04/11/2020
ফ্রি লাইন চালানোর চাহিদাটা এসেছে ডিশ(ক্যাবল টিভি) লাইন থেকে। একসময় ডিশ ব্যবসায়ী মানেই ছিলো এলাকার কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি অথবা মহল্লার ক্ষমতাশীল বড় ভাই। সেই বড় ভাইর কাছ থেকে একটা লাইন ফ্রি চালানো মানে, গ্রহীতাও নিজেকে একরকমের ভাই মনে করতেন। যদিও সে বিল না দিলেও ডিশ কোম্পানির আহামরি তেমন কোন ক্ষতি হয়না, কারণ ডিশের কোন ব্যান্ডউইথ কস্ট নেই। এলাকা ভিত্তিত মাসিক ফিড হিসেবে একটা ফিক্সড টাকা আপস্ট্রীম কে দিতে হয়।
কিন্তু লোকজন তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে ইন্টারনেট কে ডিশ মনে করে। যেখানে প্রতিটা ইউজারের পিছনে ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রাতিষ্ঠানের মাসিক অনেক টাকা খরচ হয়। এখানে প্রশ্ন আসে, টাকা খরচ করে একটা সংযোগ কিভাবে কোম্পানী ফ্রি দিবে? জিনিস টা এমন না যে, একবার দিলো কিন্তু এর জন্য আর কোন খরচ নাই।
একটা সর্বনিম্ন প্যাকেজ যার মাসিক মূল্য ৫০০ টাকা হলেও, এর পিছনে কোম্পানীকে ব্যান্ডউইথ+সার্ভিস+যন্ত্রপাতি+অফিস + অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ হিসেব করলে কমপক্ষে ৪০০ টাকা খরচ হয়। এই হিসেবটা একজন ব্যবসায়ী ছাড়া আর কারো পক্ষে বুঝা সম্ভব নয়। এরপর আছে মাঝে মধ্যে এদের আবার ক্যাবল বদলানো, কানেক্টর চেঞ্জ, রাউটার সমস্যার সমাধান। এই ফ্রি লাইনের সমস্যা কিন্তু আবার সাধারণ ইউজারদের থেকে বেশী। সার্ভিসের জন্য ফোনটা আবার সরাসরি মালিকের কাছে। ফোন না ধরতে পারলে আবার নানান রঙের মেসেজ। এখন প্রশ্ন হলো, নিজের টাকা খরচ করে মাস/বছরব্যাপী একটা সার্ভিস চালানো কতোটা সম্ভব? এখানেই শেষ নয়, এরপর আছে এদের আবার সুপারিশ। অন্য আরেকজন লোক নিয়ে এসে বলবে, "ভাই, এইটা আমার বন্ধু, বিলটা একটু কমাই দেন।" মানে নিজেতো দিবেই না, আরো কিছু ক্ষতি করে গেল।
ছোট একটা হিসেব দেই। ধরেন, একজন ইউজারের পিছনে যদি মাসে একটা ছোট প্রতিষ্ঠানের ৪০০ টাকা খরচ হয়, আর ৫০টি ফ্রি লাইন থাকে। সেক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের মাসে প্রায় বিশ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বছরে লোকসান হচ্ছে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা যা দিয়ে ছোট মানের এইসব প্রতিষ্ঠানের অনেক উন্নতি সম্ভব। যা কিনা উন্নতির নামে উল্টো বেশীরভাব প্রতিষ্ঠান ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সাময়িক সমস্যা মনে না হলেও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেকের ব্যবসা।
অন্যদিকে, এই যাদের জন্য এতো সমস্যা, এরা চাইলেই কিন্তু মাসের বিলটা অনায়াসে দিতে পারে, যেখানে এদের অনেকেই প্রতিদিন হাজার টাকাও খরচ করে নিজেদের বিনোদনে। তারপরও ফ্রি চাইবে, কারণ এই ফ্রি লাইন চালানোটা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে।
এরা জানতেও চায় না বা চাইবেও না কখনও যে, তাদের মোবাইল বা কম্পিউটারের মনিটরে ভেসে আসা একটি পেইজ, এইসব ছোট প্রতিষ্ঠানের কতটা পরিশ্রমের ফসল।
ধন্যবাদ সবাইক
#কালেক্টেড