14/04/2026
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি। যিনি রাজনীতিতে আসেন নি কখনোই। কিন্তু প্রধান হওয়ার জন্য কানাডার এক ক্রান্তিকালে মানে ট্রুডোর নিয়ে যখন কানাডাবাসী এক চরম বিদ্রোহ শুরু করে সেই সময় তিনি দলের হাল ধরতে সম্মত হন। আর একজন্য নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে দলীয়ভাবে নির্বাচিত হতে লড়াই করেন।
সেই লড়াইয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বিপুল সমর্থন পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নির্বাচনে নামেন। যদিও দল ছিল জনগণের কাছে একেবারেই খাদে পড়ে যাওয়া এক ভঙ্গুর অজনপ্রিয় দল। কারণ, ট্রুডোর ওপর মানুষের বিরক্ত।
সেই নির্বাচনে কার্নি নিজের যোগ্যতায় দলকে টেনে আনেন খাদ থেকে। নিজের গ্রহণযোগ্যতার পারদ বাড়তে থাকে ডাবল ডিজিটে।
অপরদিকে, বিরোধী দলের নেতা পেয়ার পলিয়েভে ( পিপি) অবস্থান ট্রুডোর আমলে উঁচুতেই ছিল। সেই হিসেব কষে পিপি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খায়েশে গোঁফ তেল দিতে থাকেন।
কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুরতা তাঁর লেজ আঁকড়ে ধরল।
ফাইনাল ভোটে খাদে পড়া দলকে টেনে পাশ করে হাই লেভেলের অর্থনীতিবিদ হয়ে গেলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। আর পিপি সেই তিমিরেই পড়ে থাকলে তবে বেশি আসন বাগিয়ে নিতে পেরেছিলেন।
তবে একটুখানি কাঁটাতার বেঁধে থাকল কার্নির পায়ে।
মানে মেজোরিটি হতে সিট বা আসন লাগে ১৭২ টা। কিন্তু কার্নি বা লিবারেল পেয়েছিল ১৬৯ টা। পিপি বা কনজারভেটিভ পেয়েছে ১৪৪ টা, কুইব্যাকের ফরাসি বেডা পেয়েছিল ২২টা।
এরপর তো ধরেন নন-মেজোরিটি দলের দায়িত্ব নিয়ে কার্নির পথ চলা সহজ হচ্ছিল না। কারণ, বিল পাশে বিরোধী দলীয়রা ভেটো দিয়ে দেয়।
যাই হোক, ক্রমেই চলতে থাকে নাটকীয় পরিবর্তন। কনজারভেটিভ বা পিপি দল থেকে একে একে ফ্লোর ক্রসিং করে কার্নির দলে চলে আসতে থাকে পিপির এমপিরা।
মোটাদাগে মোট পাঁচজন পিপির দল ত্যাগ করে এমপি পদ বহাল রেখে কার্নির দলে যোগ দেন। এতে করে কার্নির যে মেজোরিটির জন্য একটা গর্ত ছিল সেই গর্ত ক্রমেই ভরতে থাকে।
এদিকে, কার্নির দুইজন এমপির আসন খালি হয়। তারা অন্য দায়িত্বে অন্য দেশে গেছেন।
ফলে ঐ দুই আসনে বাই ইলেকশনের দরকার হয়। মজার ব্যাপার হলো, দুই আসনেই লিবারেলের শক্ত ঘাঁটি।
সেই বাই ইলেকশন হয়েছে কালকে। একজন হলেন বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। তিনি প্রভিন্সিয়াল এনডিপি দল বদল করে লিবারেলে জয়েন করে ফেডারেল এমপিতে দাঁড়ান।
আরেকজন হলেন টরন্টোর একজন ডাক্তার ও ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ড্যানিয়েল মার্টিন।
অন্টারিও টরন্টো থেকে বাই ইলেকশনে লিবারেল পার্টি থেকে এই দুইজনই জয় লাভ করেন। এই দুই আসলে কনজারভেটিভ থার্ড পজিশনে গেছে। লিবারেল বিপুল ভোটে জিতেছে।
ফলে কার্নির মাইনোরিটি গভর্নমেন্ট থেকে এক লাফে মেজোরিটি গভর্নমেন্ট হয়ে যায়।
কাহিনী তো এখানেই শেষ না।
কুইব্যাক মন্ট্রিয়ালেও বাই ইলেকশন হয়েছে গতকাল। মজার কাহিনী হলো, এখানেও লিবারেল জিতে গেছে। কিন্তু আরো মজার ঘটনা আছে।
এই আসনে যে জিতেছে লিবারেল প্রার্থী তার নাম টাটিয়ানা। সে কিন্তু গত নির্বাচনে মানে মেইন নির্বাচনে লিবারেল পার্টি থেকে জিতেছিল। কিন্তু মাত্র এক ভোটে বিজয়ী হয়েছিল।
মাত্র এক ভোটে জেতার কারণে নিবার্চন কমিশন এই আসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই আসনে বাই ইলেকশনে করে।
তো গতকাল বাই ইলেকশনে আগে এক ভোটে জেতা টাটিয়ানা এবার 731 ভোটে জিতেছে।
যাই হোক, কার্নি বা লিবারেল এখন মেজোরিটি গভার্মেন্ট। ২০২৮ বা পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত কার্নি আর এ্যাট লিস্ট পিপির ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বেন না।
তবে পিপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মতো কার্নির বদনাম করে বলেছেন কার্নি লিবারেল মেজোরিটি পায় নি জেনারেল ইলেকশনে কিংবা বাই ইলেকশনেও। কার্নি ব্যাক ডোর দিয়ে ডিল করে জিতেছে।
পিপি এও মন্তব্য করেন যে, কার্নির অর্থনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড পুওর। সাংবাদিকরা কার্নির সঙ্গে পিপির এই মন্তব্য বললে কার্নি বলেন, রিয়েলি? হি সেড দ্যাট? ওয়াউ!
যাই হোক, কার্নির জনপ্রিয়তার রেট 58% to 63% of Canadians viewing him positively in early 2026.
আর পিপির জনপ্রিয়তার রেট recent polls indicating around 41% approval and 48%.
এদিকে, বিশ্বে তেলের দামে আগুন ধরায় কার্নি আজ মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, গ্যাস, ডিজেল এসব কিনতে ট্যাক্স দিতে হবে না আনটিল লেবার ডে পর্যন্ত। মানে ৭ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন
কাজী হালিমা আফরীন