14/02/2025
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস: ভালোবাসার নামে অনাচার নয়
ভালোবাসা—একটি পবিত্র অনুভূতি, যা মানুষের হৃদয়ে নৈতিকতা, শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতার জন্ম দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমাদের সমাজে কিছু মানুষ এই মহৎ অনুভূতিকে অপব্যবহার করছে। ভালোবাসা দিবসের নামে অনেকে এমন কার্যকলাপ করছে, যা আমাদের সংস্কৃতি, ধর্ম ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না।
ভালোবাসার প্রকৃত রূপ কী?
ভালোবাসা মানে শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার সম্পর্ক নয়; এটি মা-বাবা, ভাই-বোন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বন্ধুর মধ্যেও বিদ্যমান। ভালোবাসা মানে শ্রদ্ধা, স্নেহ, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ। কিন্তু আজকের সমাজে কিছু তরুণ-তরুণী ভালোবাসার সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝে এই দিনে সীমালঙ্ঘন করছে, যা অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভালোবাসার নামে অনাচার কেন?
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব এবং কিছু অসচেতনতার কারণে ভালোবাসা দিবসকে অনেকেই অপসংস্কৃতির মাধ্যমে উদযাপন করছে। পার্ক, রেস্তোরাঁ, হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক কাজের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
আমাদের করণীয় কী?
১. ভালোবাসা দিবসকে সত্যিকারের ভালোবাসার মাধ্যমে উদযাপন করা উচিত—পরিবার, বন্ধু ও আত্মীয়দের প্রতি দায়িত্বশীলতা প্রকাশের মাধ্যমে।
২. ইসলাম ও বাঙালি সংস্কৃতির আলোকে ভালোবাসার সঠিক ব্যাখ্যা বোঝানো দরকার।
3. তরুণদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
৪. অশ্লীলতা ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।
ভালোবাসা একটি পবিত্র অনুভূতি, এটি কখনোই পাপের বাহক হতে পারে না। ভালোবাসা দিবস পালন করতে হলে সেটি হওয়া উচিত নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সীমার মধ্যে। আসুন, আমরা ভালোবাসাকে সুন্দরভাবে রক্ষা করি, অশ্লীলতা নয়—পরিশুদ্ধ ভালোবাসাই হোক আমাদের আদর্শ।
—মোঃ মাহবুবুর রহমান তানজিদ