29/01/2024
"সবাই মাস্ট পড়বেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়" ⚠️⚠️
"ইউনিভার্স ২৫" বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম ভয়ানক একটি গবেষণা যেখানে ইঁদুরের কলোনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার উপর ভিত্তি করে মানব সভ্যতাকে বোঝার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা।
এই "ইউনিভার্স ২৫" এর চিন্তাটি আসে মার্কিন বিজ্ঞানী জন ক্যালহোনের কাছ থেকে। তিনি একটি 'আদর্শ দুনিয়া' নির্মাণ করেন যেখানে ইঁদুরেরা থাকবে এবং বংশবৃদ্ধি করবে।
আরও ভালোভাবে বলতে, ক্যালহোন 'ইঁদুরের স্বর্গ' নামের একটা বিশেষ পরিবেশ তৈরি করেন যেখানে অঢেল খাবার, পানি ও থাকার জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ছিল।
শুরুতে সেখানে তিনি চার জোড়া ইঁদুর রাখেন যেগুলো উপযুক্ত পরিবেশে অল্প সময়ের মধ্যে বংশবৃদ্ধি শুরু করে এবং সেটাও বেশ দ্রুত গতিতে।
অবাক করা ব্যাপার হলো, ইঁদুরদের সেই স্বর্গে রাখার মাত্র ৩১৫ দিন পরেই বংশবৃদ্ধির হার কমে যায়। যখন ইঁদুরের সংখ্যা ৬০০ তে পৌঁছালো তখন সেখানে দুটি জাত তৈরি হয়, ভালো ও বিকৃত ইঁদুরের।
এর পর থেকে দুর্বল ইঁদুরগুলো আক্রমণের শিকার হয় এবং অনেক পুরুষ ইঁদুর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
তবে ইঁদুরের স্বর্গে থাকার প্রভাব নারী ইঁদুরের উপর পড়েছিল অন্যভাবে। নারী ইঁদুরেরা নিজেদের আত্মরক্ষা থেকে সরে আসে এবং তাদের সন্তানদের প্রতি আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে।
নারী ইঁদুরদের মাঝে এই আক্রমনাত্মক মনোভাব ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শিশু ইঁদুরের জন্মহার ক্রমেই কমতে শুরু করে এবং বিপরীতে শিশু ইঁদুরের মৃত্যুহার বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, পুরুষ ইঁদুরদের মাঝে একটি নতুন জাতের ইঁদুরের উৎপত্তি হয় যারা কিনা সুন্দরী ইঁদুর।তারা নারীদের সাথে বংশবৃদ্ধি ও জায়গার জন্য লড়াই করতে অস্বীকৃতি জানায়। তারা স্রেফ খাদ্য ও ঘুম নিয়ে চিন্তিত হয়।
একসময় যেয়ে সুন্দরী পুরুষ ইঁদুর ও আক্রমণাত্মক নারী ইঁদুরেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
ক্যালহোনের মতে, মৃত্যুর দুটি ধাপ ছিল। প্রথম মৃত্যু ও দ্বিতীয় মৃত্যু। দ্বিতীয়টি হচ্ছে জীবনের প্রতি অর্থহীন হয়ে পড়া।
অর্থাৎ বংশবৃদ্ধির ইচ্ছার অভাব তৈরি, সন্তান জন্মদান ও সন্তান প্রতিপালনের প্রতি অনিহা এবং সমাজে নিজের অবস্থান তৈরি করতে এগিয়ে না যাওয়া।
সময়ের সাথে সাথে শিশু ইঁদুরদের মাঝে মৃত্যুর হার ১০০% ছুঁয়ে যায় এবং বংশবৃদ্ধি শূন্যতে গিয়ে ঠেকে।
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা ইঁদুরগুলোর মাঝে সমকামী তৈরি হয় (হোমোসেক্সুয়ালিটি), এবং তারা নিজেরাই নিজেদের খেতে শুরু করে (ক্যানিবালিজম)।
এই বিকৃত মস্তিষ্কদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকে। যদিও সেখানে খাবারের কোনো অভাব ছিল না, ছিল না বিপরীত লিঙ্গের ইঁদুরের অভাব। এই গবেষণা শুরুর দুই বছর পর শেষ ইঁদুরটি জন্ম নেয়৷ অতঃপর ১৯৭৩ সালের মধ্যে "ইউনিভার্স ২৫" প্রজেক্টের শেষ ইঁদুরটি মারা যায়।
জন ক্যালহোন এই পরীক্ষাটি আরো ২৫ বার করেন এবং সবগুলো পরীক্ষাতেই একই ফলাফল আসে৷
ক্যালহোনের এই বৈজ্ঞানিক কাজের মাধ্যমে নাগরিক সমাজ ও সভ্যতার অবক্ষয় টের পাওয়া যায় এবং শহুরে জীবন সম্বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়।
একদিকে দুর্বল, মেয়েলী পুরুষের ছড়াছড়ি– যাদের কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত দক্ষতা কিংবা আত্মরক্ষার সামর্থ্য নেই; আর অন্যদিকে আক্রমনাত্মক পুরুষালী নারী– যারা অতিরিক্ত বদমেজাজি এবং প্রাকৃতিক মাতৃত্ব-নারীত্ব থেকে দূরে।
একদিকে বিশ্বব্যাপী এলজিবিটি, ফ্রি সেক্স মুভমেন্ট, ভোগবাদের তীব্র উত্থান; অন্যদিকে বিয়ে-পরিবারগঠন, জন্মদান ও সন্তান প্রতিপালনে অনাগ্রহী মানুষের বৃদ্ধি।
অর্থাৎ, পৃথিবীব্যাপী এন্টিনাটালিজম, এলজিবিটিকিউ মুভমেন্ট, ফ্রি সেক্স মুভমেন্ট, ফেমিনিজম, লিবারেলিজম, জেন্ডার ফ্লুইডিটি কনসেপ্ট ইত্যাদি ওয়েস্টার্ন আইডিওলজির উত্থান যে বর্তমান ভগ্নপ্রায় বিশ্বব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক– সেটা বুঝতে আর সুস্থ মস্তিষ্কের কারো বেগ পাওয়ার কথা নয়।
•
Reference : Universe 25: The Mouse "Utopia" Experiment That Turned Into An Apocalypse, IFLScience.