04/05/2024
🥭🥭🥭🥭🥭🥭ফলশাহী🍒🍒🍒🍒🍒🍒
ফলশাহী রাজশাহী শহরের ফলজ ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে দীর্ঘ একযুগেরও বেশী সময় ধরে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।২০১১ সালে ফলশাহীর প্রথম পথচলা শুরু হয়।ছাত্র অবস্থায় ২বন্ধুু মিলে অতি সামান্য কিছু মূলধন নিয়ে এই উদ্যোগটির সূচনা।শুরুতে আমাদের ব্যাবসার পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না।কিন্তুু পরিস্থিতি ছিলো এমন কিছু একটা করতেই হবে।নিম্নমধ্যেবিত্ত পরিবার ছিলো আমাদের হেসে খেলে শৈশব কৈশোর অতিবাহিত হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। যৌবনের সেরা সময় উপভোগ করছিলাম হাসি আনন্দে দিন পার হয়ে যাচ্ছিল।গোল বাধল উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বন্ধুদের দেখাদেখি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ ভর্তি হয়ে।ফাস্ট সেমিস্টারের এক মাস না যেতেই বুঝে গেলাম আমি ভূল করে ফেলেছি অনেক বড়।আব্বু অবশ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কথা বলেছিলেন বারবার,কিন্তুু আমি নাছোড়বান্দা জেদ ও জোর করে পরিবার কে বাধ্য করি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য। আল্টিমেটাম দিলাম পড়াশোনা করলে বন্ধুদের সাথে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ব।নিরুপায় হয়ে আব্বুও পরিচিত কয়েকজনের কাছে টাকা ধার করে বাধ্যতামূলক ভর্তি করে দিলেন।জীবনের এই পর্যন্ত জীবনের যুদ্ধের সাথে দেখা হয়নি আমার,কিন্তুু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি আব্বা কে কঠিন যুদ্ধে ফেলে দিয়েছি আমি চরম নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে।ধীরে ধীরে পরিবারের কষ্টগুলো অনুভব করতে লাগলাম সাথে উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা যাচ্ছিলো না কোনভাবেই। নিজের কাছে নিজে ছোট হয়ে যাচ্ছিলাম প্রতিনিয়ত। কি করা যায় কি করে এই পরিস্থিতিতে সার্ভাইব করা যায় এই এক দুশ্চিন্তা ঘিরে রাখে সর্বক্ষণ।কিছু একটা করবার বাধ্যবাধকতা হাজির হয় সামনে।কথায় আছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কিছুই আর করার থাকেনা।
পড়াশুনা তেমন একটা করেনি মনি নামের সমবয়সী খুব কাছের একজন বন্ধু ছিলো আমার। বন্ধু মনির পরিবারের অবস্থা অনেকটা খারাপ ছিলো, প্রায় বুদ্ধি হবার পর থেকেই মনি বাজারের দোকানে কাজ করে পরিবার কে সাপোর্ট করত।মনের দুঃখ বন্ধুর সাথে শেয়ার করলে চমৎকার একটা আইডিয়া দেয় বন্ধু। আমাদের বাড়ি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভদ্রামোড়ে।হঠাৎ করেই আমাদের মোড়ে রাজশাহী শহড়ের আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার টি চলে আসে।সময়টা এমন মৌসুমি ফল লিচু বাজারে উঠেছে কেবল,বন্ধু মনি বলল কাউন্টার এর সামনে প্রচুর লিচু বিক্রি করা যাবে,তুমি শিক্ষিত আছো শুধু হিসেব করে টাকা নিবে পরিশ্রম সব আমি করব।কি বলবো বন্ধুর প্রস্তাবে কোন কথা ছাড়াই রাজি হয়ে গেলাম।এলাকার গ্যারেজ থেকে একটা ভ্যান ভারা নিলাম আর ছোট একটা ডালি কিনে আনলাম।পরেরদিন প্রায় সূর্য উঠার আগেই লিচুর বাগানে হাজির। বাজারদর অনুযায়ী লিচু পাইকারি সংগ্রহ করে বিক্রি করতে বসে পরলাম।সত্যিকার একটা অনুভূতি শেয়ার করি রাস্তায় ভ্যানে লিচু নিয়ে দাড়ানোর পর মনে হলো আমার সাথে বড় বেমানান লাগছে ব্যাপারটা,মাথা নিচু করে ভ্যানের পাশে দাড়িয়ে আছি লজ্জায় চোখ তুলে তাকাতে পারছি না।কিন্তুু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এখন এই দেয়াল ভেঙে ফেলা ছাড়া কোন উপায় নেই।নিজেকে অনেক মোটিভেট করতে থাকলাম।প্রথম একজন গ্রাহক আসলেন লিচু পছন্দ হয়েছে তার কিন্তুু লিচু যেনো গোনায় কম না দেয় এই শর্তে লিচু কিনতে চাইলেন।আমি পরিচয় দিলাম আঙ্কেল আমি একজন স্টুডেন্ট বিবিএ পড়াশোনা করি।আমাদের ব্যাবসার প্রথমদিন আজকে আর আপনি প্রথম গ্রাহক আপনাকে বেছে বেছে সেরা লিচুগুলো দিব সাথে খুব সাবধানে গুনে আপনাকে লিচু একটাও কম দিব না ইনশাআল্লাহ।আঙ্কেল খুব সারপ্রাইজ হলেন আমার কথা শুনে,বললেন বাবা তুমি একদিন অনেক বড় হবে বলে দিলাম।আর তুমি এতো মিষ্টিভাষায় বিনয়ের সাথে কথা বলো যেটা তোমার ব্যবসাকে খুব তাড়াতাড়ি বড় করে তুলবে ইনশাআল্লাহ। ভেবেছিলাম একশ লিচু নিব কিন্তুু তোমার কথা শুনে এখন দুইশো লিচু নিব শুরু করো গোনা।দুই বন্ধু মিলে দুইশ লিচু বেছে বেছে গুনে রেডী করলাম আঙ্কেল টাকাটা দিতে দিতে বললেন ব্যাবসা যখন শুরু করেছো লেগে থেকো ছেড়ে দিওনা।ব্যবসা বেশ কঠিন কিন্তুু তোমার কথা শুনে মনে হলো তুমি একদিন অনেক বড় ব্যবসায়ী হবে।এই যে শুরু হলো আর থামেনি এমনি কি কখনো পেছন ফিরে তাকাতেও হয়নি।আমি শুরু থেকে ব্যাবসায় শাখার স্টুডেন্ট হওয়ায় ব্যবসার বিষয়গুলোর সাথে আমার বেশ বোঝাপড়া ছিলো এখন শুধু প্রাকটিক্যাল প্রয়োগের পালা।বাস কাউন্টার তো একটু পরপরই লিচু বিক্রি হতে থাকল।প্রায় প্রত্যেক গ্রাহক আমার ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন,বলছেন আপনি অনেক সুন্দর করে কথা বলতে পারেন। আমি গ্রাহকদের এমন উৎসাহ পেয়ে সাথে নিজের এতো প্রশংসা পেয়ে প্রচুর আনন্দ ও অনুপ্রেরণা পেলাম।কাজের গতি বেড়ে গেল আরোও দুপুর ৩ টা বাজতে বাজতে সব লিচু শেষ হয়ে গেলো।ব্যাবসায়ী জীবনের প্রথমদিনটা কোন দিন ভূলতে পারব না বোধহয় হিসেব করে দেখলাম ১৪০০ টাকা প্রফিট হয়েছে। আমরা দুই বন্ধু আনন্দ আত্মহারা হয়ে গেলাম।নিমিষেই আমার রাজ্যের দুশ্চিন্তা হারিয়ে গেলো শুরু হলো নতুন স্বপ্নের দুনিয়া।জীবনের এই পর্যায়ে মনে হচ্ছে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াটা বড্ড বেশি দরকার তা নাহলে দেয়াল ভেঙে স্বপ্নের দুনিয়ায় প্রবেশের পথ পাওয়া হতোনা। আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় বর্তমানে ফলশাহী পরিবারের সদস্য সংখ্যা ফিক্সড ৫ জন সারা বছরের জন্য।এছাড়া লিচু ও আমের মৌসুমে প্রায় আরো ১০ জন মতো সহো যোদ্ধা নিয়ে মোট ১৫ জন স্বপ্নবাজ তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে "ফলশাহী" দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে।স্বপ্নের আসলে কোন সীমানা হয় না দিনের পর দিন স্বপ্ন বড় হতেই থাকে যতই স্বপ্ন ছুঁতে এগুতে থাকি স্বপ্নও দূরে যেতে থাকে। স্বপ্নের শেষ বলে কিছু নেই স্বপ্নের শুধু উৎপত্তি হয়।আজ এই পর্যন্তই অন্যদিন বাকী গল্প বলব অজস্র গল্প গেথে আছে বুকের মাঝে,জীবন থেকে নেয়া গল্পগুলো হয়তো নতুন অনেক ঠেকে মানুষ কে শক্তি যোগাবে প্রতিবন্ধকতার দেয়াল ভেঙে দিতে।শুরু থেকে এই পর্যন্ত মানুষের যে পরিমাণ দোয়া ও ভালোবাসা পেয়েছি তা আমার মতো অধমের জন্য অনেক অনেক বেশী। আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য হয়েছি।তিলে তিলে সময়ের ব্যবধানে আমার উদ্যোগ ফলশাহী ফল সেক্টর এ একটা ব্রান্ড প্রতিষ্ঠান এর রুপ নিয়েছে আপনাদের হাত ধরে।শুধু লিচু একটি মাত্র ফল দিয়ে শুরু করে বর্তমানে দেশী-বিদেশী সবধরনের ফলের নির্ভরতা এখন ফলশাহী। অশেষ কৃতজ্ঞতা ও অসীম ভালোবাসা জানবেন। প্রিয় ফলশাহীর শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীগন একটা বিশেষ অনুরোধ রইল আপনাদের তরে এই অধম আমাকে আমৃত্যু আপনাদের সেবার সেবক করে রাখবেন আশাকরি।সবসময়ের মতই আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে আমাদের সামনের পথ চলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই কামনায় করি।ধন্যবাদ ফলশাহীকে আপনাদের দোয়ায় রাখবেন।
২০২৪ মৌসুমে ফলশাহীর লিচু ও আম মিলে মোট ২৩ টি প্রিমিয়াম বাগানে আনুমানিক ১০ লক্ষ লিচু ও ৩০০০ হাজার মণ আম উৎপাদন এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।মহান আল্লাহর অশেষ কৃপা ও আপনাদের দোয়ায় আমরা যেন বরাবরের মতোই একটি সফল মৌসুম শেষ করতে পারি।ধন্যবাদ 💚💚💚