই ইমন তাঁর কম্পিউটার সারিয়ে নিয়ে এসে ইন্টারনেটের সাথে তাঁর সংযোগ অব্যহত রাখতে পারলো।
এভাবেই জামান সাহেবের মত আরও অনেকের সুখে, দুঃখে ও নানাবিধ প্রয়োজনে আমরা আমাদের তথ্যসমৃদ্ধ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনাদের সেবায় নিয়োজত আছি। আমাদের পেইজ এর সাথে সংযুক্ত থাকুন ও আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যাবলির মাধ্যমে জীবনকে আরো সহজতর করে নিন।
----------------By
www.guidebd24.com