10/08/2026
গরমের সময়ে এসি এখন অনেক পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তবে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই এসি ব্যবহারে দ্বিধায় থাকেন। অথচ সঠিক নিয়মে এসি ব্যবহার করলে আরাম বজায় রেখেও বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলেই এসির কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় কমে।
দ্রুত ঘর ঠান্ডা করার আশায় অনেকেই এসির তাপমাত্রা ১৮ বা ২০ ডিগ্রিতে সেট করেন। এতে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালানো সবচেয়ে আরামদায়ক ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী।
এসি চালানোর পাশাপাশি সিলিং ফ্যান বা স্ট্যান্ড ফ্যান ব্যবহার করলে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে খুব কম তাপমাত্রায় এসি চালানোর প্রয়োজন হয় না এবং বিদ্যুৎ ও কম খরচ হয়।
এসি চালু থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা জরুরি। বাইরের গরম বাতাস ঘরে ঢুকলে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে এসিকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। পাশাপাশি দরজা-জানালার ফাঁকফোকর থাকলে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
ফিল্টারে ধুলাবালি জমে গেলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এতে এসির শীতল করার ক্ষমতা কমে এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে। তাই দুই থেকে চার সপ্তাহ পরপর ফিল্টার পরিষ্কার করলে এসি ভালোভাবে কাজ করে।
জানালা দিয়ে সরাসরি রোদ প্রবেশ করলে ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। পর্দা, ব্লাইন্ড বা সানশেড ব্যবহার করলে ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা থাকে এবং এসিকে কম পরিশ্রম করতে হয়।
ঘরে কেউ না থাকলে অযথা এসি চালিয়ে রাখা উচিত নয়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে অবশ্যই এসি বন্ধ করে বের হওয়া ভালো। এতে বিদ্যুৎ অপচয় কমে।
বেশিরভাগ আধুনিক এসিতে থাকা স্লিপ মোড রাতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর। এই মোডে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা সামান্য বাড়ে, ফলে আরাম বজায় থাকার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খরচও কম হয়।
সারারাত এসি চালানোর পরিবর্তে টাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট সময় পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসি বন্ধ হয়ে গেলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়।
দীর্ঘদিন সার্ভিসিং না করালে এসির কুলিং ক্ষমতা কমে যেতে পারে। গ্যাস, কয়েল বা অন্যান্য যন্ত্রাংশে সমস্যা থাকলে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। তাই বছরে অন্তত একবার অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি সার্ভিসিং করানো উচিত।
নতুন এসি কেনার পরিকল্পনা থাকলে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি বেছে নেওয়া ভালো। এ ধরনের এসির কম্প্রেসার প্রয়োজন অনুযায়ী গতি নিয়ন্ত্রণ করে কাজ করে, ফলে সাধারণ নন-ইনভার্টার এসির তুলনায় দীর্ঘমেয়াদে কম বিদ্যুৎ খরচ হয়।
এসি চলাকালে ওভেন, ইস্ত্রি, হিটার বা অন্যান্য তাপ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহার করলে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এতে এসিকে আরও বেশি কাজ করতে হয়। তাই সম্ভব হলে এসব যন্ত্র অন্য সময়ে ব্যবহার করা ভালো।
RAC Service Point
ঘরের আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষমতার এসি ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ঘরে অতিরিক্ত বড় এসি বা বড় ঘরে কম ক্ষমতার এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ অপচয়ের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত শীতলতাও পাওয়া যায় না।
এসি ব্যবহার করলেই যে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেড়ে যাবে, এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়। বরং সঠিক তাপমাত্রা নির্বাচন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়মতো সার্ভিসিং এবং স্লিপ মোড ও টাইমারের মতো সুবিধা ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি এসির আয়ুও দীর্ঘ হয়।