Fast & Trust Online Shop

Fast & Trust Online Shop অনলাইনে কেনাকাটায় বিশ্বস্ত

05/11/2023

😯ম

✅ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন ব্যাচের মূল কোর্স

✅কোর্সে যা যা পাবেন:-
🔸বাংলা:-২৫টি ক্লাস
🔸ইংরেজি:-২৫টি ক্লাস
🔸ম্যাথ:-২৫টি ক্লাস
🔸সাধারণ জ্ঞান:-২৫টি ক্লাস
🔹সর্বমোট ক্লাস:-৯০+

নিজেকে আর একবার যাচাই করতে,শেষ সময়ে প্রস্তুতিকে আর মজবুত করতে পরীক্ষার বিকল্প নাই।

✅পরীক্ষা সমুহ:-
🔸ক্লাস টেস্ট-90+
🔸মূল্যায়ন পরীক্ষা-5
🔸টপিক ভিত্তিক টেস্ট-08
🔸বিষয়ভিত্তিক টেস্ট-06
🔸মডেল টেস্ট-10
🔸 ফাইনাল মডেল টেস্ট--02
🔸সাম্প্রতিক বিষয়াবলি-02
🔹সর্বমোট পরীক্ষা:-130+

▶️প্রতিটি পরীক্ষার শেষে থাকছে সকল বিষয়ে সলভ ক্লাস।
✅ প্রতিটি ক্লাস আজীবন রেকর্ড থাকবে ইনশাআল্লাহ।

21/10/2023

বিয়ের প্রথম রাতেই স্বামীকে বলেছিলাম," আমাকে কিছুদিন সময় দেন। আমি এখনও এই সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত না"। এই এক বাক্যই যেন ঔষধের মতন কাজ করেছিল। কোলবালিশ কোলে দিয়ে অন্যপাশ ফিরে শুতে শুতে লোকটা বলেছিল,
___" তুমি শুয়ে পড়ো আমি ঘুমালাম "।
অনেকেরই হয়তো অবিশ্বাস হবে, যে এটা কি সম্ভব এমন হয় নাকি কখনও! হ্যাঁ এমনটাই হয়েছি। পরেরদিন খুব সকালে আমাকে আলতো করে ছুঁয়ে যখন ডাকলো ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলাম। চোখ কচলাতে কচলাতে তাকিয়ে দেখি,সামনে মামুন মানে আমার বর দাঁড়িয়ে আছে। মাথায় টুপি মুখে এক রাশ স্নিগ্ধতার আবেশ। হাসিমাখা মুখ নিয়ে বলল,
___ " কলি কিছু কথা ছিল বলবো? "
এলোমেলো হয়ে থাকা শাড়ির আঁচল টেনে নিয়ে আস্তে করে সরে বসে, তাকে বসার জায়গা দিলাম। মুখ নিচু করে পাশে বসে বলল,
___ " যাক বসতে দেওয়ার পারমিশন যখন দিয়েছ, তার মানে কথাগুলো বলার পারমিশনও পেলাম নাকি?"
সদ্য ঘুম থেকে উঠা ফোলা মুখ চোখ নিয়ে, তার সামনে বসে হাঁ করে কথাগুলো শুনছিলাম। আসলে ঘুম থেকে উঠে, যে কি রিয়েক্ট করবো সেটাই বুঝতেছিলাম না। একদিকে নতুন বিছানার কারণে ঘুমটাও ভালো হয় নি। মাথার বাঁ পাশ ব্যাথায় দপদপ করতে সাথে চোখ জ্বালা ফ্রি। তারপর মানুষটার কথায় মাথা নাড়িয়ে সায় দিলাম। বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে মামুন বলা শুরু করলো,
___ " দেখো কলি তুমি আমার বিয়ে করা বউ। আমার তোমার মধ্যে কেমন সম্পর্ক, সেটা আমরা জানি কিন্তু তোমার কাছে অনুরোধ, প্লীজ বাইরের মানুষদের তেমন কিছু বুঝতে দিও না। মানসম্মানের ব্যাপার, আর হ্যাঁ স্বামী হওয়ার মেইন শর্তই হলো ভালো বন্ধু হওয়া। আমি আমার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম, বাকিটা তোমার ব্যাপার। এখন উঠে গোসল করে মায়ের কাছে যাও। "
___ " গোসল করবো কেন?"
অনেকটা বেকুবের মতন প্রশ্ন করে বসলাম। পরক্ষণেই যেন চুপ হয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে চললাম গোসল করতে।

ঘরের দরজা খুলতেই শিশির ভেজা এক বিশাল উঠান। উঠান ঘেরা চারখানা ঘর। দক্ষিন পশ্চিম কোণায় দুটো বাথরুম আর তার পাশে টিনের বেড়া দেওয়া কল। মনে হয় ওখানেই গোসল করতে হবে। সারাজীবন শহরের চার দেওয়ালে ঘেরা বাথরুমে গোসল করা, এই আমি যেন হঠাৎই যেন বদলে গেলাম। মনটা যেন খুব খুশি হয়ে উঠলো । আবার ঘরে ঢুকে বিছানায় টাওয়াল রেখে গামছা খুঁজে বের করলাম। গাড় নীল একটা তাঁতের শাড়ি বের করলাম যার লাল পাড়। এসব নিয়ে চললাম গোসল করতে। উঠানে পাড়া দিতেই যেন, মনে অন্যরকম এক প্রফুল্লতা চলে এলো। পাখিদের কিচিরমিচির, খোপে আটকানো মোরগের চওড়া গলার ককক..... আর সূর্যের আলতো কিরন সব মিলে মিশে বর্ণনাতীত সৌন্দর্য। দু পা এগোতেই বড় জায়ের সাথে দেখা। এই সাত সকালেও যেন পান খেয়ে ঠোঁটটাকে টুকটুকে করে রেখেছে। অনেকের চেহারা দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়, বড় ভাবি ঠিক তেমনই একজন। আমাকে এভাবে দেখেই যেন হাসিতে গড়িয়ে পড়লো উনি,
___ " যাউক তাইলে এতদিনে আমার দেওরের সুমতি হইলো তাইলে...যাও নয়া বউ নাইয়া আসো। আম্মায় কোরান পড়ন শেষ কইরাই নাস্তা চাইবো। তাড়াতাড়ি যাও বইন"।
কিছু না বলেই মাথা ঝাকিয়ে দ্রুত চললাম গোসল করতে। আমার শশুরবাড়ি অনেকটা মেয়েহীন। শাশুড়ির চার ছেলে। আমার পতিদেবই সবার ছোট। বড় ভাসুর একাই থাকে গ্রামে, অন্য দুই ভাসুর স্বপরিবারে প্রবাসী। আমার সাহেবও ঢাকায় স্থায়ী চাকরি সূত্রে। এখানে শুধু বড় ভাই ভাবী আর আমার শাশুড়ী এই তিনজনই থাকে। শশুর ছিল এক বাপের এক ছেলে। শাশুড়ীরও সেইম অবস্থা এজন্য নাকি আত্মীয় স্বজন নেই বললেই চলে। এসব কিছুই বিয়ের আগে আমার ফুপু রসিয়ে রসিয়ে আব্বার কাছে বলেছিল। ঝই ঝামেলা হীন পরিবারের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে। সেজন্যই আব্বা অনেকটা লাফিয়ে পড়েছিল আমাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য। গুটিকয়েক আত্মীয় যারা এসেছিল তারা কালকে রাতেই চলে গিয়েছে। এখন এ বাড়ি দেখে মনেই হচ্ছে না যে একটা বিয়ে সাদি নামক কিছু হয়েছে।

সকালের নাস্তা শেষ করে ঘরে আসতেই দেখি, মামুন মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে কাজ করতেছে। গোসল শেষ করে আর চুল মোছার সুযোগটাও পাই নি, তাই আয়নার সামনে যে চুল গুলো গামছা দিয়ে মুছতে মুছতে সামনের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম, আচ্ছা এই মানুষটার কি দোষ? বিয়ের প্রথম দিনই কেন তাকে শাস্তি দিচ্ছি আমি? কিন্তু নিজের সাথে হওয়া ঘটনা গুলো যেন, আষ্ঠেপৃষ্ঠে আটকিয়ে ধরেছে আমাকে। খুব ইচ্ছা করছিল ছিঁড়ে দিতে, এই বেড়াজাল। কিন্তু নিয়তি বলেও খুব কঠোর একটা জিনিস আছে, আমার জীবনে৷ বিয়ের কয়েকদিন পরই আমি আর মামুন চলে আসি ঢাকাতে। শুরু হয় টোনাটুনির জীবন। প্রতিদিন মামুন অফিসে যাওয়ার পরে কাজের বুয়া সব কাজ গুছিয়ে দিয়ে যায়, আমি রান্নাবান্না করে কখনও বা বই পড়ি কখনও বা গাছে পানি দেই। সন্ধ্যায় মামুন ফিরলে কেমন জানি হাঁফ কেটে যায়। মানুষটা সত্যিই আমাকে ভালো বন্ধু বানিয়ে নিয়েছে।অফিসে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে অফিস থেকে আসার পথের সব কিছু পই পই করে বলতে থাকে। রাতে দুজনের মাঝে একটা বিশাল দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কোলবালিশটা। খুব ইচ্ছা করে সেই দেওয়াল ভেঙ্গে ওপারে মানুষটার মাঝে মিশে যাই। কিন্তু ওই যে নিয়তি। কিন্তু একদিনের ঘটনায় কেমন জানি এলোমেলো করে দিয়ে গেলো সব। যা লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিলাম, সেটাই মামুনের সামনে চলে এলো।

সেদিন মাঝ রাতে মামুন ভেঙ্গেছিল কোলবালিশের দেওয়াল। হাজার হোক পুরুষ মানুষতো, পাশে সদ্য বিয়ে করা বউ। কতদিনই বা নিজেকে সংযত রাখতে পারে। সেদিন তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলাম সজোরে। চিৎকার করে বলেছিলাম,
___ " সব পুরুষই চরিত্রহীন, লম্পট।"
মামুন কিছুই বলে নি, শুধু অবাক হয়ে চেয়ে দেখেছিল আমার দিকে। মধ্য রাতেই বেরিয়ে গিয়েছিল গায়ের শার্টটা হাতে নিয়ে। যাওয়ার আগে শুধু ফিরে তাকিয়ে বলেছিল,
____" কলি ক্ষমা করে দিও। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারি নাই।"
কিছু না বলে বালিশের উপরে আছড়ে পড়ে হু হু করে কাঁদতে লাগলাম। পরেরদিন দুপুরে যখন উনি বাসায় ফিরলেন দুজন হাঁ হয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে আছি। মামুনকে দেখে মনে হচ্ছে যেন টর্নেডো গিয়েছে ওর উপর দিয়ে। আর আমি রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানিই যেন শেষ করে ফেলেছি। মামুনকে দেখেই যেন আছড়ে পড়লাম ওর বুকের মাঝে। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
____ " আমাকে রেখে তুমি কই গেছিলা, আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবে না। আমি যে খুব ভয় পাই।"
____ " এই পাগলি কি হইছে তোমার৷ আমি কোথাও যাবো না তোমাকে ছেড়ে!"
এই বলেই মামুন আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমাকে। ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললাম,
___ " কিছু বলার ছিল আপনাকে...."
___ " তুমিটাই তো সুন্দর ছিল আবার আপনি হলো কেন। তোমার যা ইচ্ছা হয় নির্দ্বিধায় বলো কলি। আমি কিন্তু বিয়ের পরেরদিনই তোমার বন্ধু হতে চেয়েছিলাম৷ আর বন্ধুর কাছে সব কিছু শেয়ার করা যায়। "
মামুন খুব শান্ত স্বরে কথাটা বলতেই যেন আমার গলার কাছে কান্নার ঢেউ আঁছড়ে পড়লো। হড়হড়িয়ে বলতে লাগলাম আমার সেই বিভীষিকাময় নিয়তিটাকে,

" তখন আমি খুব ছোট মনে হয় আট কিংবা নয় বছর হবে, বাবা মা চাকরি করতো সেই সুবাদে বাসায় একাই থাকতাম। একজন খালা ছিল বাসা তার কাছেই আমার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাটতো। আম্মু একজনকে বাবা বলে ডাকতো, আসলে আমার নানা ছিল না তো। তাই অফিসের একজনকেই কিভাবে জানি বাবা ডাকতো। একদিন আম্মুর সাথে উনি এসেছিলেন আমাদের বাসায়, এসেই আমাকে নানা নানা করতে করতে কোলে বসিয়েছিলেন। কিন্তু কেন জানি না আমার খুব খারাপ লাগছিল। উনি আমাকে কোলে বসিয়ে আদরে আদরে জোরে জোরে হাতে চাপ দিচ্ছিল৷ কেন জানি না জড়িয়ে ধরাটা খুব অস্বস্তিকর লাগছিল। শেষমেষ যখন উনার হাত থেকে মুক্তি পেলাম এক দৌড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলাম রুম থেকে। এর পর যখনই উনি আমাদের বাসায় আসতেন আমি এক প্রকার লুকিয়েই থাকতাম। আম্মু খুব রেগে যেতো কিন্তু আমি আম্মুকে বুঝাতেই পারতাম না কেন আমি এমন করতেছি। কিন্তু ভাগ্যের কি লিখন একদিন আম্মুর সেই বাবা আমাদের বাসায় আসলেন ঠিক দুপুর গড়িয়ে বিকেল হবে হবে সেই সময়ে। উনাকে দেখেই খালা তাড়াতাড়ি চলল রান্নাঘরে নাস্তা আনতে। আমি পড়ার টেবিলে পড়ছিলাম পিছনে ছায়া দেখতেই আমি ঘুরে তাকিয়ে যেন একদম জমে গিয়েছিলাম। উনি ঠিক কুৎসিত এক পশুর মতন হাসছিলেন। সোজা এসেই আমার জামার ভিতর দিয়ে হাত দিয়ে আমার বুক স্পর্শ করলেন। ব্যাথায় কুঁকড়ে যেয়ে আমি উনার হাত ধরে টানাটানি করতে লাগলাম নিজেকে বাঁচানোর জন্য। চিৎকার করতেই যাবো তখন ঠোঁটের উপরে টের পেলাম জঘন্য সেই স্পর্শ। কতটুকু যে ভয়ংকর ছিল সেই সময়টা, আমি আজও বলে বোঝাতে পারবো না। আমার সারাটা শরীর হাত দিয়ে কুঁড়ে কুঁড়ে খেয়েছিল সেদিন। আমার শুধু মনে হচ্ছিল, ইসস মরে যেতে পারতাম। তাহলে হয়তো এই গ্লানি থেকে রেহাই পেতাম। কখন যে উনি চলে গিয়েছিল আমার খেয়াল নেই। আম্মুকে এই ঘটনা বলতেই সজোরে এক চড় খেয়েছিলাম। গলায় ফাঁস দিয়ে মরার ভাবনা এসেছিল একবার, কিন্তু কেন জানি না সাহসে কুলায় নি ওই বয়সে। জানো মামুন সেই থেকে আমি খুব ভয় পাই। এই পুরুষ সমাজের প্রতিটি মানুষকে আমি খুব ভয় পাই। "
এ পর্যন্ত বলার পরে আর কোন কিছুই বলতে পারি নি। শুধু মামুনকে ধরে কেঁদেক চলেছিলাম। হঠাৎ টের পেলাম গালের উপরে এক ফোঁটা পানির ছোঁয়া। চোখে চোখ রাখতেই, মামুন ধরা গলায় বলল,
___ " তোমার কাছে প্রতিজ্ঞা করলাম আমি, আমাদের মেয়েকে এই নোংরা সমাজের ছোঁয়া কখনও লাগতে দেবো না।"

পুনশ্চঃ এখন আমাদের দুই রাজকুমারি আছে। তাদের কাছে তাদের বাবা যেন ঠিক সুপার ম্যানের মতন। সেদিন নাকি কারা বড় মেয়েকে দেখে শিশ বাজিয়েছিল, মেয়ের বাবা সোজা জেলে ভরে রেখে এসেছে।

রাজকন্যার বাবা
মারিয়া আফরিন নুপুর

21/10/2023

বিকালের দিকে আমার স্ত্রী শ্রাবণীর সাথে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়ে গেলো। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি পাশের রুম থেকে একটা কোলবালিশ এনে মাথায় তুলে আছাড় মা/র/লাম। শ্রাবণী অবাক হয়ে বললো,
- আরে, এমন করছো কেন?
আমি রেগে গিয়ে বললাম,
--কি আর করবো, তোমায় তো মা/র/তে পারি না কারণ প্রথমত তুমি মেয়ে মানুষ আর দ্বিতীয়ত তোমার বাবা পুলিশ৷ তোমার গায়ে হাত তুললে তোমার বাবা আমাকে চৌদ্দশিকের ভাত খাওয়াবে। তাই কোলবালিশকে মে/রে মনের জ্বালা মিটাচ্ছি

আমার কথা শুনে শ্রাবণী বললো,
- আজ জ্বালা মিটানোর জন্য কোলবালিশ আছাড় মা/র/লে কাল তো আমায় মাথায় তুলে আছাড় মা/রবে

আমি মুচকি হেসে বললাম,
-- আরে না, তোমার মত মুটকিকে কখনোই মাথার উপর তুলা সম্ভব না

শ্রাবণী আমার কথা শুনে প্রচন্ড রেগে গেলো। ব্যাগ গুছিয়ে ফেলেছে বাপের বাড়ি চলে যাবে। আমার সাথে আর সংসার করবে না। কয়েকদিন পর আমাকে নাকি ডিভোর্স লেটার পাঠাবে। রুম থেকে বের হবার সময় আমায় বললো,
- আমি তো এখন পুরাতন হয়ে গেছি তাই আমাকে মুটকি লাগে। কিন্তু ভার্সিটি লাইফে এই মুটকির পেছন পেছন অনাথ কু*কু*রের বাচ্চার মত ঘুরতে
-- তুমি আমাকে কু*কুর বললে?
- তুমি কু-কুরের চেয়েও নিচু স্তরের...
|
|
শ্রাবণী এক রিকশা দিয়ে যাচ্ছে আর আমি পিছন পিছন অন্য একটা রিকশা দিয়ে ওকে ফলো করছি। শ্বশুরবাড়ি সামনে আসলে আমি রিকশা থেকে নেমে ওর কাছে গিয়ে বললাম,
-- তোমার পিছন পিছন এসেছি বলে এটা ভেবো না আমি তোমাকে নিতে এসেছি। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো রাস্তায় তোমার কোন সমস্যা হলে তোমার বাপ আমাকে জেলে ঢুকাতো। তাই তোমার সাথে সাথে এসেছি

শ্রাবণী রেগে গিয়ে বললো,
- তোমার কি ধারণা তোমার মতো নিচু চরিত্রের মানুষ আমাকে নিতে চাইলেই আমি যাবো? যে পুরুষ স্ত্রীকে সম্মান না দিয়ে মুটকি বলে সেই পুরুষের সাথে সংসার করার কোন মানেই হয় না
---
-----

বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা আফজাল সাহেব উনার স্ত্রী রিনাকে বললো,
~ওদের ভবিষ্যৎ কি হবে বলো তো? ওরা দুইজন দুইজনকে ছাড়া থাকতেও পারে না আর দুইজন একসাথেও থাকতে পারে না
আফজাল সাহেবের স্ত্রী রিনা মুচকি হেসে বললো,
~ওরা আর পাল্টাবে না।ওরা এমনি থাকবে
আফজাল সাহেব তখন বললো,
~যাও দরজা খুলো গিয়ে। দেখো গিয়ে আজ আবার নতুন কি নাটক নিয়ে এসেছে । আমি গেলে তো আমাকে দেখে জামাই দৌড়ে পালায়। আমি বুঝি না এই ছেলে আমাকে দেখে এত ভয় পায় কেন?

কলিংবেলের আওয়াজ শুনে শ্বাশুড়ি দরজা খুললো। শ্বাশুড়িকে দেখেই শ্রাবণী বললো,
-আমি কিন্তু আর ওর সাথে যাচ্ছি না। ও আজ আমায় মুটকি বলছে
আমি তখন শ্বাশুড়িকে বললাম,
-- মা, আপনার মেয়ে আমায় অনাথ কু*কুরের বাচ্চা বলছে। আপনাদের মেয়ে আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম এখন আমি যাই
শ্বাশুড়ি তখন বললো,
~এসেছো যখন রাতের খাবারটা খেয়ে যাও

মা, আমি কিন্তু খেতে আসি নি। তারপরও আপনি যেহেতু বলছেন শুধু আপনার কথা রাখার জন্য হলেও আমি রাতে খেয়ে যাবো

পাশ থেকে শ্রাবণী মুখ বাঁকিয়ে বললো,
- কু*কুর কি আর এমনি এমনি বলেছি? কার্যকলাপে বলেছি। এতকিছুর পরেও উনি রাতে খেয়ে যাবেন

এই অপমান আর সহ্য করা যায় না। আমি রাগে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে গেলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম আর যায় হোক শ্রাবণীকে আর বাসায় আনবো না। ওর কথা মনে করারও চেষ্টা করবো না।আজ থেকে আমি ওকে ছাড়াই একা শান্তিতে থাকবো

নিজের বাসায় এসে পরলাম। কিন্তু বাসায় ঢুকার সাথে সাথেই রাগ কমতে লাগলো আর শ্রাবণীকে প্রচন্ড মিস করতে শুরু করলাম। ফ্রিজ থেকে যখন ঠান্ডা পানির বোতলটা বের করলাম তখন মনে পরলো, এই ফ্রিজ কিনার সময় আমাদের কত ঝগড়া হলো। আমি বলেছি কালো রঙের ফ্রিজ নিবো আর ও বলে লাল রঙের নিবে। কিছু ভালো লাগছিলো না দেখে টিভিটা যখন অন করি তখনও শ্রাবণীর কথা মনে পরলো। চাকরির বেতন পেয়ে আমি ৪২ ইঞ্চি এই টিভিটা কিনেছিলাম বলে শ্রাবণী খুব রাগ করেছিলো। ও বলেছিলো, "আমার ২১ ইঞ্চি হলেই চলতো শুধু শুধু এত টাকা কেন নষ্ট করলে।"
নিজের রুমে এসে ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় সামনে দাঁড়াতেই শ্রাবণীর কথা মনে হলো। প্রতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতাম শ্রাবণী এই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছে

খুব ক্লান্ত লাগছিলো দেখে বিছানায় শুয়ে পরি কিন্তু পাশের বালিশটা দেখে শ্রাবণীর কথা মনে পরে গেলো। ও সব সময় এই বালিশে মাথা রেখে ঘুমাতো

বিছানা থেকে উঠে বসলাম আর মনে মনে ভাবতে লাগলাম, এই সব আমি কি ভাবছি। শ্রাবণীর কথা আর ভাববো না। ও একটা বদরাগী মেয়ে। নিজের স্বামীকে কু*কুর বলেছে। চোখ মুখে পানি দেওয়ার জন্য ওয়াশরুমে যখন ঢুকলাম তখন মনে পরলো, গোসলের সময় শ্রাবণী যতবার আমাকে তোয়ালেটা দিতে এসেছে ততবারি আমি শ্রাবণীকে টেনে ওয়াশরুমের ভিতর নিয়ে এসেছি। তারপর ওর গোলাপি ঠোঁ**...
এমন সময় দেয়াল ঘড়ির ঢং ঢং আওয়াজ হতে লাগলো। রাত ১২টা বাজে। এই দেয়াল ঘড়িটাও শ্রাবণী কিনে এনেছে

না আর সহ্য করতে পারছি না। শ্রাবণীকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকা সম্ভব না। এই বাসার প্রতিটা কোণায় প্রতিটা আসবাবপত্রে শ্রাবণীর অস্তিত্ব লুকিয়ে আছে...
---
----

তরকারির ঘ্রাণ পেয়ে আফজাল সাহেব আর উনার স্ত্রী রিনা রান্নাঘরে গেলেন। গিয়ে দেখেন উনাদের মেয়ে রান্না করছে। আফজাল সাহেব অবাক হয়ে মেয়েকে বললো,
~এত রাতে মা কার জন্য রান্না করিস?
মেয়ে মুচকি হেসে বললো,
-তোমাদের জামাইয়ের জন্য। রাতে না খেয়ে থাকলে ও আবার অসুস্থ হয়ে যায়
আফজাল সাহেব বলবো,
~জামাই তো রাগ করে চলে গেছে
মেয়ে মুচকি হেসে বললো,
- গিয়ে দেখো হয়তো গেইটের বাইরে ঘুরঘুর করছে। তুমি ডেকে বাসায় নিয়ে আসো আমি টেবিলে খাবার দিচ্ছি

বেলকনিতে এসে আফজাল সাহেব দেখে পিয়াস বাসার গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে । আফজাল সাহেব উনার স্ত্রীকে বললেন,
~জামাইকে ডেকে বলো উপরে আসতে। আমি ডাকলে ভয়ে আবার আসবে না
---
-----

বাসায় ঢুকে দেখি ডাইনিং টেবিলে আমার পছন্দের সব খাবার। নিশ্চয়ই শ্রাবণী রান্না করেছে। এই মেয়েটা আমায় অসম্ভব রকম ভালোবাসে। আমি তখন শ্বাশুড়িকে বললাম,
-- মা, আমি কিন্তু আপনার মেয়েকে নিতে আসি নি। খাবার রেখে রাগ করে চলে গিয়েছিলাম বলে আবার এসেছি

আমার কথা শুনে শ্বাশুড়ি হাসতে লাগলো আর আড়চোখে শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে দেখি শ্রাবণীও মিটিমিটি হাসছে। এই সেই হাসি, যে হাসি দেখে আমি প্রথম শ্রাবণীর প্রেমে পরেছিলাম

সমাপ্ত

হাসি
আবুল_বাশার_পিয়াস

21/10/2023

ছাত্রী'কে পড়াতে গিয়ে তার পাঁচ বছরের ছোট্ট বোনের কাছ থেকে জানতে পারলাম কিছুদিন পর ছাত্রী'র বিয়ে। মেয়েটা সবেমাত্র ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে জানতে পেরে তার মা'কে ডেকে আধাঘন্টা বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বলার পর সে মাথা নেড়ে চলে গেল। কিছু বুঝলো কি-না জানি না, তবে যেভাবে মাথা নাড়লো তাতে মনে হচ্ছে না কিছু বুঝেছে। মূলত বিয়ে হওয়ার জন্য আমার কোনো সমস্যা নেই। টিউশনি চলে যাবে সেজন্য দিলের মধ্যে পাঁচ হাজার টাকার হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। ওকে ওর গ্রুপ সাবজেক্টগুলো পড়িয়ে আমি মাসে পাঁচ হাজার করে পাই সাথে প্রতিদিন মুখরোচক নাশতা। ওর বিয়ের পর থেকে এগুলো আর পাবো না ভেবেই দিলের মধ্যে হাহাকারের দলেরা মা'রা'মা'রি শুরু করে দিয়েছে।

এই চিন্তার মধ্যেই হুট করে আমার লাফ দিয়ে আমার সামনে এসে চিৎকার করে বললো,

- স্যার, প্রেজেন্ট।

বিয়ের কথা শুনে এমনিতেই মনখারাপ হয়ে গেছে আমার, তারউপর আবার ছাত্রী হুট করে সামনে এসে চিৎকার করে প্রেজেন্ট বলায় মেজাজটাও খারাপ হয়ে গেল। ছাত্রীর এমন কান্ডে চমকে গিয়ে তার দিকে তাকিয়ে দিলাম এক ধমক। ছাত্রীও আমার ভীষণ ন্যাকা। সাথে সাথেই কেঁদে দিলো ধমক খেয়ে। এটা প্রতিদিনের ঘটনা। পড়াশোনার সাথে সাথে সে খুব ভালো কান্নাও করতেও জানে। তাই তার কান্নায় গুরুত্ব না দিয়ে আবার একটা ধমক দিয়ে বললাম,

- তাড়াতাড়ি বইখাতা নিয়ে আমার সামনে বস। নাহলে তোকে আর পড়াবো না। ( রেগে গেলে মাঝে মাঝে তুই করে বলি ছাত্রীকে)

এমনিতেও আর পড়াতে পারবো না জেনেও হুদাই ডায়লগ মা'র'লা'ম। আর দুর্ভাগ্য, নাকি সৌভাগ্য জানি না, তবে তাকে এভাবে ধমক দেয়ার সময় তার পাঁচ বছরের পিচ্চি বোনটাকে দেখলাম গরম চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। পিচ্চিটা এখানে কখন এসেছে সেটা খেয়ালই করিনি আমি। আগে জানলে এভাবে ধমক না দিয়ে ছাত্রীর গাল টেনে আদর করে দিতাম।

আমি পিচ্চিটাকে কাছে ডাকলাম, কিন্তু এক দৌড়ে সে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। মনে হয় মায়ের কাছে বিচার দিতে গেছে। মেজাজটা আরো ভয়ানক খারাপ হয়ে গেল আমার। কোনো কিছু করতে না পেরে হুদাই ছাত্রীর মাথায় ঠাশ করে বই দিয়ে একটা বাড়ি লাগিয়ে দিলাম। ছাত্রীও সাথে জুড়ে দিলো জিকির। এতো বড় মেয়ে এভাবে কান্না করতে পারে সেটা ওকে না দেখলে আমি কখনো জানতে পারতাম না।

কিছুক্ষণ পর আন্টি এসে আমার সামনেই কোনো কথা নেই বার্তা নেই ছাত্রীর গালে ঠাশঠাশ করে কতগুলো থাপ্পড় লাগিয়ে দিলো। আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

- তোমাকে ভালো ভেবেছিলাম আঁধার। বিশ্বাস করে আমার মেয়েটাকে তোমার কাছে পড়াতাম। কিন্তু তুমি বিশ্বাসের এই প্রতিদান দিলে! এজন্যই একটু আগে তুমি ওর বিয়ে না দেয়ার জন্য বলছিলে?

ঘূর্ণিঝড় সিডরের মতো সবকিছু প্রচন্ড বেগে মাথার উপর দিয়ে উড়ে চলে গেল। মেয়েটাকে হুদাই কতগুলো থাপ্পড় দিয়ে এখন আমাকে এসব কী বলছে আন্টি? মেয়ের বিয়ে হয়ে যাবে সেটা ভেবে ভেবে কি উনি এখন থেকেই শোকে পাগল হয়ে যাচ্ছে নাকি? বললাম,

- আন্টি, আমি তো আপনার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না।

সে-ও দ্বিগুণ তেজ নিয়ে ধমকের সুরে বললো,

- এখন বুঝবে কী করে? এসব করার সময় মনে ছিলো না? তুমি এখানেই বসে থাকো, কোথাও যাবে না। তিতলীর (ছাত্রী) বাবা আসুক তারপর যা হবার হবে।

বলেই তীতলির হাত ধরে হনহন করে রুম থেকে বের হয়ে গেল। দরজার সাথে লাগানো পর্দার আড়াল থেকে তীতলির ছোট বোনটাও পিছনে পিছনে গেল দেখলাম।

কলিজা শুকিয়ে গেছে আমার। তীতলির বাবা আর্মি অফিসার যথেষ্ট ভদ্রলোক হওয়া সত্ত্বেও তার চেহারা দেখলেই কেন যেন আমার গলা শুকিয়ে যায়, আর আজকে তো না জানি কী আছে কপালে! কিন্তু আমি করলামটা কী সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। হুট করে আন্টি এমন করলো কেন? সে কখনো আমার সাথে এমন ব্যবহার করে না। আজকে কেন করলো বুঝলামনা!

দুপুর দুইটার দিকে পড়াতে এসেছিলাম আমি। এখন বাজে সন্ধ্যা সাতটা। আন্টি আমাকে এখনো যেতে দেয়নি। এভাবে কেন আমাকে বসিয়ে রেখেছে সেটা এখন পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি। পারবো বলেও মনে হচ্ছে না।

রাত প্রায় এগারোটার দিকে তিতলীর মা তিতলীকে বৌ সাজিয়ে আমার সামনে নিয়ে আসলো। কিছুক্ষণ পর তার বাবাও ঢুকলো ঘরে। সাথে আমার হলের প্রায় চার-পাঁচজন রুমমেট। হুজুরদের মতো দেখতে আরো একজনও আছে সাথে। কেন যেন মনে হলো আজকে আমি জেলখানায় বন্দি হতে যাচ্ছি। আমার রুমমেট জহিরের দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকালাম। সে এমন ভাব করলো যেন আমাকে দেখতেই পায়নি।

তিতলীর বাবা ভদ্রলোক আমার সামনে এসে দুইহাত ধরে বললো,

- বাবা আঁধার, আমি জানি তুমি খুব ভালো একজন ছেলে। এই বয়সে এমন একটু-আধটু ভুল হয়ই। সেটা নিয়ে তোমার কোনো চিন্তা করতে হবে না। আমি আমার মেয়ের বিয়েটা ক্যান্সেল করে দিয়েছি। এখন তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দেবো।

এক বছরের দুধের শিশু দুধ না পেলে যেভাবে অসহায় দৃষ্টিতে তাকায় তার মায়ের দিকে, আমিও সেই দৃষ্টিতেই তাকালাম তিতলীর বাবার দিকে। সে আমার দৃষ্টিলে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে আবার বললো,

- তুমি একটা ভালো ছেলে এবং শিক্ষিত ছেলে। দেখতে-শুনতেও মাশাল্লাহ। তুমি আর মেয়ে যেহেতু ভুল করেই ফেলেছো, এখন তোমাদের তো আর আমরা ফেলে দিতে পারি না, তাই না? এজন্য এখন তোমাদের দুজনের বিয়ে হবে। তোমার বাবা-মা এখানে নেই তাই তোমার বন্ধুদের নিয়ে এসেছি যেন তোমার বিয়ের সাক্ষী হতে পারে। আপাতত বিয়েটা পড়িয়ে পরে কোনো একটা সময়ে তোমার বাবা-মা'কে জানানো যাবে।

দুপুর থেকেই কোনো কিছু বুঝে উঠতে পারছি না আমি। এখনো পারলাম না। রুমমেট জহির হালায় সবখানেই নিজের পাওয়ার দেখায়, কিন্তু এখানে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ওর সাথে বাকিগুলোরও একই অবস্থা। এদিকে আমার যেকোনো মুহূর্তে হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। আমি আর তিতলী কী ভুল করেছি একটাবার কেউ আমাকে জানাচ্ছে না কেন? ভয়ের ঠ্যালায় কিছু বলতেও পারছি না।

শেষ পর্যন্ত জোর করেই আমার রুমমেটদের সাক্ষী রেখে বিয়ে পড়িয়ে দিলো তিতলীর আর আমার। বাসর ঘরটাও সাজানো হয়েছে তিতলীর রুমেই। তিতলী আমার ছাত্রী থেকে বৌ হয়ে গেছে তাতে কোনো প্রবলেম নেই। যথেষ্ট রূপবতী একটা মেয়ে তিতলী। কিন্তু কী ভুলের কথা বলছিলো তখন আঙ্কেল সেটা কি বেঁচে থাকতে কেউ বলবে আমাকে? কী এমন করলাম যে, একজন বেকার ছেলের সাথে এমন একজন ধনী পরিবারের রূপবতী মেয়েকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিলো?

চিন্তাভাবনার মধ্যেই তিতলী আমার সামনে এসে তখনকার মতোই চিৎকার করে বলে উঠলো,

- ওগোওওওও!

এবার আর মেজাজ দেখালাম না। একবার মেজাজ দেখিয়ে বাসর ঘর পর্যন্ত এসেছি। এখন যদি আবার মেজাজ দেখাই তাহলে যে গোরস্থান পর্যন্ত যাবো না তার কোনো গ্যারান্টি নেই। তাই শান্ত দৃষ্টিতে তাকালাম আমার ছাত্রী'র দিকে। সুন্দর করে বললাম,

- দিন দিন অভদ্রের শেষ সীমায় পৌঁছে যাচ্ছো তুমি।

- কেন, কী হয়েছে তোমার?

- নিজের শিক্ষকের সাথে কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা জানো না তুমি?

- সে কী! এখন থেকে তো আমরা আর শিক্ষক-ছাত্রী নেই। এখন থেকে তো আমরা জামাই-বৌ।

হুট করে মনে পড়ে গেল, আসলেই তো ঠিক বলেছে মেয়েটা। আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। তাহলে আমি কেন তাকে এখনো ছাত্রী'র চোখেই দেখছি? বৌয়ের নজরে দেখতে পারছি না কেন?

- কীগো, কী হয়েছে তোমার? এমন চুপচাপ কেন?

- তুমি এসব কী শুরু করেছো? "ওগো, কীগো" এসব কী? ভালো করে কথা বলতে পারো না?

- পারি তো স্যার। আপনার জন্য আমার খুব মায়া হচ্ছে স্যার।

- কেন?

- এই যে একটা ভুল শুনার জন্য আমাদের বিয়ে হয়ে গেল তাই।

- কীসের ভুল? আমাকে একটু বুঝিয়ে বলো। কী থেকে কী হয়ে গেল আমি সত্যি বুঝতে পারছি না।

- স্যার, তখন আমি চিৎকার করে বলেছিলাম না, 'প্রেজেন্ট?' আর সেজন্য আপনি আমার মতো কিউট একটা মেয়েকে বই দিয়ে মাথায় বাড়ি মেরেছিলেন, যার জন্য আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আমার ছোট বোন সেটা দেখে দৌড়ে গিয়ে আম্মুকে বলেছিলো আমি নাকি প্রেগন্যান্ট! প্রেগন্যান্ট হয়ে নাকি আমি কান্না করছিলাম আপনার সামনে বসে বসে। আম্মুও ওইটুকু পিচ্চির কথা বিশ্বাস করে নিয়েছে কারণ বাচ্চারা নাকি কখনো মিথ্যা বলে না। আম্মু ভেবেছে পড়াশোনার ভিতরে ভিতরে আপনার আর আমার প্রেমের সম্পর্ক আছে। আর সেখান থেকেই আপনি আমাকে সুযোগ বুঝে প্রেগ্ন্যান্ট করে দিয়েছেন। তাই জোর করে আমাকে আপনার সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। আমি অনেক বুঝিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

কথাগুলো বলেই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লো বিছানায়। সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে কলেজে উঠেছে। এই মেয়ে কতো সহজেই না বলে দিলো, 'আপনি আমাকে সুযোগ বুঝে প্রেগ্ন্যান্ট করে দিয়েছেন!' এখনকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে কি লজ্জাশরম বলতে কিছু নেই?

সমাপ্ত
তিতলী

21/10/2023

অফিসে যাওয়ার আগ মুহুর্তে আমার স্ত্রী যখন আমার কাছে জানতে চাইলো আমি তার ছোট বোনের বিয়েতে কি উপহার দিবো তখন আমি বললাম,
- তুমি তোমার পছন্দমতো কিছু একটা কিনে দিও

আমার স্ত্রী কিছুটা রেগে বললো,
-" কিছু একটা কিনে দিবো মানে? তুমি জানো দুলাভাই আমার বোনকে কি উপহার দিচ্ছে? ১লাখ ২০হাজার টাকা দিয়ে সোনার কন্ঠ হার!

আমি বললাম,
-তাহলে এখন আমার কি করতে হবে?

আমার স্ত্রী হেসে বললো,
-" আমি আমার বোনকে ২লাখ টাকা দিয়ে সিতা হার কিনে দিবো।"

কথাটা শুনে আমি অবাক হয়ে বললাম,
-এতো টাকা!

আমার স্ত্রী মুখটা মলিন করে বললো,
-" দুলাভাই যদি ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে এতোটাকা দিয়ে উপহার দিতে পারে তাহলে তুমি ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে কেন পারবে না? এখন তুমি যদি দুলাভাইয়ের চেয়েও কম দামের উপহার দাও তাহলে বাপের বাড়িতে আমি মুখ দেখাতে পারবো?

আমি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললাম,
-আচ্ছা ঠিক আছে। আফিস থেকে আসার পর তোমায় টাকা দিচ্ছি।

কথাটা বলে আমি বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম-----

অফিসে এসে রায়হান সাহেবের ফাইলটা ভালো করে দেখে বললাম,
-আপনার তো দেখছি কাগজ পত্রের কিছুই ঠিক নেই। আমি এই প্রজেক্টে সাইন কিভাবে করি বলেন তো?

রায়হান সাহেব মুচকি হেসে বললো,
-" স্যার একটু দেখেন না! আপনি এতো বড় অফিসার। কিছু তো ফাঁক ফোকর আছে সাইনটা করে দেওয়ার জন্য। একটা কমলের খোঁচার বিনিময়ে আপনিও না হয় লাখ তিনেক টাকা পেয়ে গেলেন।"
কথাটা বলে রায়হান সাহেব টাকাগুলো টেবিলের উপর রাখলেন

আমি রায়হান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললাম,
- আপনি কি আমায় ঘুষের অফার করছেন?

রায়হান সাহেব জ্বিভে কামড় দিয়ে মুচকি হেসে বললো,
-" না না স্যার, একদম না। টাকাটা আমি আপনাকে উপহার সরূপ দিচ্ছি। আপনি ভাবীকে নিয়ে নাহয় থাইল্যান্ড গিয়ে ৩দিনের একটা ট্যুর দিয়ে আসলেন।"

আমি টাকা গুলো ড্রয়ারে রেখে মুচকি হেসে বললাম,
- আপনি তো দেখছি পাকা খেলোয়াড়। ঠিক আছে আমি ফাঁক ফোকর খুঁজে কাল সাইন করে দিবো।

রায়হান সাহেব চলে গেলে আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম, যাক শ্যালিকাকে সিতা হার কিনে দেওয়ার টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেলো। এমন সময় হাবীব নামের একজন কলিগ আমার রুমে আসলো। সে যখন বললো সে চাকরি থেকে রিজাইন নিতে চায় তখন আমি খুব অবাক হয়ে উনাকে বললাম,
-তুমি এতো ভালো একটা চাকরি ছেড়ে দিতে চাইছো? তুমি জানো এই চাকরির জন্য কত মানুষ দিন রাত পরিশ্রম করছে?
হাবীব মুচকি হেসে বললো,
-“স্যার, এই চাকরি করলে হয় আমাকে ঘুষ খেতে হবে, না হয় রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে হবে। আমি অসৎও হতে পারবো না, আর রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে চাই না। তাই চাকরিটা ছেড়ে দিচ্ছি।”

কথাটা শুনে আমি কিছুটা খোঁচা দিয়ে হাবীবকে বললাম,
-আমার জানা মতে আপনি আমাদের সেক্টরে সবচেয়ে বেশিই ঘুষ খান। সেই আপনি কবে থেকে সৎ হলেন?

হাবীব আবারও মুচকি হেসে বললো,
-“যেদিন থেকে বুঝলাম আমার পাপের ফল আমার আপনজনরা ভোগ করছে। আমি প্রথম যেদিন ১০ হাজার টাকা ঘুষ খাই সেদিন বাসায় গিয়ে শুনি আমার ছেলেটার পা ভেঙে গেছে। ২য় বার যখন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ খাই তার কয়েকদিন পর জানতে পারি আমার স্ত্রীর জরায়ুতে টিউমার হয়েছে। আর ৩য় বার যখন ১লাখ টাকা ঘুষ খাই তখন গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন আসে আমার মা মারা গেছে। তারপরই আমি বুঝতে পেরেছি আমার ভুলটা।”

চলে যাবার আগ মুহুর্তে হাবীব আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-” স্যার, আপনি অবৈধ ভাবে যদি ৫টাকা ইনকাম করেন উপরওয়ালা আপনার থেকে বৈধ ভাবে ২০টাকা কিভাবে যে কেড়ে নিবে আপনি বুঝতেই পারবেন না।”

হাবীব চলে গেলে আমি ওর কথাগুলো একটু চিন্তা করলাম।

বাসায় আসার পর আমার স্ত্রী যখন আমার কাছে টাকা চাইলো আমি তখন ওর হাতে আমার বেতনের টাকাটা তুলে দিয়ে বললাম,
- এইখানে ৪৫হাজার টাকা আছে। এই টাকা দিয়ে তুমি বাসা ভাড়া দিবে, গ্যাস বিল, পানির বিল, কারেন্ট বিল দিবে, বাজার খরচের টাকা আলাদা করে রাখবে , হাত খরচের টাকা আলাদা করে রাখবে। আর চিকিৎসা বাবদ কিছু টাকা জামা রাখবে। সব কিছুর পর যদি কিছু টাকা বেঁচে থাকে সেই টাকা দিয়ে বোনকে উপহার কিনে দিবে।

আমার কথা শুনে আমার স্ত্রী অবাক হয়ে বললো,
-“সব কিছুর পর তো হাতে দুই হাজার টাকাও থাকবে না। আমি দুই হাজার টাকা দিয়ে বোনকে উপহার কিনে দিবো?

আমি রাগী চোখে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললাম,
-সংসারের সব খরচ চালানোর পর তোমার স্বামীর হাতে ২ হাজার টাকাও থাকে না আর তুমি কোন সাহসে বলো তোমার বোনকে দুইলাখ টাকা দিয়ে সোনার হার কিনে দিতে?
বউ তখন কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-“বাপের বাড়ি মুখ দেখাবো কি করে?”
আমি আরো রেগে বললাম,
-মুখ দেখাতে না পারলে বোরকা পড়ে বসে থেকো।এখন কান্না বন্ধ করে আপাতত আমার সামনে থেকে যাও তা নাহলে কান গরম করে ফেলবো।

বউ কান্না করতে করতে চলে গেলো আর আমি ভাবতে লাগলাম,
কাল রায়হান সাহেব আসলে উনার কানটা গরম করে টাকাগুলো ফিরত দিতে হবে

ঘুষখোর
আবুল বাশার পিয়াস

19/10/2023

সেদিন অনেক রাত করে বাসায় ফিরলাম। ডায়নিং টেবিলে আমার স্ত্রী যখন রাতের খাবার পরিবেশন করছিল তখন আমি তার হাতে হাত রেখে বললাম, তোমার সাথে কিছু কথা আছে। সে আমার সামনের চেয়ারে বসল, বিরস চিত্তে নিরবে খাওয়া দাওয়া করছিল। আমি তার নিষ্প্রাণ চোখে চাপা কষ্ট দেখতে পেলাম। কিভাবে কথা শুরু করবো সেটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না, নিরব সময়টুকু তাকে অবচেতন মনে দিয়ে দিলাম, যাতে সে তার মনের মধ্যেই কিছুটা আঁচ করতে পারে।

এক সময় নিরবতা ভেঙ্গে বলেই ফেললাম, আমি ডিভোর্স চাই। আমার কথায় তার মধ্যে তেমন কোন ভাবান্তর লক্ষ্য করলাম না, সে স্বাভাবিক ভাবে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, কেন?

এই ছোট প্রশ্নের তেমন কোন যৌক্তিক উত্তর আমার কাছে সে সময় ছিলনা, আমি চুপ করে থাকার কারনে সে রেগে গেল কিছুটা, এরপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি একটা কাপুরুষ। এটাই ছিল সে রাতে তার শেষ কথা আমার সাথে, কারন আমি আসলেই এই ডিভোর্স চাওয়ার কোন উপযুক্ত কারন দাঁর করাতে পারছিলাম না, শুধু এতোটুকুই আমার মাথায় আসছিলো, আমি আরেকজনকে ভালবেসে ফেলেছি, আমার হৃদয় এখন জেনিফারের কাছে। গত কদিন ধরে আমি আমার স্ত্রীর জন্য এক ফোঁটাও ভালবাসা অনুভব করিনি, কিন্তু আজকে তার জন্য আফসোস হচ্ছে।

হঠাৎ করেই আমার মধ্যে একটা অপরাধবোধ জেগে উঠলো, আমার স্ত্রীর প্রতি কোন ভালবাসা না থাকলেও কোনরকম ঘৃণা ছিল না। দশ বছরের বিবাহিত জীবনে আমি তার কোন আচরণে তেমন মনক্ষুণ্ণ হয়েছি বলে মনে পড়ে না। ডিভোর্স সেটেলমেন্টে তাকে আমার বাড়ি, একটা গাড়ি আর আমার কোম্পানির ২৫% শেয়ার দিয়ে তার হাতে এগ্রিমেন্ট পেপার দিলাম। সে সেটা কিছুক্ষণ দেখে ছিঁড়ে কুটি কুটি করে ফেলল। আমি তাকে বললাম, “তুমি ভুল করছ, আমি স্বেচ্ছায় তোমাকে সম্পত্তি দিয়েছি, আমি চাই তুমিও তোমার নতুন জীবনে সুখি হও”। এবার সে আর নিজেকে সামলাতে না পেরে আমার সামনে কেঁদে ফেলল, যেটা আমি চাইছিলাম। গত কদিন ধরে যে চিন্তাগুলো আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, এখন আমি বুঝতে পারছি আমার ডিভোর্স পেতে আর তেমন কোন কষ্ট হবে না।

পরদিন আমি অফিস থেকে বাসায় পৌঁছে দেখলাম আমার স্ত্রী কি যেন লিখছে, আমি ক্লান্ত ছিলাম, সারাদিন জেনিফারের সাথে ভালই কেটেছে, বাইরে থেকে খেয়ে এসেছি। তাই ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে সে আমাকে তার ডিভোর্স কন্ডিশন দিল, তাতে লেখা ছিল সে এক মাস সময় চায়, আর এই এক মাসে যতটা সম্ভব আমার সাথে সাধারণ ভাবে কাঁটাতে চায়। কারন হিসেবে বলল, আগামী মাসে আমাদের একমাত্র ছেলের পরীক্ষা, তাই সে কোন মতেই চায় না এই ডিভোর্সের কারনে তার পরীক্ষার কোন ক্ষতি হোক। তার এই চাওয়াগুলো খুবই স্বাভাবিক ছিল, তাই আমি তাতে রাজী হয়ে গেলাম। কিন্তু আরেকটি জিনিষ যেটা সে ডিভোর্স কন্ডিশনের একদম নিচে লিখেছিল, অবাক করার মত একটি অনুরোধ, সেটি হচ্ছে আমি যেভাবে আমাদের বিয়ের রাতে তাকে কোলে নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকেছিলাম, সেই একই ভাবে আগামী এক মাস তাকে বেডরুম থেকে লিভিং রুম পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে প্রতিদিন সকালে।

আমি জেনিফারকে আমার স্ত্রীর এই আজব ইচ্ছের কথা বললাম, সে হাঁসতে হাঁসতে বলল, তোমার স্ত্রী যত বুদ্ধিই করুক, ডিভোর্স তাকে দিতেই হবে, তুমি আমার হবেই।

ডিভোর্সের যাবতীয় বিষয় খোলাসা হবার পর থেকে তার সাথে আমার সব রকম যোগাযোগ অনেকটা বন্ধ হয়ে গেল। প্রথম দিন যখন তাকে আমি কোলে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলাম, আমার একটু কষ্ট হচ্ছিলো, মনে হচ্ছিলো আমায় বয়স ধরে ফেলেছে কিছুটা। সে আমার বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে বলছিল, ছেলে কে ডিভোর্সের ব্যাপারে কিছু বলার দরকার নেই। আমি নিরবে সায় দিলাম। এমন সময় আমার ছেলে পেছন থেকে আনন্দে চেঁচিয়ে উঠলো, “আব্বু আম্মুকে কোলে নিয়েছে” আর হাততালি দিচ্ছিল, শেষ কবে তাকে এমন উৎফুল্ল দেখেছিলাম মনে করার চেষ্টা করলাম, তার কথা আমার শিরদাঁড়ায় একটা শিহরণ বয়ে নিয়ে গেল। কোথায় যেন একটা খারাপ লাগা অনুভব করলাম, কিন্তু এর উৎস তখন বুঝতে পারছিলাম না। এরপর তাকে লিভিং রুমে নামিয়ে দিলাম, সে সকালের নাস্তা রেডি করতে ব্যস্ত হয়ে গেল। এরপর খাওয়া দাওয়া সেরে তৈরি হয়ে আমি অফিসের উদ্দেশে বেড়িয়ে গেলাম, সেও তার কাজে চলে গেল।

দ্বিতীয় দিন আমরা আরও স্বাভাবিক আচরণ করলাম, যখন তাকে কোলে তুলে নিলাম, সে আমার বুকে মাথা রাখল, আমি তার মৃদু গন্ধ পাচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হচ্ছিল, আমি এই মহিলার দিকে অনেকদিন এভাবে মনোযোগ দেইনি। বুঝতে পারলাম, সে আর আগের মত যুবতী নেই, তার চেহারায় হাল্কা ভাঁজ পড়েছে, তার দুএকটি চুল সাদা হয়েছে। আমাদের সংসারের যত ওজন সব মনে হচ্ছিলো সে একাই এতোদিন বহন করেছে। কিছুক্ষণের জন্য একটু অন্যমনস্ক হয়ে ভাবছিলাম, আমি তার সাথে এতোদিন যে অন্যায়গুলো করেছি।

চতুর্থ দিন যখন তাকে কোলে নিলাম, তখন মনে হচ্ছিলো আমাদের সেই পুরনো দিনগুলোর কথা, আমার স্ত্রীর প্রতি সেই পুরনো আকর্ষণ ফিরে আসছে অনুভব করছিলাম আমি। এইতো সেই মহিলা, যে তার জীবনের বিগত দশটি বছর আমার সাথে সংসার করেছে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিনে লক্ষ্য করলাম, আমার স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে, যদিও জেনিফারকে এ বিষয়ে কিছুই বলিনি। যতই দিন যাচ্ছিলো, আমার স্ত্রীকে কোলে নেয়ার বিষয়টা ততই সহজ মনে হচ্ছিলো, হয়তো বিগত দিনগুলোর কারনে অভ্যস্ত হয়ে পরছিলাম অথবা নিজের কাছেই ভাল লাগছিল।

এরমধ্যে একদিন সকালে দেখলাম সে তার ড্রেসগুলো পড়ে দেখছিল আর বলছিল সবগুলো ড্রেস এখন বড় হয়। আমি লক্ষ্য করলাম সে শুঁকিয়ে যাচ্ছে, তখন বুঝতে পারলাম কেন এখন তাকে কোলে নেয়াটা সহজ হয়ে গিয়েছে। আবারও সেই মৃদু ব্যাথা অনুভব করলাম, এতো কষ্ট যে নিরবে সহ্য করে নিয়েছে, অবচেতন মনেই আমি তার কাছে গেলাম, তার মাথায় হাত রাখলাম। এমন সময় আমার ছেলে আসলো, আমাকে বলতে লাগলো, আব্বু এবার আম্মুকে কোলে নেয়ার সময় হয়েছে। প্রতিদিন সকালে তার মাকে কোলে নেয়ার ব্যাপারটা তার কাছে এখন সবচেয়ে পছন্দের বিষয়। আমার স্ত্রী তাকে কাছে ডাকল, তারপর তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেল। আমি অন্য দিকে ফিরে রইলাম, ভয় হচ্ছিলো যদি আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরে যাই। এরপর বিগত দিনগুলোর মত তাকে কোলে তুলে নিলাম, সে আমার গলায় জড়িয়ে ধরল, আমিও তাকে বুকের মধ্যে আরও আগলে ধরলাম, মনে হচ্ছিলো আমি আমার বিয়ের প্রথম রাতে আবার ফিরে গিয়েছি। এর সাথেই তো আমি আমৃত্যু থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।

শেষদিন তাকে আরও হাল্কা মনে হচ্ছিলো, তার জন্য আমি মনে মনে নিজেকে দোষারোপ করছিলাম। প্রতিদিনের মতই তাকে লিভিং রুমে নিয়ে গেলাম, তার চোখের কোনে দুফোঁটা অশ্রু দেখতে পেলাম কিন্তু ঠোঁটে মৃদু হাঁসি। আমি তাকে শেষ চুমু খেলাম, কত দিন পর জানি না। ও আবেশে চোখ বন্ধ করে ফেলল। এরপর অফিসের উদ্দেশে বেড়িয়ে গেলাম। অফিস শেষ করে বাসায় পৌঁছানোর সময় জেনিফারকে ফোন দিলাম, বললাম আমি দুঃখিত, তোমাকে আমি বিয়ে করবো না আর আমার স্ত্রীকেও আমি ডিভোর্স দিবো না। জেনিফার কিছু বলার আগেই আমি ফোন রেখে দিলাম।

বাসায় পৌঁছে আমার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বললাম, আমি ডিভোর্স চাই না। ও প্রথমে একটু চমকে উঠলো, তৎক্ষণাৎ আমাকে জোরে একটা থাপ্পড় দিলো, তারপর বেডরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। আমি সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম, একটা ফুলের দোকানে গেলাম, ওর পছন্দের সমস্ত ফুল দিয়ে একটা বুকেট বানালাম। সেলসগার্ল জিজ্ঞেস করলো, গিফট কার্ডে কি লিখবো। আমি বললাম, “যতদিন মৃত্যু আমাদের আলাদা না করে, ততদিন আমি প্রতিদিন তোমাকে কোলে নিয়ে যাবো”। এরপর ওর পছন্দের চকলেট কিনলাম। এরপর বাসার উদ্দেশে রওয়ানা দিলাম।

গল্প এখানে শেষ হয়ে গেলেই ভাল হত।

বাসায় ফিরলাম হাতে আমার স্ত্রীর জন্য উপহার আর মুখে একটা তৃপ্তির হাঁসি নিয়ে, শুধুমাত্র তাকে নিরব নিথর অবস্থা খাটে পড়ে থাকতে দেখার জন্য। সে গত কয়েক মাস ধরেই ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে চলেছিল, যেটা আমি বুঝতে পারিনি বা আমাকে বুঝতে দেয় নি। আমার স্ত্রী জানতো তার হাতে আর বেশী দিন সময় নেই, অথচ সে কখনো চায়নি আমার ও জেনিফার সম্পর্ক আমাদের সন্তানের মনে আমার বিরুদ্ধে কোন প্রকার ক্ষোভ সৃষ্টি হোক। তাইতো জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত সে আমাকে প্রমান করে গেল, আমি একজন ভাল স্বামী ছিলাম।

#অদৃশ্য_ভালবাসা

Address

Noadapara, Sopura, Shah Makhdum
Tejkunipara
6000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fast & Trust Online Shop posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Fast & Trust Online Shop:

Share