27/01/2026
আমার চোখে দেখা শিবিরের কোন কর্মী একটা মিটিং করতে হলেও সেটা করতে হতো ফজরের পর পর, যখন সবাই ঘুমে থাকে, রাতের আঁধারে করা হতো, পুলিশ একবার খোঁজ পেলেই সেখানে হামলা করতো। সকাল সকাল খবর আসতো শিবিরের ওমুক মিটিং এ হামলা এবং তাদেরকে জেলে নেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে শিবির নিয়ে ২ টা শব্দ লিখতেও শিবির কর্মীরা ৫০ বার ভাবতো, এটা লিখার পর কী হবে?
বর্তমান ছাত্রলীগ ওইসব নিয়ম থেকে হাজার হাজার গুণ ভালো আছে, জুলাইয়ের কোন সফলতা না আসলেও, অন্তত পক্ষে এইযে প্রতিবাদ করতে পারতেছে এটাই হাজার হাজার গুণ সফলতা ছাত্রলীগের। যদি জুলাই না আসতো, তাহলে শিবির পূর্বের মতোই থাকতে হতো। একবার আওয়ামী লীগের কর্মীরা কী ভেবে দেখেছেন আপনাদের স্বাধীনতা শুধুমাত্র জুলাইয়ের জন্য হয়েছে।
দুঃখের বিষয় হলো আপনেরা নিজেরাও অন্যায় হলে প্রতিবাদ করতে পারেন নাই তখন, কারন হাত পা বাঁধা ছিলো আপনাদের। অন্তত পক্ষে এখন প্রতিবাদ করতেছেন এটা জুলাইয়ের জন্য পারতেছেন।
বর্তমান নতুন নতুন ছাত্রশিবিরের অনেক কর্মী আছে, তারাও পূর্বের দিন গুলোর কথা জানেনা। তারা জানেই না অতীতের কর্মীদের অবস্থা কেমন ছিলো। আমার বন্ধু বান্ধব’দের মধ্যে অনেকে শিবিরের কর্মী আছে, তাদের মধ্যে ২/১ ছাড়া বাকি কেউ শিবিরের আদর্শ লালন করেনা। এরা অনেকেই নিত্যনতুন উস্কানিমূলক মন্তব্য করার জন্য নিয়মিত হয়েছে ,নাম দিয়েছে আমি শিবিরের কর্মী।
এর পর আসি ছাত্রলীগের কথা, এরা যারা পূর্বের ছাত্রলীগ আপাতত চুপচাপ আছে, তারাও ধৈর্য ধরে আছে, তারাও চাইতেছে দেশটা ভালো থাকুক, তবে শেখ হাসিনা ফিরে আসুক। আর নব্য কিছু ছাত্রলীগ হয়েছে ৫ আগষ্টের পরে, এদেরকে রিয়েল ছাত্রলীগ কর্মীরা কখনোই পূর্বের মিটিং মিছিলে দেখেছে কিনা সন্দেহ। বর্তমান নব্য ছাত্রলীগ রা নব্য শিবিরের মতোই অশান্তি করে, উস্কানিমূলক মন্তব্য করে ফেইসবুকে প্রমাণ করতে চায় আমি ছাত্রলীগ অথবা আমি শিবির।
এছাড়া বর্তমান নির্বাচনে আমার দেখা ছাত্রদলের তেমন একটিভিটি নেই, কেন নেই আমি জানিনা, যারা পুরাতন ছাত্র দলের সাথে ছিলেন, তারা কেউ আগের মতো এক্টিভ না। কিছু এক্টিভ আছে, তবে পূর্বের সবাই নেই। তবে নব্য কিছু ছাত্রদল বের হয়েছে যারা এক্টিভ।
মাঝেমধ্যে চিন্তা হয়, দেশে কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, তা বুঝা মুশকিল, অবাক লাগে উস্কানিমূলক মন্তব্য। আমি চাই রাজনীতির মাঠ থাকুক গরম। তবে সেখানে থাকবে সম্মান এবং সহযোগী মতামত। দিনশেষে আগামী ১২ তারিখ এ “হ্যাঁ” জিতলে দেশটা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রনে আসবে। আর “না” জিতলে দেশটা এলোমেলো হয়ে যাবে, এমপি মন্ত্রীরা বিদেশে প্রচুর পরিমাণে টাকা পাচার করবে, ব্যাংক লুট করবে, দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে যাবে। যেই দল জিতে যায়, সেই দল হবে রাজা। বাকিরা হবে প্রজা।