14/06/2026
https://www.facebook.com/share/p/18xaZvERCg/
ক্ষুদ্র অগ্রণী
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এক নীরব যোদ্ধার গল্প: দেবাশিস পালের সংগ্রাম ও স্বপ্ন
খবর ঘর বিশেষ প্রতিবেদন | ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা সাধারণত পরিবেশ রক্ষার নানা উদ্যোগ, সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলি। কিন্তু এই বিশেষ দিনে স্মরণ করা উচিত সেইসব মানুষদেরও, যাঁরা সময়ের অনেক আগে পরিবেশবান্ধব ভাবনার বীজ বপন করেছিলেন। উত্তরবঙ্গে ঝরে পড়া সুপারির খোল থেকে পরিবেশবান্ধব থালা, বাটি ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে প্রথমদিকের প্রচার ও সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেবাশিস পালের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
যখন অধিকাংশ মানুষ সুপারি গাছের ঝরে পড়া খোলকে অকেজো বর্জ্য বলে মনে করতেন, তখন দেবাশিস পাল সেখানে দেখেছিলেন সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। তাঁর বিশ্বাস ছিল, প্রকৃতির ফেলে দেওয়া উপাদানও সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থানের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু নতুন কোনো চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ কখনোই সহজ হয় না। সীমিত সামর্থ্য, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক অনাগ্রহ এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই তাঁকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। বহু সময় নিজের ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করার চেয়ে সেই ভাবনার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইটাই বড় হয়ে উঠেছিল।
এরই মধ্যে পৃথিবীতে নেমে আসে কোভিড মহামারির ভয়াবহ সময়। অসংখ্য মানুষের মতো দেবাশিস পালের জীবন ও কর্মক্ষেত্রেও তার গভীর প্রভাব পড়ে। আর্থিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। যে সময়ে একটি শক্ত আর্থিক ভিত্তি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক সেই সময়েই সেই সহায়তা ছিল না। আয় কমে যায়, অনিশ্চয়তা বেড়ে যায়, এবং বহু স্বপ্ন যেন থমকে দাঁড়ায় বাস্তবতার কঠিন দেয়ালের সামনে।
তবুও তিনি থেমে যাননি। কারণ তাঁর কাছে এটি কেবল একটি প্রকল্প ছিল না; এটি ছিল একটি বিশ্বাস, একটি দর্শন। পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের প্রতি সেই বিশ্বাস তাঁকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে। শরীরের ঘাম আর চোখের জল কখন এক হয়ে গিয়েছিল, তার হিসাব হয়তো আজ আর নেই। কিন্তু সেই সংগ্রামের প্রতিটি মুহূর্ত তাঁর পথচলার অংশ হয়ে রয়েছে।
আজ সরকারি ও বেসরকারি স্তরে সুপারির খোলভিত্তিক পরিবেশবান্ধব শিল্প নিয়ে নানা উদ্যোগ দেখা যায়। বাজারও ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। কিন্তু সেই পথের শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর অবদান ভুলে গেলে চলবে না। কারণ কোনো আন্দোলন বা শিল্প একদিনে তৈরি হয় না; তার পেছনে থাকে কিছু মানুষের অদৃশ্য শ্রম, ত্যাগ ও দূরদর্শিতা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই প্রেক্ষাপটে দেবাশিস পালের গল্প শুধু একজন ব্যক্তির সংগ্রামের কাহিনি নয়; এটি একটি বিশ্বাসের গল্প। এটি প্রমাণ করে, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা সময়ের প্রতিকূলতাও একজন মানুষের স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না, যদি তাঁর লক্ষ্য বৃহত্তর সমাজ ও পরিবেশের কল্যাণে নিবেদিত হয়।
খবর ঘরের বক্তব্য
বিশ্ব পরিবেশ দিবস শুধু প্রকৃতিকে ভালোবাসার অঙ্গীকার নয়, বরং সেইসব মানুষদের সম্মান জানানোর দিন, যাঁরা নিজের জীবনের সংগ্রামকে উপেক্ষা করে পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন। উত্তরবঙ্গে সুপারির খোলভিত্তিক সবুজ শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে দেবাশিস পালের পথচলা সেই ইতিহাসেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
🌿 “বর্জ্য নয়, সম্পদ—এই বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়েই এক মানুষের ঘাম, অশ্রু আর স্বপ্ন মিশে তৈরি হয়েছে সংগ্রামের এক অনন্য ইতিহাস।” 🌿