24/02/2023
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা অফিসে ‘গ্রুপথিংক’ যে কারণে সমস্যাজনক এবং যেভাবে তা এড়াবেন
১৯৭২ সালে ‘গ্রুপথিংক’ শব্দটা প্রথম ব্যবহার করেন অ্যারভিং জ্যানিস। তিনি ছিলেন একজন সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট বা সামাজিক মনোবিজ্ঞানী। একটা গ্রুপ বা দলের মানুষেরা যেভাবে সামাজিক চাপের কারণে (অপেক্ষাকৃত) খারাপ সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা বোঝাতেই ‘গ্রুপথিংক’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
দলের লোকেরা অবচেতন মনেই দলের ঐক্য ঠিক রাখতে চায়। সেজন্যে একে অন্যের কথার সাথে একমত হয়। আর এভাবেই সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সামাজিক মনোবিজ্ঞান ছাড়া গবেষণার অন্যান্য ক্ষেত্রেও “গ্রুপথিংক” নিয়ে অধ্যয়ন করা হয়। ‘গ্রুপথিংক’ বিষয়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হল, এর ফলেই সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা কূপমন্ডুক হয়ে যান, অর্থাৎ তারা চিন্তাভাবনার দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন।
দলের সবাই মিলে বাজে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরেও কেউই এর বিরোধিতা কেন করে না, তা ‘গ্রুপথিংক’ এর মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা যায়।
রাজনৈতিক দল অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মত একই ধরনের চিন্তাধারার মানুষদের মধ্যে ‘গ্রুপথিংক’ এর প্রবণতা দেখা যায় অনেক সময়।
কোনো প্রতিষ্ঠানে “গ্রুপথিংক” চলতে থাকলে কর্মী এবং ম্যানেজাররা এমন প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকেন, যেটা বিতর্ক তৈরি করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি বা কালচারের বিপরীতে যেতে পারে।
তাই ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা সবাইকেই ‘গ্রুপথিংক’ এর বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে গ্রুপথিংক এর বিষয়টা প্রতিষ্ঠান বা অফিসের কালচার থেকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কেন গ্রুপথিংক এড়িয়ে চলা উচিৎ, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে এবার।
# যে কারণে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে গ্রুপথিংক
দলের মধ্যে গ্রুপথিংক হচ্ছে কিনা, এবং কর্মস্থলে বিভিন্নভাবে এর প্রকাশ ঘটছে কিনা, সেটা খেয়াল করা ম্যানেজারদের দায়িত্ব। কারণ অফিসে যখন গ্রুপথিংক কালচার শুরু হয়ে যায়, তখন সবচেয়ে মেধাবী কর্মীর কাছ থেকেও ভাল কোন আইডিয়া পাওয়া যায় না। অথচ এমন আইডিয়া হয়ত পুরো প্রতিষ্ঠানকেই বদলে দিতে পারত। কিন্ত গ্রুপথিংক এর কারণে একমত না থাকলেও মেধাবী কর্মীরা কোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে না।
আবার কোম্পানিতে যারা সৃজনশীল চিন্তা করে, গ্রুপথিংক এর কারণে তারাও আর নতুন চিন্তা করে না। তখন ব্যক্তিপর্যায় থেকে ভাল কোনো আইডিয়াও আর আসে না। এভাবে নতুন আইডিয়া, নতুন সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয় কোম্পানি।
প্রচলনের বাইরে গিয়ে কোনো মতামত দিলে লোকে কী বলবে, এমন দুঃশ্চিন্তা (সচেতন বা অচেতনভাবে) কর্মীদের মধ্যে থাকলে মেধাবী কর্মীরা কোম্পানি ছেড়ে চলে যেতে পারে। এবং চাকরি বদলে তারা এমন প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে পারে, যেখানে কোম্পানি মিটিংয়ে নতুন এবং অপ্রচলিত আইডিয়া সামনে নিয়ে আসতে উৎসাহ দেয়া হয়।
তাই গ্রুপথিংক এর কারণে কোম্পানিতে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য দুই ধরনের প্রভাব পড়ে। আর এই প্রভাবই পরে কোম্পানির জন্যে নানান ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।
# গ্রুপথিংক হচ্ছে কিনা যেভাবে বুঝবেন
ধরা যাক, আপনি মোটামুটি বড় একটা কোম্পানির সিইও। আপনি ভাবছেন কীভাবে কোম্পানির ব্যবসা বিদেশের মাটিতেও শুরু করা যায়। হয়ত আগে থেকেই বিদেশে ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে একটু দ্বিধার মধ্যে ছিলেন আপনি। তাই ঠিক করলেন বিষয়টা নিয়ে অফিসের অন্য কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করবেন। এবং তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঠিক করবেন।
দেখা গেল, অফিসের সকল কর্মকর্তা আপনার মতামতের সঙ্গেই সহমত জানাল। আপনার মতো তারাও বিদেশে ব্যবসা শুরু করা নিয়ে আপত্তি জানাল। কিন্তু মিটিংয়ে হয়তো এমন অনেকেই ছিলেন, যারা মনে করেন অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বিদেশে ব্যবসা শুরু করা উচিৎ। কারণ আপনার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানটিও হয়তো এখন বিদেশে ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছে। অথচ গ্রুপথিংক হওয়ার ফলে আপনি মিটিংয়ে ভিন্নমতের মানুষদের কথা শোনার সুযোগ পেলেন না। ফলে কৌশলের দিক দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটিও নিতে পারলেন না।
মিটিংয়ে এমন কখনো হয়েছে যে, আপনি কোনো একটা কথা বলার জন্যে ভাবছিলেন, কিন্তু তারপর কথাটা আর বললেন না। কারণ আপনার মনে হল যে, কথাটা হয়তো গ্রুপ বা দলের উদ্দীপনা নষ্ট করে দিতে পারে।
অথবা কর্মক্ষেত্রে এমন কোনো টিমের সঙ্গে কাজ করেছেন, যেখানকার সদস্যরা মন খুলে তাদের মতামত জানাতে পারে না? যদি আপনার সাথে এমন হয়ে থাকে, তবে গ্রুপথিংক এর শিকার আপনিও।
সংখ্যাগরিষ্ঠ, অর্থাৎ দল ভারি যেদিকে, তাদের সাথে একমত হলে সবসময় ভাল ফল আসে না।
ইতিহাসে গ্রুপথিংক এর নেতিবাচক দুটি উদাহরণ হচ্ছে ‘চ্যালেঞ্জার স্পেস শাটল দুর্ঘটনা’ এবং ‘বে অফ পিগস আক্রমণ’।
প্রথম ঘটনায় স্পেস শাটলের ইঞ্জিনিয়াররা মহাকাশযান ওড়ানোর কয়েকমাস আগে থেকেই জানত যে, এর কিছু সরঞ্জাম ঠিকমতো কাজ করছে না। কিন্ত তারা ভেবেছিল কথাটা প্রচার হয়ে গেলে দুর্নাম রটতে পারে। তাই ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও মহাকাশযান ওড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
১৯৬১ সালে কিউবার ‘বে অফ পিগস’ এলাকাতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণও কৌশলের দিক দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ওপর মহলে থাকা কর্তাব্যক্তিদের কেউই এই আক্রমণের সফলতা নিয়ে নিজেদের ভিন্নমত প্রকাশ না করায় শেষে এই আক্রমণ পরিচালিত এবং ব্যর্থ হয়।
# গ্রুপথিংক এর লক্ষণ
জ্যানিস এর মতে, গ্রুপথিংক সাধারণত এমন জায়গায় হয়ে থাকে, যেখানে:
• একজন ক্ষমতাবান ও প্রভাব বিস্তারকারী নেতা থাকে
• গ্রুপের মধ্যে বন্ধন অনেক শক্ত থাকে
• সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বাইরে থেকে গ্রুপের ওপর অনেক চাপ থাকে
মূলত গ্রুপথিংক বেশ প্রচলিত এবং স্বাভাবিক ঘটনা। বিভিন্ন পরিস্থিতি আর পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের দলের মধ্যে গ্রুপথিংক হতে পারে। তাই গ্রুপথিংক এর মূল লক্ষণগুলি জানা থাকলে এ ব্যাপারে সাবধান থাকা সহজ হয়। লক্ষণগুলি জেনে নেয়া যাক।
১. সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি বানিয়ে তা নিজেদের কাছেই ব্যাখ্যা করা
দলের সদস্যরা অনেক সময় নিজেদেরকে বোঝাতে পারে যে, তাদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে তথ্য উপাত্ত থাকলেও তাদের নেয়া সিদ্ধান্তই সঠিক। অন্যদের মতামত তারা এই যুক্তিতে উড়িয়ে দিতে পারে যে, “আমাদের সাথে যারা একমত হয়নি, তারা সমস্যাটা নিয়ে আমাদের মত এত বিস্তারিত গবেষণা করেনি।”
২. সহকর্মীদের চাপ
একজন সদস্য যখন বাকিদের চেয়ে ভিন্ন কোনো মত দেয়, অথবা কোনো সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলে, তখন দলের বাকি সদস্যরা তার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে। এবং অনেক সময় তাকে শাস্তিও দেয়া হতে পারে এ ধরনের কথা বলে যে, “যদি তুমি মনে করো আমরা ভুল করছি, তাহলে তুমি দল থেকে বেরিয়ে যেতে পারো।”
৩. আত্মতৃপ্তি
কয়েকবার সফল হওয়ার পর কোনো গ্রুপ বা দল মনে করতে পারে যে, তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই ঠিক। কারণ নিজেদের ওপরে তাদের আর কোনো সংশয় থাকে না। এমন মনোভাব দলের মধ্যে জন্মাতে পারে যে, “আমাদের কাজই প্রমাণ করে আমরা কত সফল। আমাদের কেউ থামাতে পারবে না!”
৪. নিজেদের নৈতিকতা নিয়ে উঁচু ধারণা
দলের প্রতিটি সদস্য নিজেকে নীতিবান মনে করে। তাই সবাই যেখানে নীতিবান, সেখানে কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তা যেন কেউ ভাবতেই পারে না! তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য মূল্যবোধের মতো বিষয়কে ভিত্তি হিসেবে ধরলে সবার মতের সাথে মিল হওয়ার ব্যাপারে চাপ আরো বেশি থাকে।
কারণ সবার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে সেটা বাকিদের চোখে অনৈতিক মনে হবে। গ্রুপের সদস্যরা এমন অবস্থায় নিজেদের বোঝাতে পারে যে, “আমরা সবাই বুঝতে পারি কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। আর আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটা অবশ্যই ঠিক।”
৫. স্টেরিওটাইপ করা বা বাঁধাধরা নিয়মে চিন্তা করা
একটা গ্রুপের সবার চিন্তাভাবনা একই রকম হয়ে গেলে তারা গ্রুপের বাইরের মানুষের চিন্তাধারাকে তূলনামূলক খারাপ এবং ভিন্ন মনে করতে পারে। এমন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে গ্রুপের বাইরের মানুষকে তারা অবমূল্যায়ন করে। যেমন অন্য কোনো পেশার কেউ তাদের ব্যাপারে ভিন্নমত প্রকাশ করলে তারা বলতে পারে যে, “এই পেশার লোকেরা সুযোগ পেলেই ঝগড়া করে। এমনকি সব প্রমাণ তাদের দাবির বিরুদ্ধে থাকলেও তারা ঝগড়াই করবে!”
৬. সেন্সরশিপ
বাকিদের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য দলের সদস্যরা তাদের মতামতকে সেন্সর করতে পারে। দলের কেউ ভাবতে পারে যে, “সবাই যেখানে একই কথা ভাবছে, সেখানে আমি আরেকটা ভাবছি কেন! নিশ্চয়ই এখানে আমিই ভুল।”
এমনকি বাইরে থেকে কোনো ভিন্নমত এলে অনেক সময় সেটাকেও দলীয় ভাবে সেন্সর করে দেয়া হয়। এ নিয়ে দলের একজন আরেকজনকে বলতে পারে, “আরে এইসব কথায় কান দিও না! এ ব্যাপারে ওরা আসলে কিছুই জানেই না।”
৭. সবার সম্মতি পাওয়ার ভ্রান্ত ধারণা
কেউ যখন তার মনের কথা জানায় না, তখন গ্রুপের সবাই ভাবে সবার সম্মতি নিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এটাই হচ্ছে গ্রুপ থিংক এর সবচেয়ে বড় সমস্যা। আর এভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মিটিং-এ বলা হতে পারে, “সবাই যখন একই মতামত দিচ্ছে, তাহলে সিদ্ধান্ত এটাই থাকল!”
# গ্রুপথিংক যেভাবে এড়াতে হয়
গ্রুপথিংক এড়ানোর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে এমন একটা প্রক্রিয়া থাকা, যাতে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যে অনুমানগুলি করা হয়েছিল, সেগুলি পুনরায় ভেবে দেখা যায়।
এছাড়াও সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তা যাচাই করা এবং সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ঝুঁকি আছে কিনা, তা মূল্যায়ন করাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটা বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিশ্চিত করতে হবে আপনার দল যেন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় এই বিষয়গুলি মাথায় রাখে:
• সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্য অনুসন্ধান করা
• বিকল্প সিদ্ধান্ত খোঁজা
• কোনো ভয় ছাড়াই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার জন্য উৎসাহ দেয়া
• পছন্দের সিদ্ধান্তের সাথে কোনো ঝুঁকি জড়িয়ে আছে কিনা, তা দেখা
• অনুমান পরীক্ষা করে দেখা
• প্রয়োজনে বাদ দেয়া সিদ্ধান্তগুলি আবার পরীক্ষা করে দেখা
• বাইরের উৎস থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্য যোগাড় করা
• বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য পর্যালোচনা করা
• অন্তত একটা বিকল্প পরিকল্পনা হাতে রাখা
এই বিষয়গুলি যাতে সহজে মাথায় থাকে, সেজন্য অনেক ধরনের কৌশল আছে। এর মধ্যে কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হলো। এর মধ্যে এক বা একাধিক কৌশল কাজে লাগিয়ে দলের কাজের ধরন বদলাতে পারেন। এভাবে গ্রুপথিংক থেকে নিজের দলকে রক্ষা করতে পারবেন এবং আরো ভাল সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
# গ্রুপথিংক এড়াতে সাহায্য করবে যেসব কৌশল:
১. ব্রেইনস্টর্মিং বা মাথা খাটানো
দলের মধ্যে ব্রেইনস্টর্মিং এর চর্চা করা হলে সমালোচনার ভয় ছাড়াই সবাই নিজেদের আইডিয়া শেয়ার করতে পারবে।
২. প্রতি সদস্যকে আলাদা ভাবে অংশ নিতে দেওয়া
গ্রুপের সকল সদস্যদের আলাদা আলাদাভাবে নিজেদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এর ফলে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় প্রভাব বিস্তার করে, এমন সদস্যদের আধিপত্য কমানো যাবে।
৩. সিক্স থিংকিং হ্যাটস
“সিক্স থিংকিং হ্যাটস” নামের কৌশল কাজে লাগালে দলীয়ভাবে একটা সমস্যাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যাবে। এই কৌশলে দলের প্রত্যেককে একই সমস্যা আলাদা আলাদা দিক থেকে ভাবতে বলা হয়। এতে করে কোনো সিদ্ধান্তই সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবে না।
৪. ডেলফি টেকনিক: ডেলফি টেকনিকে দলের সদস্যরা আলাদাভাবে নিজেদের মতামত দেয়। দলের বাকিরা কী মতামত দিচ্ছে, সেটা তারা জানতে পারে না। ফলে বাকিদের সাথে একমত না হলেও এখানে কাউকে সমস্যায় পড়তে হয় না।
# গ্রুপথিংক থেকে যেভাবে বের হতে হবে
এসব কৌশল কাজে লাগানোর পরও যদি আপনার অফিসে গ্রুপথিংক দেখা যায়, তখন জরুরি হচ্ছে এর পেছনে থাকা কারণ বুঝতে পারা। এবং কারণ খুঁজে বের করার পরে দ্রুততম সময়ে তা সমাধানের চেষ্টা করা। এজন্য এর মধ্যে যেকোনো পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন:
১. অফিসে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতে কোনো সমস্যা না থাকলেও আপনাকে নজর রাখতে হবে গ্রুপথিংক এর কোনো লক্ষণ লেখা যাচ্ছে কিনা। এবং গ্রুপথিংক এর কোনো লক্ষণ চিহ্নিত করার সাথে সাথেই এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. যদি গ্রুপথিংক এর লক্ষণ দেখা যায়, তবে বিষয়টি নিয়ে দলের সবার সাথে কথা বলতে হবে। দলের বাকিরাও বিষয়টি স্বীকার করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় স্বতস্ফূর্তভাবে নিজেদের মতামত জানাতে পারবে।
৩. কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে কী কী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, সেটা খুঁজে বের করতে হবে। অফিস এবং আপনার ক্লায়েন্টদের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করতে হবে। যদি দেখা যায় অনেক বেশি ঝুঁকি আছে (যেমন ব্যক্তিগত সুরক্ষা জনিত কোনো সমস্যা) তবে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে যেন সিদ্ধান্তটি ভাল ভাবে যাচাই করে নেয়া হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. প্রয়োজনে অন্যদের, অর্থাৎ গ্রুপের বাইরের মানুষের মতামতও নেয়া যেতে পারে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের অনুমান যাচাই করতে পারেন। আসলেই পরিবর্তনের দরকার আছে কিনা বুঝতে ওপরের পরামর্শ বা কৌশল আবার অনুসরণ করে দেখতে পারেন।
৫. উপরে যেসব কৌশল এবং পরামর্শের কথা বলা হয়েছে, সেগুলির সাথে দলের বাকিদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন। এতে করে ভবিষ্যতে গ্রুপ থিংক এড়ানো সম্ভব হবে।
#গ্রুপথিংক