13/05/2021
একটি গবেষণা: উচ্চ মজুত ঘনত্ব ও আংশিক আহরন
------------------------------------------------------------------------
পশ্চিম বাংলার বিধান চন্দ্র রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রুই-কাতলার মিশ্র চাষের একটি গবেষণা পত্র পড়লাম। এয়ারেটর ছাড়া লাভজনক ভাবে শতকে সর্বোচ্চ কত মাছ মজুত করা যায়? এই মিশ্রচাষের গবেষণাটি মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ও কাঁথি এলাকায় মাঠ পর্যায়ে করা হয়েছিল। গবেষণাটির আলোকে পুরো অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় চাষীরা ২ বছর ধরে সাফল্যের সাথে পুকুরে মাছ চাষ করে আসছেন। পুকুর প্রস্তুতি, নিয়মিত চুন, লবন, সার, মোলাসেস প্রয়োগ সাপেক্ষে মাছ মজুত ও আহরণ পদ্ধতির বিবরণ:
১। মজুত পোনার সাইজ: ১০০-১৫০ গ্রাম।
২। মাছ মজুতের সংখ্যা: শতাংশে ৫০ টি।
ক। মধ্যস্তরে রুই মাছ: ২৫ টি।
খ। নিচের স্তরে মৃগেল, কালিবাউস: ১০+৫ =১৫টি(কার্পু, বাটা এমন কোনো মাছ দেয়া যাবে না)।
গ। উপরের স্তরে সিলভার, কাতলা: ৭+৩ = ১০টি।
৩। মাছের ওজনের ২% হারে সম্পৃক্ত খাদ্য দিতে হবে।
৪। ১৫ দিন পর পর হররা টানতে হবে।
৫। ২১ দিন পর পর শতাংশে ৫০ গ্রাম করে মোলাসেস দিতে হবে।
আহরন কৌশল( ৫০ শতক পুকুর এবং চাষকাল ১০/১২ মাস):
-------------------------------------------------
মোট মাছ = ৫০x৫০= ২৫০০ টি।
ক। ৬০ দিন বা ২ মাস পর আনুপাতিক হারে শতাংশ প্রতি ১০টি মাছ ধরে নিতে হবে(ছোটগুলি ধরতে হবে)। মাছের গড় ওজন হবে ৩০০ গ্রাম। মাছের মূল্য= 10x50x0.300= 150 kgx@100= 15000/-
খ। পরের ৬০ দিন পরে শতাংশে আরও ১০টি মাছ আহরন করতে হবে। তখন মাছের সাইজ গড়ে ৫০০ গ্রাম। মাছের মূল্য = 10x50x0.500= 250kgx@120= 30000/-
গ। পরের ৬০ দিন পরে শতাংশে আরও ১০টি মাছ ধরে নিতে হবে। তখন মাছের সাইজ হবে গড়ে ৭০০ গ্রাম গ্রাম। মাছের মূল্য =10x50x0.700=350kg=350x@140 = 49000/-
ঘ। পরের ৬০ দিন পর শতাংশে ১০ টি আহরন করতে হবে। তখন মাছে গড় ওজন হবে ৯০০ গ্রাম।
মাছের বাজার মূল্য= 10x50x0.900= 450 kg=450@150= 67500/-
ঙ। পরের ৬০-১২০ দিনের মধ্যে ফাইনাল আহরন। তখন মাছের গড় সাইজ ১২৫০ গ্রাম। মাছের মূল্য = 10x50x1.250 =625kg=625x160=100000/-
সর্বমোট মাছ উৎপাদন:
=১৫০+২৫০+৩৫০+৪৫০+৬২৫=১৮২৫ কেজি
শতাংশ প্রতি উৎপাদন= ৩৬.৫ কেজি, যা নরম্যাল উৎপাদন শতাংশ প্রতি ২০-২৫ কেজি থেকে বেশি।
সর্বমোট আয় : 1500+30000+49000+67500+100000=261500/-
অধিক ঘনত্ব মাছ চাষ ও আংশিক আহরন পদ্ধতির সুবিধা হল :
১। প্রান্তিক চাষী যাদের স্বল্প পূজি তারা এই পদ্ধতিতে ২ মাস পর পর অর্থ পাবে। খাদ্য খরচা উঠে সংসার খরচ চালাতে পারবেন।
২। এতে মাছের মোট উৎপাদন অনেক বেশি।
৩। চাষ ব্যবস্থাপনা সহজ।
৪। মাছ মরার রিস্ক কম।
গবেষকগণ আরও বলছেন, গ্রীষ্ম কালে-চৈত্র, বৈশাখ, জৈষ্ঠ্য মাসে যখন দিনগুলো বৃষ্টিহীন থাকে, তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রির উপরে থাকে তখনকার দিনে খাদ্য চাহিদার অর্ধেক খাদ্য দিতে হবে। চুন, লবনের পরিমানও অন্যান্য সময়ের চে' অর্ধেক দিতে হবে। এতে খরচা কমবে, অক্সিজেন ঘাটতি হবে না, বিষাক্ত এমোনিয়ার সৃষ্টি কম হবে। মাছ চাষে রিস্ক কমবে।
আবেদ লতীফ স্যার এই বিষয়ে ২টি ভিডিও করেছেন। শাঁকের পাটির সাথে তুলনা দিয়ে আংশিক আহরনকে বুঝাতে চেয়েছেন। তিনি এয়ারেটারসহ, এয়ারেটর ছাড়া মাছ মজুত ও আহরণের কথা বলেছেন। উনার ডিটেইল আলোচনার পরও আমার কাছে সব গোল লেগে গেছিল। আবেদ লতীফ ভাইকে অনুরোধ করছি, আংশিক আহরন ও মজুত ঘনত্ব পদ্ধতি নিয়ে আরও একটি ভিডিও লেকচার দেয়ার জন্য। আমাদের দেশের আবহাওয়া, মাটি, সামাজিক সচেতনতার প্রেক্ষাপটে এমন আলোচনা খুবই কাজের হবে।