11/09/2026
গাজীপুরে শিশু আহনাফ নিহানের বাম হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ক্ষতিপূরণ কেন নয় জানতে হাই কোর্টের রুল।
গাজীপুরে বাসার বারান্দার পাশে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার থেকে ‘আর্ক ফ্ল্যাশে’ দগ্ধ হয়ে এক শিশুর বাম হাত কনুইয়ের নিচ থেকে কেটে ফেলার ঘটনায় তাকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
(০৯/০৯/২০২৬) বুধবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুলসহ আদেশ দেয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাওয়ার ডিভিশনের সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) চেয়ারম্যান, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) চেয়ারম্যান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ভবন মালিক মো. সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মোছা. মনিরা সুলতানা এবং কেয়ারটেকার মো. ইলিয়াসকে বিবাদী করা হয়েছে।
রীটকারী আইনজীবী Adv Habibur Rahman এর পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন ব্যারিস্টার ইমাম হোসেন। তিনি bdnews24.com কে জানান, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল কি না এবং বাড়ির পাশে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি, লাইন ও ট্রান্সফরমার স্থাপনের ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করবে কমিটি।
ঘটনার মূল কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ছিল কি না, তাও তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুর শহরের উত্তর ছায়াবীথি এলাকার একটি ৫ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন খাইরুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই বিকালে বাসার বারান্দার কাছে থাকা পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার থেকে বিকট শব্দ হয়। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আহনাফ নিহান বারান্দার গ্রিল ধরে থাকলে ট্রান্সফরমার থেকে বৈদ্যুতিক ‘আর্ক ফ্ল্যাশ’ শিশুটির শরীরে লেগে আগুন ধরে যায়।
প্রথমে তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। রিটে বলা হয়, শিশুটির শরীরের ২২ শতাংশ দগ্ধ হয় এবং ২৮ জুলাই অস্ত্রোপচারের সময় সংক্রমণ ও জটিলতার কারণে তার বাম হাত কনুইয়ের নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়।
রিটে উল্লেখ করা হয়, এ বছরের মার্চে ওই ভবনের বারান্দার একেবারে পাশে নতুন একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং মে মাসের শুরুতে সেখানে তিনটি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়। নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানিয়ে বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও কেয়ারটেকারকে নিরাপত্তা দেয়াল বা কাচের ঘের নির্মাণের অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পরিবারকে ঋণ করতে হয়েছে উল্লেখ করে তার ভবিষ্যৎ চিকিৎসা, কৃত্রিম হাত সংযোজন, পুনর্বাসন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ উপার্জনক্ষমতার ওপর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে রিটে চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।
এছাড়া তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যয়ের জন্য বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ২৫ লাখ এবং গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা—মোট ৫০ লাখ টাকা তিন দিনের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
(Head of the Litigation) Lexfinita-লেক্সফিনিটা এর আইনজীবী হাবিবুর রহমান গত ৯ অগাস্ট সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিস দিয়ে ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিটটি দায়ের করা হয়।