18/10/2021
ভ্যাট আইনে কোনটি পণ্য আর কোনটি সেবা তা বুঝার উপায়:
আইনের সংজ্ঞার বাইরেও কিছু বিষয় আছে যা বাস্তবে দেখতে বা বৈশিষ্ট্য মােতাবেক পণ্য হলেও ভ্যাট আইনে তাকে
সেবা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে আবার বাস্তবে সে হলেও আইন মােতাবেক তা সেবা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা।
হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন ভ্যাট আইনে কোনটা পণ্য আর কোনটা সেবা সেটা সহজে বুঝার উপায় কী?
(a) মূসক আইন মােতাবেক কোনটি পণ্য আর কোনটি সেবা তা বুঝা খুবই সহজ। মূসক এসআরও নং-১৮৬/১৯ মােতাবেক যে সকল বিষয়কে সেবা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সেবার কোড নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ই কেবল আইন মােতাবেক সেবা এবং তা ব্যতীত অন্য সকল বিষয়ই পণ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। সেবার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে যে এসআরও জারি করা হয় সে এসআরও মােতাবেক সেবার সংজ্ঞা ও কোড নির্ধারিত হবে।
(b) অপরদিকে বর্তমান ভ্যাট আইন মােতাবেক রিটার্ণ সাবমিট হতে শুরু করে পণ্যের ভ্যাট হার, অব্যাহতি, সন্ত্রক শা
হার ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্যও পণ্যের কোড এর প্রয়ােজন। পণ্য ও সেবার কোড ব্যতীত দাখিলপত্র দাখিল করা
সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু পণ্যের জন্য ভ্যাট আইনের অধীন আলাদা কোন কোড নির্ধারণ করা নেই বরং কাস্টমস act,
১৯৬৯ এর প্রথম তফসিলের মাধ্যমে নির্ধারিত এইচ এস কোডই ভ্যাট আইনের জন্য পণ্যের কোড হিসেবে ব্যবই।
করতেহবে।
বাস্তবে পণ্য হলেও এসআরও মােতাবেক সেবা হিসেবে বিবেচিত এমন কিছু সেবা হলাে নিম্নরুপ:
|
বাস্তবে পণ্য হলেও এসআরও মােতাবেক সেবা হিসেবে বিবেচিত এমন কিছু সেবা হলাে নিম্নরুপ: | মূলত পণ্য এবং সেবা উভয়ই সরবরাহ করে থাকে, ৫) নিলামে পণ্যের ক্রেতা যে নিলামে পণ্য ক্রয় করে থাকে, ১) মিষ্টান্ন ভান্ডার: মিষ্টি দেখতে পণ্য হলেও আইন মােতাবেক সেবা, ২) আসবাবপত্র, ৩) স্বণ, ৪) যােগানদাৰ । | তৈরী পােশাক যা দেখতে পণ্য, ৭) অনলাইনে পণ্য বিক্রয়-পণ্য বিক্রয় করলেও অনলাইনে করলে তা সে হিসেবে। বিবেচিত হবে, ইত্যাদি।
যেসব ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে না:
(১) সরবরাহকারী ১৫ (পনেরাে) শতাংশ হারে মূসক আরােপিত রয়েছে এরূপ কোনো পণ্য উক্ত হার উল্লেখপূর্বক।
ফরম “মূসক-৬.৩” (কের চালানপত্র) এর মাধ্যমে সরবরাহ করলে সে ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে না। ১৫ (পনেরাে) শতাংশ হারে মূসক আরােপিত রয়েছে এরূপ কোনাে সেবা, উক্ত হার উল্লেখপূর্বক ফরম মূসক-৬.৩
(২) উৎসে কর্তন বিধিমালা, ২৫ ও বাত টেবিলে উল্লিখিত সেবা ব্যতীত কোনাে সরবরাহকারী কর চালানপত্র) এর মাধ্যমে সরবরাহ করলে, সে ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে না। উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে না।
৩) জ্বালানী তেল, গ্যাস, পানি (ওয়াসা), বিদ্যুৎ, টেলিফোন, মােবাইল ফোন পরিসেবার বিল পরিশােধের ক্ষেত্রে
(৪) আইনের প্রথম তফসিলে উল্লিখিত পণ্য বা সেবা বা উভয়ই সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে না।
(৫) মূল্য সংযােজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ২১ এর আওতায় শূন্যহার বিশিষ্ট (রপ্তানি)
সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে না।
যে সব সেবার ক্ষেত্রে যে কোন হার এবং মূসক চালান দিলেও) অবশ্যই উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে:
(১) আইনের তৃতীয় তফসিলে উল্লিখিত ১৫ (পনেরাে) শতাংশের নিম্নে হ্রাসকৃত হারের বিপরীতে উল্লিখিত পণ্যসমূহ
সরবরাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরবরাহ গ্রহণকারী উৎসে কর্তনকারী সত্ত্বা হলে সমুদয় মূল্য সংযােজন কর উৎসে কর্তন করতে হবে।
(২) টেন্ডার, চুক্তি, কার্যাদেশ বা অন্যবিধভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর্তন বিধিমালা, ২০২০ এর বিধি ৩(২) এর
টেবিলের ছকে বর্ণিত হারে আবশ্যিকভাবে উৎসে কর্তনকারী সত্ত্বা কর্তৃক উৎসে কর্তন করতে হবে।
(৩) অনিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত অনাবাসিক ব্যক্তির নিকট হতে গৃহীত সেবার সেবা মূল্য
পরিশােধের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ১৫ (পনেরাে) শতাংশ হারে উৎসে মূসক আদায় করবে এবং অদিায়কৃত মূসক
আদায়কারী ব্যাংক যে মূসক কমিশনারেটে নিবন্ধিত, সে কমিশনারেটের অর্থনৈতিক কোডে জমা প্রদান করবে।
৪) নিবন্ধিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১৫ (পনেরাে) শতাংশ হারে মূসক জমা প্রদান করে ট্রেজারি চালানের অনুলিপি ব্যাংকে
প্রদান করলে ব্যাংক উৎসে আদায় ব্যতীত অনাবাসিক ব্যক্তির প্রাপ্য অর্থ প্রেরণ করবে এবং এই ক্ষেত্রে, যথাযথ
ট্রেজারি চালান না থাকলে বা প্রদেয় মূসক কম প্রদত্ত হলে প্রযােজ্য সমুদয় মুসক ব্যাংক উৎসে আদায় করবে ও
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেটের অর্থনৈতিক কোডে তা জমা প্রদান করবে।
(৫) সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নকালে বা, ক্ষেত্র
উপর ১৫ (পনেরাে) শতাংশ হারে উৎসে মূসক আদায় করবে। এছাড়া, প্রদত্ত লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন পারমিটে
বিশেষে, কোনাে সুবিধা সৃষ্টিকারী সেবার ক্ষেত্রে উক্তরূপ সুবিধা গ্রহণকারী ব্যক্তির নিকট হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থের
উল্লিখিত শর্তের আওতায় রাজস্ব বন্টন (Revenue Sharing), রয়্যালটি, কমিশন, চার্জ, ফি বা অনা
কোনােভাবে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থের উপর ১৫ (পনেরাে) শতাংশ হারে উৎসে মূসক আদায় করতে হবে।।