29/05/2026
একটি দেশলাইয়ের আত্মজীবনী
নীলিমা নীল
একটা দেশলাই কাঠির মতোই অনেকটা মানবজীবন।
কেউ একজন দেশলাই কাঠির মাথায় আগুন জ্বালিয়ে দেয়,
তারপর কাঠিটা একটু একটু করে পুড়তে থাকে—
আলো দেয়, উষ্ণতা দেয়।
নিজেকে নিঃস্ব আর ক্ষয় করে
অন্যের জীবনের অন্ধকারকে আলোতে পরিণত করে।
একসময় আগুনে পুড়তে পুড়তে
কাঠিটার শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলে,
যে হাতটি ভালোবেসে, পরম যত্নে
এতক্ষণ আগলে রেখেছিল,
সেটিও আলগা হতে থাকেতুই —
বিশ্বাস আর আস্থার অভাবে।
দেশলাই কাঠির শেষ প্রান্তে
অক্সিজেনের অভাবে যেমন আগুন
এমনিতেই নিভে যায়,
তেমনি মানবজীবনেও
অক্সিজেনের অভাবে
বেঁচে থাকার ইচ্ছেগুলো মরে যায়।
প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে সব বস্তুই
অবহেলিত হয় যেমন দেশলাই কাঠির আগুন
আপনাতেই নিভে যায়,
তেমনি কাঠির অবশিষ্ট অংশটুকুও
পড়ে থাকে অবহেলায়।
পোড়া দেশলাই কাঠির শেষ টুকরোটার
খোঁজ কেউ রাখে না।
তবু সে সাক্ষী হয়ে পড়ে থাকে
ঘরের কোনো এক কোণে—
মনে করিয়ে দিতে,
একদিন সে জ্বলেছিল
কারও অন্ধকার ঘরে
সামান্য হলেও আলোর দিশা হতে।