06/07/2026
"২:৫৫"
দুপুরের প্রখর রোদ। চারপাশে শুধু বাদামী বালু আর উত্তপ্ত বাতাস। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এই পথ দিয়ে বহু বছর কেউ হাঁটেনি।
বালুর মধ্যে অর্ধেক গেঁথে আছে একটি পুরোনো হাতঘড়ি। কালচে-খয়েরি চামড়ার বেল্টে সময়ের ছাপ স্পষ্ট। ঘড়ির কাঁচ ঘোলাটে হয়ে গেছে, তবুও অস্পষ্টভাবে বোঝা যায়—সময় ২টা ৫৫ মিনিট। সেকেন্ডের কাঁটা ঠিক ৮-এর ঘর ছুঁয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে।
কিছুটা দূরে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে। কালো শার্ট, কালো প্যান্ট। এত দূরে যে মুখ চেনা যায় না। সে ঘড়িটির দিকেই তাকিয়ে আছে, কিন্তু এগিয়ে আসছে না।
লোকটির নাম সাঈদ।
দশ বছর আগে এই পথেই সে তার বাবার সঙ্গে শেষবার হাঁটছিল। বাবা বলেছিলেন,
"জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যেখানে পাঁচ মিনিটের সিদ্ধান্ত পুরো জীবন বদলে দেয়।"
সেদিন বিকেল ৩টায় তাদের শহর ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু আরিফ জেদের বশে পাঁচ মিনিট দেরি করেছিল। সেই পাঁচ মিনিটেই ঘটে যায় একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। বাবা আর ফিরে আসেননি।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারীরা বাবার হাতঘড়িটি খুঁজে পায়নি।
দশ বছর পর ব্যবসার কাজে মরুভূমির মতো এই নির্জন অঞ্চলে এসে আরিফ হঠাৎ বালুর মধ্যে সেই ঘড়িটিই দেখতে পেল। কাঁচে আঁচড়, বেল্টের পুরোনো দাগ—সবকিছুই যেন স্মৃতির সঙ্গে মিলে যায়।
সে ঘড়িটি হাতে তুলে নিল।
আশ্চর্যের বিষয়, এত বছর পরও ঘড়িটি থেমে আছে ঠিক ২টা ৫৫ মিনিটে।
সাঈদ ঘড়ি মেরামত করতে চাইল না।
কারণ সে বুঝেছিল, ঘড়ি নষ্ট হয়নি—থেমে আছে তার নিজের ভেতরের একটি সময়।
সে আবার ঘড়িটিকে বালুর ওপর রেখে দিল। এবার আর অতীতকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটল না। ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেল।
দূর থেকে শুধু একজন মানুষের ছোট হয়ে যাওয়া অবয়ব দেখা যাচ্ছিল।
আর বালুর ওপর পড়ে থাকা ঘড়িটি যেন নীরবে বলে যাচ্ছিল—
"সময় কখনও থেমে থাকে না। থেমে থাকে শুধু মানুষ।"