01/09/2026
প্রিয় ঢাবি,
তোমাকে পাওয়ার গল্পটা সবাই জানে—
কিন্তু তোমাকে পেতে গিয়ে আমি কী কী হারিয়েছি, সে গল্পটা কেউ জানে না।
তোমার জন্য কত নির্ঘুম রাত কেটেছে, কত স্বপ্নের সঙ্গে আপস করেছি—তার কোনো সাক্ষী নেই। শুধু জানি, তোমাকে পাওয়ার দিন মনে হয়েছিল, এবার বুঝি আমার পৃথিবীটা বড় হচ্ছে কিন্তু,,,,,,,,,
ভেবেছিলাম, তোমার বিশাল আকাশে এসে আমার ভেতরের লেখক আরও লিখবে, শিল্পী আরও আঁকবে, বিতার্কিক আরও তর্ক করবে, প্রতিযোগী আরও লড়বে। যে মাঠ আমাকে ডাকত, সেখানেও ফিরব।
ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে প্রসারিত করবে।
অথচ আজ পেছনে তাকিয়ে দেখি—
তোমার কাছে এসে আমি নিজেকেই সংকুচিত করেছি।
লেখালেখি থেমে গেছে, সিলেবাসের বাইরে ছবি আঁকা থেমে গেছে, ডিবেট থেমে গেছে, মাঠে যাওয়া থেমে গেছে। এমনকি একসময় যে প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করতে ভালোবাসতাম, আজ সেখানেও নাম দিতে ভয় লাগে।
সবচেয়ে বড় পরাজয়টা এখানেই—
আমি কখনোই হারতে ভয় পাইনি, সব সময় নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেছি কিন্তু তোমার কাছে এসে- আমি চেষ্টা করতেই- ভয় পেতে শিখেছি।
আজ আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়—
“আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।”
এটা গর্বের। অবশ্যই গর্বের।
এই ক্যাম্পাস থেকে কত গুণী মানুষ বেরিয়েছেন। তাঁদের একই প্রাঙ্গণের একজন জুনিয়র হতে পারাও সৌভাগ্য।
কিন্তু আমার আরও কিছু পরিচয় হওয়ার কথা ছিল।
হয়তো লেখক, হয়তো শিল্পী, হয়তো বিতার্কিক,
হয়তো এমন কেউ- যাকে শুধু ‘ঢাবিয়ান’ বলে পরিচয় করিয়ে দিতে হতো না।
কখনো কখনো তাই মনে হয়—
তোমাকে পাওয়ার পর আমি অনেক কিছু পেয়েছি, শুধু নিজেকেই পাইনি।
হয়তো সব দোষ তোমার নয়।
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার দায় আমারও ছিল।
তবু অভিমানটা তোমার ওপরই হয়।
কারণ তোমার কাছে আসার আগে যে মানুষটা ছিলাম,
তার সঙ্গেই আজ আমার সবচেয়ে বেশি দেখা হয় না।
তাই একদিন তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার সময় আমার কোনো অভিযোগ থাকবে না।
শুধু একটা হিসাব থাকবে—
তুমি আমাকে ‘ঢাবিয়ান’ বানিয়েছো,
আর আমি তোমার আঙিনায় আমার ‘আমি’-টাকে হারিয়েছি।
এবার শুধু সেটাকেই ফিরে পেতে চাই।
ইতি—
একজন অভিমানী শিক্ষার্থী
রবিউল ইসলাম হৃদয়
২০২১-২০২২ সেশন, সিরামিক বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বিঃদ্রঃ #ডাক__হরকরা এই টেরাকোটা শিল্পকর্মটি আমি অনার্স প্রথম বর্ষে করেছিলাম