স্বপ্নীল

স্বপ্নীল poet

29/05/2026

একটি দেশলাইয়ের আত্মজীবনী
নীলিমা নীল

একটা দেশলাই কাঠির মতোই অনেকটা মানবজীবন।
কেউ একজন দেশলাই কাঠির মাথায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়,
তারপর কাঠিটা একটু একটু করে পুড়তে থাকে—
আলো দেয়, উষ্ণতা দেয়।

নিজেকে নিঃস্ব আর ক্ষয় করে
অন্যের জীবনের অন্ধকারকে আলোতে পরিণত করে।

একসময় আগুনে পুড়তে পুড়তে
কাঠিটার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলে,
যে হাতটি ভালোবেসে, পরম যত্নে
এতক্ষণ আগলে রেখেছিল,
সেটিও আলগা হতে থাকেতুই —
বিশ্বাস আর আস্থার অভাবে।

দেশলাই কাঠির শেষ প্রান্তে
অক্সিজেনের অভাবে যেমন আগুন
এমনিতেই নিভে যায়,
তেমনি মানবজীবনেও
অক্সিজেনের অভাবে
বেঁচে থাকার ইচ্ছেগুলো মরে যায়।

প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সব বস্তুই
অবহেলিত হয় যেমন দেশলাই কাঠির আগুন
আপনাতেই নিভে যায়,
তেমনি কাঠির অবশিষ্ট অংশটুকুও
পড়ে থাকে অবহেলায়।

পোড়া দেশলাই কাঠির শেষ টুকরোটার
খোঁজ কেউ রাখে না।
তবু সে সাক্ষী হয়ে পড়ে থাকে
ঘরের কোনো এক কোণে—
মনে করিয়ে দিতে,
একদিন সে জ্বলেছিল
কারও অন্ধকার ঘরে
সামান্য হলেও আলোর দিশা হতে।

25/04/2026

হাজার বছরের পথিক
নীলিমা নীল

একটি গল্প লিখতে চেয়ে
বহুকালের প্রতীক্ষায়
হাজার বছর হেঁটে চলেছি আমি একা এক নির্জন পথে।
পথের দু’পাশে ফেলে আসা ধূসর স্মৃতিরা দাঁড়িয়ে,
হাসে-
উপহাসের হাসি, ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ।
একটি ব্যর্থ জীবনের কাহিনী লিখবো বলে
নিঃস্ব সময়ের হাত ধরে বয়ে চলেছি এতটা পথ -
তবুও গল্পটা লিখা শেষ হয়নি ।
ভুলের পাহাড় জমেছে ধীরে ধীরে,
আজ তা দাঁড়িয়ে আছে আমার জীবনের-
সোনালী দিনের নীরব সাক্ষী হয়ে।
শুরুটা কবে হয়েছিল আজ আর মনে নেই।
হয়তো কোনো এক ভোরে,
সূর্যের প্রথম কিরণ হয়ে এসে বলেছিলে-
লিখো,তোমার অলিখিত জীবন কাহিনি
সেই থেকেই কলমের সাথে আমার পথচলা।
তখনকার সে লেখায় ছিল না কোনো ছন্দ,
ছিল না কোন গল্পের উপাখ্যান—
শুধু কিছু ভাঙা শব্দ আর হৃদয়ের অব্যক্ত অনুভূতি।
আজও তারা শব্দ খুঁজে পেলেও ভাষা খুঁজে পায়নি ।
পথের ভাঁজে ভাঁজে
কত মানুষের আনাগোনা—
কেউ এসেছে শান্তির খোঁজে,
কেউ ক্লান্ত হয়ে একটু বিশ্রামে।
অতিথি পাখির মতো
সবাই হারিয়ে গেছে সময়ের ভিড়ে।
কেউ জীবনের গল্প হয়ে ওঠেনি,
আজ তারা রয়ে গেছে
স্মৃতি হয়ে জীবনের ডায়েরির পাতায়।
প্রচণ্ড ঝড় শেষে
কেউ স্নিগ্ধ বৃষ্টি হয়ে নামেনি আমার আঙিনায়,
চৈত্রের রোদ এসে ঝলসে দিয়েছে চোখ—
তবুও কেউ সারথি হয়ে পথ দেখায়নি।
তবুও হেঁটেছি—
যোজন যোজন পথ,
এক অসমাপ্ত গল্পের খোঁজে।
আজ, হাজার বছরের প্রতীক্ষা শেষে,
সময়কে সঙ্গে নিয়ে
নতুন করে লিখতে বসেছি
আমার সেই অলিখিত গল্পখানি।
নির্জন পথের ধারে বসে
খাতা খুলে লিখার ব্যর্থ প্রচেষ্টা
আজ হাত কাঁপলেও মন ছিল স্থির
কলম ছুঁইয়ে দিলাম জীবনের পাতায়—
আর তখনই
শব্দগুলো নিজে থেকেই এসে বসতে লাগল—
আজ আমার গল্প
নতুন প্রাণ পেয়েছে—
কারন আজ আমি নিজেই
আমার গল্পের সারথি

18/04/2026

প্রেয়সী
নিলীমা নীল

প্রেয়সী কখনও কুচ্ছিত হয় না,
ভালোবাসা কখনও পুরনো হয় না—
সময় বদলে যায় মনের কোন বদল হয় না
হ্নদয় ক্ষত বিক্ষত হয় তবু অনুভুতি মরে না।
চোখের দৃষ্টি ফিকে হয়-
হ্নদয়ের ভাষা অপলক চেয়ে রয়
কথার সুরে ছন্দ হারায় তবু স্মৃতির স্পর্শ -
হৃদয় গভীরে অমলিন রয়ে যায়।
প্রেয়সী রূপে নয়, থাকে গভীর অনুভবে—
সেই অনুভবেই সে চির সুন্দর,
ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে প্রতিক্ষায়
প্রেয়সীর দেওয়া স্মৃতি কখনো পুরনো হয় না
সে তো সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে
অমর হয়ে থাকে প্রতিটি নিঃশ্বাসে আত্মবিশ্বাসে ।

ডাকবাক্সের কান্নানীলিমা নীলপুরনো ডাকবাক্সটা আজজরাজীর্ণ স্মৃতির ভারে নুইয়ে পড়েছে;স্মৃতির আস্তরণে জমেছেধুলো মাখা দীর্ঘ পথে...
09/04/2026

ডাকবাক্সের কান্না
নীলিমা নীল

পুরনো ডাকবাক্সটা আজ
জরাজীর্ণ স্মৃতির ভারে নুইয়ে পড়েছে;
স্মৃতির আস্তরণে জমেছে
ধুলো মাখা দীর্ঘ পথের ক্লান্তি।
তার দেহে নিঃশব্দে জমেছে
অগণিত দিনের অপেক্ষা,
পাওয়া না পাওয়া চিঠির দীর্ঘশ্বাস।
একদিন এই ডাকবাক্স ছিল পূর্ণ—
কোনো প্রেয়সীর ভালোবাসার চিঠি
পত্রমিতালির প্রেমের নরম কথায় ভরে যেত মন।
দূর দেশে থাকা সন্তানের জন্য
অপেক্ষায় বসে থাকত কোনো মা,
সন্তানের চিঠির আশায়।
কিংবা সন্তানকে লেখা চিঠিতে
থাকত মায়ের হৃদয়ের করুণ আর্তি;
কখনো সেখানে ফুটে উঠত
বাবার কাঁপা হাতে লেখা
উপদেশ আর ভালোবাসার প্রকাশ।
কখনো বন্ধুর দুষ্টুমিভরা খবর,
আবার কখনো অশ্রুসিক্ত বিদায়ের শেষ চিঠি।
কখনো বোনের হাতে লিখা চিঠিতে ভালো-
বাসার বহিঃপ্রকাশ।

আজ আর কেউ আসে না তার কাছে,
নেই কোনো অপেক্ষার প্রহর,
নেই ডাকপিয়নের পায়ের শব্দ—
সময়ের স্রোতে হারিয়ে গেছে
চিঠির সেই মায়াভরা দিনগুলো।

তবুও নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে সে ডাকবাক্স
হয়তো কোনো একদিন
আবার কেউ লিখবে মনের কথায় চিঠি
ফেলবে ডাকবাক্সে আবারও ফিরে পাবে প্রাণ
তার হারানো সত্ত্বার স্পর্শে।

26/03/2026

খোলা চিঠি
নীলিমা নীল

খোলা চিঠি সে তো থাকে না খোলা,
সে তো অনেক বেশি রয়যে ঢাকা
সবার কাছে, সবার জন্য সে যে সাদা
লোকচক্ষুর অন্তরালে নিঃশব্দে এক মায়াবী ছায়া।

অপ্রকাশিত কথার বুননে গাথাঁ
এক গোপন কবিতা।
অনেক কিছু হয়নি বলা তবু থাকে নীরব চিঠির প্রতিটি লাইনে অদৃশ্য স্পর্শ মাখা।
খোলা বলেই সব কিছু নয় কো খোলা
কিছু সত্য থাকে শুধু অনুভবের, প্রকাশের আশায়
নীরবতার চাদরে ঢাকা সেই ভাষা-
খোলা চিঠিতেও থাকে অজানা অনেক কথা।

21/03/2026

সময়ের গল্প কথা
নীলিমা নীল

আমি সময়কে প্রশ্ন করেছিলাম
আমার সুখের দিনগুলো এত ক্ষণস্থায়ী কেন?
সময় হেসে বলেছিল,
“সুখ আর দুঃখ তো আপন সহোদর,
দুঃখ আছে বলেই সুখের দেখা আরও গভীর ভাবে পাও
আমি আবার প্রশ্ন করলাম—
যৌবনকাল এত অল্প সময়ের জন্যে কেন?
সময় মৃদু স্বরে উত্তর দিল,
“সময়ের ব্যবধান বোঝাতেই এই ক্ষণিকের ছোঁয়া,
যেন বুঝতে পারো সব সুন্দরই একদিন ফুরিয়ে যাবে
আমি আবার প্রশ্ন করলাম বৃদ্ধ বয়স কেন আসে?
সে মলিন কন্ঠে উত্তর দিল নতুনকে স্বাগত জানাতে -
ঠিক পাতা ঝড়া বৃক্ষের মত
যেমন নতুনের আগমনের বার্তার সাথে সাথে পুরাতন পাতাকে ঝড়ে যেতে হয়
আমি তখন তাকে প্রশ্ন করলাম
“তবে এই জীবনের মানে কী?”
সময় তখন একটু নীরব হয়ে বলল,
“অল্প সময়েই অসীম গল্প লেখার জন্যে -
এই ক্ষণিকের মাঝেই অনন্তকে খোঁজার বৃথা চেষ্টা অবিরত
এই তো জীবনের আসল মানে এটাই জীবনের প্রকৃত ভাষা।

12/03/2026

প্রতিবাদ
নীলিমা নীল

আজকাল আমার কবিতার শব্দগুলো
বড্ড বেশি কথা বলতে চায়
তারা চায় ভাষার অধিকার
চায় মুক্ত কণ্ঠে উচ্চারণের স্বাধীনতা।
ইদানীং আমার কবিতার ভাষা
আর আগের মতো নরম থাকে না,
সময়ের তাপে তারা
খুরধার হয়ে উঠতে চায়।
কবিতার বুকে আজ
বিদ্রোহের আগুন জ্বলে
প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চায়।
বুকের ভেতর জমে থাকা আগুনে
জ্বলে ওঠে বিদ্রোহের শিখা
প্রতিবাদের ভাষা হয়ে
বারবার ফিরে আসে শব্দগুলো।
আজকাল মানুষের বিবেকের জানালায়
আর কড়া নাড়ে না শব্দেরা
কারণ সেখানে নীরবে কাঁদে বিচার
নীরবতায় ঢেকে থাকে সত্য।
তাই অন্ধকারের বিরুদ্ধে
আমার কবিতার শব্দগুলো আজ
শানিত প্রতিবাদ হয়ে ওঠে।
আমার কবিতাগুলো এখন
বড্ড বেশি বেপরোয়া হতে চায়
প্রতিবাদের বিজয় নিশান হাতে
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে
একদিন বিজয়ের উল্লাস করতে চায়।

11/03/2026

বেলা ফুরাবার গল্প কথা
নীলিমা নীল

যেদিন আমি থাকবো না,
সে দিন কি পড়বে আমায় মনে?
তোমাদের এই রঙিন খেলা ঘরের নিত্যদিনের হাসি-কান্নার আসরে?
তোমাদের সঙ্গে কেটেছে কত দিন,রাত্রি
জীবন-শয্যার বাসরে।
সুখের আলো, দুঃখের ছায়া সবই ছিল মিছে মায়া।
হাসি-কান্না, দুঃখ-বেদনায়
ডুবে গিয়েছিলাম নিয়তির খেলায়।
তাই সময় ফুরালে চলে যেতে হবে জানি-
জাগতিক এক মায়ার টানে।
তখন পড়বে কি আমায় মনে?
তোমাদের মনের কোনে স্মৃতির আস্তরণে?

02/03/2026

নারী তুমি
নীলিমা নীল

নারী তুমি—
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর গীতাঞ্জলি
জীবনানন্দ দাশ-এর বনলতা সেন।
নারী তুমি—
মিলনবাসরে, আমোদ-প্রমোদের উৎসবে
পূজারীর প্রতিমার প্রতিরূপ
কালের গর্ভে থেমে থাকা
জীবনের অনাবিল সুরের এক ঝংকার।
নারী তুমি—
বিলিয়ে দাও প্রেমের মধু
অসম আশার এক অদ্ভুত সমীকরণ।
নারী তুমি—
প্রকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষরাজির
মিলনমেলার শ্যামল ছায়াবিথী।
নারী তুমি—
চিরজয়ন্তীর জয়, চির অক্ষয়
তুমি লেখকের প্রেমময় কবিতার খাতা
প্রেমের অবারিত নাম।
নারী তুমি—
লজ্জাবতীর লাজ
নিশীথরাত্রির ফুলশয্যার সাজ।
নারী তুমি—
হৃদয়-মহলের বুকের অতলে
পুরুষের শান্তির শীতল পাটির বিছানা।
নারী তুমি—
অন্ধের দৃষ্টি
পুরুষের প্রাণের আকুতি, মনের মিনতি—
সৃষ্টির মহাকালের ইতিহাস।
নারী তুমি—
প্রয়োজনে অপ্সরা,
অপ্রয়োজনে কুলটা, অপয়া—
অসংখ্য অপবাদের নাম।
নারী তুমি—
শত ব্যস্ততার মাঝে
একটুখানি শান্তির বিশ্রাম;
মানবসৃষ্টির লগ্নের মূল সংযোজন,
সৃষ্টির সেরা পুরুষের অর্ধাংশের নাম।
নারী তুমি—
তুমি মজনুর পাগলামি
শাহজাহানের তাজমহল
অবনীর মাঝে শ্রেষ্ঠ মায়া
আলোকিত পুরুষের হৃদয়ে শীতল ছায়া।
নারী তুমি—
তুমি মা, জয়া, জননী
তুমিই সংসারের সুখ, প্রেমের জোড়া তাজ।
প্রসববেদনার মৃত্যুযন্ত্রণা শেষে
মায়ের বুকে জড়ানো শিশুর কান্নার আওয়াজ।
নারী তুমি—
মায়ের বুকে
আরশের নিচে শান্তির ছায়া।
নারী তুমি—
তুমি চঞ্চল যুবকের তন্দ্রাভরা
নিদ্রাহীন অজস্র রাত।
নারী তুমি—
চৈত্রের প্রাণহারা মাটিতে
প্রাণের বর্ষার জল ঢেলে
করো পৃথিবী সুশীতল।

25/02/2026

মানুষ
নীলিমা নীল

একদিন শৈশব কেটে যাবে,
কৈশোরের বেলা ফুরাবে।
সময়ের স্রোতে ভেসে যাবে
হাসি–খুশির রেশ।
সময় যত এগোবে,
চুলে ধরবে পাক,
শরীরজুড়ে ক্লান্তি নামবে,
চোখের পাতায় জমবে
নির্ঘুম রাতের নীরবতা।
মনের ভেতর জমবে
অজস্র হিসাব–নিকাশ
সময় তখন শেখাবে—
বাস্তব জীবনের নতুন সাজ।
ধীরে ধীরে অবহেলায়
মনে জমবে
ব্যথার কালো মেঘ।
শরীরজুড়ে সময় লিখবে
জরাজীর্ণতা, রোগ
আর অবসাদের ক্লান্তি।
শরীরে ধরবে ঘুণ,
মনে জমবে
একাকিত্বের ভয়।
দিনের শেষে
হাসি–কান্নার হিসাব কষে
স্মৃতির খাতা ভরে উঠবে।
মন তখন স্মৃতির পাতায়
আলো–ছায়ার রঙ গুনে
দিন কাটাবে।
দিনের শেষে
সবাই বুঝবে—
জীবনের আসল মানে কী!
সত্য–মিথ্যার দ্বন্দ্ব
চলবে ভেতর ও বাহিরে,
স্বপ্নভঙ্গ আর হতাশার দোলাচলে
কেটে যাবে সময়।
এভাবেই সময় ফুরাবে—
আসলে মানুষ
এক রঙিন সুতোয় বাঁধা
একটি ফানুস।

Address

Pabna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when স্বপ্নীল posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share