29/09/2025
🐐 ছাগলের রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিষেধক ব্যবস্থা
অধিবেশন - ৭
১। কৃমি প্রতিরোধ
৩ মাস বয়স থেকে → প্রতি ৪ মাস অন্তর কৃমিনাশক (ফিতা, গোল ও পাতা কৃমি আলাদা করে, ১০ দিন বিরতি দিয়ে)।
৬ মাস বয়স থেকে → ৪ মাস অন্তর পাতা কৃমির ঔষধ।
১০ মাস বয়স থেকে → ৪ মাস অন্তর কলিজা কৃমির ঔষধ।
১–২ মাস বয়সে → ককসিডিওসিস হলে ঔষধ দিতে হবে।
সব ছাগলকে বছরে ৩ বার → (জ্যৈষ্ঠ, আশ্বিন ও ফাল্গুনে) কৃমিনাশক প্রয়োগ।
২। টিকাদান কর্মসূচি (টেবিল–৪ অনুযায়ী)
কনটাজিয়াস একথাইমা (Con. Ecthyma) → ৩য় দিনে ১ম ডোজ, ১০–১৪ দিনে ২য় ডোজ।
পিপিআর → ৩ মাস বয়সে শুরু, বছরে ১ বার।
গোটপক্স → ৬ মাস বয়স থেকে, বছরে ১ বার।
এন্টারোটক্সিমিয়া → ৪–৬ সপ্তাহ বয়সে ১ম ডোজ, পরে বছরে ১ বার।
ক্ষুরারোগ → ৩ মাস বয়স থেকে, বছরে ২ বার (৬ মাস পর পর)।
তড়কা → ৩ মাস বয়স থেকে, বছরে ১ বার।
৩। প্রধান রোগ ও প্রতিকার
পিপিআর → উচ্চ জ্বর (১০৪–১০৭°), নাক–মুখ–চোখ দিয়ে তরল, শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানা।
চিকিৎসা: স্যালাইন, সহায়ক চিকিৎসা, ভ্যাকসিন প্রতিরোধে কার্যকর (৫ মাস বয়সে, ৩ বছর কার্যকর)।
নিউমোনিয়া → ঠান্ডা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নাক দিয়ে শ্লেষ্মা, কাশি।
প্রতিকার: শুষ্ক–বাতাস চলাচল উপযোগী ঘর, পশু চিকিৎসকের পরামর্শ।
কৃমি রোগ → দুর্বলতা, ডায়রিয়া, রক্তশূন্যতা।
প্রতিকার: নিয়মিত কৃমিনাশক প্রয়োগ।
৪। জীব-নিরাপত্তা
নতুন ছাগল আনার পর ১৫ দিন আলাদা রেখে পর্যবেক্ষণ।
অসুস্থ ছাগলকে আলাদা রাখা ও চিকিৎসা করা।
বছরে ৫–৬ বার ০.৫% ম্যালাথিয়ন দ্রবণে চুবানো → চর্মরোগ প্রতিরোধে।
প্রজননশীল ছাগলকে বছরে ৪ বার ভিটামিন A, D, E ইনজেকশন।
৫। প্রজনন ব্যবস্থাপনা
পাঁঠা ৭–৮ মাসে (১২–১৩ কেজি) হলে প্রজননে ব্যবহারযোগ্য।
গরম হওয়ার ১২–১৮ ঘণ্টা পর পাল দেওয়া উত্তম।
গর্ভকাল: ১৪৫–১৫২ দিন।
আন্তঃপ্রজনন এড়ানো জরুরি।
৬। বাজারজাতকরণ ও লাভ
১২–১৫ মাসে খাসীর ওজন হয় ২০–২২ কেজি → বিক্রয়যোগ্য।
অসুস্থ ছাগল বিক্রি করা যাবে না।
গড় হিসাবে ১টি ছাগল থেকে প্রথম বছরে নিট লাভ প্রায় ৩০৫২ টাকা + একটি ছাগী খামারে থেকে যায়।
পরবর্তী বছরগুলোতে লাভ প্রায় ৬৫৫২ টাকা।
👉 এভাবে নিয়ম মেনে কৃমি ও রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা করলে খামার লাভজনক ও টেকসই হবে।
সমাপ্ত
#খামারসাফল্য