25/05/2026
শ্যামনগরে উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে চর দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব! প্রতিবাদ করায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জাইকার ইজারাদারের মিথ্যা মামলার নাট্যশালা
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) | ২৫ মে, ২০২৬
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে জাইকার অর্থায়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের আড়ালে চলছে নজিরবিহীন ভূমিদস্যুতা, পরিবেশ ধ্বংস এবং সাধারণ মানুষের জমি দখলের মহোৎসব। আর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সফল চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম এবং তার পুত্রসহ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বানোয়াট চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছে ইজারাদার পক্ষ।
গত ২৪ মে আর-রাদ কর্পোরেশনের আইন কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে শ্যামনগর থানায় এই এজাহার দায়ের করেন। তবে সরেজমিনে অনুসন্ধান, আইনি যুক্তি এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই মামলাটি মূলত ইজারাদারের নিজস্ব অনিয়ম ও উচ্ছেদ তৎপরতা আড়াল করার একটি নিকৃষ্টতম ব্লু-প্রিন্ট।
মামলার প্রধান বিবাদী বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য ও তার দাবিগুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন।
ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মোঃ নজরুল ইসলামের জবানবন্দি ও বাস্তব সত্য:
"আমি হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ। ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার ইউনিয়নের নিরীহ মানুষের জমি ও সরকারি সম্পত্তি গ্রাস করতে ইজারাদার পক্ষ যে চক্রান্ত শুরু করেছে, আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নিচে আইনি যুক্তি ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের আলোকে এই মামলার মিথ্যাচার ও বাস্তব সত্য আমি তুলে ধরছি:
১. ‘অ্যালিবাই’ বা ঘটনাস্থলে আমার অনুপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, ২৩ মে, ২০২৬ তারিখ দুপুর ১:০০ ঘটিকায় পূর্ব দুর্গাবাটি সরকারি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ প্রকল্পের সাইটে আমি নাকি উপস্থিত থেকে মারপিট ও লুটপাটের হুকুম দিয়েছি। অথচ প্রকৃত সত্য হলো, উক্ত তারিখে এবং সময়ে আমি বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক ‘বার্ষিক উন্মুক্ত বাজেট’ অনুষ্ঠানে সশরীরে সভাপতিত্ব করছিলাম। সকাল ৮:০০ টা থেকে বিকেল ৪:০০ টা পর্যন্ত চলমান এই জনাকীর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা এবং সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, যার অসংখ্য স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং কার্যবিবরণী সংরক্ষিত রয়েছে। দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি একই সময়ে দুটি ভিন্ন স্থানে উপস্থিত থাকতে পারেন না। অতএব, এজাহারে উল্লেখিত সময়ে ঘটনাস্থলে আমার উপস্থিতির দাবিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও আইনি ভিত্তিশূন্য।
২. ঘটনার পেছনে আসল রহস্য: জাইকার ইজারাদারের স্বার্থ ও ভূমিদস্যুতা
মামলার মূল হোতা তথা প্রকল্পের কথিত জাইকার ইজারাদার সবুজ খান (যার পক্ষে আর-রাদ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা মামলা করেছেন) জাইকার অর্থায়নে বেড়িবাঁধের কাজ করতে এসে মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের চর দখলের খেলায় মেতে উঠেছেন:
চিংড়ি মহালের অবৈধ দখল: কাজের মাঠ পরিদর্শনের নামে জাইকার ইজারাদার সবুজ খান "মন্ত্রণালয় অনুমোদিত একটি বৈধ চিংড়ি মহাল" কোনরূপ পূর্ব আলোচনা বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ক্ষমতার দাপটে বালু ভরাট করে জোরপূর্বক দখল করে নেন। স্বয়ং বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, সরকারের রাজস্ব আহরণকারী জমি এভাবে দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ও উচ্ছেদ তৎপরতা: বাঁধ নির্মাণের আড়ালে জাইকার ইজারাদার ওই অঞ্চলের হাজার হাজার গাছ কেটে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছেন। শুধু তাই নয়, আকাশলীনার সামনে প্রায় ১৫০-২০০ বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে বসবাসকারী ৭ জন ভূমিহীন ও বাস্তুহারা পরিবারকে উচ্ছেদ করার নোটিশ দিয়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। এমনকি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র ‘শ্মশান ঘাট’ পর্যন্ত তিনি দখল করে নিয়েছেন।
গণমানুষের পানির পথ বন্ধ: প্রায় ২০০০ বিঘা জমিতে মৎস্য চাষের একমাত্র পানির পথটি বন্ধ করে দিয়ে তিনি পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জনজীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছেন।
৩. বৈধ ক্ষতিপূরণের দাবি বনাম ‘চাঁদাবাজি’র সস্তা ট্যাগ
ভুক্তভোগী পক্ষ যখন নিজেদের জমি ও চিংড়ি মহালের ক্ষতিপূরণের জন্য আইনানুগভাবে বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয় বরাবর আবেদন করেন (যা বর্তমানে এসি-ল্যান্ড, শ্যামনগর অফিসে তদন্তাধীন), এবং যখন ঠিকাদারের কাজের স্থবিরতার বিরুদ্ধে গত ০৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেন—তখনই জাইকার ইজারাদার পক্ষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। জনগণের পক্ষে আমি ও স্থানীয় মানুষ সোচ্চার হওয়ায় এবং বৈধ আইনি দাবি উত্থাপন করায়, আমাদের কণ্ঠরোধ করতে ও বৈধ ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে এই ‘চাঁদাবাজি’র সস্তা ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. ‘অজ্ঞাতনামা’ ২০/২৫ জনের রহস্য এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা
দীর্ঘদিন ধরে জাইকার ইজারাদারের এই প্রোপাগান্ডা ও অনিয়মের খবর পেয়ে ঘটনার দিন (২৩ মে) প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানের জন্য দেশের প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন পেশাদার গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকের একটি দল ওই এলাকায় সরেজমিনে তদন্তে যান। এখন প্রশ্ন জাগে, এজাহারে যে ২০/২৫ জন ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামির কথা বলা হয়েছে, তা কি আসলে ওই সত্যসন্ধানী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে? এটি মূলত স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সত্য প্রকাশের কণ্ঠরোধ করার একটি অপকৌশল মাত্র।
৫. আইনি অসংগতি ও অতিরঞ্জিত এজাহার
এজাহারে দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬ ধারার অবতারণা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি ঘড়ি ও ৩,২০০ টাকা ছিনতাইয়ের মতো কাল্পনিক চুরির গল্প সাজানো হয়েছে মামলাটিকে ভারী করার জন্য। প্রকৃতপক্ষে, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সবসময় জনগণের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। প্রশাসনকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে হাজির করার ব্যবস্থা করায় এবং জাইকার ইজারাদারের অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা রজু করা হয়েছে।
আমার দাবি সমূহ:
অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার: সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসামূলক এই কাল্পনিক ও বানোয়াট মামলা থেকে অবিলম্বে আমার ও আমার পুত্রসহ সকল নির্দোষ ব্যক্তির নাম প্রত্যাহার করতে হবে।
নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত: তদন্তকারী পুলিশ প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ—কোনো প্রকার প্রভাবশালী মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে, ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটের নথিপত্র, স্থিরচিত্র এবং জাইকার ইজারাদারের পূর্ববর্তী ভূমিদস্যুতার রেকর্ড খতিয়ে দেখে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
ভূমিদস্যুতা ও পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ করা: বাঁধ নির্মাণের নামে আকাশলীনার সম্মুখের ১৫০-২০০ বিঘা জমি দখল, ৭ জন ভূমিহীনকে উচ্ছেদ, শ্মশান ঘাট দখল এবং হাজার হাজার গাছ কর্তনকারী জাইকার ইজারাদার সবুজ খানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতকরণ: মন্ত্রণালয় অনুমোদিত চিংড়ি মহাল ও এলাকার সাধারণ জনগণের যে ক্ষতি করা হয়েছে, বিজ্ঞ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে তার সঠিক তদন্ত ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।"
বিনীত,
হাজী মোঃ নজরুল ইসলাম
চেয়ারম্যান,
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।
#শ্যামনগর #সাতক্ষীরা #বুড়িগোয়ালিনী #জাইকা_প্রকল্পের_নামে_লুটপাট #পরিবেশ_ধ্বংস #গাছ_কাটা_বন্ধ_করুন #ভূমিদস্যুতার_বিরুদ্ধে_লড়ুন #মিথ্যা_মামলা_প্রত্যাহার_চাই #জনপ্রতিনিধির_পাশে_জনগণ #চেয়ারম্যান_নজরুল_ইসলাম #বাজেট_অনুষ্ঠানের_অ্যালিবাই #সাংবাদিকতার_কণ্ঠরোধ_চলবে_না #ভূমিহীনদের_উচ্ছেদ_বন্ধ_করো #শ্মশান_ঘাট_রক্ষা_করুন #চিংড়ি_মহাল_দখল #প্রশাসনের_সুষ্ঠু_তদন্ত_চাই #সত্যের_জয়_অনিবার্য #শ্যামনগরের_জনগণ_সোচ্চার