04/01/2026
কয়েকদিন আগেও আমরা ভেনিজুয়েলার সামরিক মহড়ায় শুনেছি—“দেশের জন্য জীবন দেবো, তবুও আ*মেরিকার কাছে মাথানত করবো না।”
সামরিক, আধাসামরিক, বেসামরিক—সবাইকে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে দেখা গেছে।
কিন্তু বাস্তবতা কী বললো?
একটি হেলিকপ্টার, কয়েকজন সৈন্য—আর সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে দেশ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। কোনো দৃশ্যমান প্রতিরোধ নেই।
চীন-রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা থাকা সত্ত্বেও বোমা হামলার সময় প্রতিহত করার চেষ্টা পর্যন্ত হয়নি।
এটা কি শুধুই দুর্বলতা?
না।এটা ছিল সামরিক বাহিনী ও ইন্টেলিজেন্সের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিশ্বাসঘাতকতার ফল।
ইতিহাস বলে—যে রাষ্ট্র ভেতর থেকে ভাঙে, তাকে বাইরে থেকে ধাক্কা দিতেও হয় না।
এখন আসুন,আমাদের নিজেদের প্রেক্ষাপটে তাকাই।
আমাদের বারবার শেখানো হয়েছে—“পাশের দেশ আমাদের বন্ধু।”
কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস একবাক্যে বলে:
পাশের রাষ্ট্র কখনো বন্ধু নয়, বরং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী।
পাশের রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়—পাশের দেশকেই কাউন্টার দেওয়ার জন্য।
আজ বাংলাদেশ নতুন অস্ত্র কিনছে, আকাশ প্রতিরক্ষা যুক্ত করছে, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিক করছে—
প্রশ্ন একটাই: কাকে কেন্দ্র করে?
কিন্তু যদি সেই শক্তির ভেতরেই ঘাপটি মেরে থাকা ঘাতকরা শত্রুর সাথে হাত মেলায়,তাহলে হাজার কোটি টাকার অস্ত্র দিয়েও দেশকে নিরাপদ রাখা যাবে না।
ভেনিজুয়েলার মতোই সিস্টেম “সারেন্ডার” করবে—
অস্ত্র থাকবে, কিন্তু ব্যবহার হবে না।
মহড়ায় দেশপ্রেম দেখানো হবে, যুদ্ধে নয়।
পিলখানার ইতিহাস আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে—
দেশপ্রেমিকদের কীভাবে একে একে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আগামীতেও একইভাবে দেশপ্রেমিক হাদি কিংবা সত্যিকারের দেশপ্রেমিকদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হবে।
রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে আঘাত এলে
ঘাতকরা কাউকেই বাঁচতে দেয় না—
না সাধারণ মানুষ, না তথাকথিত সুবিধাভোগী।
এই জন্যই ইতিহাসের শিক্ষা পরিষ্কার—
🔹 অস্ত্র দরকার, কিন্তু তার চেয়েও বেশি দরকার বিশ্বস্ত মানুষ
🔹 নিরাপত্তা মানে শুধু প্রযুক্তি নয়, দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব
🔹 ইন্টেলিজেন্স, প্রশাসন ও মিলিটারিতে ঘাপটি মারা দালালদের চিহ্নিত করে সরাতে হবে
🔹 বিদেশি দালাল, মাফিয়া, ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী—রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু
এই যুদ্ধের যুগে কেউ কাউকে রক্ষা করতে আসে না।
রাশিয়া-চীনও তাদের মিত্রকে বাঁচাতে পারেনি—
আপনাকেও কেউ বাঁচাতে আসবে না।
রাষ্ট্রের বন্ধু বলে কিছু নেই। আছে শুধু স্বার্থ আর শক্তি।
নিজেদের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে।
দেশপ্রেমিকদের দিয়ে ইন্টেলিজেন্স গড়তে হবে।
দেশপ্রেমিকদের হাতেই প্রশাসন ও সামরিক নেতৃত্ব দিতে হবে।
এই দেশটা কোনো দলের নয়—এই দেশটা প্রকৃত দেশপ্রেমিকদের।
**বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।
বাংলাদেশ সার্বভৌম থাকুক