20/07/2020
#হালদা_একটি_স্বকীয়_সম্পদ
বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধিতে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে হালদা নদী। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান এই তিন উপজেলার মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হালদা।
হালদার মূল উৎপত্তিস্থল মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী ইউনিয়নের সালদা নামক গ্রামের পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে। মূলত সালদা নাম হতেই হালদা নামের উৎপত্তি বলে ধরে নেয়া হয়।
প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট সময়ে কার্প জাতীয় কিছু মাছ (রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ) এ নদীতে ডিম ছাড়ে। স্থানীয়রা এ ডিম সংগ্রহ করে স্থানীয় প্রাচীন নিয়মে রেণুতে পরিণত করে। অবশ্য বর্তমানে কিছু হ্যাচারীতে আধুনিক পদ্ধতিতে রেণু ফোটানো হয়।
হালদায় কার্প জাতীয় মাছের ডিম দেওয়ার কারন হলো এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে উল্লেখ্য যে হালদার গতিপথে বিশেষ কিছু বাঁক যেগুলোকে "অক্সবো বাঁক" বলা হয়। এছাড়াও খরস্রোতা এই নদীতে প্রবাহিত হয় একাধিক পাহাড়ি ঝর্ণা এবং বিস্তীর্ণ বিল ঝিলের পানি, যা একে এক অন্য মাত্রা দান করেছে। এ নদীর গভীরতা, কম তাপমাত্রা, অধিক প্রাকৃতিক খাদ্যের যোগান এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা সহ সব মিলিয়ে মা মাছের ডিম ছাড়ার যথাপোযুক্ত পরিবেশ এই নদীতে বিদ্যমান থাকে বলেই প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এ নদীর বাঁকে বাঁকে মা মাছেরা ডিম ছাড়ে।
কেবল প্রাকৃতিক ভাবে ডিম সংগ্রহের জন্য নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষির জন্যও এ নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে এ নদীর অবদান বলার অপেক্ষা রাখে না।
শুধু তাই নয়, হালদা ছাড়া পৃথিবীর আর কোনো নদী হতে এরূপ প্রাকৃতিক ভাবে ছাড়া ডিম সংগ্রহের নজির নেই।
অতএব আমাদের সকলের উচিত এ নদী সহ সব নদীর দূষণ রোধে নিজে সচেতন হওয়া এবং অন্যকে সচেতন করা।
#হালদার_সাথে_থাকার_জন্য_ধন্যবাদ।