27/05/2026
পোস্টটি লিখেছেন Sharif Al Afnan
জামশেদ মজুমদারের "প্রিমিয়াম" ব্যবসা নিয়ে কিছু কথা
জামশেদ ভাইকে ভালোবাসি, আল্লাহর জন্যই ভালোবাসি। তাই বলে মুখ বুজে থাকতে পারছি না।
৭০ টাকার আম ১৭০ টাকায় বিক্রি।
এটা ব্যবসা না ভাই, এটা প্যাকেজিং আর হাইপের জাদু।
চাপাই-রাজশাহীর মাটির গন্ধমাখা আম — যেটা আল্লাহ তায়ালা এই দেশের সাধারণ মানুষের জন্য নেয়ামত হিসেবে দিয়েছেন..
সেটাকে সুন্দর বাক্সে ভরে, লুকেটিভ ডিজাইন দিয়ে, "প্রিমিয়াম হালাল" ট্যাগ লাগিয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি করাটা ঠিক কোন ইসলামি নীতিতে পড়ে?
রাসূল (সা.) নিজে ব্যবসা করেছেন। কিন্তু তিনি বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করেছেন। মদিনায় তিনি যে বাজার প্রতিষ্ঠা করেন, সেখানে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি, মজুতদারি, বাজার ভারসাম্য নষ্ট করা — এগুলো কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত ছিল।
তাহলে প্রশ্ন হলো —
দ্বীনের নাম নিয়ে ব্যবসা করলে দ্বীনের নিয়মটাও মানতে হবে না?
আমি বুঝি ব্যবসায়ে খরচ আছে, প্যাকেজিং আছে, লজিস্টিক আছে। সেটা মানি।
কিন্তু গাছের সাধারণ আমকে আপনি Prada বানাতে পারবেন না ভাই।
এটা "প্রিমিয়াম" না, এটা Information Asymmetry — মানে ক্রেতা জানে না যে একই জিনিস পাশের বাজারে অর্ধেক দামে পাওয়া যায়। আর এই না-জানাটাকে কাজে লাগানোই হলো এই ব্যবসার মূল কৌশল।
সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা কোথায় জানেন?
একজন লোক যখন বিখ্যাত হন, তখন বাজার তাকে ফলো করে।
ইল্লিয়ান আসার আগে ১৫০০ টাকায় ভালো পাঞ্জাবি পাওয়া যেত। এখন ৫-৬ হাজার ছাড়া রুচিসম্মত কিছু নেই।
এভাবেই Market Equilibrium ভেঙে যায়।
আজকে জামশেদ ভাই ১৭০ টাকায় আম বেচলে, কালকে বাজারের আমওয়ালাও দাম বাড়াবে।
শেষমেশ ভোগান্তি কার? যে মানুষটা ৮০ টাকার বেশি দিতে পারে না তার।
যদি সত্যিই দ্বীনের প্রতিনিধিত্ব করতে চান —
মিয়াজাকি আম, আলফান্সো আম, কোহিতুর আম — এগুলো নিয়ে প্রিমিয়াম ব্যবসা করেন। বড়লোক কাস্টমার পাবেন, পকেটও ভরবে, কারো আপত্তিও থাকবে না।
কিন্তু গরিবের আমকে প্রিমিয়াম বানাবেন না।
গরিবের নেয়ামত গরিবের কাছেই থাকুক।
ভালোবাসি বলেই বলছি। অন্ধ সমর্থন ভালোবাসা না, সত্যি কথা বলাটাই ভালোবাসা।