10/03/2016
চাঁদ মামার সকল উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা
শেয়ার করলাম, পড়ে ভাল লাগলে শেয়ার করতে
পারেন।
আমি ছোট বেলা থেকেই লেখাপড়াই ভাল ছাত্র
ছিলাম,তাই আমার বাবার ইচ্ছে ছিল আমি ডাক্তার অথবা
ইঞ্জিনিয়ার হব।কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে আমার
ইচ্ছে পরিবর্তন হতে লাগলো। নিজেকে
উদ্যোক্তা হিসেবে দেখার ইচ্ছে আমাকে আর
ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার হতে দিলো না। এই কারণে বাবা
আমার ওপর অনেকদিন রেগে ছিলেন ।অনার্স ১ম
বর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম বাবার
অনিচ্ছাই। পার্ট টাইম চাকরি খুঁজে বের করলাম কিন্তু
পরিবারের কেউ জানত না ।চাকরি করলাম কিছুদিন তারপর
ছোট ছোট কিছু ব্যবসা করার উদ্যোগ নিলাম সাথে
নিলাম কিছু বন্দু ।এই ছোট উদ্যোগ গুলো
পরবর্তীতে পরিপক্কতা লাভ করে । ক্লাসে
নিজের গাড়ি নিয়ে অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষা
দিতে যাওয়া একমাত্র ছাত্র ছিলাম আমি। তখন থেকে
আজ অবধি আমি নিজেকে ব্যবসায়ীর চাইতেও
উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করি। এসব
কথা গুলো বলার কারণ একটাই আর তা হল ডিজিটাল
দাসত্বকে আমি পছন্দ করি না। চাকরি মানেই নিজের
জীবনটা অন্যর হাতে তোলে দেওয়া, ৯-৫ টা চাকরি
করে নিজের জীবনকে নির্দিষ্ট কিছু দেয়ালের
মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষপাতি আমি নই ।নিজের
মেধা,শ্রম কাজে লাগিয়ে বেতনের চাইতে
কয়েক গুণ বেশি আয় মালিক কে করে দিলেই
আমরা সামান্য কিছু বেতন হিসেবে পায়। নিজের মেধা
এবং শ্রম দিয়ে নিজস্ব উদ্যোগ গুলো বাস্তবায়ন
করলেই আমরা নিজেদের সফল হিসেবে
দেখতে পারবো ফলে আমরা নিজেরাই অন্যকে
চাকরি দিতে পারব। এতে দেশে তরুণ উদ্যোক্তার
সংখ্যা বাড়বে এবং বেকার সমস্যার সমাধান হবে।
কিছু দিন আগে আমার ব্যবসায় সামান্য লোকসান হয়
তখন আমার আব্বু বলল,তোমাকে বলেছিলাম ডাক্তার
,ইঞ্জিনিয়ার হতে এখন কি লাভ হল ?
উত্তরে আমি বললাম আব্বু পরিকল্পনা করতেছি একটা
হাসপাতাল করব যেখানে অনেক ডাক্তারকে চাকরি দিব
(ডাক্তারদের ছোট করে এটা বলা হই নাই) ।
আমরা আমাদের স্বতন্ত্র আইডিয়া গুলো
বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিলেই ভাল কিছু করতে পারব।
কারণ প্রতিটি মানুষের নিজস্ব কিছু স্বকীয়তা/ আইডিয়া
থাকে যারা এই আইডিয়া গুলো বাস্তবায়ন করে তারাই
উদ্যোক্তা ।
অনেকেই ব্যবসায় পুঁজির কথা বলবেন, তাঁদের
উদ্দেশ্যে বলছি এই পৃথিবীতে আজ যারা সফল
তাদের কারো কাছেই পর্যাপ্ত পুঁজি ছিল না। আপনার
উদ্যোগ, শ্রম, সততা, একাগ্রচিত্তটা ঠিক থাকলেই
আপনি সফল হতে পারবেন।
কিছু ব্যাপার এক্ষেত্রে কাজ করে। দুএকটি বলছি।
প্রথমেই আসে পরিশ্রমের ব্যাপারটা। যারা আপনার
চাইতে এগিয়ে, তারা আপনার চাইতে বেশি পরিশ্রমী।
এটা মেনে নিন। ঘুমানোর আনন্দ আর ভোর
দেখার আনন্দ একসাথে পাওয়া যায় না। শুধু পরিশ্রম
করলেই সব হয় না। তা-ই যদি হত, তবে গাধা হত বনের
রাজা। শুধু পরিশ্রম করা নয়, এর পুরস্কার পাওয়াটাই বড় কথা।
আপনি এক্সট্রা আওয়ার না খাটলে এক্সট্রা মাইল এগিয়ে
থাকবেন কীভাবে? সবার দিনই তো ২৪ ঘণ্টায়। আমার
বন্ধুকে দেখেছি, অন্যরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন
সে রাত জেগে আউটসোর্সিং করে। ও রাত জাগার
সুবিধা তো পাবেই! আপনি বাড়তি কী করলেন,
সেটাই ঠিক করে দেবে, আপনি বাড়তি কী পাবেন।
আপনি ভিন্নকিছু করতে না পারলে আপনি ভিন্নকিছু
পাবেন না। বিল গেটস রাতারাতি বিল গেটস হননি। শুধু
ভার্সিটি ড্রপআউট হলেই স্টিভ জবস কিংবা জুকারবার্গ
হওয়া যায় না।বড় মানুষের বড় প্রস্তুতি থাকে।
নজরুলের প্রবন্ধগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন,
উনি কতটা স্বশিক্ষিত ছিলেন। শুধু রুটির দোকানে
চাকরিতেই নজরুল হয় না। কিংবা স্কুলকলেজে না
গেলেই রবীন্দ্রনাথ হয়ে যাওয়া যাবে না। সবাই
তো বই বাঁধাইয়ের দোকানে চাকরি করে মাইকেল
ফ্যারাডে হতে পারে না, বেশিরভাগই তো
সারাজীবন বই বাঁধাই করেই কাটিয়ে দেয়।
স্টুডেন্টলাইফে কে কী বলল, সেটা নিয়ে মাথা
ঘামাবেন না। আমাদের ব্যাচে যে ছেলেটা
প্রোগ্রামিং করতেই পারত না, সে এখন একটা
সফটওয়্যার ফার্মের মালিক। যাকে নিয়ে কেউ
কোনদিন স্বপ্ন দেখেনি, সে এখন হাজার হাজার
মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। ক্যারিয়ার নিয়ে যার
তেমন কোন ভাবনা ছিল না, সে সবার আগে পিএইচডি
করতে আমেরিকায় গেছে। সব পরীক্ষায়
মহাউত্সািহে ফেল করা ছেলেটি এখন একজন সফল
ব্যবসায়ী। আপনি কী পারেন, কী পারেন না, এটা
অন্যকাউকে ঠিক করে দিতে দেবেন না। পাবলিক
ভার্সিটিতে চান্স পাননি? প্রাইভেটে পড়ছেন? কিংবা
ন্যাশনাল ভার্সিটিতে? সবাই বলছে, আপনার লাইফটা
শেষ? আমি বলি, আরে! আপনার লাইফ তো এখনো
শুরুই হয়নি। আপনি কতদূর যাবেন, এটা ঠিক করে দেয়ার
অন্যরা কে? লাইফটা কি ওদের নাকি? আপনাকে
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে কেন? কিংবা ডাক্তারি পাস
করে কেন ডাক্তারিই করতে হবে? আমার পরিচিত
এক ডাক্তার ফটোগ্রাফি করে মাসে আয় করে ৬-৭
লাখ টাকা। যেখানেই পড়াশোনা করেন না কেন,
আপনার এগিয়ে যাওয়া নির্ভর করে আপনার নিজের
উপর। শুধু ‘ওহ শিট’, ‘সরি বেবি’, ‘চ্যাটিংডেটিং’ দিয়ে
জীবন চলবে না। আপনি যার উপর ডিপেনডেন্ট,
তাকে বাদ দিয়ে নিজের অবস্থানটা কল্পনা করে
দেখুন। যে গাড়িটা করে ভার্সিটিতে আসেন,
ঘোরাঘুরি করেন, সেটি কি আপনার নিজের টাকায়
কেনা? ওটা নিয়ে ভাব দেখান কোন আক্কেলে?
একদিন আপনাকে পৃথিবীর পথে নামতে হবে। তখন
আপনাকে যা যা করতে হবে, সেসব কাজ এখনই করা
শুরু করুন। জীবনে বড় হতে হলে কিছু ভাল বই
পড়তে হয়, কিছু ভাল মুভি দেখতে হয়, কিছু ভাল
মিউজিক শুনতে হয়, কিছু ভাল জায়গায় ঘুরতে হয়, কিছু
ভাল মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কিছু ভাল কাজ
করতে হয়। জীবনটা শুধু হাহাহিহি করে কাটিয়ে দেয়ার
জন্য নয়। একদিন যখন জীবনের মুখোমুখি দাঁড়াতে
হবে, তখন দেখবেন, পায়ের নিচ থেকে মাটি
সরে যাচ্ছে, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ছে। স্কিল
ডেভেলাপমেন্টের জন্য সময় দিতে হয়। এসব
একদিনে কিংবা রাতারাতি হয় না।
আপনার নিজের মধ্যেই সুপ্ত আলো আছে,সেই
আলোতে নিজে আলোকিত হন এবং চাঁদ মামাকে
আলোকিত করেন।আমরাই পারি বর্তমান সরকারের
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে।
কারণ ১ লক্ষ তরুণ উদ্যোক্তা একসাথে একটা
অর্গানাইজেশন এর ছায়া তলে কাজ করলে
নিজের,সমাজের,দেশের উন্নয়ন অসম্বব কিছুই না।