28/05/2023
আসসালামু আলাইকুম।
সবাই কেমন আছেন? আজকে আপনাদের সাথে নিয়ে এসেছি চায়ের অপরিহার্য অংশ বিস্কুট বা কুকিজের ইতিহাস নিয়ে।
বিস্কুট বা কুকিজের ইতিহাস জানার পূর্বে এই বিস্কুট এবং কুকিজের মাঝে পার্থক্যটা জানা জরুরি।
বিস্কুটকে হতে হবে মচমচে,একটু শক্ত টাইপের।
কুকিজকে হতে হবে একটু সফট,নরম,Chewy টাইপের।
একই জিনিস,অথচ টেকচারের পরিবর্তনে নামও পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
কুকি নামটা এসেছে ডাচ শব্দ “koekje” থেকে,যার অর্থ “ছোট কেক”।বিস্কুট নাম এসেছে ল্যাটিন biscoctum থেকে, যার অর্থ ‘দুই দফায় বেক’ করা বা “twice baked”.
ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ায় কুকিজকে বলা হয় বিস্কুট।স্পেনে বলা হয় গ্যালেটাস বা galletas.জার্মানরা বলে keks,তবে ক্রিসমাসের কুকিজকে বলে Plzchen.ইতালিতে ব্যবহৃত উপকরণভেদে নাম বিভিন্ন হয়,তবে সাধারনভাবে বলা হয় amaretti বা biscotti.
রন্ধন ঐতিহাসগণের মতে, কুকিজ বা বিস্কুটের প্রথম রেকর্ড করা হয় কেক তৈরীর জন্য ওভেনের বা চুলার তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে।মজার না বিষয়টা?অর্থ্যাৎ,ওই সময়ে কেক তৈরীর জন্য করা বেটার বা গোলা থেকে অল্প পরিমাণে নিয়ে বেক করা হত এটা বোঝার জন্য যে কেকের জন্য চুলার তাপমাত্রা ঠিক আছে কিনা!
কুকিজ বা বিস্কুটের মূলে রোমানরা হলেও চিনি যোগে কুকিজের উৎপত্তি ইরানে।ইরানে মিষ্টি জাতীয় খাবারে সাধারনত মধু ব্যবহার করা হত।চিনির উৎপাদন শুরু হওয়ার পর অভিজাত লোকেরা চিনি মিশ্রিত কুকিজ খেত।চিনি উৎপাদনকারী আখের জন্ম ভারতীয় উপমহাদেশে হলেও এটি ভারত থেকে ইরানে নেওয়ায় ভূমিকা রেখেছেন মহাবীর আলেকজান্ডার।
ভারতীয় উপমহাদেশে মশলার সুখ্যাতির জন্য অনেক বিদেশীই এসেছে কিন্তু কেউই চিনি উৎপাদনকারী আখের বিষয়ে মনোযোগী হননি।ভারতবর্ষ দখলের উদ্দেশ্য এসে মহাবীর আলেকজান্ডার দেখলেন মৌমাছি ছাড়াই এই গাছে মধু উৎপাদন হচ্ছে।এরপর তার নির্দেশেই আমাদের ভারতবর্ষের আখ গাছকে ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়।তখন থেকেই মূলতঃ ইরানে চিনি তৈরি করা হয় এবং অভিজাত লোকেরা চিনি সহকারে তৈরি কুকিজ বা বিস্কুট খেতেন।
বিস্কুটের এমন অজস্র ইতিহাস রয়েছে যেগুলো নিয়ে পরে আবার কোনো একদিন চলে আসবো।
🌼আজকে করেছি মৌসুমি আপুর রেসিপিতে সাথে আমার কিছুটা ইনোভেশন এ্যাড করে বাটার কুকিজ।
ধন্যবাদ আপু।