মীম গ্রাফিক্স

মীম গ্রাফিক্স "পাক মদিনায় চলছি মোরা
আউলিয়াদের সাথে
আয়রে বন্ধু জীবন গড়ি
নবীর আদর্শে"

01/05/2026

ইনশাআল্লাহ,
এখন থেকে আমাদের মীম গ্রাফিক্সে সকল প্রকার মগ প্রিন্টের সেবা শুরু হয়েছে।
~ম্যাজিক মগ, চায়না মগ ও বাংলা মগ (রিং,হোয়াইট)~

মীম গ্রাফিক্স বশির কমপ্লেক্স, বন্দর বাজার, সিলেট-এর উদ্বোধন উপলক্ষে দু'আ মাহফিলে মোনাজাত করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরবি ব...
05/04/2026

মীম গ্রাফিক্স বশির কমপ্লেক্স, বন্দর বাজার, সিলেট-এর উদ্বোধন উপলক্ষে দু'আ মাহফিলে মোনাজাত করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হযরত মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছালেহ মুহাম্মদ কুতবুল আলম, তালামীযে ইসলামিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিয মাওলানা নজীর আহমদ হেলাল, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, সিলেট পশ্চিম জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আহকামুল ইসলাম বুলবুল ।

গতকাল ৪ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি শনিবার বিকাল ৪ ঘটিকায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন করিম উল্লাহ মার্কেট-এর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা আব্দুল আহাদ, বশির কমপ্লেক্স বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম, মিজানুর রহমান, হুসাইন আল হাফিজ, ফাহিম আহমদ, তালামীয নেতা দিলোয়ার হোসেন, মাহবুব আহমদ, অলিউর রহমান মিছবাহ, নুর উদ্দিন ও নাছির উদ্দিন প্রমুখ।

আগামি ২ জুন থেকে ফুলতলী কমপ্লেক্স ঢাকায় ইমাম নববী (র.) লিখিত পৃথিবী বিখ্যাত হাদীসের কিতাব "রিয়াদুস সালিহীন"-এর ৩য় কোর্স ...
13/05/2023

আগামি ২ জুন থেকে ফুলতলী কমপ্লেক্স ঢাকায় ইমাম নববী (র.) লিখিত পৃথিবী বিখ্যাত হাদীসের কিতাব "রিয়াদুস সালিহীন"-এর ৩য় কোর্স শুরু হতে যাচ্ছে।

কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য লিফলেটে দেওয়া নাম্বারগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিচের লিংকে গিয়ে আবেদন করতে পারেন—

https://tasneembd.org/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a7%a6%e0%a7%a9/

06/05/2023

শহীদে বালাকোট হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর আন্দোলন
মাওলানা মোহাম্মদ নজমুল হুদা খান

সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) উপমহাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একাধারে ‘রুহবানুল লাইল ওয়া ফুরসানুন নাহার’-রাতের তাপস আর দিনের ঘোড় সওয়ার (মুজাহিদ)। তিনি জীবনের মূল্যবান সময়কে দীন ইসলামের জন্য কুরবান করে গেছেন। উপমহাদেশে ইলমে নববী তথা ইলমে দীনের সার্থক উত্তরাধিকার ও যথাযথ প্রচারক শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.)-এর সুযোগ্য ছাহেবজাদা ও খলীফা হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.)-এর স্নেহধন্য শাগরিদ ও খলীফা হিসেবে তিনি যে সংস্কার ও বিপ্লব সাধন করে গেছেন এর কোনো তুলনা হয় না। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর জীবনেতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। তিনি বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের ফলে তৎকালীন বৃটিশ শাসক গোষ্ঠীর রোষানলে পতিত হন। শাসকগোষ্ঠীর মদদপুষ্ট লেখক ও ঐতিহাসিকরা তাঁর প্রকৃত ইতিহাসকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে। ফলে তিনি বিকৃত ও ভুল ইতিহাসের শিকার হন। সে বিকৃত ইতিহাসের সূত্র ধরে আজো অপপ্রচার চলছে। অবশ্য, সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) এর প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে অনেক লেখক ও গবেষক ইতোমধ্যে কলম ধরেছেন। সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর আন্দোলন সামগ্রিক বিবেচনায় যে একটি সংস্কার আন্দোলন ছিল তাও তাঁরা প্রমাণ করেছেন। সায়্যিদ আহমদ বেরলভী (র.)-এর তরীকতের অধস্তন সিলসিলার কার্যধারা থেকেও তাঁর আন্দোলনের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রমাণিত। ভারত উপমহাদেশ বিশেষ করে বাংলাদেশে জৌনপুর, ফুরফুরা, ফুলতলী, ছারছীনা, নারিন্দা, মৌকরাসহ যত হক সিলসিলা রযে়ছে সকলেরই পূর্বসূরী হলেন হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)।

হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) ছিলেন এক বিস্ময়কর প্রতিভা। তিনি ছিলেন একটি তরীকার প্রতিষ্ঠাতা, একজন মুরশিদে কামিল। তাঁর ব্যক্তিত্ব, স্বভাব-চরিত্র, দাওয়াত ও তাবলীগ সমকালে যেমন অত্যন্ত প্রভাব বিস্তার করেছিল তেমনি এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব আজো বিদ্যমান। তাঁর চারিত্রিকি বৈশিষ্ট্য ও দ্বীনী দাওয়াতের প্রভাব কেমন ছিল এর সম্যক ধারণা লাভ করা যায় আবুল হাসান আলী নদভী’র ‘তারীখে দাওয়াত ও আযীমত’ (সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস) গ্রন্থ থেকে। তিনি লিখেছেন : “শাহ সাহেব (শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী র.) এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এমন কতিপয় উচ্চ যোগ্যতা, সাহসিকতা ও বিস্ময়কর ইচ্ছাশক্তির অধিকারী আধ্যাত্মিক ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের পৃষ্ঠপোষকতার কাজ নিযে়ছেন যারা হাজার হাজার মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে দিযে়ছেন এবং এক পূর্ণ শতক সামলে রেখেছেন। … এই দাবীর সত্যতার জন্য কেবল তার একান্ত খলীফা সায়্যিদ আহমদ শহীদ (র) (১২০১-১২৪৬ হি.)-এর নাম নেওয়াই যথেষ্ট। যিনি এই উপমহাদেশে এই মহান ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার স্বয়ংসম্পূর্ণতা, প্রভাব শক্তি এবং ইসলামের সুমহান দাওয়াত, নববী আদর্শের নৈকট্য ও সাদৃশ্যতা না কেবল এই তের হিজরী শতকে দৃষ্টিগোচর হয় বরং বিগত কযে়ক শতকেও এ ধরনের ঈমানী চেতনা সৃষ্টিকারী আন্দোলন এবং নেককার বুযুর্গদের এমন সুবিন্যস্ত ও সুশৃঙ্খল জামাতের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না। তিনি আকাইদ ও আমলের সংশোধন, মানুষের তরবিয়ত, ওয়াজ-নসীহত, তাবলীগে দীন, জিহাদ ও নির্ভীকতার বিশাল বি¯তৃত রণাঙ্গণে যেভাবে কর্মতৎপর ছিলেন, এর প্রভাব কেবল তার কর্মময় স্থান ও তার সমসামযি়ক বংশধর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং তা ভবিষ্যত প্রজন্ম, তৎপরবর্তীকালে আগত আহলে হক, দীনের দাঈ, ঝা-াবাহী ও খাদেমদের উপর গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে। ক্রমবর্ধমান ইংরেজ শক্তির মোকাবেলায় ভারতবর্ষ ও তার প্রতিবেশি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর হেফাজত, খোলাফায়ে রাশেদার আদর্শে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা-সংগ্রামের সূচনাও তিনিই করেছেন। … এই আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া শিক্ষা-সাহিত্য, ইসলামী চিন্তাধারা, ভাষা ও বাচনভঙ্গি বর্ণনায়ও পডে়ছিল। এ আন্দোলন সমাজ সংস্কার, জাহেলী রীতিনীতির ভ্রান্ততা প্রমাণ, হিন্দু ধর্মের প্রভাব দূরীভূত করা এবং সঠিক ইসলামী জীবনের প্রতি প্রত্যাবর্তনের মহান কাজ আঞ্জাম দিযে়ছে। (শাহ আবদুল হালীম হুসাইনী অনূদিত, সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ২৫৭-২৫৮)

আবুল হাসান আলী নদভী তার পূর্বোক্ত গ্রন্থে সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র) এর দাওয়াত ও তরবিয়তের প্রভাবের ব্যাপকতা, শক্তি, গভীরতা ও কার্যকারিতা প্রসঙ্গে বিভিন্ন লেখক ও চিন্তাবিদের রচনাবলি থেকে কিছু উদ্ধৃতিও পেশ করেন। তিনি লিখেন- “ভারতবর্ষের বিখ্যাত লেখক ও ঐতিহাসিক নবাব সিদ্দীক হাসান খান, গভর্নর, ভূপাল (মৃত্যু ১৩০৭ হি.), যিনি সায়্যিদ আহমদ শহীদ (র)-এর শিক্ষা-দীক্ষার প্রভাব স্বয়ং প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং তাকে প্রত্যক্ষকারীদের এক বিরাট দলের যুগ পেযে়ছিলেন, তিনি ‘তিকসারু যুয়ূদিল আহরার’ গ্রন্থে লিখেন, ‘সৃষ্টিজীবের পথ প্রদর্শন এবং আল্লাহর পথে ফিরিয়ে আনা ও প্রত্যার্পণে তিনি ছিলেন আল্লাহর একটি নিদর্শন। এক বিরাট মানবগোষ্ঠী ও এক পৃথিবী তার আত্মিক ও শারীরিক তাওয়াজ্জুহে বেলায়েতের মর্যাদায় পৌঁছে গেছে। তার খলীফাগণ ওয়াজ-নসীহতের মাধ্যমে ভারতের মাটিকে শিরক-বিদ’আত ও কুসংস্কারের খড়কুটো থেকে পবিত্র করে দিয়েছে, কুরআন-সুন্নাহর বিশ্বরোডে এনে দাঁড় করিযে়ছে। আজও তাদের ওয়াজ-নসীহতের বরকত যথারীতি চালু আছে।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘মোটকথা এ যুগে পৃথিবীর কোনও রাষ্ট্রে এমন সুযোগ্য ব্যক্তিত্বের কথা শোনা যায়নি। যে ফয়েয-বরকত এই হকপন্থী দলের মাধ্যমে সৃষ্টিজীবের হযে়ছে, তার দশ ভাগের একভাগও এ যুগের উলামা মাশাযি়খের দ্বারা হয়নি।” (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-২৫৮)

হযরত শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী (র)-এর শাগরিদ মাওলানা হায়দার আলী রামপুরী টোঙ্কী (মৃত্যু ১২৭৩ হি.) ‘সিয়ানাতুন নাস’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘তার হেদায়াতের নূর সূর্যের মত পূর্ণ ক্ষিপ্রতার সাথে বিভিন্ন শহর-নগর ও মানুষের অন্তরে উদ্ভাসিত হয়। চতুর্দিক থেকে ভাগ্যবান লোকজন পরকালের প্রতি মনোযোগী হযে় শিরক-বিদ’আত ইত্যাদির নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে (রীতিমত যুগ যাতে অভ্যস্ত ছিল) তাওবা করে তাওহীদ ও সুন্নাতের শাশ্বত পথ অবলম্বন করতে থাকে। আর প্রায়ই হযরতের পুণ্যাত্মা খলীফাগণ নানা স্থান সফর করে করে লাখ লাখ মানুষকে দীনে মুহাম্মদীর সরল সঠিক পথ বাতলে দেন। যাদের জ্ঞান-বুদ্ধি ছিল এবং আল্লাহর অনুগ্রহ যাদের সাহায্য করেছে তারা এই পুণ্যের পথে চলেন।’ (প্রাগুক্ত)

বিখ্যাত আলেমে দীন মাওলানা আবদুল আহাদ সাহেব, যিনি এই মুবারক জামাতের অনেক সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন, যার সময়কাল সাইযি়দ (র)-এর হাতে নিকটতর ছিল, তিনি লিখেন, ‘হযরত সাইয়্যিদ সাহেব (্র)-এর হাতে চল্লিশ হাজারের অধিক হিন্দু প্রমুখ কাফির মুসলমান হযে়ছে। ত্রিশ লাখ মুসলমান তার হাতে বায়আত গ্রহণ করেছেন। আর বায়’আতের যে ক্রমধারা তার খলীফাগণের খলীফাদের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে চালু রয়েছে, এই সিলসিলায় তো কোটি কোটি মানুষ তার বায়আতে অন্তুর্ভূক্ত হয়েছে।’ (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা-২৫৯)

উপরোক্ত উদ্ধতিসমূহ থেকে পাঠকবৃন্দ চিন্তা করে দেখুন, হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর দাওয়াত ও আন্দোলনের প্রভাব কতটুকু।

হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) যে আন্দোলনের বদৌলতে ভারত উপমহাদেশ ছাড়াও বহির্বিশ্বে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছিলেন তাঁর সে আন্দোলন পর্যালোচনা করলে আমরা একে তিনটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি। যেমন :
১. দ্বীনী সংস্কার আন্দোলন।
২. আধ্যাত্মিক আন্দোলন (তরীকায়ে মুহাম্মদিয়া)।
৩. জিহাদ (সশস্ত্র সংগ্রাম)।

আলোচনার সুবিধার্থে সাযি়্যদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর আন্দোলনকে তিনভাগে বিভক্ত করলেও মূলত এ তিনটির উদ্দেশ্য ছিল এক ও অভিন্ন অর্থাৎ ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা, মানুষকে আল্লাহর পথে নিবিষ্ট করা এবং মুসলিম সমাজে অনুপ্রবিষ্ট কুসংস্কার ও বিদআতের মূলোৎপাটন।

দ্বীনী সংস্কার
সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) নানাবিধ দ্বীনী সংস্কার সাধন করেছেন। ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসলামী জীবনাচারের বিভিন্ন দিক বিলুপ্ত হযে় গিয়েছিল। সায়্যিদ আহমদ বেরলভী (র.) এগুলো পুনরুজ্জীবিত করেন। তাঁর সংস্কারের মধ্যে রযে়ছে সালামের পুন:প্রচলন, ইসলামী পোশাক-পরিচ্ছদ পুনপ্রবর্তন, কবরপূজাসহ নানা ধরনের শিরক-বিদআত উচ্ছেদ করা, হজ্জের ফরযিয়ত সম্পর্কে প্রচলিত অপব্যাখ্যার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং সদলবলে হজ্জ পালন, বিবাহ প্রথা সংশোধন এবং বিধবা বিবাহ পুন:প্রচলন, হিন্দুয়ানী বেশ-ভূষা ও রীতি-নীতি থেকে মুসলিম সমাজকে রক্ষা, তা’যিয়ার বিলোপ সাধন ইত্যাদি।

আধ্যাত্মিক আন্দোলন (তরীকায়ে মুহাম্মদিয়া)
সাযি়্যদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) মুসলমানদের আত্মিক পরিশুদ্ধির জন্য ‘তরীকাযে় মুহাম্মদিয়া’ নামে একটি সমন্বিত তরীকা প্রতিষ্ঠা করেন। এটি হলো চিশতিয়া, কাদরিয়া, নকশবন্দিয়া ও মুজাদ্দিদিয়া তরীকার সার নির্যাস। অধ্যাপক এইচ. রহমান সম্পাদিত ‘ভারত-উপমহাদেশের ইতিহাস’ গ্রন্থে সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর প্রতিষ্ঠিত তরীকায়ে মুহাম্মদিয়াকে ‘সংস্কার আন্দোলন’ হিসেবেই আখ্যাযি়ত করা হযে়ছে। উক্ত গ্রন্থে আছে : “ভারতের মুসলমানদের জাগরণ ও স্বাধীনতার জন্য যাঁহারা রক্ত দিয়াছেন তাহাদের মধ্যে শাহ্ সৈয়দ আহমদ বেরেলভীর নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন যখন তমসাচ্ছন্ন, তখন সৈয়দ আহমদের জন্ম হয়। মুসলমানদের বিশাল সাম্রাজ্য মারাঠা, ইংরেজ ও শিখেরা ছিনাইয়া লইয়াছিল। ফলে ঐ যুগে তাহাদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হইয়া উঠিয়াছিল। শাহ্ সৈয়দ আহমদ ১৭৮৬ খৃষ্টাব্দে যুক্ত প্রদেশের রায়বেযে়লী নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দিল্লীর বিখ্যাত আলেম শাহ্ আব্দুল আজিজের নিকট অধ্যয়ন করেন। তিনি প্রথমে সংস্কার আন্দোলনে শুরু করেন। — শাহ্ সৈয়দ আহমদ শহীদের প্রচলিত সংস্কার আন্দোলন ‘মুহাম্মদী আন্দোলন’ নামে পরিচিত। ভারতের মুসলমানদের কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি দূর করিয়া ইসলামের নির্দেশিত সমাজ ও রাষ্ট্র পুনঃ প্রতিষ্ঠা করাই এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল।” (অধ্যাপক এইচ. রহমান সম্পাদিত, ভারত-উপমহাদেশের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৩৩৯-৩৪০)

জিহাদ (সশস্ত্র সংগ্রাম)
ভারতবর্ষে ইসলামকে বিজয়ী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষে সাযি়্যদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.)-এর নির্দেশনায় ও তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন অঞলে মুসলিম বাহিনী সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম জিহাদ সংগঠিত হয় শিখদের বিরুদ্ধে, যা আকুড়ার যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৮২২ খৃস্টাব্দের ২০ সেপ্টেম্বর, ১২৪২ হিজরীর ২০ জমাদিউল আউয়াল তারিখে এ জিহাদ সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে আরো অনেক জিহাদ সংঘটিত হযে়ছে। সর্বশেষ ১৮৩১ সালের ৬ মে ঐতিহাসিক বালাকোট প্রান্তরে শিখ ও ইংরেজ মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করে সাযি়্যদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) শাহাদত বরণ করেন।

সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) সারাজীবন দ্বীনের খিদমতে, দ্বীনী আন্দোলনে অতিবাহিত করেছেন। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস।

30/01/2023
08/06/2022
রাসূল প্রেমের টানে, যোগদিন এই আহবানে।
18/10/2021

রাসূল প্রেমের টানে, যোগদিন এই আহবানে।

Address

Sylhet
3100

Telephone

+8801621988619

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মীম গ্রাফিক্স posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to মীম গ্রাফিক্স:

Share