26/04/2026
কানাডায় সরকার নিম্ন আয় বা বেকার মানুষদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে, যেমন: যারা কাজ করতে পারছেন না বা অস্থায়ী সমস্যায় আছেন সরকার তাদেরকে সামাজিক সহায়তা বা Social Benefits এর আওতায়
Ontario Works (OW) প্রদান করে থাকে। একজন একা ব্যক্তির জন্য সরকার $700–$800 CAD সহায়তা দেয়।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ODSP যা প্রতিমাসে $1,300–$1,500 CAD. একটি পরিবারের সন্তানের সংখ্যা ও আয়ের উপর নির্ভর করে শিশুদের জন্য CCB প্রদান করা হয়, যতো কম আয় আর যতো বেশি সন্তান ততো বেশি CCB সহায়তা। তাছাড়া হঠাৎ কেউ চাকরি হারালে সরকার সাময়িক ভাবে সহায়তা করে থাকে।
এছাড়াও সরকার অতিরিক্ত আরো কিছু সুবিধা প্রদান করে থাকে যেমন: ফ্রি বা সাবসিডাইজড স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধের খরচে সহায়তা, বাসা ভাড়া সহায়তা, ফুড ব্যাংক সুবিধা সহ
চাকরি খোঁজার সহায়তাও করে থাকে।
অর্থাৎ, কানাডাতে অভাবী মানুষদের সহায়তার জন্য সরকারের রয়েছে নানাবিধ ব্যবস্থা।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এতো সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরেও কিছু মানুষ এই সিস্টেমের অপব্যবহার করে, এরা একদিকে সরকার থেকে সুযোগ সুবিধা নেয় আবার ক্যাশেও জব করে। সে কারণে সরকারের হাতে থাকছেনা কোনো প্রমাণ এবং এই সুযোগ নিয়ে তারা ফাঁকি দিচ্ছে কর।
আরো পরিতাপের বিষয় হলো কানাডায় এখন আগের থেকে অনেক বেশি ভিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং এই ধরনের ব্যক্তিদের বর্তমানে মসজিদ বা চার্চের বাইরেও ভিক্ষা করতে দেখা যায়। এটি সরাসরি প্রতারণা বা fraud বলা যায়।
এরা ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে মানুষের সহানুভূতিকে পুঁজি করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক সময় তারা প্রতিবন্ধীতার ভান করে, যাতে সহজে মানুষের কাছ থেকে দান পায়। গত এক বছরে গ্রেটার টরন্টো এরিয়ায় (GTA) এমন বহু ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে, যারা নিজেদের গৃহহীন বা অসহায় হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছে।
ব্র্যাম্পটনের একটি চার্চের একজন সদস্য জানান, ধর্মীয় ছুটির সময় কিছু লোক চার্চের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকে মানুষের কাছ থেকে দান প্রার্থনা করে। ইস্টার সপ্তাহের “হলি স্যাটারডে”-তে এক পুরুষ ও এক নারী চার্চে আসে। কিছুক্ষণ পর ওই নারী নিজেরই ২০ ডলার ভিক্ষার পাত্রে রেখে এমন ধারণা তৈরি করে যে, অন্য কেউ ইতোমধ্যে দান করেছে। এরপর নারীটি সরে গেলে একজন পুরুষ ভিক্ষুক ঐ একই যায়গায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করে।
লোকটি নিজেকে প্রতিবন্ধী হিসেবে উপস্থাপন করে, হাতে লাঠি নিয়ে হাঁটতে থাকে। সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিক্ষা করে এবং প্রচুর টাকা ও খাবার সংগ্রহ করে। এই একই ব্যক্তিকে শুক্রবারে হ্যামিল্টনের একটি মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করতে দেখা যায়।
এক পর্যায়ে তাকে গোপনে ভিডিও করা হয়, যেখানে দেখা যায়, ভিক্ষা শেষ করে সে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে হাঁটছে এবং একটি ব্রেন্ড নিউ সাদা Volkswagen Jetta গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছে।
পরের সপ্তাহের শনিবারে আবার সে ব্র্যাম্পটনের চার্চে ভিক্ষা করতে আসে এবং একই ধারায় সে নিজেকে প্রতিবন্ধী হিসেবে উপস্থাপন করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিক্ষা করে টাকা ও খাবার সংগ্রহ করে সে বারবার নিজের গাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু ক্যামেরা দেখে থেমে যায়। পরে সে আবার চার্চের ভেতরে ঢুকে পড়ে, যখন সন্ধ্যার প্রার্থনা শুরু হচ্ছিল। এক নারী ও তার ছেলে জানান, ওই ভিক্ষুককে চার্চের বাইরে যেতে বললে সে তাদেরকে হুমকি দেয়। এই বিষয়ে তারা পুলিশকে অবহিত করলে সে পুলিশ আসার আগেই সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়।
প্রায় এক সপ্তাহ পর তাকে মিসিসাগার একটি Longo’s গ্রোসারি স্টোরে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। তখন সে কোনো সহায়তা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিল। পরে সে আবার সেই সাদা গাড়িতে উঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। (ভিডিওটির লিঙ্ক কমেন্ট বক্সে দেওয়া আছে।)
এ ধরনের প্রতারণা শুধু এখন ব্র্যাম্পটনেই নয় বরং পুরো কানাডাজুড়েই ঘটছে।
কানাডার আইনে যে কোনো প্রতারণা একটি গুরুতর অপরাধ। প্রতারণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ৫,০০০ ডলারের নিচে হলে গুনতে হবে জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত জেল খাটতে হতে পারে। আর ৫,০০০ ডলারের উপরে হলে গুনতে হবে বড় অঙ্কের জরিমানা এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড। সেই সাথে বন্ধ হয়ে যেতে পারে সামাজিক সহায়তা এমনকি ভবিষ্যতে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকারও হারাতে হতে পারে।
সতর্ক থাকুন। কাউকে সহানুভূতি দেখানোর আগে একটু যাচাই বাছাই করে করুন, যাচাই না করে কাউকে টাকা দেবেন না। মসজিদ/চার্চ/ মন্দির কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই সাহায্য দিন, সন্দেহজনক কিছু দেখলে কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করুন।
মানবিকতা আমাদের শক্তি, কিন্তু সেই মানবিকতাকে ব্যবহার করে কেউ প্রতারণা করলে তা রুখে দাঁড়ানোও আমাদের দায়িত্ব। সত্যিকারের অভাবীদের সহায়তা করুন কিন্তু প্রতারকদের নয়।