All India Sunnat All Jamayat

All India Sunnat All Jamayat All India Sunnat all Jamayat

15/04/2014
সাঈদীর মামলা : মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিটও দাখিল করল আসামিপক্ষমেহেদী হাসান১৩ এপ্রিল ২০১৪, রবিবার, ৬:৩২জামায়াতে ইসলামী...
13/04/2014

সাঈদীর মামলা : মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিটও দাখিল করল আসামিপক্ষ
মেহেদী হাসান
১৩ এপ্রিল ২০১৪, রবিবার, ৬:৩২
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ইব্রাহিম কৃট্টি হত্যা বিষয়ে তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের ১৯৭২ সালে দায়ের করা মামলার চার্জশিট (চার্জশিট নং ২৬, তারিখ ২৯/৯/৭২) আপিল বিভাগে জমা দিয়েছে আসামিপক্ষ। আজ শুনানি শেষে আপিল বিভাগে একটি দরখাস্তের সাথে এ মামলার মূল সার্টিফাইড কপি জমা দেয়া হয়। মমতাজ বেগমের মামলার সেই চার্জশিটেও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
এর আগে আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার এফআইআর কপি জমা দিয়েছিল ট্রাইব্যুনালে। সেখানে ওই মামলার ১৩ জন আসামির মধ্যে মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আলোচিত অভিযোগ হলো ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যা। এ অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে তার স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে পিরোজপুরে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তিনি মোট ১৩ জনকে আসামি করেন। কিন্তু আসামির সেই তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের দায়ের করা সেই মামলার এফআইআর নথির একটি সত্যায়িত কপি ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। মামলার আপিল শুনানির শেষ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পিরোজপুর এবং বরিশাল সফর করেছেন। সফর শেষে গত ৯ এপ্রিল আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, পিরোজপুর এবং বরিশালের জেলা জজ আদালতে কোথাও এ মামলার কাগজ পাওয়া যায়নি। আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার নথি মর্মে যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তা জাল, মিথ্যা এবং মামলার প্রয়োজনে সৃজনকৃত। তাই এ কাগজ বিবেচনায় না নেয়ার লিখিত আবেদন করেন তিনি।
আসামিপক্ষের দায়ের করা এফআইআর কপিটিকে জাল আখ্যায়িত করা এবং এটি বিবেচনায় না নেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল এর পক্ষ থেকে যেসব যুক্তি আদালতে তুলে ধরা হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি ছিল মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলার চার্জশিটবিষয়ক। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আসামিপক্ষ দাবি করেছে এ মামলায় চার্জশিট হয়েছিল, কিন্তু তারা সেই চার্জশিট জমা দেয়নি। একটি মামলার প্রাথমিক অভিযোগে সব বা মূল আসামির নাম না-ও থাকতে পারে। কিন্তু পরে চার্জশিটে মূল আসামির নাম আসতে পারে বা অন্য আসামির নাম যোগ হতে পারে। আসামিপক্ষ মামলার এফআইআর কপি যোগাড় করতে পারল আর চার্জশিট তারা জোগাড় করতে পারল না? তারা কেন চার্জশিট তুলতে পারল না?
এ প্রেক্ষাপটে আসামিপক্ষ আজ মমতাজ বেগমের মামলর চার্জশিট দাখিল করল আদালতে। ১৯৭২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ এ মামলর চার্জশিট দাখিল করে। মমতাজ বেগমের মামলার প্রাথমিক অভিযোগ বা এফআইআরে ঘটনার বিবরণ, তারিখ এবং ঘটনাস্থলের যে বিবরণ রয়েছে তার সাথে মিল রয়েছে চার্জশিটে বর্ণিত ঘটনা, ঘটনার তারিখ এবং ঘটনাস্থলের। তবে এফঅইআরে যে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে তা থেকে চারজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে চার্জশিটে মাওলানা সাঈদী বা অন্য কোনো নতুন আসামির নাম এ ঘটনায় আর যুক্ত হয়নি।


মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিটে ঘটনার বিবরণ :
২ নং কলামে বর্ণিত পলাতক (১. দানেশ আলী মোল্লা ২. আশরাফ আলী ৩. আব্দুল মমিন হাওলাদার ৪. আব্দুল কালাম চৌকিদার, ৫. আবদুল হাকিম মুন্সি, ৬. মমিন উদ্দিন ৭. মোসলেম মাওলানা) এবং ৩ নং কলামে বর্ণিত গ্রেফতারকৃত (আইউব আলী ও সুন্দর আলী) আসামিরা ১/১০/৭১ তারিখ রাইফেলসহ মমতাজ বেগমের ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামী ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে, রাইফেলের গুলিতে মমতাজ বেগমের হাতে জখম হয়, তাদের বাড়ির জিনিসপত্র লুট করে, তার (মমতাজ বেগম) ভাই সাহেব আলী ওরফে সিরাজকে অপহরণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেয় যারা তাকে পরে হত্যা করে। আসামিদের সবাই রাজাকার ও দালাল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১ নং কলামে বর্ণিত চারজনকে (আতাহার আলী হাওলাদার, রুহুল আমিন, সেকেন্দার আলী সিকদার ও শামসুর রহমান) অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বরিশাল থেকে ১৯৭২ সালে গঠিত স্পেশাল ট্রাইবুনালের রেজিস্ট্রার বই তলবের আবেদন করেন আদালতে। তখন আসামিপক্ষ থেকে মৌখিক আবেদন করে বলা হয় ১৯৭২ সালে পিরোজপুর থেকে মমতাজ বেগমের মামলার জিআর (জেনারেল রেজিস্ট্রার) বইও তলব করা হোক। আদালত তখন আসামিপক্ষকে লিখিত আবেদন করতে বলেন। আজ আসামিপক্ষ পিরোজপুর থেকে জিআর বই তলব এবং মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিট জমা দিয়ে তা বিবেচনায় নেয়ার জন্য একটি দরখাস্ত জমা দেয়।
পূর্বসূত্র
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মাওলানা সাঈদীর নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে ইব্রাহীম কুট্টিকে পাড়েরহাট বাজারে পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে যে মামলা করেন তাতে আসামির তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। সেই মামলার ডকুমেন্ট আসামিপক্ষ ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তখন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করে আসামিপক্ষ মামলার প্রয়োজনে এ জাল দলিল তৈরি করেছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার অভিযোগে মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তবে আসামিপক্ষের এ ডকুমেন্ট বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি রায়ে।
গত ৩ মার্চ প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মমতাজ বেগমের মামলার ডকুমেন্ট বিষয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন।
আদালত তখন তাকে প্রশ্ন করেন, আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে পারল আর আপনারা পারলেন না কেন? ১৯৭২ সালে আদৌ এ ধরনের কোনো এফআইআর হয়েছিল কি-না? পিরোজপুরে অবশ্যই জিআর রেজিস্ট্রেশন বই আছে। আপনারা এটা চাইতে পারতেন না? আপনাদের অনেক বড় মেশিনারিজ আছে। তার মাধ্যমে এগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন? আমরা যদি আসামিপক্ষের দায়ের করা এ ডকুমেন্ট গ্রহণ করি তাহলে অন্তত আমরা বলতে পারি সাঈদী এ ঘটনায় জড়িত নন।
আদালত আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ মামলার শুনানি চলছে। আসামিপক্ষ অনেক আগে এ বিষয়ে যুক্তি পেশ করেছে। আপনারা অনেক সময় পেয়েছেন। এ দীর্ঘ সময়ে আপনারা চাইলে এ ডকুমেন্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারতেন।
এরপর গত ১১ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেল আসামিপক্ষের জমা দেয়া মমতাজ বেগমের মামলার মূল সার্টিফাইড কপি আপিল বিভাগের রেকর্ড রুম থেকে দেখার আবেদন করেন। গত ১ এপ্রিল শুনানির পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ মামলার বিচার ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি চান। এরপর খবর বের হলো যে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় আলোচিত ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের মামলার নথির খোঁজে অ্যাটর্নি জেনারেল বরিশাল সফর করছেন।
ইব্রাীহম কুট্টি হত্যার অভিযোগ : পাড়েরহাট বাজারের নিকটে সইজুদ্দিন পসারীদের বাড়িতে কাজ করতেন ইব্রাহীম কুট্টি। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ৮ মে মাওলানা সাঈদীসহ শান্তি কমিটির অন্যান্য লোকজনের নেতৃত্বে পাকিস্তান সৈন্যরা ওই বাড়িতে আক্রমণ করে। এসময় ইব্রাহীম কুট্টি ও অপর আরেকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পাড়েরহাট বাজারে। পরে মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে পাকিস্তান সৈন্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে পাড়েরহাট বাজারে।
আসাসিপক্ষের দাবি : আসামিপক্ষের দাবি ইব্রাহীম কুট্টিকে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর নলবুনিয়ায় তার শ্বশুরবাড়ি থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার সাথে মাওলানা সাঈদী জড়িত নন। এ দাবির পক্ষে তারা ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগমের মামলার নথি জমা দিয়েছে আদালতে। মমতাজ বেগমের মামলায় ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে মোট ১৩ জন আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। আসামিপক্ষের দাবি তিনি যদি এর সাথে জড়িত থাকতেন তাহলে অন্তত মমতাজ বেগমের মামলায় তাকে তখন আসামি করা হতো।
মমতাজ বেগমের মামলার এফআইর-এ ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার বিবরণ : স্বামী ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার বিচার চেয়ে মমতাজ বেগম দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে পিরোজপুরে একটি মামলা করেন। সে মামলার বিবরণে মমতাজ বেগম উল্লেখ করেছেন তার স্বামী ইব্রাহীম কুট্টি তার বাপের বাড়ি নলবুনিয়া থাকা অবস্থায় শান্তি কমিটির লোকজন এবং পাকিস্তান আর্মি গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনার সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর।
মমতাজ বেগমের মামলায় আরো উল্লেখ আছে যে ওই ঘটনার সময় তাদের বাড়ি থেকে তার ভাই সাহেব আলী ওরফে সিরাজ এবং তার মা সিতারা বেগমকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পিরোজপুর। পরে তার মাকে ছেড়ে দেয়া হলেও তার ভাই সাহেব আলীকে আর ছাড়া হয়নি। তাকে পাকিস্তান পিরোজপুরে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করে।
মমতাজ বেগমের মামলার বিবরনে বলা হয়েছে ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যা করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবার নলবুনিয়া তার শ্বশুরবাড়ি থাকা অবস্থায়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ৮ মে তাকে পাড়েরহাট বাজারে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যের স¤পূর্ণ বিপরীত তথ্য রয়েছে মমতাজ বেগমের মামলার নথিতে।
মমতাজ বেগমের মামলায় ঘটনার বিবরন নিম্নরূপ :
‘ঘটনার বিবরণ এই যে, বিবাদীগণ পরস্পর যোগাযোগে রাইফেল পিস্তল ছোরা লাঠি ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমার পিতার ঘর বেড়দিয়া আমার স্বামীর উপর গুলি করিয়া হত্যা করিয়া আমার শরীরে জখম করিয়া আমার মাতা ও ভ্রাতাকে ধরিয়া পিরোজপুর আনিয়া আমার মাতাকে ছাড়িয়া দিয়া আমার ভ্রাতা সিরাজুলকে গুলি করিয়া হত্যা করিয়াছে। আক্রোশের কারণ এই যে, আমি ও আমার স্বামী আমার স্বামীর বাড়িতে বাদুরা গ্রামে বাসবাস করিতেছিলাম। গত মে মাসে পাক সৈন্য এদেশে আসিয়া যখন অকারণে গুলি করিয়া মানুষ হত্যা করিতে থাকে তখন কতিপয় হিন্দু আমাদের শরণাপন্ন হওয়ায় আমরা তাহাদের আশ্রয় দেয়ায় পাক সৈন্য ও তাহাদের দালালরা আমার স্বামীকে হত্যা করিতে খোঁজ করিতে থাকায় আমরা ভয়ে ভীত হইয়া আমরা পিত্রালয়ে বসবাস করিতেছিলাম। তথায় বিবাদীগণ ক্রোধ করিয়া উক্ত রূপ অত্যাচার করিয়াছে।
প্রকাশ থাকে যে বর্তমানে আমি গর্ভবতী থাকায় আমার পিতা পারোরহাট আওয়ামী লীগ অফিসে জানাইয়া কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই এই দরখাস্ত করিতে বিলম্ব হইল।
সে মতে প্রার্থনা, আদালত দয়া করিয়া উক্ত ধারামতে উক্ত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট দিয়া ধৃত করাইয়া সুবিচার করিতে আজ্ঞা হয়। ইতি মমতাজ বেগম।’
শুনানির সময় মামলার নথি থেকে ঘটনার এ ব্বিরণ আসামিপক্ষ থেকে আদালতে পড়ে শোনানো হয়েছে।
মমতাজ বেগমের মামলার এফআইআর এ আসামির তালিকা :
মমতাজ বেগম ওই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করেছেন। এরা হলেন দানেশ মোল্লা, আতাহার আলী, আশ্রাব আলী, আব্দুল মান্নান, আইউব আলী, কালাম চৌকিদার, রুহুল আমিন, আব্দুল হাকিম মুন্সি, মমিন উদ্দিন, সেকোন্দার আলী শিকদার, শামসুর রহমান এসআই, মোসলেম মাওলানা। এছাড়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীকেও আসামি করা হয় মমতাজ বেগমের মামলায়। কিন্তু মমতাজ বেগমের মামলায় আসামিদের তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
আপিল শুনানির সময় মাওলানা সাঈদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান আদালতে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আমাদের এ ডকুমেন্টকে অসত্য ও জাল আখ্যায়িত করেছে। তাদের উচিত ছিল পিরোজপুর থেকে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে ডাকার ব্যবস্থা করে তাদের দাবি প্রমাণ করা। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং আমরা থানা থেকে এ মামলার নথিপত্র তলবের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
আসামিপক্ষ যেভাবে সংগ্রহ করল মমতাজ বেগমের মামলার নথি : মাওলানা সাঈদীর ছেলে ও ১৩তম সাফাই সাক্ষী মাসুদ সাঈদী ট্রাইব্যুনালে জেরায় বলেছেন, ‘তার বড় ভাই মরহুম রাফিক বিন সাঈদীকে মমতাজ বেগমের মা সিতারা বেগম মামলার মূল সার্টিফাইড কপি সরবরাহ করেন।’
মামলার বাদী মমতাজ বেগমের মা সিতারা বেগম ১৯৭২ সালে এ মামলার সার্টিফাইড কপি পিরোজপুর থেকে ইস্যু করান এবং সিতারা বেগম দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ মামলার কপি সংরক্ষণ করেছেন।
মমতাজ বেগমের মামলার ঘটনাপ্রবাহ :
মামলার নথি ঘেটে দেখা যায় ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ মমতাজ বেগম পিরোজপুর এসডিও কোর্টে প্রথম এ মামলা করেন। তখন এসডিও ছিলেন এ কে আজাদ। ওই তারিখে এসডিও মামলাটি পিরোজপুর থানায় পাঠান।
বাদী মমতাজ বেগমের লিখিত অভিযোগ এসডিওর কাছ থেকে পাওয়ার পর পিরোজপুর থানা ১৬/৭/১৯৭২ তারিখ বেলা ১টা ৩০ মিনিটের সময় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে। মামলা নং ৯। জিআর (জেনারেল রেজিস্ট্রার) নং ৩৭৮/৭২।
১৭/৭/১৯৭২ তারিখ সকাল ৮টায় থানা থেকে মামলাটি পিরোজপুর কোর্টে পাঠানো হয়। তখন থানার ওসি ছিলেন মেফতাউদ্দিন আহমেদ। তিনি নিজে মামলার তদন্ত শুরু করেন। মামলার এজাহারে ঘটনার তারিখ লেখা আছে ১/১০/১৯৭১। বাংলা ১৩ আশ্বিন ১৩৭৮।
২২ জুলাই ১৯৭২ এসডিও কোর্টে মামলাটি উত্থাপন করা হয়।
২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ পুলিশ এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে।
৩ অক্টোবর ১৯৭২ এসডিও বরাবর চার্জশিট উপস্থাপন করা হয়।
মমতাজ বেগমের অভিযোগ অনুসারে এ মামলার তদন্তকালে আসামিদের মধ্য থেকে দুজনকে আটক করা হয়। এরা হলেন আইউব আলী চৌকিদার ও সুন্দর আলী দফাদার।
পুলিশের প্রতিবেদনে আসামিদের মধ্য থেকে যাদেরকে পলাতক দেখানো হয় তারা হলেন
১.দানেশ মোল্লা
২.আশরাফ আলী
৩.আব্দুল মান্নান
৪.কালাম চৌকিদার
৫.আব্দুল হাকিম মুন্সি
৬.মমিন উদ্দিন
৭.মোসমেল মওলানা।
মামলা চলাকালে পলাতক আসামিদের মধ্য থেকে আরো দুজনকে আটক করা হয়। ১৯৭২ সালের ৭ অক্টোবর আব্দুল মান্নান এবং ১৯৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মমিনউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয় যা মেজিস্ট্রেট কোর্টে সংরক্ষিত জিআর বইতে ৩৭৮/৭২ জিআর কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়।
জিআর কপি পর্যালোচনা করে আরো দেখা যায় মমতাজ বেগমের দায়ের করা ওই মামলা থেকে আসামি আতাহার আল হাওলাদার, রুহুল আমিন সেকেন্দার শিকদার, শামসুর রহমানকে (তৎকালীন পিরোজপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই) অব্যাহতি দেয় কোর্ট।
মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলাটি ২৭/১১/১৯৭২ সালে তৎকালীন এসডিও এম এ হাশেম মিয়া স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জাজ বরিশাল পাঠান।
মামলার জিআর বইয়ে দেখা যায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ সালে মামলার কার্যক্রমের জন্য মামলাটি বাকেরগঞ্জ ডিসির কাছে পাঠানো হয়েছিল। জিআর বইয়ের ১৭ নং কলামে লেখা আছে-

সাঈদীর মামলা : মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিটও দাখিল করল আসামিপক্ষমেহেদী হাসান১৩ এপ্রিল ২০১৪, রবিবার, ৬:৩২জামায়াতে ইসলামী...
13/04/2014

সাঈদীর মামলা : মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিটও দাখিল করল আসামিপক্ষ
মেহেদী হাসান
১৩ এপ্রিল ২০১৪, রবিবার, ৬:৩২
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ইব্রাহিম কৃট্টি হত্যা বিষয়ে তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের ১৯৭২ সালে দায়ের করা মামলার চার্জশিট (চার্জশিট নং ২৬, তারিখ ২৯/৯/৭২) আপিল বিভাগে জমা দিয়েছে আসামিপক্ষ। আজ শুনানি শেষে আপিল বিভাগে একটি দরখাস্তের সাথে এ মামলার মূল সার্টিফাইড কপি জমা দেয়া হয়। মমতাজ বেগমের মামলার সেই চার্জশিটেও মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
এর আগে আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার এফআইআর কপি জমা দিয়েছিল ট্রাইব্যুনালে। সেখানে ওই মামলার ১৩ জন আসামির মধ্যে মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আলোচিত অভিযোগ হলো ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যা। এ অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে তার স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে পিরোজপুরে একটি মামলা করেছিলেন। ওই মামলায় তিনি মোট ১৩ জনকে আসামি করেন। কিন্তু আসামির সেই তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের দায়ের করা সেই মামলার এফআইআর নথির একটি সত্যায়িত কপি ২০১১ সালে ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়। মামলার আপিল শুনানির শেষ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম পিরোজপুর এবং বরিশাল সফর করেছেন। সফর শেষে গত ৯ এপ্রিল আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, পিরোজপুর এবং বরিশালের জেলা জজ আদালতে কোথাও এ মামলার কাগজ পাওয়া যায়নি। আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার নথি মর্মে যে ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে তা জাল, মিথ্যা এবং মামলার প্রয়োজনে সৃজনকৃত। তাই এ কাগজ বিবেচনায় না নেয়ার লিখিত আবেদন করেন তিনি।
আসামিপক্ষের দায়ের করা এফআইআর কপিটিকে জাল আখ্যায়িত করা এবং এটি বিবেচনায় না নেয়ার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল এর পক্ষ থেকে যেসব যুক্তি আদালতে তুলে ধরা হয় তার মধ্যে অন্যতম একটি ছিল মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলার চার্জশিটবিষয়ক। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আসামিপক্ষ দাবি করেছে এ মামলায় চার্জশিট হয়েছিল, কিন্তু তারা সেই চার্জশিট জমা দেয়নি। একটি মামলার প্রাথমিক অভিযোগে সব বা মূল আসামির নাম না-ও থাকতে পারে। কিন্তু পরে চার্জশিটে মূল আসামির নাম আসতে পারে বা অন্য আসামির নাম যোগ হতে পারে। আসামিপক্ষ মামলার এফআইআর কপি যোগাড় করতে পারল আর চার্জশিট তারা জোগাড় করতে পারল না? তারা কেন চার্জশিট তুলতে পারল না?
এ প্রেক্ষাপটে আসামিপক্ষ আজ মমতাজ বেগমের মামলর চার্জশিট দাখিল করল আদালতে। ১৯৭২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পুলিশ এ মামলর চার্জশিট দাখিল করে। মমতাজ বেগমের মামলার প্রাথমিক অভিযোগ বা এফআইআরে ঘটনার বিবরণ, তারিখ এবং ঘটনাস্থলের যে বিবরণ রয়েছে তার সাথে মিল রয়েছে চার্জশিটে বর্ণিত ঘটনা, ঘটনার তারিখ এবং ঘটনাস্থলের। তবে এফঅইআরে যে ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে তা থেকে চারজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে চার্জশিটে মাওলানা সাঈদী বা অন্য কোনো নতুন আসামির নাম এ ঘটনায় আর যুক্ত হয়নি।


মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিটে ঘটনার বিবরণ :
২ নং কলামে বর্ণিত পলাতক (১. দানেশ আলী মোল্লা ২. আশরাফ আলী ৩. আব্দুল মমিন হাওলাদার ৪. আব্দুল কালাম চৌকিদার, ৫. আবদুল হাকিম মুন্সি, ৬. মমিন উদ্দিন ৭. মোসলেম মাওলানা) এবং ৩ নং কলামে বর্ণিত গ্রেফতারকৃত (আইউব আলী ও সুন্দর আলী) আসামিরা ১/১০/৭১ তারিখ রাইফেলসহ মমতাজ বেগমের ঘরে প্রবেশ করে তার স্বামী ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যা করে, রাইফেলের গুলিতে মমতাজ বেগমের হাতে জখম হয়, তাদের বাড়ির জিনিসপত্র লুট করে, তার (মমতাজ বেগম) ভাই সাহেব আলী ওরফে সিরাজকে অপহরণ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে তুলে দেয় যারা তাকে পরে হত্যা করে। আসামিদের সবাই রাজাকার ও দালাল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১ নং কলামে বর্ণিত চারজনকে (আতাহার আলী হাওলাদার, রুহুল আমিন, সেকেন্দার আলী সিকদার ও শামসুর রহমান) অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বরিশাল থেকে ১৯৭২ সালে গঠিত স্পেশাল ট্রাইবুনালের রেজিস্ট্রার বই তলবের আবেদন করেন আদালতে। তখন আসামিপক্ষ থেকে মৌখিক আবেদন করে বলা হয় ১৯৭২ সালে পিরোজপুর থেকে মমতাজ বেগমের মামলার জিআর (জেনারেল রেজিস্ট্রার) বইও তলব করা হোক। আদালত তখন আসামিপক্ষকে লিখিত আবেদন করতে বলেন। আজ আসামিপক্ষ পিরোজপুর থেকে জিআর বই তলব এবং মমতাজ বেগমের মামলার চার্জশিট জমা দিয়ে তা বিবেচনায় নেয়ার জন্য একটি দরখাস্ত জমা দেয়।
পূর্বসূত্র
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ মাওলানা সাঈদীর নির্দেশে এবং উপস্থিতিতে ইব্রাহীম কুট্টিকে পাড়েরহাট বাজারে পাকিস্তানি সৈন্যরা গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম ১৯৭২ সালে স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে যে মামলা করেন তাতে আসামির তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। সেই মামলার ডকুমেন্ট আসামিপক্ষ ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তখন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করে আসামিপক্ষ মামলার প্রয়োজনে এ জাল দলিল তৈরি করেছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার অভিযোগে মাওলানা সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে তবে আসামিপক্ষের এ ডকুমেন্ট বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি রায়ে।
গত ৩ মার্চ প্রধান বিচারপতি মো : মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল শুনানির সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মমতাজ বেগমের মামলার ডকুমেন্ট বিষয়ে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন।
আদালত তখন তাকে প্রশ্ন করেন, আসামিপক্ষ মমতাজ বেগমের মামলার ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে পারল আর আপনারা পারলেন না কেন? ১৯৭২ সালে আদৌ এ ধরনের কোনো এফআইআর হয়েছিল কি-না? পিরোজপুরে অবশ্যই জিআর রেজিস্ট্রেশন বই আছে। আপনারা এটা চাইতে পারতেন না? আপনাদের অনেক বড় মেশিনারিজ আছে। তার মাধ্যমে এগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করেছেন? আমরা যদি আসামিপক্ষের দায়ের করা এ ডকুমেন্ট গ্রহণ করি তাহলে অন্তত আমরা বলতে পারি সাঈদী এ ঘটনায় জড়িত নন।
আদালত আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ মামলার শুনানি চলছে। আসামিপক্ষ অনেক আগে এ বিষয়ে যুক্তি পেশ করেছে। আপনারা অনেক সময় পেয়েছেন। এ দীর্ঘ সময়ে আপনারা চাইলে এ ডকুমেন্ট বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারতেন।
এরপর গত ১১ মার্চ অ্যাটর্নি জেনারেল আসামিপক্ষের জমা দেয়া মমতাজ বেগমের মামলার মূল সার্টিফাইড কপি আপিল বিভাগের রেকর্ড রুম থেকে দেখার আবেদন করেন। গত ১ এপ্রিল শুনানির পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ মামলার বিচার ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি চান। এরপর খবর বের হলো যে মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় আলোচিত ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে তার স্ত্রী মমতাজ বেগমের মামলার নথির খোঁজে অ্যাটর্নি জেনারেল বরিশাল সফর করছেন।
ইব্রাীহম কুট্টি হত্যার অভিযোগ : পাড়েরহাট বাজারের নিকটে সইজুদ্দিন পসারীদের বাড়িতে কাজ করতেন ইব্রাহীম কুট্টি। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে ১৯৭১ সালের ৮ মে মাওলানা সাঈদীসহ শান্তি কমিটির অন্যান্য লোকজনের নেতৃত্বে পাকিস্তান সৈন্যরা ওই বাড়িতে আক্রমণ করে। এসময় ইব্রাহীম কুট্টি ও অপর আরেকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পাড়েরহাট বাজারে। পরে মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে পাকিস্তান সৈন্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে পাড়েরহাট বাজারে।
আসাসিপক্ষের দাবি : আসামিপক্ষের দাবি ইব্রাহীম কুট্টিকে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর নলবুনিয়ায় তার শ্বশুরবাড়ি থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার সাথে মাওলানা সাঈদী জড়িত নন। এ দাবির পক্ষে তারা ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগমের মামলার নথি জমা দিয়েছে আদালতে। মমতাজ বেগমের মামলায় ইব্রাহীম কুট্টি হত্যা বিষয়ে মোট ১৩ জন আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই। আসামিপক্ষের দাবি তিনি যদি এর সাথে জড়িত থাকতেন তাহলে অন্তত মমতাজ বেগমের মামলায় তাকে তখন আসামি করা হতো।
মমতাজ বেগমের মামলার এফআইর-এ ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার বিবরণ : স্বামী ইব্রাহীম কুট্টি হত্যার বিচার চেয়ে মমতাজ বেগম দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে পিরোজপুরে একটি মামলা করেন। সে মামলার বিবরণে মমতাজ বেগম উল্লেখ করেছেন তার স্বামী ইব্রাহীম কুট্টি তার বাপের বাড়ি নলবুনিয়া থাকা অবস্থায় শান্তি কমিটির লোকজন এবং পাকিস্তান আর্মি গুলি করে হত্যা করেছে। ঘটনার সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবর।
মমতাজ বেগমের মামলায় আরো উল্লেখ আছে যে ওই ঘটনার সময় তাদের বাড়ি থেকে তার ভাই সাহেব আলী ওরফে সিরাজ এবং তার মা সিতারা বেগমকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পিরোজপুর। পরে তার মাকে ছেড়ে দেয়া হলেও তার ভাই সাহেব আলীকে আর ছাড়া হয়নি। তাকে পাকিস্তান পিরোজপুরে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করে।
মমতাজ বেগমের মামলার বিবরনে বলা হয়েছে ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যা করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ অক্টোবার নলবুনিয়া তার শ্বশুরবাড়ি থাকা অবস্থায়। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি ৮ মে তাকে পাড়েরহাট বাজারে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্যের স¤পূর্ণ বিপরীত তথ্য রয়েছে মমতাজ বেগমের মামলার নথিতে।
মমতাজ বেগমের মামলায় ঘটনার বিবরন নিম্নরূপ :
‘ঘটনার বিবরণ এই যে, বিবাদীগণ পরস্পর যোগাযোগে রাইফেল পিস্তল ছোরা লাঠি ইত্যাদি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমার পিতার ঘর বেড়দিয়া আমার স্বামীর উপর গুলি করিয়া হত্যা করিয়া আমার শরীরে জখম করিয়া আমার মাতা ও ভ্রাতাকে ধরিয়া পিরোজপুর আনিয়া আমার মাতাকে ছাড়িয়া দিয়া আমার ভ্রাতা সিরাজুলকে গুলি করিয়া হত্যা করিয়াছে। আক্রোশের কারণ এই যে, আমি ও আমার স্বামী আমার স্বামীর বাড়িতে বাদুরা গ্রামে বাসবাস করিতেছিলাম। গত মে মাসে পাক সৈন্য এদেশে আসিয়া যখন অকারণে গুলি করিয়া মানুষ হত্যা করিতে থাকে তখন কতিপয় হিন্দু আমাদের শরণাপন্ন হওয়ায় আমরা তাহাদের আশ্রয় দেয়ায় পাক সৈন্য ও তাহাদের দালালরা আমার স্বামীকে হত্যা করিতে খোঁজ করিতে থাকায় আমরা ভয়ে ভীত হইয়া আমরা পিত্রালয়ে বসবাস করিতেছিলাম। তথায় বিবাদীগণ ক্রোধ করিয়া উক্ত রূপ অত্যাচার করিয়াছে।
প্রকাশ থাকে যে বর্তমানে আমি গর্ভবতী থাকায় আমার পিতা পারোরহাট আওয়ামী লীগ অফিসে জানাইয়া কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই এই দরখাস্ত করিতে বিলম্ব হইল।
সে মতে প্রার্থনা, আদালত দয়া করিয়া উক্ত ধারামতে উক্ত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট দিয়া ধৃত করাইয়া সুবিচার করিতে আজ্ঞা হয়। ইতি মমতাজ বেগম।’
শুনানির সময় মামলার নথি থেকে ঘটনার এ ব্বিরণ আসামিপক্ষ থেকে আদালতে পড়ে শোনানো হয়েছে।
মমতাজ বেগমের মামলার এফআইআর এ আসামির তালিকা :
মমতাজ বেগম ওই মামলায় মোট ১৩ জনকে আসামি করেছেন। এরা হলেন দানেশ মোল্লা, আতাহার আলী, আশ্রাব আলী, আব্দুল মান্নান, আইউব আলী, কালাম চৌকিদার, রুহুল আমিন, আব্দুল হাকিম মুন্সি, মমিন উদ্দিন, সেকোন্দার আলী শিকদার, শামসুর রহমান এসআই, মোসলেম মাওলানা। এছাড়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীকেও আসামি করা হয় মমতাজ বেগমের মামলায়। কিন্তু মমতাজ বেগমের মামলায় আসামিদের তালিকায় মাওলানা সাঈদীর নাম নেই।
আপিল শুনানির সময় মাওলানা সাঈদীর পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান আদালতে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আমাদের এ ডকুমেন্টকে অসত্য ও জাল আখ্যায়িত করেছে। তাদের উচিত ছিল পিরোজপুর থেকে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে ডাকার ব্যবস্থা করে তাদের দাবি প্রমাণ করা। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং আমরা থানা থেকে এ মামলার নথিপত্র তলবের জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
আসামিপক্ষ যেভাবে সংগ্রহ করল মমতাজ বেগমের মামলার নথি : মাওলানা সাঈদীর ছেলে ও ১৩তম সাফাই সাক্ষী মাসুদ সাঈদী ট্রাইব্যুনালে জেরায় বলেছেন, ‘তার বড় ভাই মরহুম রাফিক বিন সাঈদীকে মমতাজ বেগমের মা সিতারা বেগম মামলার মূল সার্টিফাইড কপি সরবরাহ করেন।’
মামলার বাদী মমতাজ বেগমের মা সিতারা বেগম ১৯৭২ সালে এ মামলার সার্টিফাইড কপি পিরোজপুর থেকে ইস্যু করান এবং সিতারা বেগম দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ মামলার কপি সংরক্ষণ করেছেন।
মমতাজ বেগমের মামলার ঘটনাপ্রবাহ :
মামলার নথি ঘেটে দেখা যায় ১৯৭২ সালের ৮ মার্চ মমতাজ বেগম পিরোজপুর এসডিও কোর্টে প্রথম এ মামলা করেন। তখন এসডিও ছিলেন এ কে আজাদ। ওই তারিখে এসডিও মামলাটি পিরোজপুর থানায় পাঠান।
বাদী মমতাজ বেগমের লিখিত অভিযোগ এসডিওর কাছ থেকে পাওয়ার পর পিরোজপুর থানা ১৬/৭/১৯৭২ তারিখ বেলা ১টা ৩০ মিনিটের সময় অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করে। মামলা নং ৯। জিআর (জেনারেল রেজিস্ট্রার) নং ৩৭৮/৭২।
১৭/৭/১৯৭২ তারিখ সকাল ৮টায় থানা থেকে মামলাটি পিরোজপুর কোর্টে পাঠানো হয়। তখন থানার ওসি ছিলেন মেফতাউদ্দিন আহমেদ। তিনি নিজে মামলার তদন্ত শুরু করেন। মামলার এজাহারে ঘটনার তারিখ লেখা আছে ১/১০/১৯৭১। বাংলা ১৩ আশ্বিন ১৩৭৮।
২২ জুলাই ১৯৭২ এসডিও কোর্টে মামলাটি উত্থাপন করা হয়।
২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ পুলিশ এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে।
৩ অক্টোবর ১৯৭২ এসডিও বরাবর চার্জশিট উপস্থাপন করা হয়।
মমতাজ বেগমের অভিযোগ অনুসারে এ মামলার তদন্তকালে আসামিদের মধ্য থেকে দুজনকে আটক করা হয়। এরা হলেন আইউব আলী চৌকিদার ও সুন্দর আলী দফাদার।
পুলিশের প্রতিবেদনে আসামিদের মধ্য থেকে যাদেরকে পলাতক দেখানো হয় তারা হলেন
১.দানেশ মোল্লা
২.আশরাফ আলী
৩.আব্দুল মান্নান
৪.কালাম চৌকিদার
৫.আব্দুল হাকিম মুন্সি
৬.মমিন উদ্দিন
৭.মোসমেল মওলানা।
মামলা চলাকালে পলাতক আসামিদের মধ্য থেকে আরো দুজনকে আটক করা হয়। ১৯৭২ সালের ৭ অক্টোবর আব্দুল মান্নান এবং ১৯৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মমিনউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয় যা মেজিস্ট্রেট কোর্টে সংরক্ষিত জিআর বইতে ৩৭৮/৭২ জিআর কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়।
জিআর কপি পর্যালোচনা করে আরো দেখা যায় মমতাজ বেগমের দায়ের করা ওই মামলা থেকে আসামি আতাহার আল হাওলাদার, রুহুল আমিন সেকেন্দার শিকদার, শামসুর রহমানকে (তৎকালীন পিরোজপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই) অব্যাহতি দেয় কোর্ট।
মমতাজ বেগমের দায়ের করা মামলাটি ২৭/১১/১৯৭২ সালে তৎকালীন এসডিও এম এ হাশেম মিয়া স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল জাজ বরিশাল পাঠান।
মামলার জিআর বইয়ে দেখা যায় ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮১ সালে মামলার কার্যক্রমের জন্য মামলাটি বাকেরগঞ্জ ডিসির কাছে পাঠানো হয়েছিল। জিআর বইয়ের ১৭ নং কলামে লেখা আছে-

Bangladesh Vando Pireder Karbarhttps://www.youtube.com/watch?v=qhaNdNveYHE
13/04/2014

Bangladesh Vando Pireder Karbar
https://www.youtube.com/watch?v=qhaNdNveYHE

Ekushey tv - Bangla Documentary Ekusher chukh 28 november 2013 . vondo baba @@ Please Subscribe Taza Songbad - Popular Bangla Talk Show Channel in Bangladesh @@

Address

Basirhat
743428

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when All India Sunnat All Jamayat posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share