29/05/2026
দ্বীনি ইলম, মসজিদ ও আল্লাহর পথে খেদমতের মর্যাদা সম্পর্কে সহীহ হাদিসে অনেক গুরুত্ব এসেছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পেশাকে হেয় করা বা শুধু দুনিয়াবি কাজ করলেই মানুষ খারাপ—এমন কথা সহীহ হাদিসে নেই। ইসলামে ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কিছু সহীহ হাদিসের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরা হলো—
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।”
— Sahih al-Bukhari, হাদিস: ৫০২৭
এ হাদিস প্রমাণ করে, কুরআনের শিক্ষা ও খেদমত ইসলামে সর্বোচ্চ মর্যাদার কাজগুলোর একটি।
আরেক হাদিসে এসেছে:
“যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।”
— Sahih Muslim, হাদিস: ২৬৯৯
ইলমে দ্বীনের খেদমত শুধু চাকরি নয়; এটি আখিরাতের পথ সহজ হওয়ার একটি মাধ্যম।
রাসূল ﷺ আরও বলেছেন:
“আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমান-জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি পিঁপড়া তার গর্তে এবং মাছ পানিতে—সবাই সেই ব্যক্তির জন্য দোয়া করে, যে মানুষকে কল্যাণের শিক্ষা দেয়।”
— Jami` at-Tirmidhi, হাদিস: ২৬৮৫
(ইমাম তিরমিযী এটিকে হাসান বলেছেন)
এখানে দ্বীনি শিক্ষকের মর্যাদা কত বড়—তা স্পষ্ট।
এছাড়া দুনিয়াকে একমাত্র লক্ষ্য বানানো সম্পর্কে সতর্কতা এসেছে:
“দিরহাম-দিনারের গোলাম ধ্বংস হোক…”
— Sahih al-Bukhari, হাদিস: ২৮৮৭
অর্থাৎ, যখন টাকা মানুষের মূল উদ্দেশ্য হয়ে যায় এবং দ্বীন পিছনে পড়ে যায়, তখন তা আত্মিক ধ্বংসের কারণ হতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস:
“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।”
— Sahih al-Bukhari, হাদিস: ১৫
Sahih Muslim, হাদিস: ৪৪
এর শিক্ষা হলো—মুমিনের জীবনে দ্বীন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি দুনিয়ার স্বার্থের উপরে থাকা উচিত।
ইতিহাসেও দেখা যায়, বহু মুহাদ্দিস ও আলেম দারিদ্র্যের মধ্যেও ইলমের খেদমত ছাড়েননি। কারণ তারা বিশ্বাস করতেন—বরকত শুধু সম্পদে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যেও রয়েছে।