18/08/2026
“মনস” শব্দের উত্তর স্ত্রীলিঙ্গে “আপ্” প্রত্যয় করে মনসা শব্দের ব্যুৎপত্তি । ব্যুৎপত্তি গত দিক থেকে মনসা মনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী । দেবী ভাগবত ও ব্রহ্মবৈবর্ত পুরান মতে সর্প ভয় থেকে নিবারন ( ঔষধ ) করে এমন কিছু মন্ত্র বা বিদ্যাবিশেষ আবিস্কারের জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মা , মুনি কশ্যপ কে আদেশ করেন । কশ্যপ মুনি যখন এবিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন – তখন তাঁর মন থেকে দেবী মনসার সৃষ্টি হয় । ( দেবী ভাগবত পুরান- ৯/৪৭ ) । বাংলার মঙ্গলকাব্যে অবশ্য মনসা দেবীকে ভগবান শিবের কন্যা রূপে বর্ণিত করা আছে । আবার মহাভারতে দেবী মনসার স্বামী হিসাবে জগতকারু মুনির নাম পাওয়া যায়। তাঁদের সন্তান হলেন আস্তিক মুনি ।
মনসা দেবীর আখ্যানে অবশ্য যুগ যুগ ধরে বাংলার কবিদের লেখনীকেই মান্যতা দেওয়া হয়েছে । মঙ্গলকাব্যে মা মনসাকে সর্প অর্থাৎ নাগ নাগিনীদের দেবী রূপে বর্ণনা করা হয়েছে । বাংলায় জলা জমিতে সর্পের উপদ্রব অতি প্রাচীন কাল থেকে- তাই বাংলার নারী গন পরিবার, স্বামী, পুত্রের, কন্যার মঙ্গল কামনায় তথা সর্প ভয় থেকে মুক্তির জন্য দুধ ও কলা দ্বারা মা মনসার পূজা করে আসছেন । কুণ্ডলিনী শক্তির প্রতীক রূপ মা মনসা নাগ ধারন করে থাকেন । মা মনসার স্তবে তাঁকে সিদ্ধযোগিনী বলা হয়েছে । নাগেদের সাথে যোগীদের জীবনের মিল দেখা যায় । যোগীরা ঘর বাঁধেন না, প্রানায়াম কালে কুম্ভক যোগে বায়ু সেবন করেন । অপর দিকে দেখা যায় সর্প বাসা বানাতে পারে না, মূষিকের গর্তে তার নিবাস, শীতঘুমের সময় সে অনাহারী । এছাড়া যোগ সাধনায় কুণ্ডলিনী শক্তি জাগ্রত করলে সেই শক্তি তির্যক ও ঊর্ধ্ব মুখী হয় । তাই যোগশক্তির প্রতীক রূপ দেবী সর্প ধারন করেন ।
হংস কে মা মনসার বাহন ধরা হয় । হংস শ্বেত বর্ণ- যা সত্ত্ব গুনের প্রতীক । এমন বলে রাজহাঁস কে জল আর দুধ মিশিয়ে দিলে সে তার মধ্যে থেকে কেবল দুধ টুকুই সংগ্রহ করে , জল পড়ে থাকে। সংসারে সার অসার সব আছে। সার টাকে গ্রহণ করে অসার টাকে ত্যাগ করাই সাধকের কর্তব্য ।সর্বশেষ কথা হল- তন্ত্র ও উপনিষদ মতে ‘হংস’ পরমাত্মার প্রতীক। নিঃশ্বাস গ্রহণ কালে “হং” ( অহং ) এবং নিঃশ্বাস পরিত্যাগ কালে “সঃ” – এই অজপা গায়ত্রী যাঁরা নিয়ত সচেতন ভাবে জপ করেন, হংসমন্ত্রের দৃপ্ত প্রভাবে অচিরেই তারা হন পরম জ্ঞানে প্রতিষ্ঠিত।
( কপি নিষিদ্ধ। শেয়ার করুন।)
এমনই আধ্যাত্মিক পোষ্ট পেতে আমদের পেজে যুক্ত হয়ে লাইক করুন।
#পুরোহিত