26/11/2024
ঢাকা শহরের যানবাহনের গড় গতি হাঁটার গতির চেয়ে বাড়াতে প্রথমেই ধীরগতির যানবাহনকে বন্ধ করে বেশি গতির যানবাহনকে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় অনুমোদন দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের মতো জায়গায়ও সীমিত আকারে টুকটুক চলে যেগুলোর সুনির্দিষ্ট ডিজাইন ও কাঠামো রয়েছে। বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কোনো নিবন্ধন প্রক্রিয়া না থাকায় সঠিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রটোকল না মেনে যেমন খুশি তেমন ভাবে অনেক প্রকার অটোরিকশা রাস্তায় চলাচল করছে।
পায়ে চালিত রিকশা অমানবিক এবং শহরের দ্রুতগতির পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রিকশার কম এক্সিলারেশন এবং ধীরগতির কারণে এটি ট্রাফিক জ্যামে বড় ভূমিকা রাখে। আর সাধারণ প্যাডেলচালিত রিকশায় মোটর ও ব্যাটারি সংযোজন করে তৈরি করা যে রেট্রোফিটেড রিকশা দেখা যায়, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কারণ :
❌ এসব রিকশা ইনহেরেন্টলি মোটরের গতির জন্য ডিজাইন করা হয়নি ফলে ভারসাম্যের বিষয়টি ব্যাটারির অতিরিক্ত ওজনের জন্য বিঘ্নিত হয়, যা তীব্র বাঁকে বা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
❌ এসব রিকশায় প্যাডেলচালিত ব্রেকিং সিস্টেমই ব্যবহৃত হয়, যা মোটরের গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা অনেক বেশি।
অন্যদিকে মোটরচালিত ইজিবাইক, যা একটি স্বতন্ত্রভাবে ডিজাইন করা ব্যাটারিচালিত যানবাহন, তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও কার্যকর। ইজিবাইক তুলনামূলকভাবে দ্রুত চলে এবং প্যাডেলচালিত রিকশার তুলনায় বেশি যাত্রী ধারণ করতে সক্ষম। এলাকাভিত্তিক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে, চালকদের সড়কের আইন মানার প্রশিক্ষণ দিয়ে এগুলোর নিবন্ধন দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে প্যাডেল চালিত রিকশার চাহিদা কমে যাবে এবং ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
✅ ইজিবাইক নকশাগতভাবে মোটরের গতি ও ওজনকে সমন্বয় করে তৈরি, যা এর মেকানিক্যাল ব্যালেন্স বজায় রাখে
✅ ইজিবাইকে যাত্রী ধারণক্ষমতা বেশি এবং তুলনামূলক আরামদায়ক। এটি বিশেষত অলিগলি ও অপ্রধান সড়কের জন্য উপযোগী ও ভাড়ায়ও সাশ্রয়ী
❌ তবে ইজিবাইক হাইওয়ে বা প্রধান সড়কে চলার উপযোগী নয়। শুধুমাত্র অলিগলি বা সংক্ষিপ্ত দূরত্বে চলাচলের জন্য অনুমোদন দেওয়া উচিত
কারিগরি দিক মাথায় রেখে সমাধানকল্প:
❌ প্যাডেলচালিত রিকশায় ব্যাটারি বা মোটর সংযোজন করা নিষিদ্ধ করতে হবে, কারণ এগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্ঘটনার কারণ। প্যাডেলচালিত রিক্সা চালকদের সড়কের আইন কানুন নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে অটোরিকশার ট্রানজিশন করা যায়
✅ এলাকাভিত্তিক সংখ্যা নির্ধারণ, নিবন্ধন ও চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ইজিবাইক চালু রাখা যেতে পারে। প্রতিটি এলাকার জন্য রং ও লাইসেন্স প্লেট নির্ধারণ করে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে
🚧 অলিগলিতে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দিলে প্রতিটি রাস্তার মুখে রিকশা স্ট্যান্ড তৈরি হবে সেক্ষেত্রে পার্কিং এলাকাগুলো আড়াআড়িভাবে নির্ধারণ করতে হবে
🚦 ইজিবাইকের নিবন্ধনের আগে ফিটনেস টেস্ট এবং সুনির্দিষ্ট ডিজাইন মানদণ্ড পরীক্ষা করতে হবে। ব্রেক, টায়ার, হেডলাইট, টার্ন ইন্ডিকেটর, এবং স্ট্রাকচারাল সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে
⚡ অবৈধ বিদ্যুৎ লাইন সনাক্ত করার জন্য স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং প্রশাসনকে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ শিল্প বা বাণিজ্যিক মিটার অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে
🚎 ১০-১২ সিটের ইলেকট্রিক বাগি কার একসাথে বেশি যাত্রী পরিবহনের জন্য একটি চমৎকার সমাধান হতে পারে, বিশেষত শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তায় যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে। বাগি কারের সাশ্রয়ী ভাড়া, দ্রুতগতি ও সাচ্ছন্দের কারণে প্যাডেল রিক্সার চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।