05/08/2025
ইঞ্জিন কী? ইঞ্জিন কত প্রকার?
সংজ্ঞা : ইঞ্জিন হল এমন একটি যন্ত্র যা রাসায়নিক শক্তিকে তাপ শক্তি আবার তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে কাজ করে তাকে ইঞ্জিন বলে। আরো সহজভাবে বলতে গেলে ইঞ্জিনের মূল কাজ হলো শক্তি রুপান্তর করা, যা গাড়ি, জাহাজ, প্লেন ইত্যাদি যন্ত্রপাতি চালাতে ব্যবহৃত হয়।
ইঞ্জিন কত প্রকার ও কী কী?
ইঞ্জিন দুই প্রকারঃ
১. আই সি ইঞ্জিন বা অন্তর্দহ ইঞ্জিন ( Internal Combustion Engine):
যে ইঞ্জিনের সিলিন্ডারের দহন প্রকোষ্ঠে বা অন্তর্দেশে বাতাস ও জ্বালানির মিশ্রণ কে দহন ঘটিয়ে শক্তি উৎপাদন করে তাকে অন্তর্দহ ইঞ্জিন বলে।
২. ই সি ইঞ্জিন বা বহির্দহ ইঞ্জিন (External Combustion Engine):
বহির্দেশে বাতাস ও জ্বালানির মিশ্রণ কে দহন ঘটানো। (Its Impossible).
আই সি ইঞ্জিন এর প্রকারভেদঃ
জ্বালানি অনুসারে ৩ প্রকার:
ক) পেট্রোল বা গ্যাসোলিন ইঞ্জিন
খ) ডিজেল ইঞ্জিন
গ) গ্যাস ইঞ্জিন।
প্রজ্জলন অনুসারে ২ প্রকার:
ক) স্পার্ক ইগনেশন
খ) কমপ্রেশন ইগনেশন
স্ট্রোক এর সংখ্যা এর উপর ২ প্রকার:
ক) দুই স্ট্রোক
খ) চার স্ট্রোক
ভালভ এর অবস্থান অনুসারে ৪ প্রকার:
ক) L Head বা সাইড ভালভ ইঞ্জিন।
খ) I-Head বা ইনলাইন ভালভ ইঞ্জিন।
গ) F-Head ইঞ্জিন।
ঘ) T-Head ইঞ্জিন।
সংক্ষেপে LIFT বলে।
সিলিন্ডারের সংখ্যা অনুযায়ী ইঞ্জিনকে নিম্ন লিখিত ভাগে ভাগে করা যায়।যথাঃ-
১) এক সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
২) দুই সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
৩) তিন সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
৪) চার সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
৫) ছয় সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
৬) আট সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
কুকিং সিস্টেম অনুযায়ী ইঞ্জিন দুই প্রকার।যথাঃ-
১)এয়ার কুলিং ইঞ্জিন।
২)ওয়াটার কুলিং ইঞ্জিন।
সিলিন্ডার এবং বিন্যাশ অনুযায়ী ইঞ্জিন কে নিম্ন লিখিত ভাগে ভাগ করা যায়।যথাঃ-
১)ইনলাইন ইঞ্জিন।
২)ভি-টাইপ ইঞ্জিন।
৩)রেডিয়েল টাইপ ইঞ্জিন।
৪)অপজাড সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
৫)রেডিয়াল সিলিন্ডার ইঞ্জিন।
-> ইঞ্জিন কী ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়?
ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ধরনের ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়, কারণ প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন হয়। তবে প্রধানত দুটি ধাতু সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
ইঞ্জিনের প্রধান অংশগুলোতে ঢালাই লোহা বা অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করা হয়, এবং ভেতরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো স্টিলের সংকর ধাতু বা বিশেষ ক্ষেত্রে টাইটানিয়াম দিয়ে তৈরি করা হয়।
-> একটি ইঞ্জিনে কী কী সমস্যা হয়?
গাড়ির ইঞ্জিনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় ছোটখাটো সমস্যা হলে তা সহজেই সমাধান করা যায়। কিন্তু কিছু গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। ইঞ্জিনে যে ধরনের সাধারণ সমস্যাগুলো দেখা যায়, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া
ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হওয়া একটি গুরুতর সমস্যা, যা থেকে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
* কুল্যান্টের অভাব: কুল্যান্ট (শীতলকারক তরল) ইঞ্জিনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর পরিমাণ কম থাকলে বা কুল্যান্ট লিক হলে ইঞ্জিন দ্রুত গরম হয়ে যায়।
* থার্মোস্ট্যাট নষ্ট: থার্মোস্ট্যাট ইঞ্জিন এবং কুল্যান্টের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি সঠিকভাবে কাজ না করলে কুল্যান্ট প্রবাহিত হতে পারে না এবং ইঞ্জিন গরম হয়।
* পানির পাম্প বা রেডিয়েটর ফ্যানের সমস্যা: যদি পানির পাম্প বা রেডিয়েটরের পাখা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে কুল্যান্ট ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না বা রেডিয়েটর থেকে তাপ বের হতে পারে না, ফলে ইঞ্জিন গরম হয়ে যায়।
ইঞ্জিন থেকে অদ্ভুত শব্দ আসা:-
ইঞ্জিন চলার সময় যদি কোনো অস্বাভাবিক শব্দ যেমন - ঘর্ষণের শব্দ, টিকটিক শব্দ বা গর্জন শোনা যায়, তাহলে বুঝতে হবে কোনো সমস্যা হয়েছে। এর কারণগুলো হতে পারে:
* লুব্রিকেশনের অভাব: ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত লুব্রিকেশনের জন্য ইঞ্জিন অয়েল গুরুত্বপূর্ণ। যদি ইঞ্জিন অয়েলের পরিমাণ কম থাকে বা এর গুণগত মান ভালো না হয়, তাহলে যন্ত্রাংশগুলো ঘষা লেগে শব্দ তৈরি করে।
* বেল্টে সমস্যা: গাড়ির বিভিন্ন বেল্ট যেমন, টাইমিং বেল্ট বা ড্রাইভ বেল্ট যদি নষ্ট হয়ে যায় বা ঢিলা হয়, তখন খারাপ শব্দ হতে পারে।
* স্পার্ক প্লাগের ত্রুটি: যদি স্পার্ক প্লাগে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে ইঞ্জিন সঠিকভাবে জ্বলে না এবং এর ফলে অদ্ভুত শব্দ হতে পারে।
ইঞ্জিন চালু হতে সমস্যা বা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়া অনেক সময় গাড়ি চালু করার সময় ইঞ্জিন সঠিকভাবে স্টার্ট হয় না, বা চলার সময় হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এর সম্ভাব্য কারণগুলো হলো:
* জ্বালানির সমস্যা: ফুয়েল পাম্পে ময়লা জমে গেলে, ফুয়েল ফিল্টার আটকে গেলে বা ফুয়েল লাইনে কোনো সমস্যা হলে ইঞ্জিনে পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছাতে পারে না। এছাড়াও, ভেজাল জ্বালানি ব্যবহার করলে এই সমস্যা হতে পারে।
* ইগনিশন সিস্টেমে সমস্যা: স্পার্ক প্লাগ, ইগনিশন কয়েল বা ব্যাটারিতে কারেন্টের সরবরাহ ঠিক না থাকলে ইঞ্জিন চালু হতে পারে না।
* কম্পিউটার বা সেন্সরের ত্রুটি: আধুনিক গাড়িতে ECU (Engine Control Unit) সহ বিভিন্ন সেন্সর থাকে। এগুলো ঠিকমতো কাজ না করলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
দুর্বল পারফরম্যান্স এবং ধোঁয়া:-
যদি গাড়ির গতি কমে যায়, মাইলেজ কমে যায়, বা বুস্ট পেতে সমস্যা হয়, তাহলে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমে গেছে বলে ধরা যায়। এছাড়াও, ইঞ্জিন থেকে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হওয়াও একটি বড় লক্ষণ।
* কালো ধোঁয়া: এটি সাধারণত অতিরিক্ত জ্বালানি পোড়ার কারণে হয়। ফুয়েল ইনজেক্টরের সমস্যা বা এয়ার ফিল্টার নোংরা থাকলে এমনটা হতে পারে।
* সাদা ধোঁয়া: যদি ইঞ্জিন থেকে সাদা ধোঁয়া বের হয়, তাহলে বুঝতে হবে কুল্যান্ট ইঞ্জিনের ভিতরে প্রবেশ করছে এবং জ্বলছে। এর কারণ হতে পারে হেড গ্যাসকেটের ক্ষতি।
* নীলচে ধোঁয়া: এটি ইঞ্জিন অয়েল পোড়ার লক্ষণ। যদি পিস্টন রিং বা ভালভ সিল নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এই সমস্যা দেখা যায়।
কীভাবে ইঞ্জিনের সমস্যা থেকে বাঁচবেন?
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ইঞ্জিনের সমস্যাগুলো থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায়। কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ানো যায়:
* সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন।
* কুল্যান্টের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
* ভালো মানের জ্বালানি ব্যবহার করুন।
* নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন।
* কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত মেকানিকের কাছে নিয়ে যান।