23/06/2017
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে ইফতার পার্টির রেওয়াজ বহুকাল ধরে চলে আসছে। সেই সঙ্গে সেখানে কাকে দেখা গেল, কাকে গেল না, কাকে নিমন্ত্রণ দেওয়া হলো, কাকে দেওয়া হলো না, সেদিকে মিডিয়ার সজাগ দৃষ্টি রাখা, এসব অনেকেরই জানা। কিন্তু একটা ছন্দপতন ঘটেছিল। আর সেটা ঘটিয়েছিলেন ড. এ পি জে আবদুল কালাম। তাঁর আমলটি ছিল ইফতার পার্টিমুক্ত।
ভারতের সাবেক এই বিদ্বান রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত জীবনের অনেক চমকপ্রদ তথ্য ইতিমধ্যে বেরিয়েছে, কিন্তু এবারে এমন কিছু নজরে এল, যা সত্যি প্রত্যেককে সুগভীরভাবে স্পর্শ করার উপাদানে ভরপুর।
পি মাধভান নায়ারের লেখা ‘দ্য কালাম এফেক্ট, মাই ইয়ার্স উইথ দ্য প্রেসিডেন্ট’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে। ১৯৬৭ ব্যাচের নায়ারকে আবদুল কালাম নিজেই বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর সচিব হতে সরকারের দেওয়া প্যানেলের সব নাম তিনি নাকচ করেছিলেন।
ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আবদুল কালামকে নিয়ে তাঁর সাবেক সচিব অবসরপ্রাপ্ত আইএস কর্মকর্তা পি এম নায়ারের একটি সাক্ষাৎকার দূরদর্শনের তামিলভাষী আঞ্চলিক চ্যানেল ডিডিপোধিগাই প্রচার করেছিল। এর অনুবাদ নিচে তুলে ধরা হলো
২০০২ সালে ড. আবদুল কালাম যখন রাষ্ট্রপতির পদ নিয়েছিলেন,তার কিছু দিন পরই রমজান। ভারতীয় রাষ্ট্রপতির জন্য এটা একটা নিয়মিত রেওয়াজ যে তিনি একটি ইফতার পার্টির আয়োজন করবেন।
একদিন ড. কালাম তাঁর সচিব মি. নায়রকে বললেন, কেন তিনি একটি পার্টির আয়োজন করবেন? কারণ, এমন পার্টির অতিথিরা সর্বদা ভালো খাবার খেয়ে অভ্যস্ত। তিনি মি. নায়ারের কাছে জানতে চাইলেন, একটি ইফতার পার্টির আয়োজনে কত খরচ পড়ে? মি. নায়ার তাঁকে জানালেন, প্রায় ২২ লাখ রুপি। ড. কালাম তাঁকে নির্দেশ দিলেন, কতিপয় নির্দিষ্ট অনাথ আশ্রমে এই অর্থ, খাদ্য, পোশাক ও কম্বল কিনে দান করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম অনাথ আশ্রম বাছাইয়ের দায়িত্ব পেয়েছিল। ড. কালাম এ ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা পালন করেননি। অনাথ আশ্রম বাছাইয়ের পরে ড. কালাম মি. নায়ারকে তাঁর কক্ষে ডাকলেন এবং এক লাখ রুপির একটি চেক দিলেন। তিনি বললেন, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে কিছু অর্থ দান করছেন। কিন্তু এ তথ্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না। মি. নায়ার এতটাই আঘাত পান যে তিনি বললেন, ‘স্যার, আমি এখনই বাইরে যাব এবং সবাইকে বলব। কারণ, মানুষের জানা উচিত, এখানে এমন একজন মানুষ রয়েছেন, যে অর্থ তাঁর খরচ করা উচিত, শুধু সেটাই তিনি দান করেননি, তিনি সেই সঙ্গে নিজের অর্থও বিলিয়েছেন।’ ড. কালাম যদিও একজন মুসলমান ছিলেন; কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে থাকার বছরগুলোতে কোনো ইফতার পার্টি দেননি।
ভারতবর্ষে রাষ্ট্রপতি সরাসরি কোনো দিন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয় না।তবুও কালাম স্যার নিজের বিভিন্ন কাজের জন্য "জনতার রাষ্ট্রপতি" হিসাবে আজ সকল ভারতীয়ের কাছে সমাদৃত। এটা বলতে কোনো দ্বিধা নাই যে আগে ভারতবর্ষ তার মতো কোনো মানুষ রাষ্ট্রপতি হননি বা আগামীতেও হবেন না।----------------------------------------------------------------------------------
সরাসরি আপডেট পেতে আমাদের পেজে West Bengal - পশ্চিমবাংলার সংখ্যালঘু হিন্দু তে নিয়মিত নজর রাখুন !
আরো তথ্য পেতে এক্ষুনি লাইক করুন আমাদের পেজ "West Bengal -পশ্চিমবাংলার সংখ্যালঘু হিন্দু" LIKE ✔ INVITE ✔ SHARE ✔
https://www.facebook.com/paschimbanglarsankhyaloghuhindu/