15/05/2022
বাংলাদেশে নয় শুধু, সারাবিশ্বেই আয়রন ডেফিসিয়েন্সিতে ভোগা নারীর সংখ্যা অনেক। এর প্রধান কারনগুলো হচ্ছেঃ
১)মাসিকের রক্তস্রাব
২)নারীদের রক্তে লোহিত রক্ত কনিকার ঘনত্ব কম হওয়া
৩)কোষের স্বাভাবিক আয়রন স্টোরেজ ক্যাপাসিটি(ফেরিটিন) পুরুষের চেয়ে কম হওয়া
৪)ভিটামিন সি সহজে খরচ করে ফেলা
৫)ভিটামিন বি-১২ এর অভাব
বাংলাদেশ একটা সময় মাছে ভরপুর ছিল। আমাদের দেশের নদীনালা খালেবিলে থাকা মাছে একই সাথে পাওয়া যেত আয়রন, জিংক আর ভিটামিন বি-১২।
সময়ের সাথে সাথে কীটনাশক, রাসায়নিক সার আর শিল্পকারখানার বর্জ্য মিলে আমাদের দেশের খালবিল হয়েছে মাছশুন্য, নদীতেও এখন মাছ পাওয়া যায় আগের চাইতে অনেক কম।
কিন্তু তবু, আমাদের দেশীয় মাছেই রয়েছে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি সমস্যার সমাধান।
চাপিলা, টেংরা, মলা, ঢেলা, শিং, খলিশা আর কাচকি মাছ আয়রনের চমৎকার উৎস। এসব মাছের যেকোনটার ১০০ গ্রাম খেলেই দিনের আয়রনের নিয়মিত চাহিদা পুরন হয়ে যাবে।
পাশাপাশি, নিউট্রিশনিস্ট/ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন সবুজ-লাল শাকসবজি, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ রেড মিট/অর্গান মিট(গরু-খাসী-মহিষের গোশত/কলিজা)।
আয়রনের ঘাটতি পুরন সাপ্লিমেন্ট বা শাকসবজি থেকে না, এনিম্যাল প্রোটিন থেকে করুন। আর উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে যদি নিতেই হয় তো নিন স্পিরুলিনা বা সজনে থেকে।
মনে রাখবেন, এক নাগাড়ে বেশিদিন আয়রন সাপ্লিমেন্ট খাওয়া শরীরে আয়রন টক্সিসিটি তৈরি করে।
আর বিশেষভাবে এই মাছগুলোর দিকে নজর দিন, কারন এগুলোতে শুধু আয়রনই যে আছে তা নয়, আছে আয়রন শোষনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি-১২, একেবারে বায়োলজিক্যালি এক্টিভ ফর্মে।