17/02/2025
পরিবেশ দূষণের কথা আমরা সবাই জানি। আমরাই আমাদের পরিবেশ দূষণ করে চলেছি প্রতিনিয়ত, যার ফলাফল আমাদেরই ভোগ করতে হচ্ছে। আমাদের দেশে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেক বেশি, এবং এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হলো ইটভাটা।
একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, আমাদের দেশে ৪০ মিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরণ হয়, যার মধ্যে ২২ শতাংশ শুধুমাত্র ইটভাটার কারণে। এত বিশাল পরিমাণ কার্বন আমাদের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং বায়ুর মান অত্যন্ত খারাপ করে দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, আমাদের দেশের মোট পরিবেশ দূষণের ২৩ শতাংশই ইটভাটার জন্য।
আমরা যে লাল ইট দেখি, তার মূল উপাদান হলো মাটি। লাল ইট তৈরির জন্য ব্যবহৃত মাটির কারণে আমাদের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
আমাদের দেশে প্রতিদিন ৭০০ একর জমি বিভিন্ন কারণে ক্ষতির শিকার হচ্ছে, যার মধ্যে ১ শতাংশ ফসলি জমি। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে ইটভাটার কারণে। কারণ, ইট প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত মাটির অধিকাংশই ফসলি জমি থেকে সংগ্রহ করা হয়। কৃষি জমি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে, আর তার ওপর কৃষি জমি ব্যবহার করে ইট তৈরির ফলে সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখনই যদি ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষি জমির পরিমাণ আরও কমে যাবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে আমাদের দেশে ৮,৬৮৬টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে ৩,৪৯১টি ইটভাটার কোনো নিবন্ধন নেই। তবে আশার কথা হলো, এর মধ্যে ৯২০টি ইটভাটা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে সরকার।
পরিবেশের ওপর ইটভাটার এমন নেতিবাচক প্রভাবের কারণে সরকার নতুন ইটভাটার নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে। এখন আর নতুন কোনো ইটভাটার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।
পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ইটভাটা বন্ধ না করতে পারলে দেশের পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে না। এরই প্রেক্ষাপটে সরকার ইটভাটা বন্ধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং পর্যায়ক্রমে ইটভাটা বন্ধ করতে চাইছে। পাশাপাশি, ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার উৎসাহিত করছে। উন্নত বিশ্বে কংক্রিট ব্লক ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকার ইটভাটা বন্ধে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইটভাটা বন্ধের সময়সীমা:
২০২৩-২০২৪: ১০%
২০২৪-২০২৫: ২০%
২০২৫-২০২৬: ৩০%
২০২৬-২০২৭: ৬০%
২০২৭-২০২৮: ৮০%
২০২৮-২০২৯: ১০০%
বিভিন্ন প্রকৌশল অধিদপ্তরে ব্লকের ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্য:
গণপূর্ত অধিদপ্তর: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ১০৭টি প্রকল্পে ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। টেন্ডারে ১০" গাঁথুনিতে ৮১% ব্লক ও ১৯% পোড়ানো ইট, ৫" গাঁথুনিতে ৬৭% ব্লক ও ৩৩% পোড়ানো ইট, এবং রাস্তায় ৬০% ব্লক ও ৪০% পোড়ানো ইট ব্যবহৃত হয়েছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫% ব্লক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর: জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুসারে, গ্রামীণ সড়ক টাইপ-বি প্রকল্পে ২০২৪ সালে ৭%, ২০২৫ সালে ১৫%, এবং ২০২৬ সালে ৩০% ব্লক ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর: সরকারি নির্মাণকাজে ১০০% পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৬০% ব্লক ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজউক: রাজউক কর্তৃক বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় সরকারের ইটভাটা বন্ধ, সরকারি প্রকল্পগুলোতে ইটের পরিবর্তে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার এবং প্রান্তিক পর্যায়ে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এটি দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাই বিনিয়োগের জন্য কংক্রিট ব্লক শিল্প বাংলাদেশে একটি সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে।
Concord Ready-Mix & Concrete Products Ltd. Mir Concrete Block hatim concrete industries Niloy Green Block Nextblock AAC সহ অনেক বড় গ্রুপ অব কোম্পানি এবং ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই খাতে যুক্ত হয়েছে এবং সুনামের সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছে । পাশাপাশি, আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, যদি ২০২৯ সালের মধ্যে ইটভাটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে কংক্রিট ব্লক শিল্প বাংলাদেশে আরও বৃহৎ পরিসরে বিস্তার লাভ করবে।
তাই, এখনই এই শিল্পে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়।
কনক্রিট ব্লক প্রোজেক্টের জন্য যোগাযোগ করুনঃ IMEXCO International Ltd.
Hotline: +8801713429860-61