Advocate Shamsuzzaman Zaman

Advocate Shamsuzzaman Zaman Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Advocate Shamsuzzaman Zaman, Business service, London.

Advocate Shamsuzzaman Zaman

Graduate of Dhaka University | LLB, LLM
Currently serving at Sylhet District Court
Legal assistance and consultation available

10/03/2025

প্রশ্ন:
স্ত্রী, স্বামী এবং শ্বাশুড়ি কর্তৃক Verbal Abuse (মৌখিক নির্যাতন) এবং Threat of Physical Assault (শারীরিক আঘাতের হুমকি) দেওয়া হলে বাংলাদেশী আইনে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়?

উত্তর:
হ্যাঁ, বাংলাদেশী আইনে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই ধরনের আচরণ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শামিল, এবং এটি বাংলাদেশের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নিচে আপনার করণীয় এবং আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০:
এই আইনটি পারিবারিক সহিংসতা, যার মধ্যে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault অন্তর্ভুক্ত, তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। এই আইনের অধীনে, আপনি নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারেন:
- সুরক্ষা আদেশ (Protection Order): আদালত থেকে সুরক্ষা আদেশ নেওয়া যেতে পারে, যা নির্যাতনকারীকে আপনার কাছে আসতে বা যোগাযোগ করতে নিষেধ করবে।
- বাসস্থান আদেশ (Residence Order): আদালত নির্যাতনকারীকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারে।
- ক্ষতিপূরণ আদেশ (Compensation Order): নির্যাতনের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা যেতে পারে।

২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০:
বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে:
- ধারা ৫০৬: এই ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি শারীরিক আঘাতের হুমকি দেয়, তাহলে তা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
- ধারা ৫০৯: এই ধারা অনুযায়ী, কেউ যদি মৌখিকভাবে অপমানজনক বা ভীতিপ্রদ মন্তব্য করে, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

৩. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০):
এই আইনে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, যার মধ্যে Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault অন্তর্ভুক্ত, তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এই আইনের অধীনে, আপনি নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারেন।

৪. আপনার করণীয়:
- প্রমাণ সংগ্রহ: Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর প্রমাণ সংগ্রহ করুন। এটি অডিও রেকর্ডিং, ভিডিও রেকর্ডিং বা সাক্ষীর বিবৃতি হতে পারে।
- জিডি বা এফআইআর দায়ের: স্থানীয় থানায় গিয়ে একটি জিডি (General Diary) বা এফআইআর (First Information Report) দায়ের করুন। নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রমাণসহ আবেদন করুন।
- আদালতে আবেদন: পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এর অধীনে আদালতে আবেদন করুন এবং সুরক্ষা আদেশ চাইতে পারেন।

৫. মানসিক সহায়তা:
নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য কাউন্সেলিং এবং থেরাপির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো থেকে এই ধরনের সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

৬. সামাজিক সচেতনতা:
পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

স্ত্রী, স্বামী এবং শ্বাশুড়ি কর্তৃক Verbal Abuse এবং Threat of Physical Assault-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশী আইনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনি পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০, দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীনে মামলা দায়ের করতে পারেন। প্রমাণ সংগ্রহ করে থানায় জিডি বা এফআইআর দায়ের করুন এবং আদালত থেকে সুরক্ষা আদেশ চাইতে পারেন। মনে রাখবেন, আইন আপনার পাশে আছে, এবং আপনি এই ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন।

10/03/2025

প্রশ্ন: কেউ যদি সামান্য বিষয়ে তর্ক করার পর আইডি হ্যাক করার হুমকি দেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, আইডি হ্যাক করার হুমকি দেওয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ, এবং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ এবং হুমকি সংক্রান্ত আইনে এই ধরনের কাজের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। নিচে আপনার করণীয় এবং আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

১. সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত আইন:
বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ (Digital Security Act, 2018) সাইবার অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে। এই আইনের অধীনে, কেউ যদি আপনার আইডি হ্যাক করার হুমকি দেয়, তাহলে তা একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই আইনের ধারা ২৯ অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে হুমকি দেওয়া বা ভীতি প্রদর্শন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

২. আপনার করণীয়:
- প্রমাণ সংগ্রহ: প্রথমে হুমকির প্রমাণ সংগ্রহ করুন। হুমকিটি যদি মেসেজ, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই মেসেজ, স্ক্রিনশট বা রেকর্ডিং সংরক্ষণ করুন।
- জিডি বা এফআইআর দায়ের: স্থানীয় থানায় গিয়ে একটি জিডি (General Diary) বা এফআইআর (First Information Report) দায়ের করুন। হুমকি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রমাণসহ আবেদন করুন।
- সাইবার ক্রাইম ইউনিটে যোগাযোগ: বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিট-এ (Cyber Crime Investigation Unit) অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। তাদের ওয়েবসাইটে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।

৩. আইনি ব্যবস্থা:
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮: এই আইনের অধীনে হুমকি দেওয়ার শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।
- দণ্ডবিধি, ১৮৬০: বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ধারা ৫০৬ অনুযায়ী, হুমকি দেওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

৪. সতর্কতা:
- ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা: আপনার আইডি, পাসওয়ার্ড এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখুন। কাউকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না।
- সোশ্যাল মিডিয়া সেটিংস: সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন এবং অজানা বা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকুন।

৫. মানসিক সহায়তা:
হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আপনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা কাউন্সেলরের সাহায্য নিন।

কেউ যদি আপনার আইডি হ্যাক করার হুমকি দেয়, তাহলে তা মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। আপনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন এবং হুমকিদাতাকে শাস্তি দিতে পারেন। প্রমাণ সংগ্রহ করে থানায় জিডি বা এফআইআর দায়ের করুন এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাহায্য নিন। মনে রাখবেন, আইন আপনার পাশে আছে।

আছিয়ার গল্প এবং আমাদের সমাজের অন্ধকার দিক।আছিয়ার গল্প আমাদের হৃদয়কে ভারী করে তোলে। সে হয়তো আল্লাহর কাছে চলে গেছে, কিন্তু...
10/03/2025

আছিয়ার গল্প এবং আমাদের সমাজের অন্ধকার দিক।

আছিয়ার গল্প আমাদের হৃদয়কে ভারী করে তোলে। সে হয়তো আল্লাহর কাছে চলে গেছে, কিন্তু আমাদের সমাজে আছিয়ারা নিরাপদ নয়। আছিয়ার বড় বোন, মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। তার শ্বশুর এবং স্বামী তাকে নির্যাতন করে। আছিয়া যখন তার বোনের বাড়ি বেড়াতে যায়, তখন তার বোনের স্বামী, শ্বশুর এবং ভাসুর মিলে তাকে ধর্ষণ করে এবং মেরে ফেলার চেষ্টা করে। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং আমাদের সমাজের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র।

বাল্যবিবাহ ও দারিদ্র্য:

বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজের একটি বড় সমস্যা। দারিদ্র্য এবং অশিক্ষা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। মেয়েদেরকে অপরিণত বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। এর ফলে তারা নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য সহিংসতার শিকার হয়। আছিয়ার বোনের গল্প এই সমস্যার একটি মর্মান্তিক উদাহরণ।

শিশু নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি:

২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী, শিশু পর্নোগ্রাফি (CSAM) সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে। আমাদের দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি শিশু পর্নোগ্রাফি সার্চ করা হয় এবং ভিডিও পাঠানো হয়। এটি আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের একটি ভয়াবহ চিত্র। শিশুরা তাদের নিরাপত্তা হারাচ্ছে, এবং তাদের প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

জয়নাবের গল্প এবং পাকিস্তানের পদক্ষেপ:

২০১৮ সালে পাকিস্তানে জয়নাব আন্সারি নামে একটি ৭ বছরের শিশুকে অপহরণ এবং ধর্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার লাশ ময়লার স্তূপে পাওয়া যায়। এই ঘটনায় পাকিস্তানের মানুষ বিশাল আন্দোলন গড়ে তোলে, এবং আসামি ইমরান আলিকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে ১ মাসের মধ্যে ৪ বার ফাঁসির রায় দেওয়া হয়। পাকিস্তান এই ঘটনার পর Amber Alert এর মতো জয়নাব এলার্ট চালু করে, যা নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে সাহায্য করে। এছাড়াও, জয়নাবের নামে বিশেষ আইন এবং সংস্থা চালু করা হয়, যাতে আর কোনো জয়নাবের এই রকম পরিণতি না হয়।

আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি:

৭ দিন আগে মুন্সীগঞ্জে ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে ৬ বছরের এক মেয়ে শিশুকে আইসক্রিম বিক্রেতা অপহরণ করে এবং ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হলে মেরে ফেলে। ২ দিন আগে চকলেট কিনতে গিয়ে ৩ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরের হুগলাকান্দিতে ৪ বছরের এক শিশু কন্যাকে সাইকেলে করে ঘোরানোর নাম করে বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনাগুলো আমাদের সমাজের অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করে।

সমাজের নৈতিক অবক্ষয়:

অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় আমাদের সমাজ ছেয়ে গেছে। শিশুদের প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং হত্যার মতো ঘটনাগুলো আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরে। আমরা এই অমানুষদের মধ্যে থেকে নিজেদেরকে মানুষ ভাবতেও লজ্জা পাই। শিশুদের আর্তনাদ আমাদের কানে বাজে, কিন্তু আমরা তাদের জন্য কতটুকু করতে পারি?

আমাদের করণীয়:

১. আইনি সংস্কার: শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এই ধরনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

২. সামাজিক সচেতনতা: সমাজে শিশু সুরক্ষা এবং নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্কুল, কলেজ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কর্মশালা ও প্রচারণা চালানো উচিত।

৩. শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচন: বাল্যবিবাহ এবং শিশু নির্যাতনের মূল কারণ দারিদ্র্য ও অশিক্ষা। এই সমস্যা সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে।

৪. জয়নাব এলার্টের মতো ব্যবস্থা: নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য জয়নাব এলার্ট-এর মতো একটি সিস্টেম চালু করা উচিত।

৫. মানসিক সহায়তা: নির্যাতনের শিকার শিশু ও তাদের পরিবারকে মানসিক সহায়তা প্রদান করা উচিত।

আছিয়ার গল্প, জয়নাবের গল্প এবং আমাদের দেশের শিশুদের ওপর হওয়া নির্যাতনের ঘটনাগুলো আমাদের সমাজের অন্ধকার দিককে উন্মোচিত করে। আমাদের উচিত এই সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা। আসুন আমরা সবাই মিলে এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করি। শিশুদের আর্তনাদ যেন আর কখনো আমাদের কানে না বাজে।

চাণক্য: ভারতীয় দার্শনিক, রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতির মহান পুরুষ।“কোনো মানুষেরই পুরোপুরি সৎ হওয়া উচিত নয়। একেবারে সরল খাড়া গাছ...
10/03/2025

চাণক্য: ভারতীয় দার্শনিক, রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতির মহান পুরুষ।

“কোনো মানুষেরই পুরোপুরি সৎ হওয়া উচিত নয়। একেবারে সরল খাড়া গাছ যেভাবে সবার আগে কাঁটা হয়, সৎ মানুষ তেমনি সহজে বিপদে পড়ে।” - চাণক্য

প্রাচীন পৃথিবীর সেরা দার্শনিকদের কথা বলতে গেলে অনেকের নামই বলা যাবে। কিন্তু যদি সেরা দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ হিসেবে নামের তালিকায় এক ব্যক্তির নাম সর্বাগ্রে উঠে আসে, তা হলে তিনি চাণক্য। একমাত্র ‘অর্থশাস্ত্র’ বইটি লিখেই চাণক্য ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি ও অর্থনীতি বদলে দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং অর্থনীতির দিক থেকে তিনি কনফুসিয়াস ও মোজির মতো দার্শনিকদের সমকক্ষ ভাবা হয়। শক্তিশালী মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা রাজা চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চাণক্য ইতিহাসে সবচেয়ে চতুর মন্ত্রীদের একজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। নন্দ রাজবংশকে উৎখাত করে তিনি মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।

চাণক্য, কৌটিল্য, বিষ্ণুগুপ্ত – তিনটি নামই তার ছিল। কৌটিল্য তার গোত্রের নাম, বিষ্ণুগুপ্ত তার অন্য পরিচয়। চাণক্য নামটি তার রাজনীতি এবং অর্থনীতির সংক্রান্ত গ্রন্থ 'কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র'র কারণে জনপ্রিয় হয়েছে।

প্রাচীন ভারতের গোল্লা অঞ্চলের চানাকা নামক একটি গ্রামে চাণক্যের জন্ম। তার পিতা চানিন এবং মাতা চানেশ্বরী ছিলেন ব্রাহ্মণ। শৈশব থেকেই তিনি বেদ শিক্ষা শুরু করেন এবং তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে তার প্রতিভার পরিচয় দেন। রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং যুদ্ধশাস্ত্রসহ নানা বিষয়ে তার জ্ঞান ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত।

তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল "জ্ঞান অর্জন করে তা ছড়িয়ে না দিলে তা অকেজো।" শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন প্রকৃত দার্শনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার প্রখ্যাত শিষ্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ছিলেন, যাকে তিনি রাজনীতি এবং যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলেন।

চাণক্যের অন্যতম প্রধান অবদান ছিল তার রাজনৈতিক কূটকৌশল। তার নেতৃত্বেই মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা পায় এবং নন্দ রাজবংশের পতন হয়। তিনি মনে করতেন যে শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য কখনো কখনো কৌশলের ব্যবহার জরুরি।

চাণক্যের জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ ছিল তার ‘অর্থশাস্ত্র’, যা আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি মানব সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, প্রশাসন, যুদ্ধনীতি, বাণিজ্য, কৃষি, পরিবেশ-প্রকৃতি, চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ অসংখ্য বিষয়ে গভীর চিন্তা করেছেন এবং সমৃদ্ধ ধারণা প্রদান করেছেন।

এছাড়া, তার নীতির মধ্যে অনেক বাস্তববাদী উপদেশ রয়েছে, যেমন:
- “বিষ না থাকলেও সাপকে বিষধর হওয়ার অভিনয় করতে হবে।”
- “জন্ম হোক যথা, কর্ম হোক ভালো।”

চাণক্যের দর্শন আজও আমাদের জীবনে প্রভাব বিস্তার করে, এবং তার উপদেশগুলো বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

10/03/2025

প্রশ্ন:
কেউ যদি কোনো নারীকে কৌশলে তার বাড়িতে ডেকে ধর্ষণ করে এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১ বছর যাবত বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তাহলে কি ধর্ষণ মামলা করা যাবে? ভয়-ভীতি দেখানোর স্ক্রীনশট আছে। এবং কোথায় মামলা করলে বেশি জোরালো হবে?
বি:দ্র: মেয়েটি হিন্দু। ছেলেটি মুসলিম ধর্মাবলম্বী। এক্ষেত্রে কোনো সংখ্যালঘু কমিশন আছে কি না? মেয়েটি নিজের পরিবার বা কাউকে জানাতে চাই না। কারণ তার পরিবার তাকে এমনিতেই বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে, তার মধ্যে এসব শুনলে তার পড়াশোনা-স্বপ্ন নষ্ট হতে পারে। একা একা কি এর বিচার পাবো? টাকা-পয়সা কত খরচ হবে?

উত্তর:
আপনার বর্ণিত পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং এটি ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের স্পষ্ট উদাহরণ। আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি ধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেইলিং হিসেবে গণ্য হবে।

প্রথমত, যিনি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন, তিনি মেয়েটির সম্মতি ছাড়াই এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে তা করেছেন, যা আইনগতভাবে ধর্ষণের অপরাধ। এমন পরিস্থিতিতে, মেয়েটি ধর্ষণ মামলা করতে পারেন। এছাড়াও, ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা, এটিও ব্ল্যাকমেইলিং হিসেবে গণ্য হবে, যা আরও একটি গুরুতর অপরাধ।

মামলা করার জন্য, মেয়েটি থানায় গিয়ে ধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। মেয়েটির ভয়-ভীতি দেখানোর স্ক্রীনশট বা প্রমাণও মামলায় সহায়ক হবে এবং প্রমাণ হিসেবে তা আদালতে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

সংখ্যালঘু কমিশন এই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নয়। তবে, ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মামলা দেশের আইনের আওতায় আসবে, এবং মেয়েটির কোনো ধর্মীয় পরিচয় এখানে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে না। আইনের চোখে, নারী ও পুরুষের পরিচয় বা ধর্মীয় পটভূমি কোনো বিষয় নয়।

মেয়েটি যদি তার পরিবার বা অন্য কাউকে না জানাতে চায়, তবে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তটি সম্মান জানানো হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তার গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকবে। মামলা প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অতিরিক্ত কোনো খরচ পড়বে না, তবে যদি তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করেন, তখন আইনজীবীর ফি দিতে হতে পারে। তবে, বাংলাদেশে সরকারি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো বড় খরচ হয় না।

মেয়েটি একা একা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন এবং তার বিচার প্রক্রিয়া চলবে। তার পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ বিষয়ে কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ আদালত তার গোপনীয়তা নিশ্চিত করবে এবং অপরাধীকে শাস্তি প্রদান করবে।

এই পরিস্থিতিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং আদালত সঠিক বিচার প্রদান করবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে ধর্ষণের বিরুদ্ধে মোমবাতি প্রজ্বলন ও প্রতিবাদ মিছিল—একটি সময়োপযোগী...
10/03/2025

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ঝিনাইদহ জেলা শাখার উদ্যোগে ধর্ষণের বিরুদ্ধে মোমবাতি প্রজ্বলন ও প্রতিবাদ মিছিল—একটি সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ।

ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। এই ধরনের আন্দোলন অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠস্বর আরও দৃঢ় হোক। ✊

10/03/2025

প্রশ্ন: বড় ভাইয়ের বউ ডিভোর্স না দিয়ে এক বছর আগে চলে যায়, তিন মাস পর মামলা করে, তবে বিগত তিন মাস আগে সে অন্য কোথাও বিয়ে করেছে। এখন মামলা তুলতে টাকা চাচ্ছে এবং হুমকি দিচ্ছে। মামলাটি খারিজ করতে বা তাকে মামলা তুলতে বাধ্য করতে কী করা যেতে পারে?

উত্তর: এই পরিস্থিতিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে—

১. প্রতারণার মামলা (দণ্ডবিধি ৪১৫, ৪১৭, ৪২০ ধারা)
– যেহেতু সে নতুন বিয়ে করেছে, অথচ আগের স্বামীকে মুক্তি দেয়নি, এটি প্রতারণার আওতায় আসতে পারে।
– তার দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ সংগ্রহ করে প্রতারণার অভিযোগ আনতে পারেন।

২. আদালতে মামলা খারিজের আবেদন (Dismissal Petition)
– যদি তার করা মামলা ভিত্তিহীন হয়, তাহলে প্রমাণসহ আদালতে আবেদন করতে হবে।
– পুনরায় বিয়ের তথ্য তুলে ধরে আদালতে বলুন যে তার অভিযোগ অসৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

৩. সালিশ ও মধ্যস্থতা (Mediation)
– পারিবারিক আদালতে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতার জন্য আবেদন করতে পারেন।
– সালিশের মাধ্যমে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

৪. মানহানির মামলা (দণ্ডবিধি ৫০০ ধারা)
– যদি সে মিথ্যা মামলা দিয়ে সম্মানহানি করে, তাহলে মানহানির মামলা করতে পারেন।

৫. তার দ্বিতীয় বিয়ের প্রমাণ সংগ্রহ
– কাবিননামা না পেলেও তার এলাকার লোকদের সাক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে।
– সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফোনালাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিয়ের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে আইনি কৌশল অবলম্বন করতে হবে। একজন দক্ষ আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিন।

Attended a social event with my family, where a large number of people participated.
10/03/2025

Attended a social event with my family, where a large number of people participated.

Attended a social event, capturing joyful moments with family members of all ages.
10/03/2025

Attended a social event, capturing joyful moments with family members of all ages.

Through today’s event, capable individuals will take the lead and shape the future.
10/03/2025

Through today’s event, capable individuals will take the lead and shape the future.

Started a campaign with young brothers and sisters. The youth must step forward because the future leadership of Banglad...
10/03/2025

Started a campaign with young brothers and sisters. The youth must step forward because the future leadership of Bangladesh lies in their hands. We will identify and nurture new young leaders who will shape the nation's tomorrow.

Address

London

Opening Hours

Monday 9am - 10pm
Tuesday 9am - 10pm
Wednesday 9am - 10pm
Thursday 9am - 10pm
Saturday 9am - 10pm
Sunday 9am - 10pm

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Advocate Shamsuzzaman Zaman posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share