Md. Rubayed Hasan

Md. Rubayed Hasan মো. রুবায়েদ হাসান
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী।টুকটাক গবেষণা করি সোলার প্রযুক্তি ও ম্যাটেরিয়াল নিয়ে।স্বপ্ন:সমৃদ্ধ বাংলাদেশ 🇧🇩
Md.

Rubayed Hasan
stduent of Begum Rokeya University. Researcher. Dream: Prosperous Bangladesh 🇧🇩

07/08/2026
03/08/2026

ডেইটা ছাড়াই ইন্টারনেট অন করে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ ও বাংলা কিউআরে লেনদেনের সুবিধা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করতেছে সেন্ট্রাল ব্যাংক ও বিটিআরসি।

এই সেবা রান হয়ে গেলে আপনার সিমে ইন্টারনেট কেনা না থাকলে কিংবা ওয়াইফাই কানেকশন না থাকলেও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে আপনি লেনদেনের কাজ সারতে পারবেন।

দেশে ক্যাশলেস লেনদেনকে আরো সহজ, সাশ্রয়ী ও সবার জন্য সহজলভ্য করে তুলতেই এমন উদ্যোগ। প্লাস সেইফটি এনশিউর করা। লেনদেন যতবেশি ক্যাশলেশ হবে তত চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির ঝুঁকি কমতে থাকবে।

সেন্ট্রাল ব্যাংক আরেকটি কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটা হলো- ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে মার্চেন্ট চার্জ তথা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট-এমডিআর চার্জ তুলে নেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করতেছে।

এরজন্য ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক, যাতে করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের চার্জ সেন্ট্রাল ব্যাংক বহন করতে পারে।

১ সপ্তাহ আগে পেপ্যাল ও পেওনিয়ারের মতো আন্তর্জাতিক লেনদেন ও অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা হয়েছে।

যেখানে সাধারণ ব্যক্তির পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সাররা বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনের সুবিধা পাবেন।

মাত্র ২দিন আগে ফ্রিল্যান্সারদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা বাস্তবায়নে ঘোষণা এসেছে। ইউএসডি ২০ হাজার পর্যন্ত Form-C ছাড়া ক্রেডিট করা যাবে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা রপ্তানিতে Exp Form প্রযোজ্য হবে না আর; কেবল ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমেই অর্থ গ্রহণ ও হিসাবায়ন করা যাবে। আইসিটি খাতে আয়ের বিপরীতে ৫০পারসেন্ট পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

মাত্র কয়দিন আগে আরোকটি দুর্দান্ত ইনিশিয়েটিভ নেওয়া হয়েছে, দেশের ইকোনমিতে গতি ফেরাতে সেন্ট্রাল ব্যাংক থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে; যেখানে ২০ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে দেশে বন্ধ হয়ে যায় সেবামূলক ও শিল্প কারখানাগুলো চালু করতে।

মোস্তাকুর রহমান সাহেব সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর হওয়ার পর আর্লি দু'টি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এক হলো- ট্রাস্ট বিল্ডিং অর্থাৎ ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি করা।

দুই হলো- সুদের হার কমিয়ে নিয়ে আসা, প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করে আমাদের অর্থনীতিকে দ্রুত রান করা।

এই ভদ্রলোককে এপোয়েন্ট করার সময়ে বিএনপি সবচেয়ে বেশি সমালোচনার শিকার হয়েছিল, অন্য কোন নিয়োগেও এতো বেশি সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়নি সরকারকে।

আমি নিজেও তার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলাম। বাট এখন মনে হইতেছে এ ভদ্রলোকই সবচে বেশি এক্টিভিলি স্বচ্ছতার মধ্যদিয়ে পরিশ্রম করে যাইতেছেন দেশের ইকোনমিকে রিভাইব করার জন্য। ঠাণ্ডা মাথায় একের পর ইনিশিয়েটিভ হাতে নিচ্ছেন। আওয়াজ ছাড়াই কাজ করে যাইতেছেন।

চোখে ভাসছে, যেদিন ফার্স্ট উনি সেন্ট্রাল ব্যাংকে ঢুকেছেন গর্ভনর হয়ে, গাড়ি থেকে নামতেই আমাদের সাংবাদিকেরা ঘিরে ধরে ইন্টার্ভিউ নিতে। উনি ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে শুধু একটা বাক্যেই বলেছিলেন, ‘আগে কাজ করি, পরে কথা!’

- ফরিদ উদ্দিন রনি

02/08/2026

**গবেষণায় ভুল তথ্য ও অসংগতি: কেন প্রত্যাহার হচ্ছে হাজার হাজার পেপার?**

বিজ্ঞানের ভিত্তি সত্যের ওপর। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—অনেক গবেষণাপত্রে ভুল তথ্য, কাল্পনিক ডেটা ও অসংগতি থাকছে। ফলে আন্তর্জাতিক জার্নালগুলো সেগুলো প্রত্যাহার করছে।

# # # প্রধান সমস্যাগুলো:

1. **কাল্পনিক/ভুয়া তথ্য**
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা না করেই ফলাফল তৈরি।

2. **তথ্যের অসংগতি**
একই গবেষণায় আলাদা ফলাফল বা পুরনো ডেটা নতুন করে ব্যবহার।

3. **ডেটা ম্যানিপুলেশন**
সংখ্যা পরিবর্তন, গ্রাফ-ইমেজ বিকৃত করা।

4. **একই তথ্য বারবার ব্যবহার**
নতুন পরীক্ষা ছাড়াই পুরনো ডেটা পুনর্ব্যবহার।

5. **অপ্রাসঙ্গিক ও ভুল সাইটেশন**
সম্পর্কহীন পেপার উদ্ধৃত করে সাইটেশন বাড়ানো।

6. **এআই-জেনারেটেড ভুয়া কনটেন্ট**
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অর্থহীন/ভুল তথ্যভর্তি পেপার।

# # # দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান (সাম্প্রতিক বছরগুলো):

- **বাংলাদেশ**: ২০১৯–২০২৬ জুন পর্যন্ত অন্তত **৩২৫টি** পেপার প্রত্যাহার।
- **চীন**: বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। মোট প্রত্যাহারের প্রায় **৫০%+** চীনা গবেষকদের সঙ্গে যুক্ত। পেপার মিলের বেশিরভাগ পেপার এখান থেকে।
- **ভারত**: দ্বিতীয় স্থানে। ২০২৫ সালে একাই প্রায় **৮৮৭টি** প্রত্যাহার। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের শীর্ষ তালিকায়।
- **সৌদি আরব**: মোট সংখ্যায় কম হলেও **হার** অনেক বেশি (প্রতি হাজার পেপারে ৪–৫টির মতো)।
- **পাকিস্তান ও ইথিওপিয়া**: প্রকাশনার তুলনায় হার খুব উচ্চ।
- **মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র**: মোট সংখ্যায় হাজার হাজার থাকলেও হার অনেক কম।

বিশ্বজুড়ে ২০২৩ সালে রেকর্ড **১০,০০০-এর বেশি** পেপার প্রত্যাহার হয়েছিল।

---

**তথ্যসূত্র:**
1. প্রথম আলো (১ আগস্ট ২০২৬) – বাংলাদেশে ৩২৫টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
2. Retraction Watch Database
3. India Today (জুন ২০২৬) – ভারতে ২০২৫ সালের প্রত্যাহার পরিসংখ্যান
4. Nature ও বিভিন্ন বিশ্লেষণ (২০২৫–২০২৬) – চীন, সৌদি আরব ও বৈশ্বিক হার সংক্রান্ত তথ্য
5. Achal Agrawal / India Research Watch (Zenodo, ২০২৫) – দেশভিত্তিক প্রত্যাহার হার বিশ্লেষণ

25/07/2026

A potential murder

মানসিক যন্ত্রণা vs শিক্ষা
25/07/2026

মানসিক যন্ত্রণা vs শিক্ষা

সাম্প্রতিক যেকোন বিদ্রোহ বা অভ্যুত্থানে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার খুব স্বাভাবিক। অশ্লীল শব্দ যেখানে অশ্লীল অর্থ না দিয়ে বিদ...
25/07/2026

সাম্প্রতিক যেকোন বিদ্রোহ বা অভ্যুত্থানে অশ্লীল শব্দের ব্যবহার খুব স্বাভাবিক। অশ্লীল শব্দ যেখানে অশ্লীল অর্থ না দিয়ে বিদ্রোহ বা প্রতিবাদ হিসেবে হাজির হয় তখন তা অবশ্যই গ্রহনযোগ্য। সাধুজনেরা অবশ্য তা নিতে চান না।

25/07/2026

বিনিয়োগ সেক্টরে বিপুল সংস্কারের পথ ধরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে এই বছরেই। যেটা ইন্টেরিম আমলে টেনেটুনে ২ বিলিয়ন ডলারও ক্রস করেনাই।

সম্প্রতি,

> আবু ধাবির ইকুইলাইন ফাইন্যান্স এবং আরব আমিরাতের ফামিনাস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ টোটাল ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশকে।

> তারেক রহমানের বেইজিং সফরে টোটাল ৯.২১ বিলিয়ন ডলার + ইপিজেডে নতুন ০.৫ বিলিয়ন ডলার, টোটাল প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে চীন।

> আমেরিকার গ্যাস জায়ান্ট শেভরন বাংলাদেশে প্রায় নতুন ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে।

> মীরসরাই ইকোনমিক জোনে প্রায় ৬৩ টি বিদেশী ও দেশীয় কোম্পানি নতুন প্রায় ১.৪৯ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ অনুমোদন করেছে।

> দেশীয় প্রাইভেট সেক্টর থেকে প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরী হয়েছে।

অর্থাৎ টোটাল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার এর কাছাকাছি বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে এই ১ বছরেই।

এবার আসি সেক্টর ভিত্তিক অ্যানালাইসিসে।

★ প্রথমত আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন এর প্রধান বাধা গ্যাস সমস্যা। অলরেডি বিদ্যমান কারখানাগুলোই হিমশিম খাচ্ছে এই গ্যাস সমস্যা সামাল দিতে।

এই সেক্টরকে স্ট্যাবিলাইজ করতে মার্কিন গ্যাস জায়ান্ট শেভরন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

★ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি, ড্রোন, এআই সেক্টর এবং ডেটাসেন্টার তৈরীতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীন।

★ জুতা, চামড়া শিল্প, গার্মেন্টস সেক্টরেও বিনিয়োগ করবে চীন। যেমন চীনের হুয়ারুন টেক্সটাইলের ৩০ মিলিয়ন ডলার, জুতা ও ফুটওয়্যার অ্যাকসেসরিজ, কেমিক্যাল সেক্টরে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীন।

★ দেশেই হ্যাই ভ্যালু এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এমআরআই ও সিটি স্ক্যান মেশিন তৈরী ও মেডিসিন সেক্টরের জেনেরিক ও এপিআই তৈরীর জন্য প্রায় কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীন।

★ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এবং এনার্জি হাব তৈরী, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, সার ও বায়োগ্যাস উৎপাদন এবং বর্জ্য পানি শোধনসহ,

ক্লিন ঢাকা প্রকল্পের আওতায় ঢাকা শহরের জন্য ইলেকট্রিক বাস, শিপিং করপোরেশনের জন্য কার্গো জাহাজ, বাল্ক ক্যারিয়ার এবং বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব করেছে আরব আমিরাত।

★ ইলেকট্রিক কার ও থ্রি-হুইলার সংযোজন এর জন্য বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ, রানার, আকিজ, নাসির গ্রুপ এবং ওয়ালটন, প্রাণ আরএফএল এর ইলেকট্রিক স্কুটার এবং বাণিজ্যিক ইভি চার্জিং স্টেশন এর জন্য দেশীয় প্রাইভেট সেক্টর প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

★ ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাপারেলস ও টেক্সটাইল, আসবাবপত্র , ফুটওয়্যার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে মীরসরাই ইকোনমিক জোনে ৬৩ টি দেশি বিদেশি কোম্পানি প্রায় ১.৪৯ বিলিয়ন ডলার এর বিনিয়োগ করবে।

এবার আসি, এই বিনিয়োগ সফল হইলে কি পরিমাণ লাভবান হবে বাংলাদেশ।

> শিল্প ও অবকাঠামো খাতে প্রতি ১ ডলার নতুন বিনিয়োগের ফলে আনুমানিক ১.৫ থেকে ১.৮ ডলারের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা সৃষ্টি হয়।

ফলে এই ১৫ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদী জিডিপি ভ্যালু যোগ হবে প্রায় ২০.৫ থেকে ২৪.৭ বিলিয়ন ডলার।

> শুধুমাত্র বেপজার মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা অর্জন করলে বাৎসরিক রপ্তানি আয় আসবে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার।

> চীনা বিনিয়োগে তৈরিকৃত উচ্চমূল্যের ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর ও গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ থেকে বাৎসরিক আরও ২.৫ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব।

> ​মোট সম্ভাব্য নতুন বাৎসরিক রপ্তানি বাড়বে ৬.৫ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমান বাৎসরিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মোট রপ্তানি আয়ে আরও ১৩%-১৬% প্রবৃদ্ধি যোগ করবে।

> শেভরন ৫ TCF গ্যাস আবিষ্কার ও উত্তোলন করতে পারলে এলএনজি আমদানির বিকল্প তৈরি হবে, যা দেশীয় অর্থনীতির বাৎসরিক ১.৮ বিলিয়ন ডলার বাঁচাবে।

> ইলেকট্রিক গাড়ি ও বাসের প্রসারে জ্বালানি তেল আমদানি হ্রাস পাবে, যা থেকে প্রতি বছর অন্তত ০.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় বাঁচবে।

> মোট সম্ভাব্য বাৎসরিক সাশ্রয় হবে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার।

> ১০ বছরের কর অব্যাহতির সময়সীমা বাদে, বন্দর মাশুল, গ্যাস বিদ্যুৎ বিল, স্থানীয় কাস্টমস ডিউটি ও পরোক্ষ কর থেকে সরকার বাৎসরিক ০.৮ থেকে ১.১ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ট্যাক্স রাজস্ব আয় করবে।

> মিরসরাইয়ে নতুন ৫ লাখ লোক এবং ইপিজেডের নতুন প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে সৃষ্ট প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ নতুন কর্মসংস্থান থেকে বাৎসরিক ১.২০ থেকে ১.৫০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ জাতীয় পে-রোল বা মজুরি আয় তৈরি হবে।

এই বিনিয়োগ সফল হলে বাংলাদেশ কেবল এককালীন ১৫ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি পাবে না।

বরং দেশের উৎপাদিকা শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১১ থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় + আমদানি সাশ্রয় অর্জিত হবে।

এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ যেমন ব্যাপক বুস্ট করবে সেই সাথে ব্যালেন্স অফ পেমেন্টসের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

১ ট্রিলিয়ন জিডিপি ও তারেক রহমানের ভিশন, এইটা কতটা সফল হয় দেখার জন্য আমাদের ২০৩৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

- আহনাফ তাহমিদ অর্জন

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে কিছু জরুরি কথাতারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৬আজ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২...
15/07/2026

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে কিছু জরুরি কথা

তারিখ: ১৫ জুলাই ২০২৬

আজ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর একাডেমিক ভবনে একটি DB (Distribution Board) বক্সে আগুন লেগে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। আমি নিজে এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। মুহূর্তের মধ্যে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। সৌভাগ্যবশত তা হয়নি।

আমার উদ্বেগের কারণ

১. DB বক্সে অগ্নিকাণ্ড

🔹 নতুন বৈদ্যুতিক লাইনের DB বক্সে আগুন লেগেছে।
🔹 এটি বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
🔹 প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্ত।

২. ভবনের ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়া

🔹 ২ নম্বর একাডেমিক ভবনে এখনও নির্মাণকাজ চলছে।
🔹 বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে।
🔹 শুধু ৪র্থ তলায় নয়, নিচের তলাগুলোতেও একই সমস্যা রয়েছে।
🔹 পানি ও বৈদ্যুতিক সংযোগ একসঙ্গে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

৩. বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

🔹 কয়েক বছর আগে নতুন করে ওয়্যারিং করা হয়েছিল।
🔹 তারপরও নতুন DB বক্স পুড়ে গেছে।
🔹 প্রশ্ন হলো:
🔸 লোড ক্যালকুলেশন কি সঠিকভাবে করা হয়েছিল?
🔸 মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল?
🔸 নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে?

৪. জরুরি নির্গমন (Emergency Exit) ব্যবস্থা

🔹 অধিকাংশ ভবনের এক্সিট ডোর সন্তোষজনক নয়।
🔹 কোথাও কোথাও সিঁড়ির জায়গা এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জরুরি সময়ে নিরাপদে বের হতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

৫. অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার

🔹 আবাসিক হলগুলোতে হিটার বা বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করে রান্না করা হয়।
🔹 শিক্ষকদের জন্য তলায় রান্নাঘর স্থাপন করা হয়েছে, যা অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড সৃষ্টি করতে পারে।
🔹 ভবনের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

৬. ক্রমবর্ধমান বৈদ্যুতিক লোড

🔹 নতুন নতুন এসি সংযোগ যুক্ত হচ্ছে।
🔹 কিন্তু সেই অনুযায়ী বৈদ্যুতিক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
🔹 অতিরিক্ত লোড শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৭. অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা
নিচের বিষয়গুলো কি বাস্তবে কার্যকর আছে?

🔹 ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম
🔹 কার্যকর ইমার্জেন্সি এক্সিট
🔹 ওয়াটার হাইড্র্যান্ট (Fire Hydrant) সিস্টেম
🔹 নিয়মিত ফায়ার ড্রিল (Fire Drill)

আমাদের দাবি

🔹 DB বক্সে আগুন লাগার ঘটনার নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্ত।
🔹 বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা (Electrical Safety Audit)।
🔹 ঝুঁকিপূর্ণ ওয়্যারিং ও DB বক্স পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার।
🔹 অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
🔹 জরুরি নির্গমন পথ সবসময় ব্যবহারযোগ্য রাখা।
🔹 ভবনের বৈদ্যুতিক লোড পুনর্মূল্যায়ন করা।

এর আগেও ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজকের ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা। আমরা চাই না কোনো প্রাণহানি বা বড় দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এখনই প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ।

নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসন, প্রকৌশলী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থী—সবার যৌথ দায়িত্ব। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

08/07/2026

এক বছর আগে মেকং নদীর তীরে বসে লেখাটি লিখেছিলাম। আপাতদৃষ্টিতে দীর্ঘ এই লেখাটি মূলত সমমতাদর্শিক বন্ধু ও সহযাত্রীদের জন্য। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এটি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েনি, এমন বিশ্বাস থেকেই আবার প্রকাশ করছি।

আমি ২০১৪ সাল থেকে টানা দশ বছর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কাজ করেছি। বইপত্র ও নথিপত্রের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছি। অন্তত হাজারখানেক গ্রামে গিয়েছি। এই দীর্ঘ যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল মূলত মুক্তিযুদ্ধকে বোঝা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এবং পরবর্তী সময়ে যা ঘটেছে, সেগুলোও বোঝার চেষ্টা করেছি। সেই বোঝাপড়ার প্রধান ভরসা ছিল বইপত্র। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের পাশাপাশি রুশ একাডেমিকদেরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই পড়েছি।

নীরদ সি. চৌধুরীর মতো নিজের জাতিগোষ্ঠী নিয়ে আত্মঘৃণায় ভুগি না। তবে বঙ্গবন্ধুর মতো আত্মসমালোচনা ও আত্মসংশোধনের কথা তো বলতেই পারি।

প্রায় এক যুগের পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়নের পর আমার উপলব্ধি হলো, পূর্ববঙ্গের মানুষ, অর্থাৎ আমরা, বৃহৎকে ক্ষুদ্র করে দেখি। বৃহৎ সংকটের গভীর অভিঘাত যেমন বুঝতে ব্যর্থ হই, তেমনি নিজেদের বৃহৎ অর্জনকেও ভগ্নাংশে পরিণত করি।

আমরা প্রায়ই বলি, "বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস।" কিন্তু কিসের হাজার বছর? বৈদিক যুগেরও আগে, যখন হরপ্পা সভ্যতা বিকশিত হচ্ছিল, তখনও এই অঞ্চলে জনবসতি ছিল। সেই মানুষরা বর্তমানের প্রচলিত কোনো ধর্মের অনুসারী ছিলেন না। হরপ্পা সভ্যতার পতনের সময় মানুষ নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাদেরই একটি অংশ এই জলাজঙ্গলময় ভূখণ্ডে এসে বসতি গড়েছিল। তাদের হাত ধরেই এখানে বয়নশিল্পের সূচনা। শীতলক্ষ্যার তীরে কাপড় বোনা আজকের ঘটনা নয়। ঢাকার অদূরে আবিষ্কৃত ওয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্ননিদর্শনের বয়সই অন্তত তিন হাজার বছর।

এমন এক প্রাচীন জনগোষ্ঠীর কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিঃসন্দেহে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। আধুনিক বিশ্বে এই যুদ্ধের মধ্য দিয়েই তারা নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন ও নির্মাণ করেছে। পৃথিবীর বহু প্রাচীন জাতি আজও নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। অথচ এই রাষ্ট্র বাঙালিকে কেউ কোনো চুক্তির মাধ্যমে দেয়নি; সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তা অর্জন করতে হয়েছে।

কিন্তু রাষ্ট্র অর্জনের পর আমরা তার বিশালত্ব, বৈচিত্র্য ও ঐতিহাসিক অভিঘাত ক্রমেই ভুলে গেছি। ফলে কেউ মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননা করে, কেউ দাবি করে বাঙালি মুসলমানরাই একা যুদ্ধ করেছে, হিন্দুরা শুধু পালিয়ে গিয়েছিল। আবার বাঙালি হিন্দুদের একাংশ মনে করে আত্মত্যাগ কেবল তারাই করেছে, মুসলমানরা ছিল নিরাপদ। অথচ আমরা যদি বৃহৎ পরিসরে দেখতে শিখতাম, তাহলে বুঝতে পারতাম মুক্তিযুদ্ধ শুধু হিন্দু-মুসলমানের নয়, এমনকি কেবল ভাষাভিত্তিক বাঙালিরও নয়। এই ভূখণ্ডের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও তাদের সামর্থ্য ও অবস্থান অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাদের ছাড়া পূর্ণ হয় না।

একই কথা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকেও ঘিরে প্রযোজ্য। এটি কেবল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে অন্য কারও ক্ষমতায় আরোহনের ঘটনা নয়। এটি শুধু বাংলাদেশের স্থানীয় ঘটনাও নয়, এমনকি উপমহাদেশের আঞ্চলিক ঘটনাও নয়। আমার বিবেচনায়, এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনার অংশ।

গত এক বছরে অনেকেই উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন যে এটি ছিল একটি 'কালার রেভল্যুশন', অর্থাৎ বিপ্লবের নামে এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা। এই ঘটনার অন্যতম কুশীলব ফরহাদ মজহারও আজ বলছেন, এটি ছিল মার্কিন স্বার্থে সংঘটিত একটি রেজিম চেঞ্জ।

কালার রেভল্যুশন নিয়ে রুশ একাডেমিকদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ রয়েছে। প্রায় ম্যানুয়ালের মতো করে সেখানে এর বৈশিষ্ট্য, ধাপ ও কৌশল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে, সেই বর্ণনার সঙ্গে বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহের বহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যারা তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন, তারা কেন এসব কৌশলগত গবেষণা ও বিশ্লেষণের প্রতি গুরুত্ব দিলেন না, সেটিই আমার কাছে বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন।

আওয়ামী লীগের অন্যতম বড় দুর্বলতা ছিল তাদের স্থূল দৃষ্টিভঙ্গি। মুক্তিযুদ্ধকে যেমন তারা প্রায়ই সরলীকৃত ও স্থূলভাবে উপস্থাপন করেছে, তেমনি ভূরাজনীতিকেও। তাদের প্রধান ভরসা ছিল ভারত। ধারণা ছিল, যেহেতু ভারত এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন, তাই ভারতকে পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বড় পদক্ষেপ নেবে না। এই সরল বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত শুধু আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির কারণই হয়নি, বরং বাংলাদেশকে এমন এক অসম লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে, যার জন্য রাষ্ট্র প্রস্তুত ছিল না।

এ যেন বাইবেলে বর্ণিত ডেভিড ও গলিয়াথের যুদ্ধ। বাংলাদেশের মতো একটি ক্ষুদ্র, প্রায় দরিদ্র রাষ্ট্রকে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তবে ইতিবাচক বিষয় হলো, প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। সেটি অর্গানিকভাবেই শুরু হয়েছে এবং আশ্চর্যজনক দ্রুততায় শুরু হয়েছে। যারা এই লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, তারা যেন সব সময় এর বৃহত্তর পরিসরটি মনে রাখেন। এই লড়াই মূলত সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে কম কিছু নয়।

সাম্প্রদায়িকতাসহ যেসব বিভাজন আমাদের সমাজকে দুর্বল করে, সেগুলো আমার দৃষ্টিতে সাম্রাজ্যবাদেরই অনুসঙ্গ। গলিয়াথকে পরাজিত করা গেলে তার ক্ষুদ্র অনুসারীরাও স্বাভাবিকভাবেই শক্তি হারাবে।

নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এই সংগ্রাম মূলত একটি ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম। বিশ্বক্ষমতার ভারকেন্দ্র যখন ইউনিপোলার ব্যবস্থা থেকে মাল্টিপোলার ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে, তখন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী লড়াই আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

কারণ প্রতিপক্ষ শুধু মার্কিন-ইউরোপীয় গ্লোবালিস্ট শক্তি নয়। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় বিকশিত ইসলামিস্ট রাজনীতিও। 'ইসলামী উম্মাহ' ধারণার সীমাবদ্ধতা আমরা টের পেয়েছিলাম ১৯৭১ সালে। আজ তা টের পাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে ইরানও।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী বৃহৎ রাষ্ট্র ভারতে বিকশিত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিও বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক হুমকি না হলেও এটি নিঃসন্দেহে একটি আঞ্চলিক হুমকি। আরএসএসের 'অখণ্ড ভারত' প্রকল্প বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এর আগে ভারতে যতদিন ধর্মনিরপেক্ষ সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী ছিল, ততদিন ভারতের প্রতি এই ধরনের আশঙ্কা ছিল না।

ফিলিস্তিন, ইরানসহ সমসাময়িক বিশ্বের প্রধান সংঘাতগুলোর দিকে তাকালে আমার কাছে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। মার্কিন-ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ, জায়োনিজম, ইসলামিস্ট রাজনীতি এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি, মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, অনেক ক্ষেত্রে একই ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ভেতরে অবস্থান করছে। আমার পর্যবেক্ষণে, বিশ্বক্ষমতার ভারকেন্দ্রকে ইউনিপোলার অবস্থায় ধরে রাখার প্রশ্নে তাদের স্বার্থ বহু ক্ষেত্রেই একে অপরের সঙ্গে মিলে যায়।

বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী সংগ্রামের অন্যতম প্রেরণার উৎস হতে পারেন আমাদের রাষ্ট্রের স্থপতি শেখ মুজিব। তাঁর সময়ে তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়েই বাংলাদেশ অর্জন করেছিলেন। তাঁর প্রতি হেনরি কিসিঞ্জারের ব্যক্তিগত বিরূপ মনোভাব সর্বজনবিদিত। পঞ্চাশ বছর আগে নিহত শেখ মুজিবের প্রেরণা আজও কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে, প্রতিপক্ষও সে সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন। তাই শুধু তাঁর ভাস্কর্য নয়, তাঁর অতি সাধারণ বাড়িটিও গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন তারা অনুভব করে।

তবে এই সময়ে তাঁর নামে শুধু স্লোগান তোলাই যথেষ্ট নয়। ক্ষমতার ঘিয়ে ভাজা সময়ে তাঁকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা অনেকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এই সংকটকালে প্রয়োজন প্রকৃত চর্চা, গভীর পাঠ এবং ঐতিহাসিক মূল্যায়ন।

শুধু শেখ মুজিব নন, তাঁর সমকালীন জাতীয়তাবাদী নেতাদেরও নতুন করে জানতে হবে। জানতে হবে নিক্সন-কিসিঞ্জার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর হিমালয়সম প্রতিরোধের ইতিহাস। জানতে হবে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম। জানতে হবে আলজেরিয়ার আহমেদ বেন বেল্লা, ফিলিস্তিনের ইয়াসির আরাফাত এবং অবশ্যই মিশরের গামাল আবদেল নাসেরকে। নাসেরের মতো অসাম্প্রদায়িক, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী নেতা বিংশ শতাব্দীতে খুব বেশি আসেননি।

এই লড়াইয়ে যদি কেউ আপনার কানের কাছে ফিসফিস করে বলে, "তুমি মুসলমান, হিন্দুই তোমার শত্রু"; অথবা বলে, "তুমি হিন্দু, তোমার সমস্ত দুর্দশার জন্য মুসলমানই দায়ী"; কিংবা বলে, "তুমি বাঙালি, অন্যরা সবাই উপজাতি"; অথবা "তুমি সাঁওতাল, গারো কিংবা অন্য কোনো জাতিগোষ্ঠীর মানুষ, বাঙালিই তোমার শত্রু", তাহলে জেনে রাখবেন, সে যতই প্রগতিশীলতার মুখোশ পরুক না কেন, সে আপনার বন্ধু নয়।

বন্ধুবেশী এই স্যাবোটিয়ারদের সম্পর্কে সতর্ক থাকুন। মুসলমান মানেই মুসলমানের বন্ধু নয়। হিন্দু মানেই হিন্দুর বন্ধু নয়। আপনার আবেগকে পুঁজি করে তারাই শেষ পর্যন্ত আপনাকে বাজারে বিক্রি করে দেবে।

আপনি যদি বাংলার মানুষ হন, তাহলে এই ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম আপনারও নিজস্ব সংগ্রাম। সেন্ট মার্টিনে যাওয়ার অধিকার আপনার। পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়ার অধিকারও আপনার। আপনার মতামত ছাড়া করিডোর দেওয়া কিংবা বন্দর লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়, সেই দাবি তোলার অধিকারও আপনার।

রক্তস্নাত জুলাইয়ের মতো আবারও প্রতারিত না হতে চাইলে জানা এবং বোঝা, দুটোই জরুরি। গত বছরের জুলাই-আগস্টে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সবার জন্যই আমি শোকার্ত। তখনও ছিলাম, এখনও আছি। আমার বিশ্বাস, তারা গণপ্রতারণার শিকার হয়েছেন। কালার রেভল্যুশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্যই হলো, দৃশ্যমান ঘটনার আড়ালে অন্য একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্মিত হতে থাকে। শুরুতে সেটি বোঝা যায় না। যখন বোঝা যায়, তখন অনেক দেরি হয়ে যায়।

পুলিশ, ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী, যে পক্ষেরই মানুষ নিহত হয়ে থাকুন না কেন, তারা সবাই এই সমাজেরই মানুষ ছিলেন। পাকিস্তানি বাহিনীর মতো বহিরাগত দখলদার ছিলেন না কেউ।

আর অতি অবশ্যই মানুষকে ঘৃণা করবেন না।

দেশের পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক, এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কখনোই খারাপ নয়। বরং অধিকাংশ মানুষ আপনার-আমার মতোই পরিস্থিতির শিকার। ক্ষোভ, হতাশা কিংবা বঞ্চনা থেকে যখনই আপনি দেশকে কিংবা দেশের মানুষকে ঘৃণা করতে শুরু করবেন, তখনই পরিবর্তনের সংগ্রাম থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবেন।

মানুষকে ভালো না বেসে মানুষের সমাজকে বদলানো যায় না।

Address

Rangpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Md. Rubayed Hasan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share