12/11/2021
'MA ইংলিশ চায়েওয়ালি' এই নামেই ইংরেজীতে মাস্টার্স করা টুকটুকি দাস চায়ের দোকানটা খুলেছে। হাবড়া প্লাটফর্মে তার চায়ের দোকান। বার কয়েক চাকরির পরীক্ষা দিয়ে লাভ হয়নি। তাই খুব কম পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করেছে ও। বাবা প্রশান্ত দাসের ছোট্ট একটা মুদিখানার দোকান। সংসার চালাতে নাজেহাল হয়ে বাবাকে কখনো কখনো ভ্যানও চালাতে হয়। তখন দোকানে বসে ওর মা। রবীন্দ্রভারতী থেকে ইংরেজীতে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে পাশ করা টুকটুকি লড়াইটা শুরু করলো অন্যরকম ভাবে। চায়ের দোকান তৈরি করে তার সঙ্গে জুড়ে দিলো নিজের ডিগ্রির পরিচয়টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন MA ইংলিশ চায়েওয়ালি বেশ পরিচিত নাম। চায়ের দোকানও হিট। এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। একটা মেয়ের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের ছবি ফুটে উঠেছিল। কোনো কাজই ছোট নয় মানসিকতা নিয়ে চলা টুকটুকি প্রমাণ করে দিয়েছিল শিক্ষা মানুষের মননকে উন্নত করে।
কিন্তু আজ সকালে একটা খবরে দেখলাম, একজন মন্ত্রী তাকে ডেকেছেন। পাশে থাকতে চেয়েছেন এবং চাকরির অফার দিয়েছেন।
টুকটুকি সে অফার প্রত্যাখ্যান করেছে নির্দ্বিধায়। সে জানিয়েছে কারোর সাহায্য সে নেবে না।
ঠিক এখান থেকেই জয় হলো টুকটুকির। এখান থেকেই জয়ী হলো ওর লড়াকু সত্তা। ফেমাস হয়ে যাবার পরে, পরিচিত হবার পরে অনেকেই পাশে দাঁড়াতে আসে। কিন্তু লড়াইয়ের সময়টা লড়তে হয় একাকেই। ওর জীবনযুদ্ধের নির্ভীক সৈনিক ও একাই ছিল। যখন চাকরির জন্য বারবার পরীক্ষা দিয়েও ঠোক্কর খেতে হয়েছে তখন কেউ চিনতো না ওকে। যেমন কেউ চেনে না এ বঙ্গের লাখ লাখ ছেলেমেয়েদের। আজ যখন পরিচিত হয়েছে তখন চাকরি বা সাহায্যও উপযাচিত হয়েই ধরা দিতে এসেছিল ওর কাছে। স্যালুট ওর মনের জোরকে। স্যালুট ওর ঋজু মেরুদন্ডকে।
অনেক বড় হোক টুকটুকির ব্যবসা। সমস্ত স্বপ্নপূরণ হোক ওর। এভাবেই জিতে যাক নিম্নমধ্যবিত্তের ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্নগুলো।
© অর্পিতা সরকার