04/09/2021
হার্ডডিস্ক কি ?
হার্ড ডিক্স একটি Non-Valotile Electro Megnetic Data Storage Device.
সর্বপ্রথম ১৯৫৬ সালে আইবিএম হার্ডডিক্স উদ্ভাবন করে। আইবিএম হলো আমেরিকার একটি বিখ্যাত প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। যার পূর্ণরূপ হল “ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন’স কর্পোরেশন“। এরপর ১৯৬০ এর দশকে সর্বপ্রথম কম্পিউটারের তথ্য সংরক্ষণ মাধ্যম হিসেবে হার্ডডিক্স এর ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় ২০০ টিরও বেশী কোম্পানি হার্ডডিস্ক উৎপাদন ও বিপণনের সাথে জড়িত। এসবের মধ্যে সিগেট, তোশিবা, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ইত্যাদি অন্যতম।
তবে হার্ডডিক্স সবচেয়ে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয় কম্পিউটারে। এজন্য হার্ডডিস্ককে কম্পিউটারের স্মৃতি সংরক্ষণের জায়গা বলা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে কম্পিউটারে থাকা যাবতীয় তথ্য, ছবি, অডিও, ভিডিও, বিভিন্ন ফাইল, সফটওয়্যার ইত্যাদি নিরাপদ সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে। পরবর্তীতে প্রয়োজনে এসব সংরক্ষিত তথ্যগুলোকে পুনরুদ্ধার করা কিংবা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়।
তবে একটি কথা জেনে রাখা ভালো যে, কম্পিউটারে সাধারণত তথ্য সংরক্ষণের জন্য দুইটি জায়গা থাকে। এর একটি হলো হার্ডডিস্ক এবং অন্যটি র্যাম। হার্ডডিক্স হলো কম্পিউটারের স্থায়ী মেমোরি, এখানে আপনার রাখা সব ধরনের তথ্য দীর্ঘদিন পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। অন্যদিকে র্যাম হলো অস্থায়ী মেমোরি। র্যাম শুধুমাত্র কিছুক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে।
আকার-আকৃতিতে হার্ডডিস্ক হচ্ছে পাতলা গোলাকার ধাতব পাতের সমন্বয়ে গঠিত এক ধরনের ছোট ডিভাইস। তথ্য সংরক্ষণের জন্য হার্ডডিক্সে থাকা ধাতব পাত বা চাকতি গুলো চুম্বকীয় ক্ষমতা সম্পন্ন হয়ে থাকে। চৌম্বকীয় পদ্ধতিতে হার্ডডিস্ক তথ্য সংরক্ষণ করে থাকে এবং এ তথ্যগুলো রিড করা বা পড়ার জন্য একাধিক হেড ব্যবহার করা হয়।
হার্ডডিস্ক কত প্রকার
তবে প্রথম হার্ডডিক্স আবিষ্কারের পর থেকে এর উন্নয়নের জন্য গবেষকরা ক্রমাগত চেষ্টা চালাচ্ছেন। যার ফলস্বরূপ হার্ডডিক্সের বেশ কয়েকটি উন্নত ভার্সন উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে বাজারে সাধারণত চার ধরনের হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়। তথ্য ধারণ ক্ষমতা, বৈশিষ্ট্য, স্পিড ও আকৃতিতে এদের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। হার্ডডিস্ক গুলো হলো-
PATA (পাটা): PATA এর পূর্ণরুপ হলো Parallel Advanced Technology Attachment যা পৃথিবীতে আবিষ্কৃত সর্ব প্রথম হার্ডডিস্ক। এ হার্ডডিস্ক গুলো খুবই সাধারণ মানের হয়ে থাকে। এগুলোর ডাটা ট্রান্সফারের গতি সর্বোচ্চ ১৩৩ মেগাবাইট পার সেকেন্ড পর্যন্ত হয়ে থাকে। মানের দিক থেকে সবচেয়ে নিম্নমানের হার্ডডিস্ক এগুলো।
SATA (সাটা): SATA এর পূর্ণরুপ হলো Seria ATA যা বর্তমানে আমরা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকি। এই হার্ডডিস্ক গুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দামের দিক থেকে এগুলো অনেক সস্তা। এছাড়া এ হার্ড ড্রাইভ গুলো অনেক কম পাওয়ার ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে সবচেয়ে ব্যবহৃত হয় এসব SATA টাইপের হার্ডডিস্ক গুলো।
SCSI (এসসিএসআই): SCSI এর পূর্ণরুপ হলো Small Computer System Interface যা আমরা ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে ইন্টারনাল বা এক্সটারনাল এ দুই ধরনের মেমোরি হিসেবেই ব্যবহার করে থাকি। গতির দিক থেকে এগুলো অনেক ফাস্ট হয়। এছাড়া এক্সটার্নালি ব্যবহার করা যায় বলে কোন ডাটা সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এধরনের হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা হয়।
SSD (এসএসডি): SSD এর পূর্ণরুপ হলো Solid State Drives যা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি গতির হার্ডডিস্ক। অনেক ছোট হওয়ায় এবং কম পাওয়ার কনজিউম করার মতো ব্যবস্হা করে এগুলোকে তৈরি করা হয়েছে। স্থায়িত্বের ক্ষেত্রেও SSD সেরা। SATA হার্ডডিস্ক গুলোর চেয়ে SSD এর গতি কয়েকগুন বেশি হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে এসএসডি (SSD) অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
(SSD নিয়ে পরে আলোচনা করা হবে)