16/03/2026
জানাজা নামাজে উপস্থিত সবার চোখ তখন অশ্রুসজল। সেই মুহূর্তে মরহুমের বড় ছেলে মেহেদী হাসান কান্নাজড়িত কণ্ঠে যে কথাগুলো বললেন, তা শুনে উপস্থিত মানুষের হৃদয় ভারী হয়ে ওঠে।
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তাঁর বাবার জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্সদের বারবার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর দাবি অনুযায়ী, কেউ তখন এগিয়ে আসেনি। বরং নার্সরা নিজেদের রুমে বসে মোবাইলে টিকটক নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
মেহেদী হাসানের সেই অসহায় আর্তনাদ শুনে অনেকেই গভীর কষ্ট ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজন সন্তানের চোখের সামনে তার বাবার এমন অসহায় মুহূর্ত—এ দৃশ্য যে কতটা হৃদয়বিদারক, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
তিনি আরও বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিশ্চয়ই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। তাই যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
এদিকে জানাজার ময়দানে আরেকটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। মরহুমের চাচা আব্দুর রব কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, বড় ভাই আব্দুল হাই মাস্টার (হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপি'র দপ্তর সম্পাদক) অনেক আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি ছোট ভাই আব্দুর রবের হাতে সংসারের দায়িত্ব তুলে দিয়ে বলেছিলেন—“সংসারটা দেখে রাখিস।”
আজ সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছোট ভাইকে নিজের ভাতিজার খাটিয়া কাঁধে নিতে হচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “বড় ভাই যে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিল, আজ সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই ভাতিজার জানাজায় দাঁড়াতে হলো—এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে।”
এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের আর্তনাদের চেয়ে কি মোবাইলের বিনোদন বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসি ক্যামেরা চেক করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু মহোদয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
✍️
মোঃ ফারুক হোসেন সাংবাদিক