08/07/2026
এক বছর আগে মেকং নদীর তীরে বসে লেখাটি লিখেছিলাম। আপাতদৃষ্টিতে দীর্ঘ এই লেখাটি মূলত সমমতাদর্শিক বন্ধু ও সহযাত্রীদের জন্য। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েনি, এমন বিশ্বাস থেকেই আবার প্রকাশ করছি।
আমি ২০১৪ সাল থেকে টানা দশ বছর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করেছি। বইপত্র ও নথিপত্রের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছি। অন্তত হাজারখানেক গ্রামে গিয়েছি। এই দীর্ঘ যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল মূলত মুক্তিযুদ্ধকে বোঝা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এবং পরবর্তী সময়ে যা ঘটেছে, সেগুলোও বোঝার চেষ্টা করেছি। সেই বোঝাপড়ার প্রধান ভরসা ছিল বইপত্র। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের পাশাপাশি রুশ একাডেমিকদেরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই পড়েছি।
নীরদ সি. চৌধুরীর মতো নিজের জাতিগোষ্ঠী নিয়ে আত্মঘৃণায় ভুগি না। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো আত্মসমালোচনা ও আত্মসংশোধনের কথা তো বলতেই পারি।
প্রায় এক যুগের পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়নের পর আমার উপলব্ধি হলো, পূর্ববঙ্গের মানুষ, অর্থাৎ আমরা, বৃহৎকে ক্ষুদ্র করে দেখি। বৃহৎ সংকটের গভীর অভিঘাত যেমন বুঝতে ব্যর্থ হই, তেমনি নিজেদের বৃহৎ অর্জনকেও ভগ্নাংশে পরিণত করি।
আমরা প্রায়ই বলি, "বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস।" কিন্তু কিসের হাজার বছর? বৈদিক যুগেরও আগে, যখন হরপ্পা সভ্যতা বিকশিত হচ্ছিল, তখনও এই অঞ্চলে জনবসতি ছিল। সেই মানুষরা বর্তমানের প্রচলিত কোনো ধর্মের অনুসারী ছিলেন না। হরপ্পা সভ্যতার পতনের সময় মানুষ নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাদেরই একটি অংশ এই জলাজঙ্গলময় ভূখণ্ডে এসে বসতি গড়েছিল। তাদের হাত ধরেই এখানে বয়নশিল্পের সূচনা। শীতলক্ষ্যার তীরে কাপড় বোনা আজকের ঘটনা নয়। ঢাকার অদূরে আবিষ্কৃত ওয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্ননিদর্শনের বয়সই অন্তত তিন হাজার বছর।
এমন এক প্রাচীন জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিঃসন্দেহে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। আধুনিক বিশ্বে এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই তারা নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন ও নির্মাণ করেছে। পৃথিবীর বহু প্রাচীন জাতি আজও নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। অথচ এই রাষ্ট্র বাঙালিকে কেউ কোনো চুক্তির মাধ্যমে দেয়নি; সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তা অর্জন করতে হয়েছে।
কিন্তু রাষ্ট্র অর্জনের পর আমরা তার বিশালত্ব, বৈচিত্র্য ও ঐতিহাসিক অভিঘাত ক্রমেই ভুলে গেছি। ফলে কেউ মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে, কেউ দাবি করে বাঙালি মুসলমানরাই একা যুদ্ধ করেছে, হিন্দুরা শুধু পালিয়ে গিয়েছিল। আবার বাঙালি হিন্দুদের একাংশ মনে করে আত্মত্যাগ কেবল তারাই করেছে, মুসলমানরা ছিল নিরাপদ। অথচ আমরা যদি বৃহৎ পরিসরে দেখতে শিখতাম, তাহলে বুঝতে পারতাম মুক্তিযুদ্ধ শুধু হিন্দু-মুসলমানের নয়, এমনকি কেবল ভাষাভিত্তিক বাঙালিরও নয়। এই ভূখণ্ডের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও তাদের সামর্থ্য ও অবস্থান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাদের ছাড়া পূর্ণ হয় না।
একই কথা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকেও ঘিরে প্রযোজ্য। এটি কেবল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে অন্য কারও ক্ষমতায় আরোহনের ঘটনা নয়। এটি শুধু বাংলাদেশের স্থানীয় ঘটনাও নয়, এমনকি উপমহাদেশের আঞ্চলিক ঘটনাও নয়। আমার বিবেচনায়, এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনার অংশ।
গত এক বছরে অনেকেই উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন যে এটি ছিল একটি 'কালার রেভল্যুশন', অর্থাৎ বিপ্লবের নামে এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা। এই ঘটনার অন্যতম কুশীলব ফরহাদ মজহারও আজ বলছেন, এটি ছিল মার্কিন স্বার্থে সংঘটিত একটি রেজিম চেঞ্জ।
কালার রেভল্যুশন নিয়ে রুশ একাডেমিকদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ রয়েছে। প্রায় ম্যানুয়ালের মতো করে সেখানে এর বৈশিষ্ট্য, ধাপ ও কৌশল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে, সেই বর্ণনার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহের বহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যারা তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন, তারা কেন এসব কৌশলগত গবেষণা ও বিশ্লেষণের প্রতি গুরুত্ব দিলেন না, সেটিই আমার কাছে বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।
আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় দুর্বলতা ছিল তাদের স্থূল দৃষ্টিভঙ্গি। মুক্তিযুদ্ধকে যেমন তারা প্রায়ই সরলীকৃত ও স্থূলভাবে উপস্থাপন করেছে, তেমনি ভূরাজনীতিকেও। তাদের প্রধান ভরসা ছিল ভারত। ধারণা ছিল, যেহেতু ভারত এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন, তাই ভারতকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বড় পদক্ষেপ নেবে না। এই সরল বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত শুধু আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির কারণই হয়নি, বরং বাংলাদেশকে এমন এক অসম লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যার জন্য রাষ্ট্র প্রস্তুত ছিল না।
এ যেন বাইবেলে বর্ণিত ডেভিড ও গলিয়াথের যুদ্ধ। বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র, প্রায় দরিদ্র রাষ্ট্রকে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। সেটি অর্গানিকভাবেই শুরু হয়েছে এবং আশ্চর্যজনক দ্রুততায় শুরু হয়েছে। যারা এই লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, তারা যেন সব সময় এর বৃহত্তর পরিসরটি মনে রাখেন। এই লড়াই মূলত সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে কম কিছু নয়।
সাম্প্রদায়িকতাসহ যেসব বিভাজন আমাদের সমাজকে দুর্বল করে, সেগুলো আমার দৃষ্টিতে সাম্রাজ্যবাদেরই অনুসঙ্গ। গলিয়াথকে পরাজিত করা গেলে তার ক্ষুদ্র অনুসারীরাও স্বাভাবিকভাবেই শক্তি হারাবে।
নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই সংগ্রাম মূলত একটি ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম। বিশ্বক্ষমতার ভারকেন্দ্র যখন ইউনিপোলার ব্যবস্থা থেকে মাল্টিপোলার ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে, তখন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী লড়াই আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
কারণ প্রতিপক্ষ শুধু মার্কিন-ইউরোপীয় গ্লোবালিস্ট শক্তি নয়। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় বিকশিত ইসলামিস্ট রাজনীতিও। 'ইসলামী উম্মাহ' ধারণার সীমাবদ্ধতা আমরা টের পেয়েছিলাম ১৯৭১ সালে। আজ তা টের পাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে ইরানও।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্র ভারতে বিকশিত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিও বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক হুমকি না হলেও এটি নিঃসন্দেহে একটি আঞ্চলিক হুমকি। আরএসএসের 'অখণ্ড ভারত' প্রকল্প বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এর আগে ভারতে যতদিন ধর্মনিরপেক্ষ সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী ছিল, ততদিন ভারতের প্রতি এই ধরনের আশঙ্কা ছিল না।
ফিলিস্তিন, ইরানসহ সমসাময়িক বিশ্বের প্রধান সংঘাতগুলোর দিকে তাকালে আমার কাছে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। মার্কিন-ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ, জায়োনিজম, ইসলামিস্ট রাজনীতি এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি, মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, অনেক ক্ষেত্রে একই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ভেতরে অবস্থান করছে। আমার পর্যবেক্ষণে, বিশ্বক্ষমতার ভারকেন্দ্রকে ইউনিপোলার অবস্থায় ধরে রাখার প্রশ্নে তাদের স্বার্থ বহু ক্ষেত্রেই একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়।
বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণার উৎস হতে পারেন আমাদের রাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিব। তাঁর সময়ে তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়েই বাংলাদেশ অর্জন করেছিলেন। তাঁর প্রতি হেনরি কিসিঞ্জারের ব্যক্তিগত বিরূপ মনোভাব সর্বজনবিদিত। পঞ্চাশ বছর আগে নিহত শেখ মুজিবের প্রেরণা আজও কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, প্রতিপক্ষও সে সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন। তাই শুধু তাঁর ভাস্কর্য নয়, তাঁর অতি সাধারণ বাড়িটিও গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন তারা অনুভব করে।
তবে এই সময়ে তাঁর নামে শুধু স্লোগান তোলাই যথেষ্ট নয়। ক্ষমতার ঘিয়ে ভাজা সময়ে তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অনেকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এই সংকটকালে প্রয়োজন প্রকৃত চর্চা, গভীর পাঠ এবং ঐতিহাসিক মূল্যায়ন।
শুধু শেখ মুজিব নন, তাঁর সমকালীন জাতীয়তাবাদী নেতাদেরও নতুন করে জানতে হবে। জানতে হবে নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর হিমালয়সম প্রতিরোধের ইতিহাস। জানতে হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম। জানতে হবে আলজেরিয়ার আহমেদ বেন বেল্লা, ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত এবং অবশ্যই মিশরের গামাল আবদেল নাসেরকে। নাসেরের মতো অসাম্প্রদায়িক, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী নেতা বিংশ শতাব্দীতে খুব বেশি আসেননি।
এই লড়াইয়ে যদি কেউ আপনার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, "তুমি মুসলমান, হিন্দুই তোমার শত্রু"; অথবা বলে, "তুমি হিন্দু, তোমার সমস্ত দুর্দশার জন্য মুসলমানই দায়ী"; কিংবা বলে, "তুমি বাঙালি, অন্যরা সবাই উপজাতি"; অথবা "তুমি সাঁওতাল, গারো কিংবা অন্য কোনো জাতিগোষ্ঠীর মানুষ, বাঙালিই তোমার শত্রু", তাহলে জেনে রাখবেন, সে যতই প্রগতিশীলতার মুখোশ পরুক না কেন, সে আপনার বন্ধু নয়।
বন্ধুবেশী এই স্যাবোটিয়ারদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। মুসলমান মানেই মুসলমানের বন্ধু নয়। হিন্দু মানেই হিন্দুর বন্ধু নয়। আপনার আবেগকে পুঁজি করে তারাই শেষ পর্যন্ত আপনাকে বাজারে বিক্রি করে দেবে।
আপনি যদি বাংলার মানুষ হন, তাহলে এই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম আপনারও নিজস্ব সংগ্রাম। সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার অধিকার আপনার। পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়ার অধিকারও আপনার। আপনার মতামত ছাড়া করিডোর দেওয়া কিংবা বন্দর লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়, সেই দাবি তোলার অধিকারও আপনার।
রক্তস্নাত জুলাইয়ের মতো আবারও প্রতারিত না হতে চাইলে জানা এবং বোঝা, দুটোই জরুরি। গত বছরের জুলাই-আগস্টে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সবার জন্যই আমি শোকার্ত। তখনও ছিলাম, এখনও আছি। আমার বিশ্বাস, তারা গণপ্রতারণার শিকার হয়েছেন। কালার রেভল্যুশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো, দৃশ্যমান ঘটনার আড়ালে অন্য একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্মিত হতে থাকে। শুরুতে সেটি বোঝা যায় না। যখন বোঝা যায়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।
পুলিশ, ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী, যে পক্ষেরই মানুষ নিহত হয়ে থাকুন না কেন, তারা সবাই এই সমাজেরই মানুষ ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর মতো বহিরাগত দখলদার ছিলেন না কেউ।
আর অতি অবশ্যই মানুষকে ঘৃণা করবেন না।
দেশের পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক, এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কখনোই খারাপ নয়। বরং অধিকাংশ মানুষ আপনার-আমার মতোই পরিস্থিতির শিকার। ক্ষোভ, হতাশা কিংবা বঞ্চনা থেকে যখনই আপনি দেশকে কিংবা দেশের মানুষকে ঘৃণা করতে শুরু করবেন, তখনই পরিবর্তনের সংগ্রাম থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবেন।
মানুষকে ভালো না বেসে মানুষের সমাজকে বদলানো যায় না।