29/04/2026
বাচ্চা আমার,বাচ্চা ৯মাস পেটে রাখছি আমি। দুনিয়ার সাথে লড়াই করে যুদ্ধ করে পৃথিবীর আলো দেখাইছি আমি,রাতে পর রাত জেগে নিজের আরামের ঘুম বিসর্জ দিয়ে বাচ্চা বড় করছি আমি। বাচ্চার হাগু-মুতু পরিষ্কার করছি আমি।
একটানা ৭মাস নিজের বুকের দুধ খায়িয়ে বাচ্চার বড় করেছি আমি,বাচ্চার জ্বর-ঠান্ডা হলে সারা রাত জেগে সেবা করছি আমি।
বাচ্চার জন্য রান্না করি আমি, ৩বেলা খাবার খায়িয়ে দেই আমি। গোসল করিয়ে দেই আমি,বাচ্চাকে পরিপাটি রাখি আমি,নিজের শখ গুলো মাটি চাপা দিয়ে বাচ্চার শখ পূরন করি আমি।
একজন মা জানে একটা ছোট্ট প্রান কিভাবে বড় করতে হয়। একজন মা তার সন্তানের জন্য পুরো দুনিয়াও শেষ করে দিতে পারে,কিন্তু সন্তানকে নিয়ে কোনো ধরনের অপবাদ শুনতে পারেন না।
সন্তান যতই খারাপ হক না কেনো,একজন মায়ের কাছে তার সন্তান তার পৃথিবী।🙂
কিন্তু দেখেন আমাদের আশে-পাশে এমন ও মানুষ আছে যারা অন্য কে নিয়ে কথা বলে।
যেমন ধরেন :- তোর মেয়ে এতো চিকন কেন! খাইতে দেস না? এতো টুকু বাচ্চার চুল এতো বড় কেন? এর জন্যই তো বাচ্চার বড় হয় না। বাচ্চারে এতো ডায়পার পরাস কেন? কোমড় চিকন হইয়া জাইবো!
বাচ্চারে বেশি বেশি ভাত খাওয়াবি দেখবি মোটা হইয়া জাইবো।
বাচ্চা এতো কালা কেন! সুন্দর না। বড় হইলে কালাই থাকব। ছি ছি বাপের মতো হইলো না,বাপ টা কত সুন্দর।
একবার চিন্তা করুন তো এই কথা গুলো একজন মায়ের কোথায় গিয়ে লাগে।
বাচ্চাকে কষ্ট করে জন্ম দিলেন আপনি,কিন্তু কষ্ট হচ্ছে উনাদের।😊
একজন মায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে তার সন্তান,সেই শক্তিকে যখন কেও কুটু কথা বলে তখন সেই কথা গুলো কলিজায় লাগে।
খেয়াল করে দেখবেন আমাদের সমাজে খারাপ জিনিসটা কে নিয়েই মানুষ সমালোচনা বেশি করে।
আজকে আপনি না খেয়ে থাকেন কেও খোঁজ নিবে না,কিন্তু আপনি একটা অন্যায় কাজ করেন দেখবেন সেটা নিয়ে মানুষের কথার শেষ নেই। এটাই নিয়ম।
মায়েদের ধর্য্য অনেক,তাদের ধর্য্য না থাকলে মা হতে পারতো না। তাই অন্যকে নিয়ে কথা বলার আগে একবার আয়নায় নিজেকে দেখুন আর ভাবুন,আপনি সব দিক দিয়ে পার্ফেক্ট তোহ?