Grameen Bhoj - গ্রামীণ ভোজ

Grameen Bhoj - গ্রামীণ ভোজ Welcome to Manikganj

11/05/2020

হিসাব করে জাকাত দেওয়া ফরজ
শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
১১ মে ২০২০, ১১:১৯ |
রমজান মাসে জাকাত প্রদান করা উত্তম। সাহাবায়ে কিরাম সাধারণত রমজান মাসেই জাকাত প্রদান করতেন। রমজানের যেকোনো একটি দিনকে সমাপনী দিন ধরে উপরিউক্ত জাকাতযোগ্য খাতসমূহের সব সম্পদের হিসাব করে জাকাত নির্ধারণ করতে হবে। জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য অন্তত নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক চান্দ্রবৎসর (৩৫৪ দিন) থাকতে হবে। সম্পূর্ণ সম্পদের বছর অতিক্রান্ত হওয়া শর্ত নয়।
প্রতিবছর একই তারিখে ও একই সময় হিসাব করতে হবে। যেমন: ১ রমজান সন্ধ্যা ছয়টা। এই সময়ের এক সেকেন্ড আগে যে সম্পদ আসবে, তা জাকাত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সময়ের এক সেকেন্ড পরে যে সম্পদ আসবে, তা পরবর্তী বছরের হিসাবে যাবে।
নিসাব হলো সোনা সাড়ে সাত ভরি, রুপা সাড়ে বায়ান্ন ভরি অথবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসাপণ্য। বিনিময়যোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা, ট্রাভেলার্স চেক, ব্যাংক চেক, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, পোস্টাল অর্ডার, মানি অর্ডার, শেয়ার সার্টিফিকেট, কোম্পানি শেয়ার, ডিও লেটার, সঞ্চয়পত্র, সিকিউরিটি মানি, জামানত, প্রাইজবন্ড, ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদি; ব্যাংকে বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা আমানত; যেমন বিমা, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেভিংস অ্যাকাউন্ট, মেয়াদি সঞ্চয়, কিস্তিতে জমা, এফডিআর, ফিক্সড ডিপোজিট, পোস্টাল সেভিংস, বিশেষ সঞ্চয়, পেনশন স্কিম ও অফিশিয়াল প্রভিডেন্ট ফান্ড, স্বেচ্ছা প্রভিডেন্ট ফান্ড, ডিভিডেন্ড (এসব জাকাত হিসাব তারিখে তারিখে নগদায়ন করলে যা পাওয়া যাবে); ফেরত পাওয়ার যোগ্য প্রদত্ত ঋণ, ব্যবসাপণ্য ও মূল্যবান শোপিস বা মূল্যবান পাথর (হীরা, জহরত, মণিমাণিক্য মুক্তা ইত্যাদি (এসবের বর্তমান বাজারমূল্য অর্থাৎ বর্তমানে নতুন কিনতে যে মূল্য); শেয়ার সার্টিফিকেটের নামিক মূল্য ও বাজারদরের মধ্যে যেটি বেশি সেটি হিসাব করতে হবে। ব্যবসায়িক নার্সারি, হর্টিকালচার, বীজ উৎপাদন খামার, কৃষি খামার, বনজ বৃক্ষ খামার, ফলদ বৃক্ষ খামার, ঔষধিগাছের খামার, চা-বাগান, রাবার বাগান, তুলাবাগান, রেশমবাগান, আগরগাছের বাগান, অর্কিড নার্সারি ও ফুলের বাগান, মুরগির খামার, মাছের খামার ইত্যাদি এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামগ্রী। এসবের বর্তমান বাজারমূল্য অর্থাৎ বর্তমানে বিক্রয়মূল্য ধরতে হবে।
সোনা, রুপা, নগদ টাকা ও ব্যবসায় পণ্য—এই তিন খাতে জাকাত বর্ষপূর্তি বা জাকাত হিসাব সমাপনী দিনে যত সম্পদ থাকবে, পুরোটারই জাকাত দিতে হবে। বছরের মধ্যে যেকোনো সময় অর্থাগম ঘটলে বছর শেষে জাকাত প্রদান করতে হবে। যেদিন অর্থসম্পদ নিসাব পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাত বর্ষ গণনা শুরু হবে।
চান্দ্রবর্ষের হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক জাকাতযোগ্য সম্পদের আড়াই শতাংশ প্রদান করতে হয়। চান্দ্রবর্ষ ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনে হয়, যেহেতু সৌরবর্ষ ৩৬৫ দিনে বা ৩৬৬ দিনে হয়, তাই সৌরবর্ষ অপেক্ষা চান্দ্রবর্ষ ১১ বা ১২ দিন কম। সৌরবর্ষ হিসাবে জাকাত আদায় করতে চাইলে ২.৫ শতাংশের পরিবর্তে ২.৫৭৮ শতাংশ বা ২.৫৮ শতাংশ দিতে হবে। অথবা মূল জাকাতের সঙ্গে অতিরিক্ত ১১ দিনের হিসাব যোগ করতে হবে।
গাড়ি-বাড়ি, জায়গাজমি ও স্থাবর সম্পদ যা বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়নি, তা জাকাত হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। গাড়ি-বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও জমি—যেগুলো বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান বিক্রয়মূল্য (বাজারদর) জাকাতের হিসাবে আসবে।
কোম্পানি বা যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জাকাত প্রদানের নিয়ম হলো: কোম্পানি বা মালিকদের সম্পদ আলাদা আলাদা হিসাব করে দেওয়া হবে। এবং এ সম্পদে যদি মালিক নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন বা তাঁর অন্য সম্পদসহ যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবে জাকাত দিতে হবে, অন্যথায় নয়। যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত সম্পদ থেকে জাকাত প্রদান করলে, সে সম্পদের জাকাত পুনরায় দিতে হবে না। কোম্পানির এমন কোনো অংশীদার থাকতে পারেন, যঁার সম্পদ নিসাব পরিমাণ নয় অথবা তাঁর এ সম্পদ ও অন্যান্য সম্পদ মিলেও নিসাব পরিমাণ হবে না। তাহলে তাঁকে জাকাত প্রদানে বাধ্য করা সঠিক হবে না। তদুপরি মালিকের নিসাব হলেও সব অংশীদারের জাকাতবর্ষের শুরু ও শেষ এক না-ও হতে পারে।
যেসব ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা রয়েছেন, যাঁরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন, কখনো দেখা যায় তাঁদের সম্পদ অপেক্ষা ঋণের পরিমাণ বেশি। এ অবস্থায়ও তাঁদের ওই তিন খাতের সমুদয় সম্পদেরই জাকাত প্রদান করতে হবে।

লেনিন ও মহামারিশান্তনু দে১৯১৫, জারের রাশিয়া।মহামারিতে আক্রান্ত ৮ লাখ মানুষ। সে সময় গড় আয়ু মাত্র ৪০ বছর। প্রতিবছর যে ৬০ ল...
10/05/2020

লেনিন ও মহামারি
শান্তনু দে

১৯১৫, জারের রাশিয়া।
মহামারিতে আক্রান্ত ৮ লাখ মানুষ। সে সময় গড় আয়ু মাত্র ৪০ বছর। প্রতিবছর যে ৬০ লক্ষ শিশুর জন্ম হয়, তার ২০ লাখই মারা যায় রোগভোগে আর অপুষ্টিতে।
১৯১৭, অক্টোবর বিপ্লব।
বিপ্লবের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয় বিশ্ব মহামারি। ‘স্প্যানিশ ফ্লু’, যদিও তা স্পেনে শুরু হয়নি। ১৯১৮ সালের শেষের দিকে সোভিয়েতে প্রতি সপ্তাহে আক্রান্ত হচ্ছেন ১৫০ জন। অবশ্য, টাইফাসের তুলনায় অনেক কম। সংক্রামক রোগ টাইফাসে তখন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছিলেন সপ্তাহে প্রায় এক হাজার জন। আর এই টাইফাসের কারণ ছিল উকুন।
উকুনবাহিত টাইফাসের মহামারি ঠেকাতে লেনিন সেদিন সোভিয়েতবাসীকে বলেছিলেন, ‘যদি উকুন মারতে না পারো, তবে উকুন বিপ্লবকে মেরে ফেলবে। হয় সমাজতন্ত্র উকুনকে পরাস্ত করবে, নতুবা উকুন পরাস্ত করবে সমাজতন্ত্রকে।’
তরুণ সোভিয়েতে তখনো জারের ভেঙে পড়া চিকিৎসাব্যবস্থা। জনগণ চরম দারিদ্র্যে। অসুস্থ রুগণ শরীর। গৃহযুদ্ধে জেরবার। দুর্ভিক্ষের হুমকি। লেনিন ছিলেন কাউন্সিল অব কমিশারসের চেয়ারম্যান, বিপ্লবী সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদের তুলনীয়। প্রথমেই তিনি অন্যতম পদক্ষেপ নেন জনস্বাস্থ্য বিষয়ে।
২১ জুলাই, ১৯১৮। ডিক্রি জারি করে পিপলস হেলথকেয়ার কমিশারিয়াত গঠন করা হলো। সব স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কেন্দ্রীভূত করার উদ্যোগ। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ছিল তার অন্যতম অগ্রাধিকার। দেশের সব মানুষের জন্য এই বিশ্বের প্রথম পাবলিক হেলথ গভর্নিং বডি। নিকোলাই আলেকজান্দ্রোভিচ সেমাশকো তাঁর প্রথম প্রধান। যেখানে ১৯৫৩ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করে উঠতে পারেনি কোনো স্বাস্থ্য দপ্তর।
সোভিয়েত রাশিয়াতেই প্রথম সবার জন্য জনস্বাস্থ্য পরিষেবা গড়ে তোলা হয়। স্বাস্থ্য পরিষেবা কোনো অনুগ্রহ নয়। অধিকার। সবার জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা। বিনা মূল্যে সার্জারি। বিনা মূল্যে ওষুধ। কমিশারিয়াতের দায়িত্ব স্বাস্থ্য পরিষেবার অধিকার যাতে সুনিশ্চিত করা হয়।
স্প্যানিশ ফ্লু নিয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক লরা স্পিনি লিখেছেন আকর্ষণীয় বই ‘পেল রাইডার: দ্য ফ্লু দ্যাট ট্রান্সফর্মড দ্য টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি’। ২০১৭-তে পেঙ্গুইন প্রকাশিত এই বইটিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের গোড়ার দিকে নীতির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। লিখেছেন: ‘১৯২০ সালে রাশিয়া ছিল কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্ণ সরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে প্রথম দেশ। সর্বজনীন ছিল না, কেননা গ্রামীণ জনসাধারণ এর আওতায় পড়তেন না...কিন্তু এতৎসত্ত্বেও তা ছিল বিপুল সাফল্য এবং তার পেছনে চালিকা শক্তি ছিলেন ভ্লাদিমির লেনিন।’
‘ভবিষ্যতের চিকিৎসক কেমন হবেন, তার সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি ১৯২৪-এ বলা হয়, যখন সরকার মেডিকেল স্কুলগুলোকে বলে এমন ডাক্তার তৈরি করতে হবে, যাদের অসুস্থতার পেশাগত ও সামাজিক কারণ অনুসন্ধান করার দক্ষতা রয়েছে। কেবল অসুস্থতার নিরাময় নয়, তা যাতে আর না হয় তার উপায় ভাববার সামর্থ্য রয়েছে। লেনিন বুঝেছিলেন মেডিসিন কেবল জীববৈজ্ঞানিক এবং পরীক্ষামূলকই হবে না, সমাজতত্ত্বের বিষয়ও বটে। প্রায় একই সময়ে এপিডেমিওলজিকে—রোগের চরিত্র, কারণ এবং প্রভাবের জ্ঞানকে বিজ্ঞান হিসেবে পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্যের পক্ষে তা ছিল মাইলফলক।’ লিখেছেন লরা।
দ্রুততার সঙ্গে তৈরি হয় হাসপাতাল, পলিক্লিনিক। সঙ্গে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী। সম্প্রসারিত করা হয় মেডিকেল স্কুল, ব্যাকটেরিওলজিক্যাল ইনস্টিটিউট। পেত্রোগ্রাদ কমিউনের জনস্বাস্থ্য কমিশারিয়াত ই পি পেরভুকিন ১৯২০-তে বলেন, ‘ওষুধের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন কারখানা। ওষুধের কালোবাজারিদের হাত থেকে বিপুল পরিমাণে ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্য মানে আর মুনাফা নয়। আবার স্বাস্থ্য মানে কেবল ডাক্তার, নার্সদের একার ব্যাপার নয়। দরকার শ্রমিক-কৃষকের অংশগ্রহণ। মহামারি ঠেকাতে ১৯১৮-তে গ্রাম-শহরে তৈরি হয় ওয়ার্কার্স কমিটি।
অক্টোবর বিপ্লবের মাসেই শ্রমিক ও কৃষকদের সরকারের তরফে লেনিন শান্তির ডিক্রি জারি করেন। যেখানে প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের ডাক দেওয়া হয়। একদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে জার্মানি ও তার মিত্ররা লেনিনের আহ্বান উপেক্ষা করে। ব্রিটেন ও তার মিত্ররা মনে করে তারা যুদ্ধে জিততে চলেছে। সে কারণে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়। যদি শান্তি চুক্তি হতো, তাহলে মারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে আরও ভালো করে লড়াই করা যেত। যখন ১৯১৮-র অক্টোবরে ফ্লুর দ্বিতীয় এবং আরও মারাত্মক চেহারার ঢেউ আসে, তখন লাখ লাখ সেনার মৃত্যু হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে এই অন্ধকার অধ্যায় সাম্রাজ্যবাদের অমানবিক চরিত্রকে বেআব্রু করে দেয়। আধিপত্যের জন্য অভিযানে অসুস্থ ও মুমূর্ষুকে যত্নের মানবিক বিবেচনাকে অস্বীকার করা হয়। রাশিয়া এই সময়ে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। বিপ্লব ও শ্রমিক রাষ্ট্র ধ্বংসের জন্য প্রতিবিপ্লবী শক্তি বর্বর যুদ্ধ শুরু করে।
ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারিতে ঠিক কত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, তা জানা নেই। আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল তরুণ সাধারণতন্ত্রের তরুণ রাষ্ট্রপতি বলশেভিক নেতা ইয়াকভ ভেরদলভ। তখন তাঁর বয়স ৩৪। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হতেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো রাশিয়াকে আক্রমণ করে বিপ্লবকে শ্বাসরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রতিবিপ্লবী শক্তিকে সাহায্য করতে ১১টি দেশ সেনা পাঠায়। মহামারি নয়, বিপ্লবের দমনই ছিল তাদের চিন্তার বিষয়।
মার্চ, ১৯১৯। রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টি (বলশেভিক) সপ্তম কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য ঘোষণা: সোভিয়েত স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য কর্মসূচি রূপায়ণ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ। ১ মার্চ, ১৯২০। মেডিকেল ওয়ার্কারদের দ্বিতীয় নিখিল রুশ কংগ্রেসে লেনিন বলেন,
‘এই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য ও যে কাজ আপনারা করেছেন, তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্যের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়েই রণাঙ্গনে সম্ভবত এমন কোনো ক্ষেত্র ছিল না, যাতে আপনারা আত্মত্যাগ করেননি।
চার বছরের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ মানবজাতিকে দিয়েছে লাখ লাখ পঙ্গু মানুষ আর মহামারি।
আমাদের সেনাদের ওপর চেপেছে ভয়ংকর, কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ কর্তব্য। রণাঙ্গনের সংগ্রাম দেখিয়েছে, সাম্রাজ্যবাদীদের চেষ্টায় কোনো ফল হয়নি। আমাদের পেছনে রয়েছে রণাঙ্গনের ভয়াবহ সমস্যা। তবে এখন আমাদের ঠিক করা উচিত শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের কাজের ভার। রক্তাক্ত ফ্রন্টে যে অভিজ্ঞতা আমরা অর্জন করেছি, আমাদের একে প্রয়োগ করতে হবে আরও রক্তাক্ত ফ্রন্টে, যেখানে আমাদের অনেক বেশি করে দেখাতে হবে সহানুভূতি।
মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের প্রয়োগ করতে হবে সব প্রত্যয় এবং গৃহযুদ্ধের সব রকম অভিজ্ঞতা।
বিজ্ঞানী ও শ্রমিকদের মধ্যে সহযোগিতাই দারিদ্র্য, রোগব্যাধি এবং তুচ্ছ বিষয়ের অবসান ঘটাতে পারে। কোনো অন্ধকারের শক্তিই ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না বিজ্ঞানী, সর্বহারা এবং প্রযুক্তিবিদের মধ্যে মৈত্রীকে।’
মার্চ, ১৯২৩। বার্লিনে ওয়ার্কার্স ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়ান রিলিফের সম্মেলনে নিকোলাই সেমাশকোর ঘোষণা: ‘জনস্বাস্থ্যের জন্য কমিশারিয়াতের কাজের বোঝা বিপুল এবং রয়েছে প্রচুর দায়িত্ব। কিন্তু এসব কিছুর পরেও, আমরা মহামারি মোকাবিলায় সফল।’

09/05/2020

আইন পেশায় সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ
মডেল : বর্ণ ছবি : সোহাগ
বর্তমান বাস্তবতায় চাহিদার কারণে তরুণদের অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন আইন পেশায়। দেশের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে।
আইন পেশা বলতে অনেকেই মনে করেন, আদালতের উকিল, বিচারক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক; তবে এই পেশার বিস্তৃতি আরো বেশি। এর বাইরেও আরো অনেক ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব শুভ’র সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ কিংবা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে ‘সরকারের প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা’ হিসেবে আদালতে যোগ দেওয়ার সুযোগ ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে
যারা পড়তে পারবে
উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি পাস করার পর অনান্য বিষয়ের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ আছে। দারুণ ব্যাপার হলো—এ বিষয়ে পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা বা সমমানের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি নেওয়ার জন্য ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবী অথবা অন্য বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করা ব্যক্তি চাইলে যেকোনো সময় আইন কলেজে ভর্তি হয়ে ২ বছর অথবা ৩ বছর মেয়াদি এলএলবি (পাস) ডিগ্রি অর্জন করতে পারে।
যেখানে পড়া যাবে
আইন বিষয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি।
এ ছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি অন্যতম।
এ ছাড়া ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের অনেক জেলা ও বিভাগীয় শহরে আইন কলেজে ২ বছর, ৩ বছর মেয়াদি এলএলবি (পাস) ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
যা পড়ানো হয়
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটিতে এলএলবি (সম্মান) ডিগ্রি (৪ বছর মেয়াদি) নেওয়া যায়।
বিষয় তিনটি হলো—
(১) আইন (২) আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা (৩) আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ।
আইন বিষয়ে ওপরে বর্ণিত সবগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হলেও আইন ও ভূমি ব্যবস্থপনা বিষয়ে শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়।
আল ফিকহ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ নামে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগ রয়েছে। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করলে একজন শিক্ষার্থী জুরিসপ্রুডেন্স, সাংবিধানিক আইন, মুসলিম আইন, হিন্দু আইন, চুক্তি আইন, টর্ট আইন, ভূমি আইন, প্রশাসনিক আইন, কম্পানি আইন, বাণিজ্যিক আইন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, সাইবার ল, রেজিস্ট্রেশন আইন, পরিবেশ আইন, আয়কর আইন, সুনির্দিষ্ট কার্য-সম্পাদন আইন, ইক্যুইটি ট্রাস্ট, শ্রম আইন, অপরাধ আইন, দেওয়ানি কার্যবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি আইন, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার আইন, ক্রিমিনোলজি, রিয়েল এস্টেট আইন, সমুদ্র আইন, আন্তর্জাতিক সংগঠন, রিফুজি ল ও গুড গভর্নেন্সসহ নানা বিষয়ে আইন সম্পর্কে জানতে পারবে।
আইন ও ভূমি ব্যবস্থপনা বিষয়ে পড়াশোনা করলে তারা প্রচলিত আইনের পাশাপাশি ভূমি আইন সম্পর্কিত কোর্সগুলো বেশি পড়তে হয়। ফলে ভূমি সম্পর্কিত বিভিন্ন সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।
আল ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজে বর্তমান প্রচলিত আইনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ইসলামী আইনের বেশ কিছু কোর্স পড়তে হয়। ইসলামী আইন বেশি পড়ার কারণে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
ক্যারিয়ার যেখানে হবে
একসময় সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল আইন বিষয়ে পড়াশোনা মানেই ওকালতি করা। কথিত ছিল, আইন যে পড়বে সে হবে বটতলার উকিল। কালের পরিক্রমায় মানুষের সেই ধারণার পরিবর্তন এসেছে। আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এখন যোগ হয়েছে নিত্য তুন মাত্রা ও সম্ভাবনা। দেশের প্রায় সব সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে, আইন কলেজের পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় যোগদানের সুযোগ রয়েছে। আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে আনন্দের সংবাদ হলো বিচার বিভাগের পৃথক্করণ।
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ কিংবা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে ‘সরকারের প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা’ হিসেবে আদালতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একমাত্র আইনের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে লোভনীয় চাকরি পেতে পারে এবং তাদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় পৃথক বেতন কাঠামো, যা যেকোনো সরকারি প্রথম শ্রেণির পদের দেড় গুণ।
বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার, নন-ক্যাডারের চাকরি ছাড়াও ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে অন্য বিষয়ে স্নাতকদের মতোই আইনের স্নাতকদের সমান সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশেষ কিছু পেশা আছে, যেখানে শুধু আইনের স্নাতকরাই কাজ করার সুযোগ পায়। বার কাউন্সিলের অধীনে অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষার মাধ্যমে নিম্ন আদালত ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া পদোন্নতির মধ্যমে পরবর্তীতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জাস্টিস হিসেবে নিয়োগ লাভের সুযোগ রয়েছে।
আয়কর বারের অধীনে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আয়কর আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারবে। রয়েছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন—ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিপি, ডাব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, আইওএম, আইএলও প্রভৃতিতে চাকরি লাভের সুযোগ। বিভিন্ন বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, বহুজাতিক কম্পানি ও এনজিওতে আছে আইন কর্মকর্তা বা প্যানেল আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সুযোগ।
কমিশনড অফিসার পদমর্যাদায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল’ হিসেবে যোগ দেওয়া যায়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সহকারী সচিব’ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে।
আদালতে সরকারি আইন কর্মকর্তা বা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি/জিপি) হিসেবে নিয়োগ হয়। বিদেশে ইমিগ্রেশন কেস অফিসার বা ল অফিসার হিসেবে কাজ করেন অনেকে। আইনি পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। তা ছাড়া মানবাধিকার কিংবা নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কেউ কাজ করতে চাইলে সেরা প্ল্যাটফর্ম হবে আইনপাঠ।
কেউ যদি একটু ব্যতিক্রম কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে চান, চলচ্চিত্রশিল্পে আইন পরামর্শক বা কোর্ট রুম বিষয়ক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকারও হতে পারেন।
আইনের বিষয়গুলো গল্পচ্ছলে লিখে হতে পারেন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক জন গ্রিশামের মতো লেখকও। এ ছাড়া আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে কারোর গবেষণার প্রতি ঝোঁক থাকলে গবেষক হওয়ারও সুযোগ আছে।
হতে পারবেন ব্যারিস্টার
ব্যারিস্টার শব্দটি শুনলেই অনেকেরই ইচ্ছা হয় ব্যারিস্টার হওয়ার। ব্যারিস্টার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন—সার্ক, কমনওয়েলথ, আইডিবি, ব্রিটিশ কাউন্সিল, আগা খান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে স্কলারশিপ নিয়ে লন্ডনে ব্রিটিশ কাউন্সিলে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি নিতে হবে। তারপর ব্যারিস্টারি করতে হলে লন্ডন বার কাউন্সিলের সনদ নিতে হবে।
আমাদের দেশে ব্রিটিশ স্কুল অব ল, লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ, ভূঁইয়া একাডেমি, নিউ ক্যাসেল ল একাডেমি এই চারটি টিউশন সার্ভিস প্রভাইডার বার-অ্যাট-ল পড়ালেখার বিষয়ে সহযোগিতা করে থাকে। বার-অ্যাট-ল কোর্সটি ইংল্যান্ডের চারটি ইন’স-এর যেকোনো একটি থেকে করতে হয়। অর্থাৎ লিন্কনস্ ইন, গ্রেইস ইন, ইনার টেম্পল ও মিডল টেম্পল এই চারটি ইন’স-এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
আইনশাস্ত্র অনেক বিস্তৃত বিষয়। আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার অবারিত সুযোগ রয়েছে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রয়েছে এলএলবি, এমফিল ও পিএইচডি করার অবারিত সুযোগ। ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি, বিজনেস ল, সমুদ্র আইন, সাইবার ক্রাইম, পরিবেশ আইন ইত্যাদি বিষয়ে এমএস করার সুযোগ রয়েছে।

09/05/2020

আলহামদুলিল্লাহ

স্বল্প ব্যয়ে মনের মতো করে বাড়িঃনিজের একটা বাড়ি তৈরির স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু সেই বাড়ি তৈরির খরচ নেহায়েৎ কম না। ...
08/05/2020

স্বল্প ব্যয়ে মনের মতো করে বাড়িঃ

নিজের একটা বাড়ি তৈরির স্বপ্ন আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু সেই বাড়ি তৈরির খরচ নেহায়েৎ কম না। অনেকেরই সারাজীবনের পুঁজি একত্র করেও একটি দালান বাড়ি গড়ে তোলা সম্ভব হয় না। আবার অনেকেই চান কংক্রিটের বাড়ি না বানিয়ে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দারুণ এক বসতি গড়তে। স্বল্প ব্যয়ে মনের মতো করে বাড়ি তৈরি করা অবশ্যই সম্ভব।

কিন্তু সেজন্য প্রয়োজন টেকনিক এবং বিচক্ষণতা। আসুন জেনে নেই কী কী উপায় অবলম্বনে স্বল্প ব্যয়ে বাড়ি তৈরি করতে পারবেন। একটুখানি কৌশল আর ইচ্ছাশক্তি, প্রাথমিক যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন, সেগুলো হলো –

বাড়ির নকশাঃ চেষ্টা করবেন বাড়ির নকশা যতটা সম্ভব সাদামাটা রাখতে। কারণ যত বেশি কারুকাজ আর নকশা, উপাদান তত বেশি খরচ হবে, খরচও একইসাথে বাড়বে। আয়তাকার, বর্গাকার অথবা যেকোন জ্যামিতিক শেপের স্থাপনায় খরচ কম পড়বে।

পরিকল্পনা ছাড়া কর্মসূচি নয়ঃ যেকোন কাজ অর্ধেক সম্পন্ন হয়ে যায় যদি পরিকল্পনা ঠিকঠাক করা হয়ে থাকে। আপনি যদি আগেই হিসেব না করে রাখেন কেমন বাড়ি বানাবেন, কোথায় কী পরিমাণ র ম্যাটেরিয়েল খরচ হবে, তাহলে কাজে নামার পর জলের মতো টাকা বেরিয়ে যাবে কিন্তু মনের মতো বাড়ি আর বানানো হবে না।

ফ্লোর এরিয়া ও স্পেস প্ল্যানিংঃ স্কয়ার কাট ফ্লোর ডিজাইনে জায়গা কম নষ্ট হয়। এছাড়া ইদানিং ওপেন স্পেস-এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এতে দেয়াল ও কলাম বা পিলারের জন্য নষ্ট হওয়া জায়গা বেঁচে যায়। আলো-বাতাসও বেশি আসে। ফলে ছোট জায়গায় বানানো বাড়িকেও বড় আর উন্মুক্ত লাগে। তবে এর ডিজাইনের জন্য কিছু বাড়তি বীম ব্যবহারের দরকার পড়ে ছাদে। এসবের খরচ এবং জায়গা খরচ থেকে বাঁচতে চাইলে কৌশল করে কিছু কলাম সেট করা যেতে পারে বাড়ি ভেতর। তবে সেগুলোও এমনভাবে সেট করতে হবে যেন বাসার ভেতরের খোলা আবহটা নষ্ট না হয়।

ম্যাটেরিয়েল সিলেকশনঃ কম খরচে বাড়ি বানানোর অন্যতম কৌশল হলো কম দামী ম্যাটেরিয়েল সংগ্রহ করা। ব্যবহৃত কিচেনওয়্যার অনলাইন শপ-এ অর্ডার করলে খুব কম খরচে পাওয়া যায়। এছাড়া মার্চেন্টদের সাথে ভালো দামাদামি করতে পারলে একসাথে অনেককিছুই কিনে নেওয়া যায় স্বল্প খরচে। বাড়ি বানানোর উপাদান হিসেবে স্বল্প খরচে যে ম্যাটেরিয়েলগুলো পাবেন সেগুলো হলো:

প্রিফেব্রিকেটেড প্যানেলঃ এগুলো সাধারণত কাঠের ফ্রেম হয়। আগে থেকেই বাড়ির আকারে তৈরি থাকে। তাই শ্রমিক খরচ এবং সময় ব্যয় কমে আসে। এমনকি ওয়েদারের কারণে নির্মাণ কাজ পিছিয়ে যাবারও সম্ভাবনা থাকে না। ঘরের সেকশনগুলোতেও ফিটিং-এ কোন সমস্যা হয় না কারণ সব কাজ আগে থেকেই করা থাকে। ইদানিং যে প্যানেলগুলো নকশা করা হয়, সেগুলো দেখতে প্রিফেব্রিকেটেড লাগে না।

কংক্রিট শিটসঃ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়েলগুলোর মাঝে কংক্রিট শিট ইদানিং দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এগুলোর দামও কম, দেখতেও স্টাইলিশ। পাশাপাশি, এগুলো দীর্ঘস্থায়ী, ওয়াটারপ্রুফ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধী এবং ইনসুলেশন ঘটায়। সবচেয়ে সুবিধাজনক বিষয় হলো এটি অগ্নিকান্ড হওয়া থেকে বাঁচায়।

স্টোন ক্ল্যাডিংঃ পাথরে তৈরি বাড়ি দেখতে দারুণ হলেও নিশ্চয়ই স্বল্পব্যয়ী নয়। সে কারণে পাথরের প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে বাড়ির দেয়ালের ওপর। এতে ম্যাটেরিয়েলের খরচও কম পড়ে আর আলাদা করে শ্রমিকেরও দরকার পড়ে না, নিজে থেকেই করা যায় একটু চেষ্টা করলে। রাস্টিক, মডার্ন ইত্যাদি বিভিন্ন স্টাইলের স্টোন ক্ল্যাডিং হয়। ধরণের ওপর ভিত্তি করে এর পুরুত্বে পার্থক্য ঘটে।

শিপিং কনটেইনারঃ ব্যবহৃত শিপিং কনটেইনারগুলো কম খরচে পাওয়া যায়। একাধিক কনটেইনার একত্রিত করে বেশ বড়সড় বাড়ি বানানো সম্ভব। এগুলো দেখতে স্টাইলিশ আর স্থাপনও সহজ।

টিম্বারঃ টিম্বার হলো সবচেয়ে ট্রেন্ডি এবং স্টাইলিশ বাড়ি বানানোর উপকরণ। তবে খেয়াল রাখবেন পুরনো টিম্বার বেশি মজবুত ও টেকসই। আর এটি পরিবেশেরও ক্ষতি করে না। তাই এটি স্বল্প ব্যয়ে বাড়ি বানানোর জন্য একটি দারুণ চয়েস হতে পারে।

বাড়ি বানাবার প্রজেক্টে নামবার আগে অবশ্যই সঠিক পরিকল্পনা করে নেওয়া দরকার। আপনার বাজেট কেমন, আপনি কেমন বাড়ি বানাতে চাইছেন, আপনার বাজেটের ভেতর কেমন বাড়ি বানানো সম্ভব, সেটি কতদিন টিকবে ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় আগে থেকে পরিকল্পনা করে নেওয়া খুব জরুরী। আপনার নিজের বাড়িটি হোক আপনার মনের মতো।

08/05/2020

কথাবার্তায় পারদর্শী হতে জেনে নিন এই সাতটি উপায়ঃ

কথোপকথন বা পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার গোপন রহস্য আসলে কী – তা কখনোই মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়নি।কথোপকথনকে আরও ধারালো ও উন্নত করতে পারলে সবদিকেই সফল হওয়া যায়।ব্রিটিশ লেখক মাইকেল রোজেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের মান উন্নয়ন থেকে শুরু করে কীভাবে কথোপকথনকে আরও ভাল করে তোলা যায় সেটা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন।

নিজ বাড়ি থেকে শুরু করে অফিসের বোর্ডরুম কিংবা বৈশ্বিক পরিসরে যেকোনো ধরণের সমস্যার সমস্যার সমাধান বা দ্বন্দ্বের অবসানে একটি কার্যকর কথোপকথনের কোন বিকল্প নেই।সম্প্রতি প্রকাশিত ‘দ্য টকিং রেভোলিউশন’ বইটির লেখক এডি কানফোর-দুমা এবং পিটার অসবর্নের সাথে রোজেন মিলে – কথোপকথন কীভাবে ভাল করে তুলতে হয় তার সাতটি উপায় বের করেছেন।

১. আগে নিজে বোঝার চেষ্টা করুন:
আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিনিয়ত ‘ট্রান্সমিট মোড’ বা কথা বলার মোডে থাকে।এবং তাদের পক্ষে সেই মোড পরিবর্তন করে ‘রিসিভিং মোড’ অর্থাৎ অন্যের কথা শোনার মোডে যাওয়াটা অনেক কঠিন মনে হয়।এই পরিবর্তন করতে না পারাই ব্যক্তিগত এবং পেশাদার সম্পর্কগুলোয় সমস্যা তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ।বইটিতে, বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাতটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হয়।

আর এ ব্যাপারে স্টিফেন কোভি বলেছেন, অন্য কেউ আপনাকে বুঝবে এটা আশা করার আগে আপনি অন্যকে বোঝার চেষ্টার করুন। আর এ জন্য অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।

অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এবং নিজের মতামত দেয়ার আগে বা চ্যালেঞ্জ করার আগে তারা কী বলছে সেটা পুরোপুরি বোঝার চেষ্টা করা বেশ জরুরি।

আপনি যদি তার কথা বুঝতে পারেন তাহলে সেটি তাকে বিভিন্ন উপায়ে জানিয়ে দিন।

২. আপনি যে বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রকাশ করুন:
যদি আপনি অন্য ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন, তাহলে সেটা প্রকাশ করুন। আপনি কি শুনেছেন বা বুঝেছেন সেটা তাকে বলুন।কিছু যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন, যেমন “ঠিক বলেছেন” বা “আমি আপনার জায়গায় হলে এতো ভাল থাকতে পারতেন না।” -এই কথাগুলো এটাই ব্যাখ্যা করে যে আপনি এই কথোপকথনের তরঙ্গে ভাসছেন।

যখন অপর ব্যক্তি বুঝতে পারে যে আপনি তাকে বুঝতে পারছেন, তখনই আপনি তাকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন, অথবা তার কোন বক্তব্য বা ভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

তবে সেটা অবশ্যই তখন করবেন, যখন আপনি তার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।আপনি যে ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা বেশ জরুরি – সেটা তার কথা শোনার মাধ্যমে, তার প্রয়োজনকে শ্রদ্ধা করার মাধ্যমে বা সেটাকে বোঝার মাধ্যমে হতে পারে।

এভাবে আপনি একটি সংযোগ তৈরি করেন যার মাধ্যমে প্রকৃত যোগাযোগ প্রবাহিত হতে পারে।

৩. সৃজনশীল সমাধানে পৌঁছাতে সহযোগিতা করা:

এডি এবং পিটার ‘সৃজনশীল কথোপকথন’ নামে একটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন যেটা কিনা একজনের ব্যাপারে আরেকজনের মধ্যে নতুন চিন্তাভাবনা এবং বোঝাপড়া তৈরি করতে সাহায্য করে।

এজন্য অন্য মানুষের কথার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেয়া এবং আপনি তাকে কতোটুকু বুঝতে পেরেছেন সেটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।

এটি মানুষের মধ্যে কখনও কখনও নতুন অন্তর্দৃষ্টি জাগিয়ে তোলে যেটা কিনা আলাদাভাবে হয় না।

এছাড়াও, আপনি যদি আপনার বোঝাপড়ার বিষয়টি প্রকাশ করেন, তাহলে সেটি অপর ব্যক্তিকে আরও খোলামেলা হতে, ভাগ করে নিতে, আরও বেশি নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করতে সাহায্য করে।

যা তাদের নিজেদের চিন্তাধারাগুলোকে অন্বেষণ করতে সহায়তা করে।

এছাড়া আপনার মধ্যেও এমন নতুন কিছু তৈরি করা সম্ভব যা আগে বিদ্যমান ছিল না এবং যেটা আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতেও সাহায্য করবে।

যে কোন বয়সেই আপনি আপনার কথোপকথনের দক্ষতা উন্নত করতে পারবেন।

৪. অভ্যাসে বিরতি নিন:

আমরা আমাদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ থেকেই নিজেদের কথোপকথনের অভ্যাস পেয়েছি।অনেক সময় আমরা নিজেদের সেই কথোপকথনের ব্যাপারে সচেতন থাকিনা।

অনেক সময় আমরা অন্যের কথার মাঝখানে কথা বলতে শুরু করি বা অপ্রাসঙ্গিক অন্য কোন আলাপের দিকে চলে যাই।এতে কোন কথারই কোন মানে থাকেনা। এবং কথোপকথন তার রেশ হারায়।চেষ্টা করুন কখন এই সমস্যাটি হয়, এটার কোন প্যাটার্ন থাকলে সেটা বের করার।এই অভ্যাসকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের কথা শোনার এবং তা বোঝার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তর্কে এগিয়ে যেতে কোন গোলাবারুদ নয়, আপনাকে ভাল শ্রোতা হতে হবে।

৫. সমালোচনার জন্য শুনবেন না:

কিছু লোক শুধুমাত্র একটি উদ্দেশ্যেই অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে আর তা হল অন্যের সমালোচনা করতে এবং বিরোধী পক্ষকে পাল্টা তীরের ছুঁড়ে ঘায়েল করতে।রাজনীতির জগতে আমরা প্রতিদিন এমন কিছু দেখি, যেখানে মানুষ বিভিন্ন দল গঠন করে এবং এই বিভাজন নিয়ে কথা চালিয়ে যায়।
মনে রাখতে হবে, আপনার কথা শোনার কারণ যেন অন্যকে ঘায়েল করা না হয় – এজন্য একটি যুক্তির দুটি দিক সম্পর্কেই ভালভাবে শুনে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

আমাদের মধ্যে কোন কোন বিষয়ে মিল আছে?
৬. অনুশীলন নিখুঁত করে তোলে:
এডি এবং পিটার দুজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি অনুশীলনের আয়োজন করে যেখানে ওই দুই ব্যক্তির সেটাই প্রথম দেখা।

অনুশীলনের সময় দুইজনকে দুটি ভিন্ন দায়িত্ব দেয়া হয়। একজনকে বলা হয় নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে, এবং অপরজনকে বলা হয় সেই কথা শুনে বুঝতে।

এর মাধ্যমে তাদের এমন একটি বিষয় খুঁজে বের করতে বলা হয় যার ব্যাপারে দুজনই ভিন্নমত পোষণ করে।এটি সেই ব্যক্তিদের বুঝতে সাহায্য করে যে, কারও কান ধার পাওয়াটা কতো বিরল এবং আশ্চর্যজনক একটি উপহার।

এই দক্ষতাটি বন্ধুদের সাথে অনুশীলনের চেষ্টা করতে পারেন যাতে আপনি যখন সত্যি সত্যি কোন দ্বন্দ্ব বা মতবিরোধের মুখে পড়বেন, তখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে উৎরে যেতে পারেন।

লেখালেখিতে বিরক্তি প্রকাশ করা কঠিন, তাই যখনই সম্ভব, আপনার কথোপকথনগুলো মুখোমুখি করার চেষ্টা করুন।
৭. যোগাযোগের জন্য আপনি কোন মাধ্যমটি চান সেটা বেছে নিন:
মুখোমুখি যোগাযোগকে আদর্শ হিসেবে ধরা হয়। এরপর আপনি যতোই সেখান থেকে সরে আসবেন, আপনার যোগাযোগের মাধ্যমটি ততোই সংকীর্ণ হতে থাকবে।

উদাহরণস্বরূপ টেলিফোনে, আপনার শারীরিক কোন উপস্থিতি নেই – সেখানে আপনার কণ্ঠ দিয়েই সব কাজ করতে হবে।আবার যখন আপনি কাউকে ক্ষুদে-বার্তা পাঠান সেখানে কোন শব্দও থাকেনা, থাকে শুধু লিখিত কথা।এবং যদি আপনি টুইটার এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলিতে নাম পরিচয় গোপন করে কিছু পোস্ট করেন, সেখানে যোগাযোগের মাধ্যমটি আরও সংকীর্ণ থাকে।

কেননা সেখানে ব্যক্তির পরিচয় ছদ্মনাম দ্বারা লুকানো থাকায় তার কথোপকথন অপমানজনক এবং অবমাননাকর হতে পারে।তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাধ্যমের ক্ষমতা বুঝতে পারাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কার্যকর কথোপকথনের জন্য যখন যেখানে সম্ভব মুখোমুখি যোগাযোগের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

06/05/2020

একটি দ্বীপে দাজ্জাল, ইহুদিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়ে গেছে!

দাজ্জালের সঙ্গে ইতিমধ্যে ইহুদিদের যোগাযোগ শরু হয়ে গেছে! বিষয়টি শুনতে বিস্ময়কর মনে হতে পারে এ কারণে যে, এ মুহুর্তে পৃথিবীতে দাজ্জালের অবস্থান কোথায় সুনির্দিষ্টভাবে কারো জানা নেই। তবে একজন শীর্ষ ইহুদি ধর্মযাজক দাবি করেছেন দাজ্জালের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সে শীঘ্রই আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
চেইম ক্যানিভস্কি নামক ওই ইহুদি ধর্মযাজকের এ দাবি কতটুকু যোক্তিক তা রাসূল (সা.)এর একটি হাদীস বিশ্লেষণ করলে কিছুটা অনুমান করা যায়। মহিলা সাহাবি ফাতিমা বিনতে ক্বায়েস (রা.)বর্ণনা করেন। মুসলিম শরীফসহ কয়েকটি গ্রন্থে আসা বিখ্যাত সেই হাদীসটির সংক্ষিপ্ত হচ্ছে এই- রাসূল (সা.) বলেন, ‘তামিম আদ-দারি ছিল একজন খ্রিস্টান। সে আমার কাছে আগমন করে ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে একটি ঘটনা বর্ণনা করেছে, যা তোমাদের কাছে আমার বলা দাজ্জালের ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
তামিম আদ-দারি বলেছে, কিছু লোককে সঙ্গে নিয়ে আমি একবার সমুদ্রভ্রমণে বের হই। একসময় ঝড়ের কবলে পড়ে দিকভ্রান্ত হয়ে যাই। এক মাস পর্যন্ত সমুদ্রের ঢেউ আমাদের নিয়ে খেলা করতে থাকে। পরিশেষে, ঢেউ পশ্চিম দিকের একটি দ্বীপে আমাদেরকে নিয়ে পৌঁছায়।
তারপর আমরা ছোট ছোট নৌকায় চড়ে দ্বীপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করি। সেখানে এক বিশেষ প্রাণীর সন্ধান পাই। প্রাণীটি স্থূল ও ঘনচুলবিশিষ্ট। কথপকথনে সে জানাল, সে জাসসাসাহ (সংবাদ সংগ্রহকারী গোয়েন্দা)। বলল, তোমরা ওই ঘরের দিকে যাও সেখানে একজন তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেখানে আমরা দীর্ঘকায় এক মানবকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলাম। এমন ভয়ংকর মানুষ আমরা ইতিপূর্বে আর কখনও দেখিনি। তার হাত দু’টিকে ঘাড়ের সঙ্গে একত্রিত করে হাঁটু এবং গোড়ালির মধ্যবর্তী স্থানে লোহার শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হয়েছে।
সে শুরুতে আমাদের পরিচয় জানতে চায়। আমরা পরিচয় দিলে সে বলে, আমাকে তোমরা ‘বাইসান’ সম্পর্কে সংবাদ দাও। সেখানের খেজুর গাছগুলো কি এখনও ফল দেয়? আমরা জানাই, হ্যাঁ। সে বলে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন গাছগুলোতে কোন ফল ধরবে না। এরপর সে বলল, আমাকে তাবরিয়া উপসাগর সম্পর্কে সংবাদ দাও। সেখানে কি এখনও পানি আছে? বললাম, প্রচুর পানি আছে। সে বলল, অচিরেই সেখানকার পানি শেষ হয়ে যাবে। সে আবার বলল, আমাকে যুগার কূপ সম্পর্কে সংবাদ দাও, সেখানে কি এখনও পানি আছে? বললাম, প্রচুর পানি রয়েছে। লোকেরা সে পানি দিয়ে চাষাবাদ করছে। আমাকে উম্মিদের নবি সম্পর্কে জানাও- সে প্রশ্ন করলে আমরা বলি, তিনি মক্কায় আগমন করে বর্তমানে মদিনায় হিজরত করেছেন। আরবরা কি তার সাথে যুদ্ধ করেছে? তার প্রশ্নের জবাবে আমরা বলি, হ্যাঁ। পার্শ্ববর্তী আরবদের উপর তিনি জয়লাভ করেছেন। ফলে তারা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে। সে বলল, তার আনুগত্য করাই তাদের জন্য ভালো।
এরপর সে বলল, এখন আমার কথা শোনো- আমি হলাম দাজ্জাল। অচিরেই আমাকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনের ভেতরে পৃথিবীর সব দেশ ভ্রমণ করব। তবে মক্কা-মদিনায় প্রবেশ করা আমার জন্য নিষিদ্ধ থাকবে। এরপর রাসূল (সা.) সাহাবিদের লক্ষ্য করে বললেন, ‘তামিম আদ-দারির বর্ণনাটি আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে। তার বর্ণনা আমার বর্ণনার অনুরূপ হয়েছে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনা সম্পর্কে। শুনে রাখো! সে আছে সিরিয়ার সাগরে (ভূমধ্যসাগরে) অথবা ইয়েমেন সাগরে। না! বরং পূর্ব দিকে আছে, সে পূর্ব দিকে আছে। এই বলে তিনি পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। ’
এই ঘটনা থেকে এটা সুস্পষ্ট, দাজ্জালের জন্ম হয়েছে অনেক আগেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সময়েই সে ছিল। এ হাদীসটি বিশ্লেষণ করলে আমরা কিছু বিষয় ধারণা পাই। ইসলামগ্রহণের পূর্বে দাজ্জালের সঙ্গে সাহাবি তামিম দারি (রা.)এর সাক্ষাৎ হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায় দাজ্জালের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্ভব। তার একজন গুপ্তচরকে সেখানে দেখা গেছে। আর গুপ্তচরের কাজই হচ্ছে তথ্যের আদান প্রদান। দাজ্জালের কথা থেকেও স্পষ্ট সে পৃথিবীর খবরাখবর রাখছে এবং তথ্য জানতে খুবই আগ্রহী।
আরেকটি হাদীস অনুযায়ী তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে প্রচণ্ড রাগ থেকে। এ থেকেও অনুমান করা যায়, দাজ্জাল আগে থেকেই পৃথিবীর খবরাখবর সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকবে। সে গায়েব জানে না। কোনো মাধ্যম ব্যবহার করেই তাকে আপডেট থাকতে হবে এবং আত্নপ্রকাশের প্রস্তুতি নেবে। দাজ্জাল যেহেতু ইহুদিদের নেতা সেহেতু ইহুদিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটতে পারে এটি অস্বাভাবিক নয়। বাকী আল্লাহই ভালো জানেন। তাছাড়া বর্তমান বিশ্বের সবেচেয়ে প্রযুক্তি সক্ষম জাতি ইহুদি। ফলে এ সক্ষমতা তাদের দাজ্জালকে খুঁজে পেতে সহায়ক হতে পারে।
দাজ্জালের সঙ্গে ইহুদিদের যোগাযোগ হতে পারে কিনা এ নিয়ে কিয়ামত বিষয়ে ইসলামি গবেষক ও বক্তা মুফতি কাজী ইব্রাহিম বলেন, ‘দাজ্জাল ইতিমধ্যেই ইহুদি জাতিকে বুদ্ধি পরামর্শ দিতে শুরু করেছে পেছন থেকে। অর্থাৎ সে সামনে আসছে না কিন্তু কর্মকান্ড শুরু করেছে এবং আত্নপ্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় হলে সামনে এসেই ইহুদিদের নেতৃত্ব দেবে।

05/05/2020

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে কিছু পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন অণুজীববিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের র্যাপিড ডট ব্লট কিট উদ্ভাবন দলের প্রধান বিজ্ঞানী। ছাগলের মড়ক ঠেকানোর জন্য পিপিআর ভ্যাকসিন, ডেঙ্গুর কুইক টেস্ট পদ্ধতি, সার্স ভাইরাসের কুইক টেস্ট পদ্ধতিও আবিষ্কার করেছিলেন ড. বিজন কুমার শীল। সার্স ভাইরাস প্রতিরোধে সিঙ্গাপুর সরকারের একজন বিজ্ঞানী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।
করোনা থেকে বাঁচতে তিনি কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো:
প্রথমত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি বিধান মেনে চলতে হবে। ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার পেয়ারা, লেবু, আমলকি অথবা ভিটামিন ‘সি’ ট্যাবলেট খেতে হবে।
সম্ভব হলে প্রতিদিন রাতে একটি জিঙ্ক ট্যাবলেট খাবেন। ভিটামিন ‘সি’ এবং জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সতেজ, সজীব রাখে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।
আক্রান্ত হলে গলাব্যথা, শুকনো কফ ছাড়া কাশি কাশি হবে কিন্তু কফ বের হবে না। এটা করোনা আক্রান্ত হওয়ার প্রথম লক্ষণ। অন্য ইনফ্লুয়েঞ্জাতে আক্রান্তদের হাঁচি, সর্দি ও নাক দিয়ে পানি পড়ে।
তবে করোনা শুকনো কাশি দিয়ে শুরু হয়।
এক্ষেত্রে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে হালকা রং চা বারবার পান করা, গরম পানি দিয়ে গারগেল করা। এর চেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে আদা, লবঙ্গ ও একটা গোলমরিচ পানি মিশিয়ে গরম করে তার সঙ্গে সামান্য মধু বা চিনি দিয়ে চায়ের সঙ্গে পান করা কিংবা অথবা গারগেল করা।
এর ফলে গলায় যে ভাইরাসগুলো থাকে সেগুলো মারা যায়। এছাড়াও গলায় গরম লাগার ফলে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ে। রং চায়ের মধ্যে এন্টিসেপ্টিক গুনাগুণও রয়েছে। বারবার শুকনো কাশির ফলে গলার টিস্যু ফেটে যেতে পারে। চা এই ইনফেকশন রোধ করে।
জ্বর হোক বা না হোক এই মুহূর্তে সবার উচিত সকালে ঘুম থেকে উঠে, দুপুরে এবং সন্ধ্যায় গারগেল করা। এর ফলে শরীরে যদি ভাইরাস ঢোকেও তাহলে সেটা আর বাড়তে পারবে না। এটা শুধু করোনা না আরও অনেক ইনফেকশনকে রোধ করতে পারে। কেউ যদি এটা প্রতিদিন করতে পারে, তাহলে তার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
পেটের সমস্যা দেখা দিলে নিমপাতা বেটে সবুজ রসের সঙ্গে এক চামচ হলুদের গুঁড়া পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকালে এবং রাতে খেলে তার পেটের ইনফেকশন কমে যাবে। এ সময় এমন রোগীকে এন্টিবায়োটিক খাওয়ালে অনেক সমস্যা হয়।
করোনা শরীরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আক্রমণ করে না। সময় নিয়ে ধীরে ধীরে শরীরের মধ্যে বাড়তে থাকে। বাইরে যারা এখনো কাজ করতে বাধ্য তারা বাসায় ফিরে গরম পানি পান করতে পারেন। হালকা রং চা পান করা যেতে পারে। নাক ও মুখ দিয়ে গরম পানির ভাপ নেওয়া, পানির মধ্যে এক ফোঁটা মেন্থল দিলে আরও ভালো হয়।

Address

Manikganj

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Grameen Bhoj - গ্রামীণ ভোজ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category