10/03/2025
প্রশ্ন:
স্ত্রী, স্বামী এবং শ্বাশুড়ি কর্তৃক Verbal Abuse (মৌখিক নির্যাতন) এবং Threat of Physical Assault (শারীরিক আঘাতের হুমকি) দেওয়া হলে বাংলাদেশী আইনে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়?
উত্তর:
হ্যাঁ, বাংলাদেশী আইনে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের আচরণ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শামিল, এবং এটি বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিচে আপনার করণীয় এবং আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০:
এই আইনটি পারিবারিক সহিংসতা, যার মধ্যে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault অন্তর্ভুক্ত, তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। এই আইনের অধীনে, আপনি নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারেন:
- সুরক্ষা আদেশ (Protection Order): আদালত থেকে সুরক্ষা আদেশ নেওয়া যেতে পারে, যা নির্যাতনকারীকে আপনার কাছে আসতে বা যোগাযোগ করতে নিষেধ করবে।
- বাসস্থান আদেশ (Residence Order): আদালত নির্যাতনকারীকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারে।
- ক্ষতিপূরণ আদেশ (Compensation Order): নির্যাতনের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা যেতে পারে।
২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০:
বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে:
- ধারা ৫০৬: এই ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি শারীরিক আঘাতের হুমকি দেয়, তাহলে তা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
- ধারা ৫০৯: এই ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি মৌখিকভাবে অপমানজনক বা ভীতিপ্রদ মন্তব্য করে, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
৩. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০):
এই আইনে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, যার মধ্যে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault অন্তর্ভুক্ত, তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনের অধীনে, আপনি নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন।
৪. আপনার করণীয়:
- প্রমাণ সংগ্রহ: Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর প্রমাণ সংগ্রহ করুন। এটি অডিও রেকর্ডিং, ভিডিও রেকর্ডিং বা সাক্ষীর বিবৃতি হতে পারে।
- জিডি বা এফআইআর দায়ের: স্থানীয় থানায় গিয়ে একটি জিডি (General Diary) বা এফআইআর (First Information Report) দায়ের করুন। নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রমাণসহ আবেদন করুন।
- আদালতে আবেদন: পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এর অধীনে আদালতে আবেদন করুন এবং সুরক্ষা আদেশ চাইতে পারেন।
৫. মানসিক সহায়তা:
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য কাউন্সেলিং এবং থেরাপির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো থেকে এই ধরনের সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
৬. সামাজিক সচেতনতা:
পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত।
স্ত্রী, স্বামী এবং শ্বাশুড়ি কর্তৃক Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশী আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০, দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে মামলা দায়ের করতে পারেন। প্রমাণ সংগ্রহ করে থানায় জিডি বা এফআইআর দায়ের করুন এবং আদালত থেকে সুরক্ষা আদেশ চাইতে পারেন। মনে রাখবেন, আইন আপনার পাশে আছে, এবং আপনি এই ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন।