07/05/2023
⭕ রাসূল সল্লল্লহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদানের ভিতরে এবং বাহিরে রাত্রিবেলায় সর্বমোট ১১ রাকাত [নফল] নামাজ আদায় করতেন। আর তা হচ্ছে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকাত বেতের। -[সহীহ বুখারী- ৩৫৬৯]
🔹 সুতরাং তাহাজ্জুদের নামাজ ২ রাকাত করে ৮ রাকাত আদায় করবেন। আবার কেউ চাইলে ১০, ১২ কিংবা সাধ্য মোতাবেক আরো বেশিও আদায় করতে পারবেন ইন শা আল্লাহ। এতে কোনো সমস্যা নেই।
🔸 তাহাজ্জুদের নামাজ এশার নামাজের পর থেকে ধরে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। তবে শেষ রাত্রিতে (আনুমানিক ২ টা থেকে সাড়ে ৪ টার মাঝামাঝি সময়ে) তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা সর্বোত্তম এবং দোয়া কবুলের জন্য অধিক ফলদায়ক।
🔹 তবে কেউ চাইলে এশার নামাজের পর অথবা রাত ১২ টার দিকেও তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারবে। তবে উত্তম হচ্ছে শেষ রাত্রিতেই তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা। আর তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে বেতের নামাজ আদায় করা।
🔸 কারো পক্ষে যদি রাতে উঠতে পারার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে সে চাইলে এশার নামাজের পরই বেতের নামাজ আদায় করে নিতে পারবে এবং রাতে সজাগ পেলে তখন উঠে আবার তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতে পারবে। কিন্তু তখন আর বেতের নামাজ আদায় করতে হবে না।
🔹 তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা কিরাত নেই। তবে যেই সূরাগুলো সহীহ শুদ্ধভাবে মুখস্থ রয়েছে সেগুলো দিয়েই তাহাজ্জুদ আদায় করা উত্তম
🔸 তবে এক্ষেত্রে সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরী। অর্থাৎ প্রথম রাকাতে কুরআনুল কারীমের ১০৫ নং সূরা পাঠ করা হলে পরের রাকাতে ১০৬ নং অথবা ১০৭ নং কিংবা তার পরের সূরাগুলো পাঠ করতে হবে।
🔹 অনেকে বলে থাকেন, তাহাজ্জুদের নামাজ নিয়মিত আদায় করলে সুন্নত এবং মাঝে মাঝে আদায় করলে নফল। তাদের এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই.!
🔸 তাহাজ্জুদের নামাজ হচ্ছে সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদা অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ নফল নামাজ। তাই উক্ত নামাজ সুন্নতের নিয়ত করেও পড়া যাবে, আবার নফলের নিয়ত করেও পড়া যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই।
🔹 নিয়তের ক্ষেত্রে আরবীতে কিংবা বাংলায় মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারন নিয়ত অন্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট, মুখের সাথে নয়। তাই মনে মনে স্মরণ করতে হবে যে, আমি দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করছি, আল্ল-হু আকবার।
⭕ তাহাজ্জুদের নামাজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলেন, এখন থেকে নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করবেন তো ইন শা আল্লাহ.🥀🥀