21/10/2025
যারা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়তেছেন তাদের সকলের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য।
১.বীম কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?
উ: বীম এক প্রকার আনুভূমিক কাঠামো, যা এক বা একাধিক খুটি,কলাম,পিলার,দেওয়াল ইত্যাদি উপর অবস্থান করে এবং এর আরোপিত লোডকে সাপোর্ট এ স্থানান্তরিত করে।
বীম ৫ প্রকার।যথা-
I)সাধারণভাবে স্থাপিত বীম
iI)ক্যান্টিলিভার বীম
iii)ঝুলন্ত বীম
iv)আবদ্ধ বীম
v)ধারাবাহিক বীম....
২.বীমে কী কী ধরননের লোড কাজ করে?
উ: ৩ ধরনের লোড কাজ করে।যথা-
I)কেন্দ্রিভূত লোড
ii)সমভাবে বিস্তৃত লোড
iii)অসমভাবে বিস্তৃত লোড....
৩.বীমের উপর কী কী লোড ক্রিয়া করে?
উ: বীমের উপর ৩ ধরনের লোড ক্রিয়া করে।যথা-
I)নিশ্চল ভর
ii)সচল ভর
iii) পারিপার্শ্বিক ভর...
৪.বীম কি ধরনের ফোর্স ফেল করে?
উ: টেনশন ফোর্স।...
৫. বীমে স্টিরাপ কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: শিয়ার ফোর্স প্রতিরোধে এবং ডায়াগোনাল টেনশনকে চেক দেওয়ার জন্য...
৬.বীমের চাপ এলাকা (Compression zone) ও টান এলাকা (Tension zone)কাকে বলে?
উ: বীমের নিরপেক্ষ অক্ষ থেকে সর্ব উপরি তল পর্যন্ত এলাকা কে চাপ এলাকা বা Compression zone বলে।
নিরপেক্ষ অক্ষ থেকে সর্বনিম্ন তল পর্যন্ত এলাকাকে টান এলাকা বা Tension zone বলে।...
৭.স্টিরাপ প্রয়োগ করেও কখন বীমে ব্যর্থ রোধ করা যায় না?
উ:কোন R.C.C বীমে সৃষ্ট শিয়ার পীড়নের মান কংক্রিট ও স্টীলের অনুমোদনযোগ্য শিয়ার পীড়নের মানের চেয়ে বেশি হলে।...
৮.লোডের কারনে R.C.C বীম কিভাবে ব্যর্থ হতে পারে?
উ:৩ ভাবে ব্যর্থ হতে পারে।যথা-
I)প্রসারণ স্টীলে ব্যর্থ
ii)সংকোচন কংক্রিটে ব্যর্থ
iii)প্রসারন স্টিল ও সংকোচন কংক্রিট একই সাথে ব্যর্থ..
৯.ক্যান্টিলিভার বীমের প্রধান রড কোথায় ব্যবহার করা হয়?
উ: মোমেন্টের মান সবসময় ঋণাত্মক হয় বলে প্রধান রড বিমের উপরিভাগে দেয়া হয়।..
১০.টি-বীম কাকে বলে?
উ: বীম এবং স্ল্যাব একত্রে ঢালাই করলে এবং বীম ও স্ল্যাব সম্মিলিত অংশ দেখতে T এর মত হয়,একে টি-বীম বলে।...
১১.বীমে সর্বনিম্ন কভারিং কত ধরা হয়?
উ: ১.৫" ধরা।...
১২. বীম তদন্ত কেন করা হয়?
উ: বীমের প্রকৃত পীড়নদ্বয় অর্থাৎ fc ও fs এর মান নির্নয় করে বীম আরোপিত লোডে নিরাপদ কিনা যাচাই করার জন্য বীম তদন্ত করা হয়।..
১৬. বীমে ব্যবহৃত রডের ক্র্যাংক করার পদ্ধতিটা কি?
উ: সাধারণভাবে স্থাপিত উভয় প্রান্তে সাপোর্ট থেকে L/7 দুরত্বে এবং আংশিক অবিচ্ছিন্ন বীমের অবিচ্ছিন্ন প্রান্তে এবং ধারাবাহিক বীমের উভয় প্রান্তে সাপোর্ট থেকে L/5 দুরত্বে ক্র্যাংক করা হয়।...
১৭.বীমের শাটারিং এ খাড়া দিক ও তলার ঠেকনা কতদিন পর খোলা হয়?
উ: খাড়া দিক ১-২ দিন পর এবং ঠেকনা ৭ দিন পর।...
১৮.বীমের আর সি সি কাজে কী হারে রড ব্যবহার করা হয়?
উ: ১%-২% হারে।...
১৯.একটি বীমের দৈর্ঘ্য ২০'-০",বীম গভীরতা ১'-৩",বীম প্রস্থ ০'-১০",
২-১৬মিমি ক্র্যাংক বার,বীমের মেন রড ৬-১৬ মিলি,রিং দূরত্ব ৬" পরপর হলে বীমটির যাবতীয় এস্টিমেট কর।মাটাম দৈর্ঘ্য ৬"...
ঢালাইয়ের পরিমান
=২০'-০"x১'-৩"x০'-১০"
= ২০.৭৫ ঘনফুট
সিমেন্ট=২.৫০ ব্যাগ
বালি=৬ সিএফটি
খোয়া=১২ সিএফটি....
রডের পরিমান
মেন রডের দৈর্ঘ্য
= (২০'-০")-(১.৫"x২)+(৬"x২)
=২০'-৯"
ক্র্যাংক রড দৈর্ঘ্য =(২০-০")-(১.৫×২)+(৬"×২)+২×০.৫×১২")
= ২১'-৯"
(২-১৬ মিমি)এক্সট্রা টপ দৈর্ঘ্য =L/4
=২০'/৪
=৫'-০"
রিং রডের দৈর্ঘ্য
= {(১০-১.৫x২)+(১৫-১.৫x২)}x২+(৩x২)
= ৩'-৮"
মোট রিং এর পরিমান
= [{(২০'-০")-(১.৫"x২)}÷৬"]+১
= ৪০.৫০
= ৪১ টি
রডের পরিমান
মেন রড = ২০'-৯"x৬x০.৪৯ =৬১ কেজি
রিং রড = ৩'-৮"x৪১x০.১৯ = ২৮.৬০ কেজি
ক্র্যাংক রড=২১-৯"×২×০.৪৯=২১.৩১ কেজি
এক্সট্রা টপ রড=৫'-০"×৪×০.৪৯=৯.৮০ কেজি
মোট রড =১২১ কেজি....
সাটারিং এর পরিমান
গভীরতা = ১'-৩"+২"= ১'-৫"
প্রস্থ = ০'-১০"
মোট দৈর্ঘ্য = ১'-৫"+০'-১০"+১'-৫"
= ৩'-৮"
মোট সাটারিং
= ৩'-৮"x২০'-০"
= ৭৩.৪০ বর্গফুট...
২০.বীমে বা স্ল্যাবে ক্র্যাংক বার কেন ব্যবহার করা হয়?
উ : ঋণাত্মক বেন্ডিং মোমেন্ট ও সাপোর্টের কাছাকাছি সর্বাধিক শিয়ার ফোর্সকে প্রতিরোধের জন্য...
২১.ঢালাই এর আগে কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে?
উ: ঢালাইয়ের আগে ফর্মওয়ার্ক, রডের সঠিক অবস্থান,স্পেসিং অর্থাৎ ড্রইং মোতাবেক হয়েছে কিনা,ক্লিয়ার কভার চেক, বেশি উচু থেকে কংক্রিট না ঢালা,বৃষ্টির দিন হলে পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা,ভালোভাবে ভাইব্রেটর করা,সর্বোপরি ঢালাই পর্যন্ত সাথে থাকা।...
২২.বীমে বা স্ল্যাবের এক্সটা টপ কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর :লোডের তীব্রতা হ্রাস করার জন্য।