05/10/2025
শিক্ষক দিবসে আমার শিক্ষাজীবনের ছোট্ট স্মরণিকা।
শিক্ষা জীবনের শুরু হয় আর. টি. এম প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে। শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণির মধ্যে নিয়মিত মক্তবে কায়দা, নামাজ শিক্ষা। পাশাপাশি ক্লাস থ্রি পর্যন্ত হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) আদর্শ মাদ্রাসায় অধ্যায়ন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী শেষে ভর্তি পরীক্ষা দিই রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে, বেশ ভালো স্থানে উত্তীর্ণ হলেও ভর্তি হওয়া হয় নি। শেষমেষ ভর্তি হই আল-আমীন ইসলামিয়া ফাজিল মডেল মাদ্রাসায়। সেখানে পড়া অবস্থায় ক্লাস ৭ থেকে আলিম (এইচএসসি) সময়টায় জীবনের স্বর্গসময় কাটাই চট্টগ্রাম জামিয়া দারুল মা'আরিফ আল ইসলামিয়া'য়। তালিবুল ইলম হিসেবে দরস পাই বড় বড় সব আলেমে দ্বীন এর। অতঃপর করোনা সহ নানা পরিপার্শ্বিক কারণে ঘরে ফেরা। ভর্তি হই রাঙামাটি সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগে। মূলত এই যে একটা বড়সড় রিভার্স, আমার কাছে অভূতপূর্ব, অভাবনীয়। অনার্সের প্রায় শেষ মুহূর্তে এখন আমি, আশা করি পড়াশোনা শেষ করতে পারবো এই প্রতিষ্ঠানেই। ইংরেজির মত একটা বিষয় তিন জন অভিজ্ঞ, ব্যক্তিত্ব ও জ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষকের কাছে অধ্যায়ন, আমাকে শুধু একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে নি, বরং মুক্তচিন্তা, বিশ্বের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নন্দিত-ক্ষণজন্মা সেরা সেরা সাহিত্যিকদের সাহিত্য-স্বাদ আস্বাদন করিয়েছে। এই রিভার্সটায় আমি বুঝতে পারি আমার শিক্ষা জীবনে ইলমে দ্বীন ও প্রিমিয়াম লিটারেচারের একটা ব্লেন্ড আমি পেয়েছি। যার ফলে আমার চোখে আমি একটা জিনিস দুইভাবে দেখতে পাই, দুই ভাবে উত্তর খুঁজতে পারি।
শিক্ষাজীবনে অর্জন সমৃদ্ধশালী নয় মোটেও, যেটা আমার একান্ত ব্যর্থতা। তবে শিক্ষাজীবনে আমি সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী ব্যক্তিবর্গদের শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ, ভিন্ন জ্ঞান, ভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমার দৃষ্টিশক্তিকে একটু হলেও বৃহৎ পর্যায়ে উদ্ভাসিত করেছে।
আজ শিক্ষক দিবসে আমি একক শিক্ষক হিসেবে কারো নাম লিখতে পারিনি, বরং পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সম্মানিত শিক্ষককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। ইতিমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন প্রাইমারীর ইলিয়াস স্যার, আমার প্রথম ইংরেজি শিক্ষক। কামাল স্যার, যিনি আল-আমীন মাদ্রাসায় আমার বাংলা শিক্ষক। মাওলানা আবু তাহের সাহেব, দারুল মা'আরিফে আউয়াল সানুভীয়্যাতে তিনি সুওয়ারুন মিন হায়াতিস সাহাবা পড়াতেন। তাহের হুজুর আমার দেখা বিশ্বের সবচেয়ে নমনীয় ব্যক্তিত্ব, সবচেয়ে নমনীয়, এমন কখনো কেউ হয় না, হতে পারেন না। ইলিয়াস স্যারের পার্সন চেনার উপায় আর কামাল স্যারের কারক-বিভক্তি ঠোঁটস্থ করানোর দিনগুলো কখনো ভুলবার নয়। আল্লাহ তাঁদের জান্নাত বাসী করুন। আমার সকল শিক্ষকদের প্রতি আমার নত মস্তক শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ উনাদের সকলকে দীর্ঘজীবী করুন। বড় কিছু হই বা দিন মজুর হই, আমার শিক্ষকগণ বিশ্বের সেরা শিক্ষক ছিলেন, আমি কখনো আফসোসের ঢেকুর তুলতে পারবো না। তাদের ইন্ডিভিজুয়াল ফিলোসোফি, পয়েন্ট অফ ভিউ আমি অক্ষরে অক্ষরে স্মরণ করি। যদি কখনো আমার লেখা হাজার মানুষ পড়ে, এমন পর্যায়ে যাই, আমি আমার প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রত্যেক শিক্ষকের স্মরণে আলাদা করে লিখবো ইনশাআল্লাহ।