20/05/2024
এটি যদি নিছক দুর্ঘটনাও হয়, তবু ইরানিরা তা ভাববে না। কারণ, তারা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বিশ্বাসে অভ্যস্ত। রাইসির ক্ষেত্রে তা ঘটতে পারে। কারণ, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল প্রথম প্রকাশ্য সামরিক সংঘর্ষের পরই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলো। এমন প্রেক্ষাপটে অনেক ইরানি ও সম্ভবত সরকার নিজেও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইসরায়েলকে দোষারোপ করতে পারে।
আরও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আবির্ভাব হতে পারে বলে মনে করেন ইয়র্ক টাউন ইনস্টিটিউটের ফেলো শে খাতিরি। তিনি বলছেন, অনেক ইরানি রাইসির প্রেসিডেন্ট পদকে ক্যানসারে আক্রান্ত ৮৫ বছর বয়সী খামেনির সফল উত্তরসূরি হওয়ার ‘অডিশন’ হিসেবে দেখে আসছিলেন। কিন্তু খামেনির ছেলেও মোজতবাও বাবার মসনদে বসতে চান। তলে তলে ইরানে উপদলীয় কোন্দল ঘনীভূত হচ্ছিল।
রাইসি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী রেভুলিউশনারি গার্ডের পছন্দের মানুষ। কিন্তু মোল্লাদের অনেকেই মোজতবার পক্ষে। যার কারণে পাণ্ডিত্য না থাকলেও ইরানের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী বিদ্যাপীঠ কওম সেমিনারিতে প্রভাষক নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। খামেনির ছেলেকে গ্রহণ করে মোল্লারা রাইসির বিপক্ষে অবস্থানের ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন বলে মনে করেন খাতিরি।
গভীরভাবে ভাবলে, রাইসিকে হত্যার প্রেক্ষাপট আছে। কারণ, মোজতবা এখন তার বাবার আশ্রয় পান। কিন্তু খামেনি অসুস্থ হওয়ায় বেশি দিন তা অব্যাহত থাকবে না। অন্যদিকে, রাইসি প্রসিকিউটর-জেনারেল ছিলেন। সবার হাঁড়ির গোপন খবর তার জানা। নির্বাচনী বিতর্কের সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ভয় দেখাতে দুর্নীতির একটি নথি ফাঁস করেছিলেন তিনি। মোদ্দাকথা, রাইসির পক্ষে রাজনৈতিক মাস্তানের মতো আচরণ ও সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান জে. এডগার হুভারের মতো জিম্মি করার সংস্কৃতির চর্চা সম্ভব। রাইসির মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিতে পারেন মোজতবা। কারণ, এর ফলে বাবার উত্তরসূরি হতে তার পথে আর দৃশ্যমান কোনো বাধা থাকল না।
রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার
পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে রাইসির মৃত্যু প্রভাব ফেলবে?
এই মৃত্যুর ফলে অসুস্থ খামেনির বিকল্প খোঁজার জন্য উঠে পড়ে লাগবে রেভুলিউশনারি গার্ড। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসেন খামেনি। তিনি ছিলেন দুর্বল প্রার্থী। অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো তাকে স্বার্থের পথে বড় হুমকি মনে করেনি। কিন্তু পরে তাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। এ জন্য যারা তাকে ক্ষমতার মসনদে বসিয়েছিলেন, সাবধানী কৌশলে তাদের একে একে নির্মূল করে তিনি নিজেকে দীর্ঘমেয়াদি শাসকে রূপান্তরিত করেন।
তবে রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর চেয়ে এখন রেভলিউশনারি গার্ড প্রভাবশালী। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ও ব্যক্তিরা তেমন পাত্তা পাবে না। আর এই বাহিনীর প্রধান গালিবাফ প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। যদিও তিনি সর্বোচ্চ নেতা হতে পারবেন না। কারণ তিনি ধর্মগুরু নন।