10/02/2024
দলীয় সূত্র আরও জানায়, বিএনপি এখন বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিতে যেতে চাইছে না। এজন্য ধীরনীতি অবলম্বন করছে দলটি। কারণ হিসাবে নেতারা জানান, সামনে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, মার্চে পবিত্র রমজান শুরু, পরে ঈদুল ফিতর রয়েছে। এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা এখনো কারাগারে বন্দি। তাদের মুক্তির বিষয়টিকে এখন প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মার্চেই হচ্ছে ময়মনসিংহ সিটি নির্বাচন ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন। মে মাসে হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। যদিও বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে কোনো ভোটে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল বিএনপি। তাই এসব নির্বাচনের কথা ভাবছে না দলটি। সরকার পদত্যাগের একদফা আন্দোলনেই মনোযোগ তাদের। তবে প্রতীক ছাড়া দলের কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে নমনীয় নাকি কঠোর হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি। তৃণমূলের অনেকে ভোটে যেতে আগ্রহী বলে নীতিনির্ধারকদের জানিয়েছেন। সে বিবেচনায় স্বতন্ত্রভাবে কেউ অংশ নিলে তাদের বিরুদ্ধে দল নমনীয় হতে পারে। তবে এই সময়ে তারা মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি, মানুষের অভাব, নাগরিক হয়রানির ঘটনাসহ জনস্বার্থ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মাঠে থাকবে। একই সঙ্গে নতুন কোনো ঘটনা সামনে এলে তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিতে আমরা চলমান আন্দোলনে আছি। আন্দোলনের গতি একেক সময় একেক রূপ নেয়। অপেক্ষা করুন, নিশ্চয়ই আন্দোলনে দেখতে পাবেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপিসহ সমমনা ৬২টি রাজনৈতিক দলের ৭ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত সঠিক ও যৌক্তিক ছিল। বিএনপির আবেদনে সাড়া দিয়ে, নির্বাচন বর্জন ও ফল প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে জনগণ প্রমাণ করেছে যে, বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান গণআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। বিএনপির সঙ্গে একত্র হয়ে গণমানুষের এই নীরব প্রতিবাদ ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন সত্যিকার অর্থে বিএনপির রাজনীতির সফলতা তথা বিজয়ের বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে দলটির একাধিক নেতা জানান, আন্দোলনের এই সময়ে আবার একটি ‘বিশেষ সিন্ডিকেট’ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি ভেঙে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। এ তিন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নামে নানা অপ্রচারও চালাচ্ছেন তারা। সংগঠনের মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটির মেয়াদ এখনো রয়েছে। যদিও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কমিটি বা কোনো ফোরামের বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। নেতারা জানান, মেয়াদ শেষের আগেই কমিটি ভাঙলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কেননা চলমান আন্দোলনে মূল দল বিএনপির চেয়ে এসব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সারা দেশে ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন কমিটি ভাঙলে তাদের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে। এতে মনোবল হারাবে নেতাকর্মীরা। যার প্রভাব পড়তে পারে সামনের আন্দোলনে। কেননা পুনর্গঠনে হাত দিলে নেতাকর্মীরা আন্দোলনমুখী না হয়ে সেদিকে মনোযোগ থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই বিশেষ সিন্ডিকেটের কী উদ্দেশ্যে বা কাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এসব করছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেতারা। এ নিয়ে অঙ্গসংগঠনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নেতারা আরও জানান, নির্বাচন শেষ হলেও নেতাকর্মীরা এখনো আশাবাদী বর্তমান সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। আন্দোলন চলতে থাকলে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে ফলাফলও ঘরে আনা সম্ভব। সেক্ষেত্রে অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়ার অর্থ হলো আন্দোলনকে ভেস্তে দেওয়া। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান কমিটি সিন্ডিকেটমুক্ত। কারণ এসব কমিটি সরাসরি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করেছেন। সেজন্য নেতারা তার নির্দেশ মতোই সব কাজ করছে। কিন্তু এখন নিজেদের হাতে এসব কমিটি নেওয়ার জন্য ওই সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লেগেছে। বাস্তবতা হলো অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই সারা দেশে মূলত আন্দোলন জোরদার করেছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নানা নির্দেশনা তৃণমূলে পৌঁছে দিয়েছে। আর সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য হলো-সংগঠন দুর্বল করা, যাতে পদ বাণিজ্য করতে সুবিধা হয়।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদল আন্দোলনে ছিল এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ভোটাধিকার ফিরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলনে থাকবে। চলমান আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ছাত্রদলের নেতাকর্মী কারান্তরীণ এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মামলা-হামলা, নির্যাতন সত্ত্বেও পিছপা হয়নি নেতাকর্মীরা। যে কোনো সংকটে দৃশ্যমান চিত্রে সবার সম্মুখভাবে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখার ইতিহাস বা ঘটনা আমার রয়েছে। সংগঠন করি ওয়ার্ড ছাত্রদল থেকে। দলের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আন্দোলনে অবদান রাখার চেষ্টা করেছি এবং করছি।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থাকাকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে যখন প্রথম প্রতিরোধ ছিল, সবার সামনে থেকে করেছি। ভেতরে যদি আবেগ না থাকে কেউ কিন্তু সবার সামনে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে না। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করেছি। ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের দিন গুলিবিদ্ধ হয়েছি, মাতুয়াইলে সম্মুখসারিতে ছিলাম। রাজপথে মিছিল করেছি, মশাল মিছিল করেছি, সারা দেশে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছি। আন্দোলনের প্রথম ভাগ শেষে ইতোমধ্যে সারা দেশের জেলা মর্যাদার সব ইউনিটের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের সীমাবদ্ধগুলো বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছি। ছাত্রদল শক্তিশালীই আছে এবং সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে সর্বশক্তি নিয়ে থাকবে।
বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসাবে খ্যাত ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানান, আন্দোলনে আর্থিক বিষয়টিও দরকার। কিন্তু ছাত্রদল কারও কাছ থেকে সেই সুবিধা পায়নি। এমনকি কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের দেখভাল এবং আইনি সহায়তার জন্য কারও কাছ থেকে আর্থিকভাবে সহায়তা পাওয়া যায়নি। তারপরও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা নানাভাবে তা করে যাচ্ছে। জানামতে এসব দেখভালের জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাউকে দায়িত্ব দিয়েছেন, কিন্তু তারা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের এসব বিষয়ে কোনো ধরনের সহায়তা করেনি। এমনকি নির্বাচনের আগে বিএনপির দায়িত্বশীলদের মোবাইল ফোন পর্যন্ত বন্ধ পাওয়া গেছে। তারপরও কিন্তু আন্দোলনে নেতাকর্মীরা সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং করবে।
73
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing button
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
Advertisement
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অনেক দেশ যেখানে সাহসই করেনি সেখানে সফল বাংলাদেশ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডিএমপি
বইমেলায় চাপ, নতুন নির্দেশনা দিল ডিএমপি
নুসরাত
শিশুদের এ কী শেখাচ্ছেন নুসরাত? ক্ষেপলেন নেটিজেনরা
শবে বরাত
পবিত্র শবেবরাত কবে
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
লোকসভা ভোটের আগেই কার্যকর হবে নাগরিকত্ব আইন: অমিত শাহ
প্রিন্স
মুক্তি পেলেন বিএনপি নেতা প্রিন্স
সন্দেশখালিতে নারীদের বিক্ষোভ
গভীর রাতে কম বয়সি গৃহবধূদের তুলে নিয়ে যেত ওরা!
ইজতেমা
ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু
সব খবর
jamuna
footer_logo
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিঅর্থনীতিসারাদেশখেলাবিনোদনশিক্ষাঙ্গনলাইফ স্টাইলআইটি বিশ্বঅটোটেকপরবাসইসলাম ও জীবনরাজধানীডাক্তার আছেনচিত্র বিচিত্রএকদিন প্রতিদিনসম্পাদকীয়দৃষ্টিপাতবাতায়নস্বজন সমাবেশপ্রতিমঞ্চসোশ্যাল মিডিয়াসাহিত্যদরকারিকর্পোরেট নিউজবিচ্ছুকোভিড-১৯শর্তাবলীপ্রাইভেসি নীতিযোগাযোগের ঠিকানা
App Link
App Link
Converter
সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম
প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৩০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬
E-mail: [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
Crafted with by The Daily Jugantor © 2024